মেনু ও পেজসমূহ

নবম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান


এখানে বইটিতে থাকা ৫টি মূল অধ্যায় এবং তাদের পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়া হলো:

  • অধ্যায় ১: জীবন ও তার বৈচিত্র্য 
  • অধ্যায় ২: জীবন সংগঠনের স্তর
  • অধ্যায় ৩: জৈবনিক প্রক্রিয়া 
  • অধ্যায় ৪: জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ 
  • অধ্যায় ৫: পরিবেশ ও তার সম্পদ 

  ১ম অধ্যায়: 'জীবন ও তার বৈচিত্র্য'

বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর)

নিম্নলিখিত ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. জীববিদ্যার জনক কে?

উত্তর: অ্যারিস্টটল।

২. ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উত্তর: অগাস্তিন পিরামাস দ্য ক্যান্ডোলে (A. P. de Candolle)।

৩. 'Systema Naturae' বইটি কার লেখা?

উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস।

৪. জীবনের ক্ষুদ্রতম গঠনগত ও কার্যগত একক কী?

উত্তর: কোশ।

৫. জীবের পরিবেশের পরিবর্তনে সাড়া দেওয়ার ধর্মকে কী বলে?

উত্তর: উত্তেজিতা।

৬. কোয়াসারভেট তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

উত্তর: আলেকজান্ডার ওপারিন।

৭. মাইক্রোস্ফিয়ার মডেল কে প্রস্তাব করেন?

উত্তর: সিডনি ফক্স।

৮. পৃথিবীর আদিম বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসটি মুক্ত অবস্থায় ছিল না?

উত্তর: অক্সিজেন (O_2)।

৯. 'গরম তরল স্যুপ' (Hot dilute soup) কথাটি কে বলেছিলেন?

উত্তর: জে. বি. এস. হ্যালডেন।

১০. লিনিয়ান হায়ারার্কিতে মোট কয়টি অবশ্যম্ভাবী ধাপ আছে?

উত্তর: ৭টি।

১১. শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষুদ্রতম বা প্রাথমিক একক কী?

উত্তর: প্রজাতি (Species)।

১২. পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: আর. এইচ. হুইটেকার (R.H. Whittaker)।

১৩. মনেরা রাজ্যের একটি অণুজীবের উদাহরণ দাও।

উত্তর: ব্যাকটেরিয়া (যেমন- Escherichia coli)।

১৪. ছত্রাক বা ফানজাই রাজ্যের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: কাইটিন।

১৫. একটি এককোশী শৈবালের নাম লেখো।

উত্তর: ক্ল্যামাইডোমোনাস।

১৬. উদ্ভিদ রাজ্যের উভচর কাদের বলা হয়?

উত্তর: ব্রায়োফাইটা বা মসবর্গীয় উদ্ভিদকে।

১৭. একটি ব্যক্তবীজী বা জিম্নোস্পার্ম উদ্ভিদের উদাহরণ দাও।

উত্তর: পাইন গাছ (Pinus)।

১৮. গুপ্তবীজী উদ্ভিদের বীজ কোথায় সুরক্ষিত থাকে?

উত্তর: ফলের ভেতরে।

১৯. পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহের অসংখ্য ছিদ্রকে কী বলে?

উত্তর: অস্টিয়া (Ostia)।

২০. নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের শিকার ধরার বিশেষ কোশটির নাম কী?

উত্তর: নিডোব্লাস্ট কোশ।

২১. ফিতাকৃমি কোন পর্বের অন্তর্গত?

উত্তর: প্লাটিহেলমিনথেস (চ্যাপ্টাকৃমি)।

২২. অ্যানিলিডা বা অঙ্গুরীমাল পর্বের প্রাণীদের রেচন অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: নেফ্রিডিয়া।

২৩. আর্থ্রোপোডা বা সন্ধিপদ পর্বের প্রাণীদের রক্তপূর্ণ দেহগহ্বরকে কী বলে?

উত্তর: হিমোসিল।

২৪. শামুক কোন পর্বের প্রাণী?

উত্তর: মোলাস্কা বা কম্বোজ।

২৫. তারা মাছের গমনের অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: নালীপদ (Tube feet)।

২৬. কর্ডাটা পর্বের ভ্রূণাবস্থায় পৃষ্ঠদেশে যে দণ্ডাকার অংশ থাকে তার নাম কী?

উত্তর: নোটোকর্ড।

২৭. কনড্রিকথিস বা তরুণাস্থিযুক্ত মাছের আঁশ কী প্রকৃতির?

উত্তর: প্ল্যাকয়েড আঁশ।

২৮. পাখিদের (Aves) নিউমেটিক অস্থি বা বায়ুপূর্ণ হাড় থাকার সুবিধা কী?

উত্তর: দেহ হালকা হয়, যা উড়তে সাহায্য করে।

২৯. দ্বিপদ নামকরণে কোন দুটি পদ ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: গণ (Genus) এবং প্রজাতি (Species)।

৩০. মানুষের বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?

উত্তর: Homo sapiens

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. জীবন বা প্রাণ কী?

উত্তর: সজীব বস্তুর যে অবস্থার কারণে বৃদ্ধি, প্রজনন, পরিব্যক্তি, বিপাক এবং উত্তেজনায় সাড়া দেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকাশ পায়, তাকে জীবন বলে।

২. বিপাক (Metabolism) কাকে বলে?

উত্তর: সজীব কোশে প্রতিনিয়ত সংঘটিত সমস্ত গঠনমূলক (উপচিতি) এবং ভাঙনমূলক (অপচিতি) রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলির সমষ্টিকে বিপাক বলে।

৩. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভার্সিটি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশে বা সমগ্র পৃথিবীতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী এবং অণুজীবের মধ্যে যে জিনগত, প্রজাতিগত এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে জীববৈচিত্র্য বলে।

৪. কোয়াসারভেট কী?

উত্তর: আদিম পৃথিবীতে সমুদ্রের গরম জলে প্রোটিন, লিপিড ও কার্বোহাইড্রেট যুক্ত হয়ে যে দ্বিস্তরী আবরণযুক্ত, বিভাজনে সক্ষম কোলয়েড কণা তৈরি করেছিল, ওপারিনের মতে তাকে কোয়াসারভেট বলে।

৫. ট্যাক্সোনমি বা বিন্যাসবিধি কাকে বলে?

উত্তর: জীববিদ্যার যে শাখায় জীবের নামকরণ, শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি ও তার নিয়মাবলি নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করা হয়, তাকে ট্যাক্সোনমি বলে।

৬. দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)—এই দুটি ল্যাটিন পদের সমন্বয়ে কোনো জীবের নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদানের পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। যেমন: বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris।

৭. লিনিয়ান হায়ারার্কি কী?

উত্তর: বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত জীবের শ্রেণিবিন্যাসের একটি নির্দিষ্ট ক্রম বা পদ্ধতি, যেখানে জীবকে ৭টি ধাপে (রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ, প্রজাতি) নিচ থেকে ওপরের দিকে ক্রমান্বয়ে সাজানো হয়।

৮. মনেরা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এরা প্রধানত এককোশী এবং প্রোক্যারিওটিক (আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত)। (ii) এদের কোশে পর্দাঘেরা কোনো কোশ অঙ্গাণু (যেমন মাইটোকনড্রিয়া) থাকে না।

৯. প্রোটিস্টা রাজ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এরা এককোশী কিন্তু ইউক্যারিওটিক (আদর্শ নিউক্লিয়াসযুক্ত)। (ii) এদের গমনের জন্য সিলিয়া, ফ্ল্যাজেলা বা ক্ষণপদ থাকে।

১০. ছত্রাক বা ফানজাই নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না কেন?

উত্তর: ছত্রাকের কোষে প্লাসটিড বা ক্লোরোফিল থাকে না। তাই এরা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক আবদ্ধ করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে অক্ষম। এরা পরভোজী (মৃতজীবী বা পরজীবী) প্রকৃতির হয়।

১১. ব্রায়োফাইটাকে উভচর উদ্ভিদ বলা হয় কেন?

উত্তর: এরা স্যাঁতসেঁতে স্থলভাগে জন্মায় এবং সেখানেই বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এদের যৌন জনন বা নিষেকের জন্য জলের একান্ত প্রয়োজন হয়। তাই এদের উভচর উদ্ভিদ বলে।

১২. টেরিডোফাইটা বা ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং এরা রেণুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে। (ii) এদের দেহে সংবহন কলাতন্ত্র (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) উপস্থিত থাকে।

১৩. ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের ডিম্বাশয় থাকে না, তাই এদের বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে (ফল গঠিত হয় না)। অন্যদিকে, গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ডিম্বাশয় থাকে, যা পরে ফলে পরিণত হয় এবং বীজ ফলের ভেতরে আবৃত থাকে।

১৪. পরিফেরা পর্বের দুটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এদের দেহপ্রাচীরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র বা অস্টিয়া থাকে এবং একটি বড় ছিদ্র বা অসকিউলাম থাকে। (ii) দেহে ক্যানাল সিস্টেম বা নালিকাতন্ত্র উপস্থিত।

১৫. নিডোব্লাস্ট কোশের কাজ কী?

উত্তর: নিডারিয়া পর্বের (যেমন- হাইড্রা) প্রাণীদের কর্ষিকায় নিডোব্লাস্ট কোশ থাকে, যা আত্মরক্ষা, শিকার ধরা এবং কোনো বস্তুর সঙ্গে আটকে থাকতে সাহায্য করে।

১৬. আর্থ্রোপোডা বা সন্ধিপদী পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এদের উপাঙ্গগুলি খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত বা সন্ধিল প্রকৃতির। (ii) এদের দেহ কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত থাকে।

১৭. মোলাস্কা বা কম্বোজ পর্বের প্রাণীদের ম্যান্টল কী?

উত্তর: মোলাস্কা পর্বের প্রাণীদের নরম ও অখণ্ডায়িত দেহটিকে আবৃত করে রাখা এক প্রকার পেশিবহুল পাতলা আবরণকে ম্যান্টল বলে। ম্যান্টল থেকে নিঃসৃত রসে বাইরের শক্ত খোলকটি তৈরি হয়।

১৮. একাইনোডার্মাটা বা কণ্টকত্বক পর্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এদের ত্বক চুনযুক্ত কাঁটা বা কণ্টকময় প্লেট দিয়ে ঢাকা থাকে। (ii) এদের দেহে জলসংবহনতন্ত্র থাকে এবং গমনের জন্য নালীপদ (tube feet) থাকে।

১৯. কর্ডাটা ও নন-কর্ডাটার মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে বা সারাজীবন পৃষ্ঠদেশে একটি স্থিতিস্থাপক দণ্ড বা নোটোকর্ড থাকে। নন-কর্ডাটাদের দেহে কখনোই নোটোকর্ড থাকে না।

২০. স্তন্যপায়ী বা ম্যামেলিয়া শ্রেণির দুটি অনন্য বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: (i) এদের সারা দেহ লোম দ্বারা আবৃত থাকে। (ii) পরিণত স্ত্রী প্রাণীদের দেহে কার্যকরী স্তনগ্রন্থি থাকে, যার ক্ষরণ পান করে শাবকরা বড় হয়।

বিভাগ গ: ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও (সংক্ষেপে ৩টি পয়েন্টে):

১. জীবনের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর:

 * বৃদ্ধি: প্রোটোপ্লাজমীয় সংশ্লেষের মাধ্যমে জীবের আকার, আয়তন ও শুষ্ক ওজন স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পায়।

 * প্রজনন: প্রতিটি জীব তার নিজের সত্তা ও আকৃতিবিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

 * উত্তেজিতা: বাইরের বা ভেতরের পরিবেশের উদ্দীপনায় (যেমন আলো, তাপ) সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা জীবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. পৃথিবীর আদিম পরিবেশে কীভাবে রাসায়নিক বিবর্তন ঘটেছিল?

উত্তর:

 * আদিম পৃথিবীর উচ্চ তাপমাত্রা, বজ্রপাত ও অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে সরল গ্যাসীয় উপাদানগুলি (মিথেন, অ্যামোনিয়া, জলীয় বাষ্প) যুক্ত হয়ে সরল জৈব অণু (অ্যামাইনো অ্যাসিড, শর্করা) তৈরি করে।

 * এই সরল জৈব অণুগুলি পলিমারাইজড হয়ে জটিল অণু (প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড) গঠন করে সমুদ্রের গরম জলে মিশে 'গরম তরল স্যুপ' তৈরি করে।

 * এরপর প্রোটিন ও অন্যান্য অণু মিলে কোয়াসারভেট বা মাইক্রোস্ফিয়ার গঠন করে যা থেকে প্রথম আদি কোশের উদ্ভব হয়।

৩. জীববিদ্যা পাঠের তিনটি প্রধান গুরুত্ব বা প্রয়োগ লেখো।

উত্তর:

 * কৃষিকাজ: উন্নত মানের বীজ তৈরি, রোগ প্রতিরোধকারী শস্য উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে জীববিদ্যার জ্ঞান অপরিহার্য।

 * চিকিৎসাবিজ্ঞান: বিভিন্ন রোগের কারণ নির্ণয়, ওষুধ (যেমন অ্যান্টিবায়োটিক) ও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে জীববিদ্যার প্রয়োগ ঘটে।

 * পরিবেশ সংরক্ষণ: দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার উপায় জীববিদ্যা থেকেই জানা যায়।

৪. ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব কী?

উত্তর:

 * পৃথিবীর অগণিত জীব সম্পর্কে সংক্ষেপে ও সুশৃঙ্খলভাবে জ্ঞান অর্জন করা সহজ হয়।

 * অপরিচিত কোনো জীবকে সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং তার সঠিক নামকরণ করা সম্ভব হয়।

 * বিভিন্ন জীবের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের বিবর্তনের ধারা নির্ণয় করা যায়।

৫. দ্বিপদ নামকরণের তিনটি প্রধান নিয়মাবলি উল্লেখ করো।

উত্তর:

 * নামকরণ অবশ্যই ল্যাটিন ভাষায় হতে হবে এবং দুটি পদ (গণ ও প্রজাতি) দ্বারা গঠিত হবে।

 * গণের নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের (Capital) এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর ছোট হাতের (Small) হবে।

 * ছাপার সময় নামগুলি তির্যকভাবে (Italics) লিখতে হবে এবং হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদাভাবে দাগ দিতে হবে।

৬. হুইটেকারের পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাসের রাজ্যগুলোর নাম লেখো এবং এর মূল ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর:

 * পাঁচটি রাজ্য হলো: মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লান্টি এবং অ্যানিম্যালিয়া।

 * এই শ্রেণিবিন্যাসের মূল ভিত্তি ছিল: কোশের গঠন (প্রোক্যারিওটিক না ইউক্যারিওটিক)।

 * অন্যান্য ভিত্তি ছিল: পুষ্টির ধরন (স্বভোজী না পরভোজী) এবং দেহের গঠন (এককোশী না বহুকোশী)।

৭. মনেরা ও প্রোটিস্টা রাজ্যের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * কোশের প্রকৃতি: মনেরা প্রোক্যারিওটিক (আদি কোশ); প্রোটিস্টা ইউক্যারিওটিক (আদর্শ কোশ)।

 * নিউক্লিয়াস: মনেরায় সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না (নিউক্লিওড থাকে); প্রোটিস্টায় পর্দাঘেরা সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

 * অঙ্গাণু: মনেরায় পর্দাঘেরা কোশ অঙ্গাণু অনুপস্থিত; প্রোটিস্টায় পর্দাঘেরা কোশ অঙ্গাণু উপস্থিত।

৮. ফানজাই (ছত্রাক) এবং প্লান্টি (উদ্ভিদ) রাজ্যের মধ্যে পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর:

 * পুষ্টি: ফানজাই পরভোজী (ক্লোরোফিলহীন); প্লান্টি স্বভোজী (ক্লোরোফিলযুক্ত)।

 * কোষপ্রাচীর: ফানজাইয়ের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত; প্লান্টির কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।

 * সঞ্চিত খাদ্য: ফানজাইয়ের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন; প্লান্টির সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার বা স্টার্চ।

৯. শৈবাল বা অ্যালগির তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

 * এদের দেহ সমাঙ্গদেহী বা থ্যালয়েড, অর্থাৎ দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না।

 * এরা প্রধানত জলজ, স্বভোজী এবং এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে।

 * উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা, ক্ল্যামাইডোমোনাস।

১০. মসবর্গীয় (Bryophyta) এবং ফার্নবর্গীয় (Pteridophyta) উদ্ভিদের তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * দেহের গঠন: মসের দেহ থ্যালয়েড বা কাণ্ড ও পাতার মতো অংশে বিভক্ত; ফার্নের দেহ প্রকৃত মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।

 * সংবহন কলা: মসে জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলা থাকে না; ফার্নে সুগঠিত সংবহন কলা থাকে।

 * প্রধান উদ্ভিদদেহ: মসের প্রধান উদ্ভিদদেহ লিঙ্গধর; ফার্নের প্রধান উদ্ভিদদেহ রেণুধর।

১১. ব্যক্তবীজী (Gymnosperm) উদ্ভিদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

 * এদের ফুল হয় না, রেণুপত্রগুলি একত্রিত হয়ে 'কোণ' (Cone) বা স্ট্রোবিলাস গঠন করে।

 * এদের ডিম্বাশয় না থাকায় ফল গঠিত হয় না, বীজগুলি নগ্ন অবস্থায় রেণুপত্রের ওপর থাকে।

 * এরা সাধারণত চিরহরিৎ, কাষ্ঠল এবং বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ জাতীয় হয়।

১২. একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * বীজপত্র: একবীজপত্রীতে একটি বীজপত্র থাকে; দ্বিবীজপত্রীতে দুটি বীজপত্র থাকে।

 * মূল: একবীজপত্রীর মূল গুচ্ছমূল প্রকৃতির; দ্বিবীজপত্রীর মূল প্রধান মূল প্রকৃতির।

 * পাতার শিরাবিন্যাস: একবীজপত্রীর পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস দেখা যায়; দ্বিবীজপত্রীর পাতায় জালিকাকার শিরাবিন্যাস দেখা যায়।

১৩. অ্যানিলিডা (অঙ্গুরীমাল) পর্বের প্রাণীদের তিনটি শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

 * এদের দেহ লম্বাটে এবং আংটির মতো অসংখ্য খণ্ডক (Metamere) নিয়ে গঠিত।

 * এদের রেচন অঙ্গের নাম নেফ্রিডিয়া এবং গমনের অঙ্গ সিটা বা প্যারাপোডিয়া।

 * উদাহরণ: কেঁচো (Pheretima posthuma), জোঁক।

১৪. আর্থ্রোপোডা (সন্ধিপদী) পর্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য ও একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * এদের দেহ খণ্ডায়িত এবং প্রতিটি খণ্ডে সন্ধিল উপাঙ্গ (jointed appendages) থাকে।

 * দেহ কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত।

 * রক্ত সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির এবং রক্তপূর্ণ দেহগহ্বর বা হিমোসিল বর্তমান। (উদাহরণ: আরশোলা)।

১৫. প্লাটিহেলমিনথেস ও নিমাটোডা পর্বের মধ্যে তিনটি পার্থক্য নির্দেশ করো।

উত্তর:

 * আকৃতি: প্লাটিহেলমিনথেসের দেহ পাতার বা ফিতের মতো চ্যাপ্টা; নিমাটোডার দেহ সুতোর মতো বা নলাকার।

 * সিলোম: প্লাটিহেলমিনথেস অ্যাসিলোমেট (দেহগহ্বর নেই); নিমাটোডা সিউডোসিলোমেট (ছদ্ম দেহগহ্বর যুক্ত)।

 * রেচন অঙ্গ: প্লাটিহেলমিনথেসের রেচন অঙ্গ ফ্লেম কোশ; নিমাটোডার রেচন অঙ্গ রেনেট কোশ।

১৬. কনড্রিকথিস (তরুণাস্থিযুক্ত মাছ) এবং অসটিকথিস (অস্থিযুক্ত মাছ) এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * অন্তঃকঙ্কাল: কনড্রিকথিসের অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থিময়; অসটিকথিসের অন্তঃকঙ্কাল অস্থিময়।

 * আঁশ: কনড্রিকথিসের দেহে প্ল্যাকয়েড আঁশ থাকে; অসটিকথিসের দেহে সাইক্লয়েড, টিনয়েড বা গ্যানয়েড আঁশ থাকে।

 * কানকো ও পটকা: কনড্রিকথিসের কানকো ও পটকা থাকে না; অসটিকথিসের কানকো (ওপারকুলাম দ্বারা আবৃত) ও বায়ুপূর্ণ পটকা থাকে।

১৭. অ্যামফিবিয়া (উভচর) শ্রেণির প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

 * এদের ত্বক নগ্ন, স্যাঁতসেঁতে এবং গ্রন্থিযুক্ত (আঁশ থাকে না)।

 * এরা শৈশবে জলে (ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়) এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে (ফুসফুস ও ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়) বাস করে।

 * হৃৎপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত (দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়)।

১৮. রেপটিলিয়া বা সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণীদের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

 * এদের ত্বক শুষ্ক এবং এপিডার্মাল আঁশ বা শক্ত প্লেট দ্বারা আবৃত।

 * এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে এবং প্রতি পায়ে ৫টি করে নখরযুক্ত আঙুল থাকে।

 * হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠযুক্ত (কুমির ছাড়া)।

১৯. অ্যাভিস বা পক্ষী শ্রেণির তিনটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর:

 * অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে যা উড়তে সাহায্য করে এবং দেহ পালক দ্বারা আবৃত।

 * চোয়াল চঞ্চু বা ঠোঁটে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এদের দাঁত থাকে না।

 * হাড়গুলি হালকা, ফাঁপা এবং বায়ুপূর্ণ (নিউমেটিক অস্থি) হওয়ায় উড্ডয়নে সহায়ক।

২০. ম্যামেলিয়া (স্তন্যপায়ী) শ্রেণির তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

 * ত্বক লোম দ্বারা আচ্ছাদিত এবং ত্বকে ঘর্মগ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি থাকে।

 * স্ত্রী প্রাণীদের দেহে কার্যকরী স্তনগ্রন্থি থাকে যা থেকে নিঃসৃত দুগ্ধ পান করে শাবক পুষ্ট হয়।

 * বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝখানে পেশিবহুল মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রাম থাকে। (উদাহরণ: মানুষ, বাঘ)।

বিভাগ ঘ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৫ নম্বর)

নিম্নলিখিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. জীবনের উৎপত্তির রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর:

পৃথিবীর আদিম পরিবেশে জীবনের উৎপত্তির রাসায়নিক ধাপগুলি বিজ্ঞানী ওপারিন এবং হ্যালডেন বর্ণনা করেন:

 * সরল জৈব যৌগের উৎপত্তি: আদিম পৃথিবীর উত্তপ্ত পরিবেশে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন এবং জলীয় বাষ্প অতিবেগুনি রশ্মি ও বজ্রপাতের প্রভাবে বিক্রিয়া করে সরল শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড ইত্যাদি গঠন করে।

 * জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি: এই সরল যৌগগুলি পলিমারাইজেশনের মাধ্যমে পলিস্যাকারাইড, প্রোটিন, ফ্যাট এবং নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। সমুদ্রের এই উত্তপ্ত মিশ্রণকে হ্যালডেন 'গরম তরল স্যুপ' (Hot dilute soup) বলেছিলেন।

 * কোয়াসারভেট ও মাইক্রোস্ফিয়ার গঠন: প্রোটিন ও অন্যান্য অণু একত্রিত হয়ে দ্বিস্তরী পর্দাবৃত কোয়াসারভেট (ওপারিনের মতে) বা মাইক্রোস্ফিয়ার (ফক্সের মতে) গঠন করে, যা ছিল আদি কোশের পূর্বসূরি।

 * প্রোটোসেলের উৎপত্তি: কোয়াসারভেটের সাথে নিউক্লিক অ্যাসিড (RNA) যুক্ত হয়ে প্রথম আদি কোশ বা প্রোটোসেল (Protocell) সৃষ্টি হয়, যা জীবনের সূচনা করে।

২. ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত শ্রেণিবিন্যাসের হায়ারার্কিটি পর্যায়ক্রমে ছকের সাহায্যে দেখাও এবং প্রতিটি ধাপের সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা দাও।

উত্তর:

লিনিয়ান হায়ারার্কির ৭টি ধাপ হলো: রাজ্য \rightarrow পর্ব \rightarrow শ্রেণি \rightarrow বর্গ \rightarrow গোত্র \rightarrow গণ \rightarrow প্রজাতি

 * রাজ্য (Kingdom): শ্রেণিবিন্যাসের সর্বোচ্চ একক, যা অনেকগুলি পর্ব নিয়ে গঠিত। (যেমন- Animalia)

 * পর্ব (Phylum): কয়েকটি সাদৃশ্যযুক্ত শ্রেণি নিয়ে একটি পর্ব গঠিত হয়। (যেমন- Chordata)

 * শ্রেণি (Class): কয়েকটি সম্পর্কিত বর্গ নিয়ে একটি শ্রেণি গঠিত হয়। (যেমন- Mammalia)

 * বর্গ (Order): কয়েকটি সাদৃশ্যযুক্ত গোত্র নিয়ে একটি বর্গ গঠিত হয়। (যেমন- Primates)

 * গোত্র (Family): কয়েকটি কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত গণ নিয়ে গোত্র গঠিত হয়। (যেমন- Hominidae)

 * গণ (Genus): সাদৃশ্যযুক্ত কয়েকটি প্রজাতি নিয়ে একটি গণ গঠিত হয়। (যেমন- Homo)

 * প্রজাতি (Species): শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষুদ্রতম একক। সর্বাধিক সাদৃশ্যযুক্ত এবং নিজেদের মধ্যে জননকার্যে সক্ষম জীবগোষ্ঠী। (যেমন- sapiens)

৩. হুইটেকার প্রবর্তিত পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখাও এবং মনেরা, প্রোটিস্টা ও ফানজাই রাজ্যের একটি করে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও।

উত্তর:

ছক: জীবজগৎ \rightarrow মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লান্টি, অ্যানিম্যালিয়া।

 * মনেরা (Monera):

   * বৈশিষ্ট্য: এরা এককোশী ও প্রোক্যারিওটিক, সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই।

   * উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া (Escherichia coli)।

 * প্রোটিস্টা (Protista):

   * বৈশিষ্ট্য: এরা এককোশী কিন্তু ইউক্যারিওটিক, পর্দাঘেরা কোশ অঙ্গাণু থাকে।

   * উদাহরণ: অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

 * ফানজাই (Fungi):

   * বৈশিষ্ট্য: এরা ইউক্যারিওটিক, কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত এবং ক্লোরোফিলহীন পরভোজী।

   * উদাহরণ: ইস্ট (Saccharomyces cerevisiae)।

৪. উদ্ভিদ রাজ্যের শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখাও। শৈবাল ও ব্রায়োফাইটা-র দুটি করে বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর:

ছক: উদ্ভিদ রাজ্য (Plantae) \rightarrow ক্রিপটোগ্যামস বা অপুষ্পক (শৈবাল, ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা) এবং ফ্যানেরোগ্যামস বা সপুষ্পক (ব্যক্তবীজী, গুপ্তবীজী)।

 * শৈবাল (Algae) এর বৈশিষ্ট্য:

   ১. সমাঙ্গদেহী বা থ্যালয়েড অর্থাৎ মূল, কাণ্ড, পাতায় বিভক্ত নয়।

   ২. সংবহন কলাতন্ত্র (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) অনুপস্থিত।

 * ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) এর বৈশিষ্ট্য:

   ১. এদের উভচর উদ্ভিদ বলা হয় কারণ নিষেকের জন্য জলের প্রয়োজন।

   ২. দেহ কাণ্ড ও পাতার মতো অংশে বিভক্ত হলেও প্রকৃত মূল থাকে না, রাইজয়েড থাকে।

৫. ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের তুলনামূলক আলোচনা করো। গুপ্তবীজীর দুটি শ্রেণির পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * তুলনা: ব্যক্তবীজীতে ডিম্বাশয় না থাকায় ফল গঠিত হয় না এবং বীজ নগ্ন থাকে। এদের প্রকৃত ফুল হয় না, রেণুপত্র থাকে। অন্যদিকে গুপ্তবীজীতে প্রকৃত ফুল ও ডিম্বাশয় থাকে, ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয় এবং বীজ ফলের ভেতরে সুরক্ষিত থাকে।

 * গুপ্তবীজীর দুটি শ্রেণি: একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী এর পার্থক্য:

   ১. বীজপত্র: একবীজপত্রীতে ১টি, দ্বিবীজপত্রীতে ২টি বীজপত্র থাকে।

   ২. মূল: একবীজপত্রীতে গুচ্ছমূল, দ্বিবীজপত্রীতে প্রধান মূল দেখা যায়।

   ৩. পাতা: একবীজপত্রীর পাতায় সমান্তরাল শিরাবিন্যাস, দ্বিবীজপত্রীতে জালিকাকার শিরাবিন্যাস থাকে।

৬. পরিফেরা, নিডারিয়া এবং টিনোফোরা পর্বের প্রাণীদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ও একটি করে বৈজ্ঞানিক নামসহ উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * পরিফেরা:

   * বৈশিষ্ট্য: দেহ অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত, দেহে ক্যানাল সিস্টেম থাকে।

   * উদাহরণ: স্পঞ্জ (Scypha gelatinosa)।

 * নিডারিয়া:

   * বৈশিষ্ট্য: দেহে সিলেন্টরন নামক গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বর এবং কর্ষিকায় নিডোব্লাস্ট কোশ থাকে।

   * উদাহরণ: হাইড্রা (Hydra vulgaris)।

 * টিনোফোরা:

   * বৈশিষ্ট্য: দেহে আটটি সিলিয়াযুক্ত কম্ব-প্লেট (Comb plate) থাকে যা গমনে সাহায্য করে এবং কোলোব্লাস্ট কোশ থাকে।

   * উদাহরণ: বেরো (Beroe forskalii)।

৭. আর্থ্রোপোডা, মোলাস্কা এবং একাইনোডার্মাটা পর্বের দুটি করে বৈশিষ্ট্য এবং একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * আর্থ্রোপোডা:

   * বৈশিষ্ট্য: সন্ধিল উপাঙ্গ বর্তমান এবং দেহ কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কালে আবৃত।

   * উদাহরণ: আরশোলা (Periplaneta americana)।

 * মোলাস্কা:

   * বৈশিষ্ট্য: নরম দেহ ম্যান্টল পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং মাংসল পদ গমনে সাহায্য করে।

   * উদাহরণ: আপেল শামুক (Pila globosa)।

 * একাইনোডার্মাটা:

   * বৈশিষ্ট্য: দেহ কণ্টকময় বা কাঁটাযুক্ত এবং জলসংবহনতন্ত্র ও নালীপদ উপস্থিত।

   * উদাহরণ: তারা মাছ (Asterias rubens)।

৮. কর্ডাটা পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী? কর্ডাটা পর্বের উপপর্বগুলির নাম লেখো এবং ভার্টিব্রাটা উপপর্বের বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

 * কর্ডাটার প্রধান বৈশিষ্ট্য: জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু, নোটোকর্ড এবং গলবিলীয় ফুলকা ছিদ্র উপস্থিত থাকে।

 * উপপর্বগুলি: ইউরোকর্ডাটা, সেফালোকর্ডাটা এবং ভার্টিব্রাটা।

 * ভার্টিব্রাটা (মেরুদণ্ডী) এর বৈশিষ্ট্য:

   ১. এদের নোটোকর্ডটি পরিণত অবস্থায় মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

   ২. মস্তিষ্ক ক্রেনিয়াম বা করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। ৩. এদের দেহে সুগঠিত অন্তঃকঙ্কাল এবং বহু প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃৎপিণ্ড থাকে।

৯. মাছ (Pisces) এবং উভচর (Amphibia) শ্রেণির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলি আলোচনা করো। উভয়ের একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * পার্থক্য:

   ১. আবাসস্থল: মাছ সম্পূর্ণ জলজ; উভচররা শৈশবে জলে এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে বাস করে।

   ২. শ্বাসঅঙ্গ: মাছের প্রধান শ্বাসঅঙ্গ ফুলকা; উভচরের শ্বাসঅঙ্গ ফুলকা (শৈশবে) এবং ফুসফুস ও ত্বক (পূর্ণাঙ্গ অবস্থায়)।

   ৩. হৃৎপিণ্ড: মাছের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠযুক্ত (১টি অলিন্দ, ১টি নিলয়) এবং কেবল দূষিত রক্ত পরিবহন করে (ভেনাস হৃৎপিণ্ড); উভচরের হৃৎপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত (২টি অলিন্দ, ১টি নিলয়)।

   ৪. গমন অঙ্গ: মাছের গমন অঙ্গ পাখনা; উভচরের গমন অঙ্গ পা।

 * উদাহরণ: মাছ—রুই মাছ (Labeo rohita); উভচর—কুনোব্যাঙ (Duttaphrynus melanostictus)।

১০. পক্ষী (Aves) এবং স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণির প্রাণীদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলির তুলনামূলক আলোচনা করো এবং উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য:

   ১. দেহ আবরণ: পাখিদের দেহ পালক দ্বারা আবৃত থাকে; স্তন্যপায়ীদের দেহ লোম বা চুল দ্বারা আবৃত থাকে।

   ২. অগ্রপদ: পাখিদের অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে (উড়বার জন্য); স্তন্যপায়ীদের অগ্রপদ হাঁটা, সাঁতার কাটা বা ধরার জন্য পায়ের মতো কাজ করে।

   ৩. মুখমণ্ডল: পাখিদের চোয়াল চঞ্চুতে (beak) পরিণত হয়েছে এবং দাঁত নেই; স্তন্যপায়ীদের চোয়ালে বিভিন্ন প্রকার দাঁত (হেটারোডোন্ট) থাকে।

   ৪. জনন ও স্তনগ্রন্থি: পাখিরা ডিম পাড়ে (ওভিপ্যারাস) এবং স্তনগ্রন্থি নেই; স্তন্যপায়ীরা সন্তান প্রসব করে (ভিভিপ্যারাস) এবং স্ত্রী দেহে দুগ্ধক্ষরণকারী কার্যকরী স্তনগ্রন্থি থাকে।

 * উদাহরণ: পক্ষী—পায়রা (Columba livia); স্তন্যপায়ী—মানুষ (Homo sapiens)।

২য় অধ্যায়: 'জীবন সংগঠনের স্তর'-এর ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নব্যাংক ও উত্তরপত্র নিচে দেওয়া হলো।

বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর)

নিম্নলিখিত ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. জীবদেহের সবচেয়ে বেশি প্রাপ্ত অজৈব উপাদান কোনটি?

উত্তর: জল।

২. কার্বোহাইড্রেট বা শর্করায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত কত?

উত্তর: ২:১।

৩. প্রোটিনের গঠনগত একক কী?

উত্তর: অ্যামাইনো অ্যাসিড।

৪. ফ্যাট বা লিপিডের গঠনগত একক কী?

উত্তর: ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল।

৫. DNA-এর সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (Deoxyribonucleic Acid)।

৬. RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে কোন নাইট্রোজেন বেস থাকে?

উত্তর: ইউরাসিল (Uracil)।

৭. কোশের আবিষ্কারক কে?

উত্তর: রবার্ট হুক (১৬৬৫ সালে)।

৮. একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশের রাইবোজোম কোন প্রকৃতির?

উত্তর: 80S প্রকৃতির।

৯. কোশের 'শক্তিঘর' (Power house) কাকে বলা হয়?

উত্তর: মাইটোকনড্রিয়াকে।

১০. প্রোটিন সংশ্লেষে কোন কোশ অঙ্গাণু সাহায্য করে?

উত্তর: রাইবোজোম (Ribosome)।

১১. কোন কোশ অঙ্গাণুকে 'আত্মঘাতী থলি' (Suicidal bag) বলা হয়?

উত্তর: লাইসোজোম (Lysosome)।

১২. উদ্ভিদ কোশের কোশপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে তৈরি?

উত্তর: সেলুলোজ (Cellulose)।

১৩. উদ্ভিদের বর্ণহীন প্লাসটিডকে কী বলে?

উত্তর: লিউকোপ্লাস্ট।

১৪. প্রাণী কোশ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle fibre) গঠনে সাহায্য করে কোন অঙ্গাণু?

উত্তর: সেন্ট্রোজোম বা সেন্ট্রিওল।

১৫. নিউক্লিয়াসের কয়টি প্রধান অংশ থাকে?

উত্তর: ৪টি (নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওজালিকা)।

১৬. উদ্ভিদকলার প্রধান দুটি ভাগ কী কী?

উত্তর: ভাজক কলা ও স্থায়ী কলা।

১৭. কোন কলার কোশগুলি ক্রমাগত বিভাজিত হতে পারে?

উত্তর: ভাজক কলা।

১৮. পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে দেয় কোন কলা?

উত্তর: ফ্লোয়েম (Phloem)।

১৯. উদ্ভিদদেহে জল ও খনিজ লবণ সংবহনে সাহায্যকারী স্থায়ী কলাটির নাম কী?

উত্তর: জাইলেম (Xylem)।

২০. একটি মৃত সরল স্থায়ী কলার নাম লেখো।

উত্তর: স্ক্লেরেনকাইমা।

২১. প্রাণীদেহে আবরণী কলার (Epithelial tissue) একটি প্রধান কাজ লেখো।

উত্তর: দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা।

২২. রক্ত কোন ধরনের কলা?

উত্তর: তরল যোগকলা (Fluid Connective Tissue)।

২৩. পেশিকলার আবরণীর নাম কী?

উত্তর: সারকোলেমা (Sarcolemma)।

২৪. স্নায়ুকলার গঠনগত ও কার্যগত এককের নাম কী?

উত্তর: নিউরন বা স্নায়ুকোশ।

২৫. মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি (Gland) কোনটি?

উত্তর: যকৃৎ (Liver)।

২৬. মানবদেহে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করা কোন অঙ্গের কাজ?

উত্তর: হৃৎপিণ্ড (Heart)।

২৭. ইনসুলিন হরমোন মানবদেহের কোন অঙ্গ থেকে ক্ষরিত হয়?

উত্তর: অগ্ন্যাশয় (Pancreas)।

২৮. ফুসফুসের দ্বিস্তরী আবরণীর নাম কী?

উত্তর: প্লিউরা (Pleura)।

২৯. মূত্র উৎপন্ন হয় মানবদেহের কোন অঙ্গে?

উত্তর: বৃক্ক বা কিডনি (Kidney)।

৩০. মানবদেহের দীর্ঘতম অস্থির নাম কী?

উত্তর: ফিমার (পায়ের হাড়)।

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড কাকে বলে?

উত্তর: যে সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহে সংশ্লেষিত হয় না, কিন্তু দেহ গঠনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় এবং যাদের খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়, তাদের অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। (যেমন- লিউসিন, লাইসিন)।

২. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ কী?

উত্তর: যে বিশেষ জৈব পরিপোষক সাধারণ খাদ্যে খুব অল্প পরিমাণে থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, তাকে ভিটামিন বলে।

৩. মানবদেহে ক্যালসিয়াম (Ca) ও লৌহের (Fe) একটি করে কাজ লেখো।

উত্তর: ক্যালসিয়াম অস্থি ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে। লৌহ বা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করে, যা অক্সিজেন পরিবহনে অপরিহার্য।

৪. প্রোক্যারিওটিক ও ইউক্যারিওটিক কোশের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

(i) প্রোক্যারিওটিক কোশে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, ইউক্যারিওটিক কোশে পর্দাঘেরা সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

(ii) প্রোক্যারিওটিক কোশে রাইবোজোম 70S প্রকৃতির, ইউক্যারিওটিক কোশে 80S প্রকৃতির হয়।

৫. কোশপর্দার দুটি কাজ লেখো।

উত্তর:

(i) কোশের ভেতরের সজীব অংশকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা।

(ii) এটি প্রভেদক ভেদ্য হওয়ায় কোশের ভেতরে ও বাইরে প্রয়োজনীয় বস্তুর আদানপ্রদান নিয়ন্ত্রণ করা।

৬. মাইটোকনড্রিয়াকে কোশের শক্তিঘর বলা হয় কেন?

উত্তর: মাইটোকনড্রিয়ার ভেতরে কোশীয় শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলি (যেমন ক্রেবস চক্র) সম্পন্ন হয় এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয়, তাই একে কোশের শক্তিঘর বলা হয়।

৭. প্লাসটিডের প্রকারভেদগুলি কী কী?

উত্তর: রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্লাসটিড তিন প্রকার: (i) ক্লোরোপ্লাস্ট (সবুজ), (ii) ক্রোমোপ্লাস্ট (সবুজ বাদে অন্যান্য রঙিন), এবং (iii) লিউকোপ্লাস্ট (বর্ণহীন)।

৮. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তর: রাইবোজোমের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটি দু-প্রকার: (i) অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম (রাইবোজোম যুক্ত) এবং (ii) মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম (রাইবোজোম বিহীন)।

৯. লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলি কেন বলা হয়?

উত্তর: লাইসোজোমের ভেতর নানা রকম আর্দ্রবিশ্লেষক উৎসেচক থাকে। কোশটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কোশে খাদ্যাভাব দেখা দিলে লাইসোজোমের পর্দা ফেটে যায় এবং উৎসেচকগুলি বেরিয়ে এসে কোশটিকেই ধ্বংস করে দেয়, তাই একে আত্মঘাতী থলি বলে।

১০. উদ্ভিদ কোশ ও প্রাণী কোশের দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

(i) উদ্ভিদ কোশে জড় কোশপ্রাচীর থাকে, প্রাণী কোশে কোশপ্রাচীর থাকে না।

(ii) উদ্ভিদ কোশে প্লাসটিড থাকে (ছত্রাক বাদে), প্রাণী কোশে প্লাসটিড থাকে না।

১১. ভাজক কলা ও স্থায়ী কলার দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

(i) ভাজক কলার কোশগুলি বিভাজনে সক্ষম, স্থায়ী কলার কোশগুলি বিভাজনে অক্ষম।

(ii) ভাজক কলার কোশে সাধারণত ভ্যাকুওল থাকে না, স্থায়ী কলার কোশে বড় ভ্যাকুওল থাকে।

১২. প্যারেনকাইমা কলার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

(i) কোশগুলি সজীব, সমব্যাসযুক্ত এবং পাতলা কোষপ্রাচীর বিশিষ্ট হয়।

(ii) কোশগুলির মাঝে আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে।

১৩. জাইলেম ও ফ্লোয়েমের একটি করে কাজ লেখো।

উত্তর: জাইলেম মূলরম দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণ ঊর্ধ্বমুখে পরিবহন করে। ফ্লোয়েম পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরস উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে (নিম্নমুখে ও পার্শ্বমুখে) পরিবহন করে।

১৪. আবরণী কলা কাকে বলে?

উত্তর: যে কলা প্রাণীদেহের বাইরের আবরণ তৈরি করে এবং দেহের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গ ও গহ্বরকে আবৃত করে রাখে, তাকে আবরণী কলা বা এপিথেলিয়াল টিস্যু বলে।

১৫. যোগকলা বা কানেকটিভ টিস্যুর দুটি কাজ লেখো।

উত্তর:

(i) দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কলার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করা (যেমন- রক্ত)।

(ii) দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করা এবং দেহের কাঠামো গঠন করা (যেমন- অস্থি ও তরুণাস্থি)।

১৬. স্নায়ুকলার প্রধান কাজ কী?

উত্তর: স্নায়ুকলার প্রধান কাজ হলো বাইরের ও ভেতরের পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করা, তা মস্তিষ্কে প্রেরণ করা এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

১৭. যকৃতের (Liver) দুটি কাজ লেখো।

উত্তর:

(i) যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয় যা ফ্যাট জাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

(ii) এটি কার্বোহাইড্রেটকে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করে রাখে।

১৮. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন?

উত্তর: অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে বহিঃক্ষরা গ্রন্থি (যাঁ থেকে পরিপাক উৎসেচক নিঃসৃত হয়) এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (যাঁ থেকে হরমোন, যেমন ইনসুলিন নিঃসৃত হয়) উভয় প্রকার গ্রন্থিই অবস্থান করে, তাই একে মিশ্র গ্রন্থি বলে।

১৯. মানবদেহে প্লীহার (Spleen) দুটি কাজ লেখো।

উত্তর:

(i) প্লীহা পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকাকে (RBC) ধ্বংস করে।

(ii) এটি দেহে রোগ প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করে।

২০. বৃক্ক বা কিডনির প্রধান কাজ কী?

উত্তর: বৃক্ক রক্ত থেকে ক্ষতিকারক নাইট্রোজেন ঘটিত রেচন পদার্থগুলিকে (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে আলাদা করে এবং মূত্র উৎপাদনের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়।

বিভাগ গ: ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও (সংক্ষেপে ৩টি পয়েন্টে):

১. কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ করো ও প্রতিটির একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর:

 * মনোস্যাকারাইড: একটিমাত্র শর্করা অণু দিয়ে গঠিত। (উদাহরণ: গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ)।

 * ডাইস্যাকারাইড: দুটি মনোস্যাকারাইড অণু দিয়ে গঠিত। (উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ)।

 * পলিস্যাকারাইড: বহুসংখ্যক মনোস্যাকারাইড অণু দিয়ে গঠিত। (উদাহরণ: স্টার্চ বা শ্বেতসার, সেলুলোজ)।

২. প্রোটিনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা কাজ লেখো।

উত্তর:

 * দেহ গঠন ও বৃদ্ধি: পেশি, অস্থি, ত্বক ও চুল গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।

 * উৎসেচক ও হরমোন গঠন: দেহের অধিকাংশ উৎসেচক এবং বহু হরমোন (যেমন ইনসুলিন) প্রোটিন দিয়ে তৈরি যা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

 * রোগ প্রতিরোধ: রক্তে অবস্থিত প্রোটিনজাতীয় অ্যান্টিবডি রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

৩. ফ্যাট বা লিপিডের তিনটি কাজ লেখো।

উত্তর:

 * ফ্যাট দেহে তাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

 * এটি কোশপর্দা ও বিভিন্ন কোশ অঙ্গাণুর আবরণী গঠনে প্রধান ভূমিকা নেয়।

 * ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি (A, D, E, K) শোষণে লিপিড সাহায্য করে।

৪. DNA এবং RNA-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * শর্করা: DNA-তে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে; RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।

 * বেস: DNA-তে অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিনের সাথে থাইমিন থাকে; RNA-তে থাইমিনের বদলে ইউরাসিল থাকে।

 * গঠন: DNA সাধারণত দ্বিতন্ত্রী (Double-stranded) হয়; RNA সাধারণত একতন্ত্রী (Single-stranded) হয়।

৫. নিউক্লিয়াসের গঠন বর্ণনা করো।

উত্তর: একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস ৪টি অংশ নিয়ে গঠিত:

 * নিউক্লিয় পর্দা: নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকা দ্বিস্তরী সচ্ছিদ্র আবরণী।

 * নিউক্লিওপ্লাজম: পর্দার ভেতরের ঘন তরল ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স।

 * নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিওজালিকা: ভেতরে থাকা উজ্জ্বল গোলাকার অংশটি নিউক্লিওলাস এবং সুতোর মতো জালকাকার অংশটি হলো নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন তন্তু যা পরে ক্রোমোজোম গঠন করে।

৬. মাইটোকনড্রিয়ার গঠন সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * মাইটোকনড্রিয়া দ্বিস্তরী পর্দা দ্বারা আবৃত (বহিঃপর্দা ও অন্তঃপর্দা)।

 * অন্তঃপর্দাটি ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে, এদের ক্রিস্টি (Cristae) বলে।

 * ক্রিস্টির গায়ে র্যাকেটের মতো দেখতে অসংখ্য দানা থাকে, যাদের F1 বস্তু বা অক্সিজোম বলে। ভেতরের তরলকে ধাত্র বলে।

৭. ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * ক্লোরোপ্লাস্ট দ্বিস্তরী পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে।

 * এর ভেতরের তরল ধাত্রকে স্ট্রোমা (Stroma) বলে, যেখানে অন্ধকার দশার বিক্রিয়া ঘটে।

 * স্ট্রোমার মধ্যে চাকতির মতো অংশগুলি স্তরীভূত হয়ে গ্রানা (Grana) গঠন করে, যেখানে ক্লোরোফিল থাকে এবং আলোক দশা ঘটে।

৮. গলগি বডির গঠন ও কাজ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * গঠন: গলগি বডি চ্যাপ্টা থলির মতো সিস্টারনি, ছোট গহ্বরের মতো মাইক্রোভেসিকল এবং বড় গহ্বরের মতো ভ্যাকুওল নিয়ে গঠিত।

 * কাজ ১: কোশের বিভিন্ন ক্ষরণমূলক কাজে (যেমন উৎসেচক, হরমোন ক্ষরণ) সাহায্য করে।

 * কাজ ২: লাইসোজোম এবং শুক্রাণুর অ্যাক্রোজোম গঠনে সাহায্য করে।

৯. মসৃণ ও অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলামের পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * রাইবোজোম: অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলামের গায়ে রাইবোজোম দানা যুক্ত থাকে; মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলামের গায়ে রাইবোজোম থাকে না।

 * কাজ: অমসৃণটি প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষে অংশগ্রহণ করে; মসৃণটি লিপিড ও গ্লাইকোজেন সংশ্লেষে সাহায্য করে।

 * অবস্থান: অমসৃণগুলি নিউক্লিয় পর্দার কাছাকাছি থাকে; মসৃণগুলি সাধারণত কোশপর্দার কাছাকাছি থাকে।

১০. সেন্ট্রোজোমের গঠন ও কাজ লেখো।

উত্তর:

 * গঠন: সেন্ট্রোজোম প্রধানত সেন্ট্রিওল (দুটি বেলনাকার অঙ্গাণু) এবং তাকে ঘিরে থাকা গাঢ় তরল সেন্ট্রোস্ফিয়ার নিয়ে গঠিত। এদের ঘিরে কোনো আবরণী থাকে না।

 * কাজ ১: প্রাণী কোশ বিভাজনের সময় বেমতন্তু (Spindle fibre) গঠন করে ক্রোমোজোমের চলনে সাহায্য করে।

 * কাজ ২: শুক্রাণুর পুচ্ছ গঠনে সাহায্য করে।

১১. ভাজক কলার তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:

 * কোশগুলি গোলাকার, ডিম্বাকার বা বহুভুজাকার হয় এবং এদের মাঝে কোনো আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে না।

 * কোশপ্রাচীর খুব পাতলা হয় এবং কোশগুলি সর্বদা বিভাজনে সক্ষম।

 * কোশে পরিণত ভ্যাকুওল থাকে না, প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি বড় হয়।

১২. জাইলেম কলার বিভিন্ন উপাদানগুলির নাম লেখো।

উত্তর:

জাইলেম কলা চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত:

 * ট্রাকিড (মৃত ও লম্বাটে কোশ)

 * ট্রাকিয়া বা বাহ (মৃত ও নলাকার কোশ)

 * জাইলেম প্যারেনকাইমা (সজীব কোশ)

 * জাইলেম তন্তু (মৃত ও দৃঢ় কোশ)

১৩. ফ্লোয়েম কলার বিভিন্ন উপাদানগুলির নাম লেখো।

উত্তর:

ফ্লোয়েম কলা চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত:

 * সিবনল (নিউক্লিয়াসবিহীন সজীব কোশ)

 * সঙ্গীকোশ (নিউক্লিয়াসযুক্ত সজীব কোশ)

 * ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (সজীব কোশ)

 * ফ্লোয়েম তন্তু বা বাস্ট তন্তু (মৃত কোশ)

১৪. সরল স্থায়ী কলা ও জটিল স্থায়ী কলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * কোশের ধরন: সরল স্থায়ী কলা একই আকার ও আকৃতিবিশিষ্ট সমপ্রকৃতির কোশ দিয়ে গঠিত; জটিল স্থায়ী কলা বিভিন্ন আকার ও আকৃতিবিশিষ্ট একাধিক প্রকার কোশ দিয়ে গঠিত।

 * উদাহরণ: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা হলো সরল স্থায়ী কলা; জাইলেম ও ফ্লোয়েম হলো জটিল স্থায়ী কলা।

 * কাজ: সরল কলার মূল কাজ খাদ্য তৈরি, সঞ্চয় ও দৃঢ়তা প্রদান; জটিল কলার মূল কাজ জল ও খাদ্য সংবহন করা।

১৫. পেশিকলার তিনটি প্রধান কাজ লেখো।

উত্তর:

 * পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে প্রাণীদের গমনে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

 * দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির (যেমন হৃৎপিণ্ড, পৌষ্টিকনালি) চলন নিয়ন্ত্রণ করে।

 * দেহের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং কঙ্কালতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়।

১৬. নিউরনের প্রধান অংশগুলি কী কী?

উত্তর:

একটি আদর্শ নিউরন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত:

 * কোশদেহ (Soma): এটি গোলাকার বা তারকাকার অংশ যার মধ্যে নিউক্লিয়াস ও নিসল দানা থাকে।

 * প্রবর্ধক: এটি দু-প্রকার— ক্ষুদ্র ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত প্রবর্ধককে ডেনড্রন (যা উদ্দীপনা গ্রহণ করে) এবং দীর্ঘ, শাখাহীন প্রবর্ধককে অ্যাক্সন (যা উদ্দীপনা পরিবহন করে) বলে।

১৭. হৃৎপিণ্ডের (Heart) অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * অবস্থান: হৃৎপিণ্ড মানুষের বক্ষগহ্বরে, দুটি ফুসফুসের মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে কিছুটা বাঁ-দিক ঘেঁষে অবস্থান করে।

 * কাজ: এটি পাম্পের মতো কাজ করে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে ধমনির মাধ্যমে বিশুদ্ধ রক্ত ছড়িয়ে দেয় এবং শিরার মাধ্যমে দূষিত রক্ত সংগ্রহ করে।

১৮. ফুসফুসের (Lungs) অবস্থান ও প্রধান কাজ কী?

উত্তর:

 * অবস্থান: মানুষের বক্ষগহ্বরে হৃৎপিণ্ডের দু-পাশে একটি করে মোট দুটি ফুসফুস অবস্থিত।

 * কাজ: ফুসফুস শ্বাসকার্যে সাহায্য করে। এটি পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্তে মেশায় এবং রক্ত থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড সংগ্রহ করে পরিবেশ ত্যাগ করে।

১৯. পাকস্থলীর (Stomach) অবস্থান ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর:

 * অবস্থান: এটি উদরগহ্বরের ওপরের দিকে বাঁ-পাশে মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে অবস্থিত একটি থলির মতো অঙ্গ।

 * কাজ: পাকস্থলী খাদ্য সাময়িকভাবে সঞ্চয় করে রাখে। এর ভেতরের গ্রন্থি থেকে পাচক রস (যেমন পেপসিন, HCl) নিঃসৃত হয় যা প্রোটিনজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

২০. মস্তিষ্কের (Brain) অবস্থান ও প্রধান তিনটি কাজ লেখো।

উত্তর:

 * অবস্থান: মস্তিষ্ক মাথার খুলি বা করোটির (Cranium) মধ্যে সুরক্ষিত থাকে।

 * কাজ:

   ১. দেহের সমস্ত ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক কাজ এবং অন্যান্য তন্ত্রের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

   ২. চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদি মানসিক ও সংজ্ঞাবহ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

   ৩. দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে (লঘুমস্তিষ্ক)।

বিভাগ ঘ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৫ নম্বর)

নিম্নলিখিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের পুষ্টিগত গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (২+২+১)

উত্তর:

 * প্রোটিনের গুরুত্ব: প্রোটিন হলো দেহ গঠনের প্রধান উপাদান। নতুন কোশ গঠন, ক্ষয়পূরণ এবং দেহের বৃদ্ধিতে প্রোটিন অপরিহার্য। এছাড়া রক্ততঞ্চনকারী উপাদান, অ্যান্টিবডি তৈরি এবং বিপাক ক্রিয়ায় উৎসেচক তৈরিতে প্রোটিন অপরিহার্য।

 * কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব: কার্বোহাইড্রেট হলো শক্তির প্রধান উৎস। প্রতিদিনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির বেশিরভাগই কার্বোহাইড্রেট জারণের মাধ্যমে পাওয়া যায় (১ গ্রাম শর্করা থেকে প্রায় ৪.১ ক্যালোরি শক্তি মেলে)। এটি দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।

 * ফ্যাটের গুরুত্ব: ফ্যাট বা লিপিড তাপ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে এবং মেদকলায় সঞ্চিত থেকে ভবিষ্যতের খাদ্যের যোগান দেয় (১ গ্রাম ফ্যাট থেকে ৯.৩ ক্যালোরি শক্তি মেলে)। ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণে এটি সাহায্য করে।

২. নিউক্লিক অ্যাসিড কী? DNA-এর গঠন ও কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করো। (১+৪)

উত্তর:

 * নিউক্লিক অ্যাসিড: কোশের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত যে জৈব অম্ল (পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল) জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিক অ্যাসিড বলে। এটি দু-প্রকার: DNA ও RNA।

 * DNA-এর গঠন: ওয়াটসন ও ক্রিক-এর মডেল অনুযায়ী DNA হলো একটি দ্বিতন্ত্রী প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো গঠন (Double helix)। শৃঙ্খল দুটি ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা এবং ফসফেট অণু দিয়ে তৈরি। সিঁড়ির ধাপগুলি নাইট্রোজেন বেস (অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, থাইমিন, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত, যেখানে অ্যাডেনিন দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে থাইমিনের সাথে (A=T) এবং গুয়ানিন তিনটি বন্ড দিয়ে সাইটোসিনের সাথে (G≡C) যুক্ত থাকে।

 * DNA-এর কাজ: এটি জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলিকে এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে বহন করে এবং কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশের প্রধান অঙ্গাণুগুলির নাম লেখো এবং তাদের একটি করে কাজ বর্ণনা করো।

উত্তর:

একটি আদর্শ ইউক্যারিওটিক কোশে নিম্নলিখিত অঙ্গাণুগুলি থাকে:

 * মাইটোকনড্রিয়া: কোশীয় শ্বসনের মাধ্যমে ATP তৈরি করে (শক্তি উৎপাদন)।

 * নিউক্লিয়াস: কোশের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে (কোশের মস্তিষ্ক)।

 * এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকিউলাম: প্রোটিন ও ফ্যাট সংশ্লেষ করে এবং কোশের সাইটোপ্লাজমীয় কাঠামো গঠন করে।

 * গলগি বডি: বিভিন্ন পদার্থ (হরমোন, উৎসেচক) ক্ষরণে সাহায্য করে।

 * রাইবোজোম: প্রোটিন সংশ্লেষে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে।

 * লাইসোজোম: কোশীয় পরিপাক এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোশ ধ্বংস (আত্মঘাতী থলি) করতে সাহায্য করে।

 * প্লাসটিড (উদ্ভিদ কোশে): সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি (ক্লোরোপ্লাস্ট) ও বর্ণ গঠন করে।

৪. মাইটোকনড্রিয়া এবং ক্লোরোপ্লাস্টের গঠনগত পার্থক্য ও কাজের তুলনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

 * গঠনগত পার্থক্য:

   * মাইটোকনড্রিয়ার অন্তঃপর্দা ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে এবং এর গায়ে অক্সিজোম দানা থাকে। অন্যদিকে, ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে ক্রিস্টি থাকে না, এর ভেতরে স্ট্রোমা নামক ধাত্র এবং চাকতির মতো গ্রানা থাকে।

   * মাইটোকনড্রিয়ায় কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, কিন্তু ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ রঞ্জক (ক্লোরোফিল) থাকে।

 * কাজের তুলনা:

   * মাইটোকনড্রিয়ায় শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্যের জারণ ঘটে এবং রাসায়নিক শক্তি (ATP) মুক্ত হয় (শক্তি উৎপাদক)।

   * ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গ্লুকোজ জাতীয় খাদ্যে আবদ্ধ হয় (খাদ্য উৎপাদক)।

৫. নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

একটি আদর্শ নিউক্লিয়াসের চারটি অংশ থাকে:

 * নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear membrane): এটি লাইপোপ্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তরী ছিদ্রযুক্ত আবরণী, যা নিউক্লিয়াসকে সাইটোপ্লাজম থেকে পৃথক রাখে এবং সাইটোপ্লাজমের সাথে পদার্থের আদানপ্রদান নিয়ন্ত্রণ করে।

 * নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm): পর্দার ভেতরে থাকা স্বচ্ছ, দানাদার তরল ধাত্র, যার মধ্যে নিউক্লিওলাস ও ক্রোমাটিন তন্তু ভাসমান থাকে। এটি নিউক্লিয়াসের রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলির ক্ষেত্র।

 * নিউক্লিওলাস (Nucleolus): নিউক্লিওপ্লাজমে ভাসমান ঘন, গোলাকার অংশ, যা RNA ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এটি রাইবোজোম সংশ্লেষে সাহায্য করে।

 * নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন তন্তু (Chromatin network): নিউক্লিওপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকা সুতোর মতো জালক। কোশ বিভাজনের সময় এরা ক্রোমোজোম গঠন করে এবং বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।

৬. উদ্ভিদকলার শ্রেণিবিন্যাস ছকের সাহায্যে দেখাও এবং প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা কলার পার্থক্য লেখো। (২+৩)

উত্তর:

 * ছক: উদ্ভিদ কলা প্রধানত দু-প্রকার \rightarrow ১. ভাজক কলা এবং ২. স্থায়ী কলা।

   স্থায়ী কলা আবার দু-প্রকার \rightarrow সরল স্থায়ী কলা (প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা) এবং জটিল স্থায়ী কলা (জাইলেম, ফ্লোয়েম)।

 * সরল স্থায়ী কলার পার্থক্য:

   * প্যারেনকাইমা: কোশগুলি সজীব, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত। কোশের মাঝে আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে। প্রধান কাজ খাদ্য তৈরি ও সঞ্চয়।

   * কোলেনকাইমা: কোশগুলি সজীব, কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু (কোণগুলিতে পুরু)। আন্তঃকোশীয় স্থান থাকতেও পারে বা নাও পারে। প্রধান কাজ উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেওয়া।

   * স্ক্লেরেনকাইমা: কোশগুলি মৃত, লিগনিন যুক্ত হওয়ার ফলে কোষপ্রাচীর খুব পুরু হয়। আন্তঃকোশীয় স্থান থাকে না। প্রধান কাজ উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা।

৭. জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার উপাদানগুলির নাম লেখো এবং এদের কাজের পার্থক্য আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর:

 * উপাদান: জাইলেমের উপাদানগুলি হলো— ট্রাকিড, ট্রাকিয়া, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। ফ্লোয়েমের উপাদানগুলি হলো— সিবনল, সঙ্গীকোশ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম তন্তু।

 * কাজের পার্থক্য:

   * জাইলেম কলা মাটির নিচ থেকে মূলরম দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণ ঊর্ধ্বমুখে (পাতার দিকে) পরিবহন করে।

   * ফ্লোয়েম কলা পাতায় উৎপন্ন শর্করাজাতীয় তরল খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে নিম্নমুখে ও পার্শ্বমুখে পরিবহন করে।

   * জাইলেম প্রধানত মৃত কোষ দিয়ে তৈরি তাই দৃঢ়তা প্রদান করে, ফ্লোয়েম প্রধানত সজীব কোষ দিয়ে গঠিত তাই পরিবহনেই মুখ্য ভূমিকা নেয়।

৮. প্রাণীকলা কয় প্রকার ও কী কী? আবরণী কলা ও যোগকলার গঠনগত বৈশিষ্ট্য ও কাজ লেখো। (১+৪)

উত্তর:

 * প্রকারভেদ: প্রাণীকলা প্রধানত চার প্রকার: ১. আবরণী কলা, ২. যোগকলা, ৩. পেশিকলা এবং ৪. স্নায়ুকলা।

 * আবরণী কলা (Epithelial Tissue):

   * বৈশিষ্ট্য: কোশগুলি একটি ভিত্তি পর্দার ওপর এক বা একাধিক স্তরে ঘনসন্নিবিষ্টভাবে সাজানো থাকে। কোশগুলির মাঝে কোনো আন্তঃকোশীয় স্থান বা ধাত্র থাকে না।

   * কাজ: অঙ্গের বাইরের আবরণ তৈরি করে সুরক্ষা দেয় এবং শোষণ ও ক্ষরণে সাহায্য করে।

 * যোগকলা (Connective Tissue):

   * বৈশিষ্ট্য: এই কলায় কোশের পরিমাণ কম কিন্তু ধাত্রের (Matrix) পরিমাণ বেশি থাকে। এটি কোনো ভিত্তি পর্দার ওপর থাকে না।

   * কাজ: দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে (যেমন রক্ত) এবং দেহের কাঠামো তৈরি করে (যেমন অস্থি)।

৯. স্নায়ুকোশ বা নিউরনের গঠন ও কাজ বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক। এর দুটি প্রধান অংশ থাকে:

 * কোশদেহ (Soma): এটি নিউরনের স্ফীত গোলাকার বা তারকাকার অংশ। এটি কোশপর্দা দ্বারা আবৃত এবং সাইটোপ্লাজম (নিউরোপ্লাজম), নিউক্লিয়াস ও নিসল দানা যুক্ত। এটি উদ্দীপনা গ্রহণ করে অ্যাক্সনে পাঠায়।

 * প্রবর্ধক (Processes): প্রবর্ধক দু-ধরনের হয়:

   * ডেনড্রন: কোশদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র, শাখাপ্রশাখাযুক্ত অংশ। এর শাখাগুলিকে ডেনড্রাইট বলে। এরা পূর্ববর্তী নিউরন বা গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোশদেহে আনে।

   * অ্যাক্সন: কোশদেহ থেকে নির্গত দীর্ঘ, শাখাহীন অংশ যা সোয়ান কোশ ও মায়োলিন সিথ দ্বারা আবৃত থাকে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তকে প্রান্তবুরুশ বলে। এর কাজ হলো কোশদেহ থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরন বা পেশিতে পরিবহন করা।

১০. মানবদেহের যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় ও বৃক্কের অবস্থান এবং এদের প্রধান কাজগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (১.৫+১.৫+২)

উত্তর:

 * যকৃৎ (Liver):

   * অবস্থান: এটি উদরগহ্বরের ডান দিকে, মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে অবস্থিত মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি।

   * কাজ: পিত্তরস ক্ষরণ করে যা ফ্যাট পরিপাকে সাহায্য করে। অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চয় করে এবং ইউরিয়া উৎপাদন করে।

 * অগ্ন্যাশয় (Pancreas):

   * অবস্থান: পাকস্থলীর ঠিক নিচে, ডিওডিনামের 'U' আকৃতির বাঁকের মধ্যে অবস্থিত।

   * কাজ: এটি একটি মিশ্র গ্রন্থি। এর বহিঃক্ষরা অংশ থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয় যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং অন্তঃক্ষরা অংশ থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয় যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

 * বৃক্ক (Kidney):

   * অবস্থান: উদরগহ্বরের পিছন দিকে, মেরুদণ্ডের দু-পাশে কটি অঞ্চলে দুটি শিমের বীজের মতো আকৃতির বৃক্ক অবস্থিত।

   * কাজ: এটি মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। বৃক্ক রক্তকে পরিশ্রুত করে প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত দূষিত পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড) মূত্ররূপে দেহ থেকে নির্গত করে এবং দেহে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে।






৩য় অধ্যায়: 'জৈবনিক প্রক্রিয়া'-এর ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নব্যাংক ও উত্তরপত্র নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে উদ্ভিদ শারীরবিদ্যা, শ্বসন, পুষ্টি, সংবহন এবং রেচন—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে।

বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর)

নিম্নলিখিত ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় প্রধান রঞ্জক পদার্থ কোনটি?

উত্তর: ক্লোরোফিল।

২. সালোকসংশ্লেষের প্রধান স্থান উদ্ভিদের কোন কলা?

উত্তর: পাতার মেসোফিল কলা।

৩. সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন অক্সিজেনের উৎস কী?

উত্তর: জল (H_2O)।

৪. সালোকসংশ্লেষে উৎপন্ন প্রথম স্থায়ী কার্বন যৌগটির নাম কী?

উত্তর: ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)।

৫. উদ্ভিদের একটি ম্যাক্রো বা অতিমাত্রিক পরিপোষকের (Macronutrient) নাম লেখো।

উত্তর: নাইট্রোজেন (N) বা পটাশিয়াম (K)।

৬. উদ্ভিদের বাষ্পমোচন বা প্রস্বেদন প্রধানত কোন অঙ্গের মাধ্যমে ঘটে?

উত্তর: পাতার পত্ররন্ধ্র (Stomata) দিয়ে।

৭. জাইলেম কলার মাধ্যমে কী পরিবাহিত হয়?

উত্তর: জল ও দ্রবীভূত খনিজ লবণ।

৮. কোশীয় শ্বসনের প্রথম পর্যায় গ্লাইকোলাইসিস কোথায় ঘটে?

উত্তর: কোশের সাইটোপ্লাজমে।

৯. ক্রেবস চক্র কোশের কোন অঙ্গাণুতে সম্পন্ন হয়?

উত্তর: মাইটোকনড্রিয়ায়।

১০. সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ জারিত হয়ে মোট কত অণু ATP উৎপন্ন হয়?

উত্তর: ৩৮ অণু ATP।

১১. একটি পতঙ্গভুক উদ্ভিদের নাম লেখো।

উত্তর: কলসপত্রী (Pitcher plant) বা সূর্যশিশির।

১২. পূর্ণবয়স্ক মানুষের দন্তসংকেত (Dental formula) কী?

উত্তর: \frac{2123}{2123} (ইনসিসর ২, ক্যানাইন ১, প্রিমোলার ২, মোলার ৩)।

১৩. লালারসে উপস্থিত একটি শর্করা ভঙ্গক উৎসেচকের নাম লেখো।

উত্তর: টায়ালিন (Ptyalin) বা স্যালিভারি অ্যামাইলেজ।

১৪. পাকস্থলী থেকে ক্ষরিত প্রোটিন পরিপাককারী উৎসেচকের নাম কী?

উত্তর: পেপসিন (Pepsin)।

১৫. ফ্যাট বা স্নেহপদার্থ পরিপাককারী একটি উৎসেচকের নাম লেখো।

উত্তর: লাইপেজ (Lipase)।

১৬. মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণ একককে কী বলে?

উত্তর: ভিলাই (Villi)।

১৭. বি.এম.আর (BMR) পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?

উত্তর: বেনেডিক্ট রথ অ্যাপারেটাস।

১৮. আরশোলা বা পতঙ্গদের রক্ত সংবহনতন্ত্র কী প্রকৃতির?

উত্তর: মুক্ত প্রকৃতির।

১৯. মানুষের রক্ত লাল হয় কোন রঞ্জকের উপস্থিতিতে?

উত্তর: হিমোগ্লোবিন।

২০. কোন ব্লাড গ্রুপকে 'সার্বজনীন দাতা' (Universal donor) বলা হয়?

উত্তর: 'O' গ্রুপকে।

২১. রক্ততঞ্চন বা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী রক্তকণিকার নাম কী?

উত্তর: অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট।

২২. মানুষের হৃৎপিণ্ড কয়টি প্রকোষ্ঠযুক্ত?

উত্তর: ৪টি (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়)।

২৩. হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠ থেকে সারা দেহে বিশুদ্ধ রক্ত পাম্প হয়?

উত্তর: বাম নিলয় থেকে।

২৪. উদ্ভিদের একটি নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থের নাম লেখো।

উত্তর: গঁদ, রজন বা তরুক্ষীর।

২৫. কুইনাইন কোন গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায়?

উত্তর: সিঙ্কোনা গাছের।

২৬. ডাটুরিন উপক্ষারটি কোন গাছ থেকে পাওয়া যায়?

উত্তর: ধুতুরা গাছের পাতা ও ফল থেকে।

২৭. মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: বৃক্ক বা কিডনি (Kidney)।

২৮. ফ্লেম কোশ (Flame cell) কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ?

উত্তর: চ্যাপ্টাকৃমি বা প্ল্যানেরিয়ার।

২৯. কেঁচো বা অ্যানিলিডা পর্বের রেচন অঙ্গের নাম কী?

উত্তর: নেফ্রিডিয়া।

৩০. বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক কী?

উত্তর: নেফ্রন (Nephron)।

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. সালোকসংশ্লেষকে উপচিতি বিপাক (Anabolism) বলা হয় কেন?

উত্তর: সালোকসংশ্লেষ একটি গঠনমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে সরল অজৈব উপাদান (জল ও CO_2) থেকে জটিল জৈব খাদ্য (গ্লুকোজ) উৎপন্ন হয়। এর ফলে উদ্ভিদদেহের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়, তাই একে উপচিতি বিপাক বলে।

২. সালোকসংশ্লেষের আলোক দশা ও অন্ধকার দশার স্থানগুলি উল্লেখ করো।

উত্তর: আলোক দশা ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় (থাইলাকয়েড পর্দা) ঘটে এবং অন্ধকার দশা বা কেলভিন চক্র ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় বা ধাত্রে ঘটে।

৩. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা স্বল্পমাত্রিক পরিপোষক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত পরিপোষক উপাদান উদ্ভিদদেহে খুব সামান্য পরিমাণে (প্রতি গ্রাম শুষ্ক ওজনে ০.১ মিলিগ্রামের কম) প্রয়োজন হয় কিন্তু পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। উদাহরণ: লোহা (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), বোরন (B)।

৪. বাষ্পমোচনকে 'প্রয়োজনীয় ক্ষতিকারক প্রক্রিয়া' (Necessary evil) কে বলেছেন এবং কেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী কার্টিস এটি বলেছেন। কারণ, বাষ্পমোচনের ফলে উদ্ভিদের দেহ থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে গিয়ে জলের ঘাটতি হতে পারে যা ক্ষতিকারক; কিন্তু রসস্ফীতি, রসের উৎস্রোত ও দেহ শীতল রাখার জন্য এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্যও বটে।

৫. ব্যাপন (Diffusion) ও অভিস্রবণের (Osmosis) দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) ব্যাপন প্রক্রিয়ায় অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন নেই, কিন্তু অভিস্রবণে অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন হয়। (ii) ব্যাপন গ্যাস, তরল ও কঠিন—সব মাধ্যমেই ঘটতে পারে, অভিস্রবণ কেবল তরল মাধ্যমেই ঘটে।

৬. কোশীয় শ্বসন কাকে বলে?

উত্তর: যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোশের অভ্যন্তরে শর্করা বা শ্বসন বস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতিতে (বা অনুপস্থিতিতে) উৎসেচকের সাহায্যে জারিত হয়ে জল, কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে এবং খাদ্যের স্থৈতিক শক্তি তাপ বা গতিশক্তি রূপে (ATP) মুক্ত হয়, তাকে কোশীয় শ্বসন বলে।

৭. সবাত ও অবাত শ্বসনের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) সবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, অবাত শ্বসনে মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। (ii) সবাত শ্বসনে গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে প্রচুর শক্তি (৩৮ ATP) তৈরি করে, অবাত শ্বসনে গ্লুকোজ আংশিক জারিত হয়ে কম শক্তি (২ ATP) তৈরি করে।

৮. গ্লাইকোলাইসিসকে EMP পথ বলা হয় কেন?

উত্তর: গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক বিক্রিয়াগুলি তিনজন বিজ্ঞানী—এম্বডেন (Embden), মেয়ারহফ (Meyerhof) এবং পারনেস (Parnas) প্রথম আবিষ্কার করেন বলে তাদের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী একে EMP পথ বলা হয়।

৯. হলোজোয়িক পুষ্টি (পরভোজী পুষ্টি) কাকে বলে?

উত্তর: যে পুষ্টি পদ্ধতিতে জীবেরা কঠিন বা তরল জটিল খাদ্য গ্রহণ করে এবং তা পরিপাক, শোষণ, আত্তীকরণ ও বহিষ্করণের মাধ্যমে পুষ্টি সম্পন্ন করে, তাকে হলোজোয়িক বা প্রাণীসম পুষ্টি বলে। (যেমন- মানুষ, অ্যামিবা)।

১০. হলোজোয়িক পুষ্টির পাঁচটি পর্যায় কী কী?

উত্তর: পর্যায়গুলি হলো: ১. খাদ্যগ্রহণ (Ingestion), ২. পরিপাক (Digestion), ৩. শোষণ (Absorption), ৪. আত্তীকরণ (Assimilation) এবং ৫. বহিষ্করণ বা মলত্যাগ (Egestion)।

১১. পিত্তরসের দুটি কাজ লেখো।

উত্তর: (i) পিত্তরসে থাকা পিত্তলবণ ফ্যাটজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে দেয় (ইমালসিফিকেশন)। (ii) এটি পাকস্থলী থেকে আসা আম্লিক খাদ্যকে প্রশমিত করে ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করে যা উৎসেচকের কাজের অনুকূল।

১২. মুক্ত ও বদ্ধ রক্ত সংবহনতন্ত্রের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) মুক্ত সংবহনে রক্ত সর্বদা রক্তবাহের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না, দেহগহ্বরে (হিমোসিলে) মুক্ত হয়। বদ্ধ সংবহনে রক্ত সর্বদা রক্তবাহ ও হৃৎপিণ্ডের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। (ii) মুক্ত সংবহন ধীর গতির, বদ্ধ সংবহন দ্রুত গতির।

১৩. লোহিত রক্তকণিকা (RBC) ও শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) RBC-তে হিমোগ্লোবিন থাকে তাই রং লাল, WBC-তে হিমোগ্লোবিন থাকে না তাই এরা বর্ণহীন। (ii) RBC মূলত অক্সিজেন পরিবহন করে, WBC রোগজীবাণু ধ্বংস করে অনাক্রম্যতা প্রদান করে।

১৪. সিরাম (Serum) কাকে বলে?

উত্তর: রক্ত জমাট বাঁধার পর রক্ততঞ্চনকারী প্রোটিন (যেমন- ফাইব্রিনোজেন) বাদ দিয়ে যে ঈষৎ হলুদ রঙের স্বচ্ছ তরল অংশটি পড়ে থাকে, তাকে ব্লাড সিরাম বলে। (সিরাম = রক্তরস - তঞ্চন ফ্যাক্টর)।

১৫. সিস্টোল ও ডায়াস্টোল বলতে কী বোঝো?

উত্তর: হৃৎপিণ্ডের পেশির সংকোচনকে সিস্টোল এবং হৃৎপিণ্ডের পেশির প্রসারণ বা শিথিল হওয়াকে ডায়াস্টোল বলে। এই দুই পর্যায়ের মাধ্যমেই হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সারা দেহে ছড়িয়ে দেয়।

১৬. রেচন (Excretion) ও ক্ষরণের (Secretion) দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) রেচনের মাধ্যমে দেহের বিপাকীয় দূষিত পদার্থগুলি দেহ থেকে চিরতরে বহিষ্কৃত হয়; ক্ষরণের মাধ্যমে দরকারী পদার্থ (হরমোন, উৎসেচক) উৎপন্ন হয়ে দেহের কাজে লাগে। (ii) রেচন পদার্থ দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক, ক্ষরিত পদার্থ দেহের পক্ষে প্রয়োজনীয়।

১৭. তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স (Latex) কী? এর একটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: তরুক্ষীর হলো রবার, বট, পেঁপে প্রভৃতি গাছের তরুক্ষীর কোশ বা নালিতে সঞ্চিত একপ্রকার সাদা দুধের মতো বা জলীয় রেচন পদার্থ। গুরুত্ব: রবার গাছের তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থেকে বাণিজ্যিক রবার বা টায়ার তৈরি হয়; পেঁপের তরুক্ষীর (প্যাপাইন) পরিপাকের ওষুধ তৈরিতে লাগে।

১৮. ম্যালপিজিয়ান নালিকা কী? এটি কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ?

উত্তর: ম্যালপিজিয়ান নালিকা হলো আর্থ্রোপোডা বা সন্ধিপদ পর্বের (যেমন আরশোলা, ফড়িং) প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। এটি হিমোসিল থেকে রেচন পদার্থ সংগ্রহ করে পৌষ্টিকনালিতে মুক্ত করে।

১৯. গ্লোমেরুলাস কী?

উত্তর: গ্লোমেরুলাস হলো নেফ্রনের বাউম্যানস ক্যাপসুলের ভেতরে অবস্থিত অসংখ্য রক্তজালকের একটি গুচ্ছ, যা পরিশ্রাবক বা ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে রেচন পদার্থযুক্ত তরল আলাদা করে।

২০. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: অ্যান্টিজেন হলো দেহের বাইরের কোনো প্রোটিন বা পদার্থ যা দেহে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্দীপিত হয়। আর অ্যান্টিবডি হলো ওই অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করার জন্য রক্তরসে উৎপন্ন বিশেষ প্রোটিন।




বিভাগ গ: ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও (সংক্ষেপে ৩টি পয়েন্টে):

১. সালোকসংশ্লেষে জল ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * জল (H_2O): এটি সালোকসংশ্লেষে হাইড্রোজেন দাতা হিসেবে কাজ করে এবং জলের অণু ভেঙে (ফটোলিসিস) যে অক্সিজেন নির্গত হয়, তার প্রধান উৎস হলো জল।

 * কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2): এটি কার্বন দাতা। অন্ধকার দশায় CO_2 বিজারিত হয়েই গ্লুকোজ (C_6H_{12}O_6) অণু গঠন করে, যা উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য।

২. সালোকসংশ্লেষের আলোক দশায় উৎপন্ন প্রধান উপাদানগুলি কী কী? ফটোলিসিস বা হিল বিক্রিয়া কী?

উত্তর:

 * আলোক দশায় উৎপন্ন প্রধান উপাদানগুলি হলো: ATP, NADPH_2, এবং অক্সিজেন (O_2)।

 * ফটোলিসিস: সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সক্রিয় ক্লোরোফিলের সাহায্যে জলের অণু ভেঙে হাইড্রোজেন আয়ন (H^+) এবং হাইড্রক্সিল আয়নে (OH^-) পরিণত হওয়ার ঘটনাকে ফটোলিসিস বা হিল বিক্রিয়া বলে।

৩. উদ্ভিদের পুষ্টিতে নাইট্রোজেন (N) ও ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) ভূমিকা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * নাইট্রোজেন: প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA/RNA) এবং বিভিন্ন উৎসেচক গঠনের প্রধান উপাদান। এর অভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যায় (ক্লোরোসিস)।

 * ম্যাগনেশিয়াম: এটি ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রীয় ধাতব উপাদান, যা ছাড়া ক্লোরোফিল গঠিত হতে পারে না। এটি সালোকসংশ্লেষের উৎসেচকগুলিকে সক্রিয় করে।

৪. বাষ্পমোচন ও বাষ্পীভবনের তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * বাষ্পমোচন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা জীবিত উদ্ভিদের কোশে ঘটে; বাষ্পীভবন একটি ভৌত প্রক্রিয়া যা যেকোনো সজীব বা নির্জীব জলতলে ঘটে।

 * বাষ্পমোচন রক্ষীকোশ ও পত্ররন্ধ্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়; বাষ্পীভবনের কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।

 * বাষ্পমোচন প্রধানত দিনের বেলায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ঘটে; বাষ্পীভবন দিন ও রাত সবসময়ই ঘটতে পারে।

৫. শ্বসন ও দহনের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * শ্বসন একটি ধীর জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা সজীব কোশে ঘটে; দহন একটি দ্রুত ভৌত রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা যেকোনো দাহ্য বস্তুতে ঘটে।

 * শ্বসনে উৎসেচকের প্রয়োজন হয় এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঘটে; দহনে উৎসেচকের প্রয়োজন নেই এবং এতে উচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়।

 * শ্বসনে শক্তি ধাপে ধাপে ATP রূপে সঞ্চিত হয়; দহনে সমস্ত শক্তি একবারে তাপ ও আলোকরূপে নির্গত হয়।

৬. ক্রেবস চক্রকে TCA চক্র বলা হয় কেন?

উত্তর:

মাইটোকনড্রিয়ায় সংঘটিত ক্রেবস চক্রের প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী যৌগটি হলো সাইট্রিক অ্যাসিড। সাইট্রিক অ্যাসিডে তিনটি কার্বক্সিলিক গ্রুপ (-COOH) থাকায়, এই চক্রটিকে ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র বা সংক্ষেপে TCA চক্র (Tricarboxylic Acid Cycle) বলা হয়।

৭. সন্ধানের (Fermentation) তিনটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

 * বেকারি শিল্পে পাউরুটি, বিস্কুট ইত্যাদি ফাঁপানোর জন্য ইস্ট দ্বারা অ্যালকোহলীয় সন্ধান ঘটানো হয়।

 * দুগ্ধ শিল্পে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধানের মাধ্যমে দুধ থেকে দই তৈরি করা হয়।

 * অ্যালকোহল বা মদ শিল্পে বিভিন্ন ফলের রস থেকে ইথাইল অ্যালকোহল প্রস্তুত করতে সন্ধান পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

৮. পরজীবী ও মিথোজীবী পুষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * পরজীবী পুষ্টিতে একটি জীব (পরজীবী) অন্য জীবিত জীবের (পোষক) দেহ থেকে পুষ্টিরস সংগ্রহ করে এবং পোষকের ক্ষতি করে। (যেমন: স্বর্ণলতা, কৃমি)।

 * মিথোজীবী পুষ্টিতে দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের সাহায্যে পুষ্টি সম্পন্ন করে এবং উভয়ই সমানভাবে উপকৃত হয়, কেউ কারও ক্ষতি করে না। (যেমন: লাইকেন, রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া)।

৯. পরিপাকে যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * যকৃৎ: যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়ে পিত্তাশয়ে জমা হয়। পিত্তরস ফ্যাটজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত করে এবং লাইপেজ উৎসেচককে কাজ করতে সাহায্য করে।

 * অগ্ন্যাশয়: অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরিত হয়, যাতে ট্রিপসিন (প্রোটিন ভঙ্গক), অ্যামাইলেজ (শর্করা ভঙ্গক) এবং লাইপেজ (ফ্যাট ভঙ্গক) উৎসেচক থাকে যা ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাকে সাহায্য করে।

১০. রক্ত সংবহনে শিরার ও ধমনির তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত সারা দেহে বহন করে; শিরা সারা দেহ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে।

 * ধমনির প্রাচীর পুরু ও গহ্বর সরু হয় এবং এতে কপাটিকা থাকে না; শিরার প্রাচীর পাতলা, গহ্বর চওড়া হয় এবং এতে কপাটিকা বা ভালভ থাকে।

 * ফুসফুসীয় ধমনি ছাড়া সব ধমনি বিশুদ্ধ (অক্সিজেনযুক্ত) রক্ত বহন করে; ফুসফুসীয় শিরা ছাড়া সব শিরা দূষিত (কার্বন ডাইঅক্সাইডযুক্ত) রক্ত বহন করে।

১১. রক্ততঞ্চন বা ব্লাড ক্লটিং পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * আহত স্থান থেকে নির্গত থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তরসের ক্যালসিয়াম আয়নের (Ca^{++}) সাহায্যে প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে পরিণত করে।

 * এই থ্রম্বিন রক্তরসে অবস্থিত দ্রবণীয় ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন তন্তুতে পরিণত করে।

 * ফাইব্রিন তন্তুগুলি জালের মতো আকার ধারণ করে এবং তাতে রক্তকণিকাগুলি আটকে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধে (ক্লট গঠন)।

১২. ব্লাড গ্রুপ বা রক্তের শ্রেণিবিভাগের গুরুত্ব কী?

উত্তর:

 * রক্তদান বা রক্ত সঞ্চারণের সময় দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ মেলানো অপরিহার্য, নয়তো রক্ত জমাট বেঁধে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

 * পিতার পরিচয় বা পিতৃত্ব নির্ণয় সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সমাধানে ব্লাড গ্রুপ টেস্ট সাহায্য করে।

 * গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর (যেমন এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস) সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে ব্লাড গ্রুপ জানা দরকার।

১৩. উদ্ভিদের রেচন পদার্থ ত্যাগের তিনটি প্রধান পদ্ধতি লেখো।

উত্তর:

 * পত্রমোচন: পাতা ঝরিয়ে উদ্ভিদ রেচন পদার্থ ত্যাগ করে (যেমন- শীতকালে শিমুল, শিরীষ)।

 * বাকল মোচন: গাছের ছাল বা বাকল খসে পড়ার মাধ্যমে রেচন পদার্থ দূর হয় (যেমন- পেয়ারা, অর্জুন)।

 * ফল মোচন: কিছু উদ্ভিদ ফলের ত্বকে রেচন পদার্থ (যেমন লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড, তেঁতুলের টারটারিক অ্যাসিড) সঞ্চয় করে এবং পরে ফল ঝরিয়ে তা ত্যাগ করে।

১৪. উদ্ভিদের তিনটি নাইট্রোজেনযুক্ত উপক্ষার (Alkaloid) এর নাম ও তাদের অর্থকরী গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

 * কুইনাইন: সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায়, যা ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 * রিসারপিন: সর্পগন্ধা গাছের মূল থেকে পাওয়া যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

 * ক্যাফিন: কফি গাছের বীজ থেকে পাওয়া যায়, যা স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

১৫. মানুষের নেফ্রনের প্রধান অংশগুলির নাম লেখো।

উত্তর:

একটি নেফ্রনের দুটি প্রধান অংশ থাকে:

 * ম্যালপিজিয়ান করপাসল: এটি আবার দুটি অংশে বিভক্ত—বাউম্যানস ক্যাপসুল (পেয়ালার মতো আবরণী) এবং গ্লোমেরুলাস (রক্তজালকের গুচ্ছ)।

 * বৃক্কীয় নালিকা: এটি তিনটি অংশে বিভক্ত—পরাসংবর্ত নালিকা (PCT), হেনলির লুপ (U-আকৃতির নালী), এবং দূরসংবর্ত নালিকা (DCT) যা সংগ্রাহী নালিকায় মুক্ত হয়।

১৬. মানুষের রেচন প্রক্রিয়ায় যকৃৎ ও ত্বকের ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * যকৃৎ: যকৃৎ প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন অ্যামোনিয়াকে অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে কম ক্ষতিকারক ইউরিয়ায় পরিণত করে, যা পরে বৃক্কের মাধ্যমে নির্গত হয়।

 * ত্বক বা চর্ম: ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়। ঘামের মাধ্যমে জল, কিছু খনিজ লবণ এবং সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া দেহ থেকে নির্গত হয়।

বিভাগ ঘ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৫ নম্বর)

নিম্নলিখিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. সালোকসংশ্লেষের আলোক দশা ও অন্ধকার দশার প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

 * আলোক দশা (Light Reaction): এই দশা ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানায় সম্পন্ন হয়। সূর্যালোকের ফোটন কণা শোষণ করে ক্লোরোফিল সক্রিয় হয়। এই সক্রিয় ক্লোরোফিল জলের অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন ও হাইড্রক্সিল আয়নে পরিণত করে (ফটোলিসিস)। উৎপন্ন হাইড্রোজেন NADP-এর সাথে যুক্ত হয়ে NADPH_2 গঠন করে। এছাড়া, ADP অজৈব ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে ATP উৎপন্ন করে (ফোটোফসফোরাইলেশন)। হাইড্রক্সিল আয়ন থেকে পরে অক্সিজেন গ্যাস নির্গত হয়।

 * অন্ধকার দশা (Dark Reaction / Calvin Cycle): এই দশা ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমায় ঘটে এবং এতে আলোর প্রয়োজন হয় না। পরিবেশ থেকে গৃহীত CO_2 পাতার কোশে থাকা RuBP-এর সাথে যুক্ত হয়ে ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA) তৈরি করে (কার্বন আত্তীকরণ)। এরপর আলোক দশায় উৎপন্ন NADPH_2 ও ATP-এর সাহায্যে PGA বিজারিত হয়ে ফসফোগ্লিসার‍্যালডিহাইড (PGAld) গঠন করে। এই PGAld থেকে ধাপে ধাপে গ্লুকোজ (C_6H_{12}O_6) উৎপন্ন হয় এবং RuBP পুনরুৎপাদিত হয়।

২. উদ্ভিদের বাষ্পমোচন নিয়ন্ত্রণকারী বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শর্তগুলি আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

 * বাহ্যিক শর্তাবলি:

   * উত্তাপ বা তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসে জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বাড়ে, ফলে বাষ্পমোচনের হার বৃদ্ধি পায়।

   * আর্দ্রতা: বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে বাষ্পমোচন কমে যায় এবং শুষ্ক বাতাসে বাষ্পমোচন বৃদ্ধি পায়।

   * বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহ বাড়লে পাতা থেকে জলীয় বাষ্প দ্রুত সরে যায়, ফলে বাষ্পমোচন বাড়ে।

   * আলো: আলো পত্ররন্ধ্র খুলতে সাহায্য করে, তাই দিনের বেলায় বাষ্পমোচন হার বেশি থাকে।

 * অভ্যন্তরীণ শর্তাবলি:

   * পাতার গঠন: পাতার ত্বক পুরু হলে বা কিউটিকল থাকলে বাষ্পমোচন হার কমে।

   * পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা: পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা ও আকার বেশি হলে বাষ্পমোচন হার বৃদ্ধি পায়।

৩. সবাত শ্বসনের পর্যায়গুলি (গ্লাইকোলাইসিস ও ক্রেবস চক্র) সংক্ষেপে আলোচনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

সবাত শ্বসন প্রধানত দুটি পর্যায়ে ঘটে:

 * গ্লাইকোলাইসিস: এটি কোশের সাইটোপ্লাজমে সম্পন্ন হয় এবং এতে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না। এই প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ (৬ কার্বনযুক্ত) বিভিন্ন উৎসেচকের প্রভাবে ধাপে ধাপে ভেঙে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিড (৩ কার্বনযুক্ত) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় নিট ২ অণু ATP এবং ২ অণু NADH_2 উৎপন্ন হয়।

 * ক্রেবস চক্র (TCA Cycle): গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড মাইটোকনড্রিয়ায় প্রবেশ করে অ্যাসিটাইল কো-এ (Acetyl CoA) তে পরিণত হয়, যা ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে। মাইটোকনড্রিয়ার ধাত্রে বিভিন্ন উৎসেচকের প্রভাবে সাইট্রিক অ্যাসিড সৃষ্টির মাধ্যমে একটি চক্রাকার বিক্রিয়া ঘটে। এই পর্যায়ে প্রচুর পরিমাণে NADH_2, FADH_2, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং ATP উৎপন্ন হয়। শেষে ইলেকট্রন পরিবহন তন্ত্রের মাধ্যমে মোট ৩৮ অণু ATP তৈরি হয়।

৪. মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রের বিভিন্ন অংশগুলির নাম লেখো এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ কীভাবে হয় সংক্ষেপে লেখো। (২+৩)

উত্তর:

 * পৌষ্টিকতন্ত্রের অংশসমূহ: পৌষ্টিকনালি (মুখবিবর, গলবিল, গ্রাসনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, পায়ু) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (লালাগ্রন্থি, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, আন্ত্রিক গ্রন্থি)।

 * ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক ও শোষণ: পাকস্থলী থেকে অর্ধপাচিত খাদ্য (কাইম) ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করলে এর সাথে পিত্তরস, অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রস মেশে।

   * পরিপাক: পিত্তলবণ ফ্যাটকে ইমালসিফাই করে। অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন প্রোটিনকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে, অ্যামাইলেজ শর্করাকে গ্লুকোজে এবং লাইপেজ ফ্যাটকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভেঙে খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাক ঘটায়।

   * শোষণ: ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে অসংখ্য আঙুলের মতো প্রবর্ধক 'ভিলাই' থাকে, যা শোষণের তল বৃদ্ধি করে। গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো অ্যাসিড ভিলাইয়ের রক্তজালকে এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল লসিকা বাহে (ল্যাকটিয়াল) শোষিত হয়ে রক্তে মেশে।

৫. মানুষের রক্তকণিকাগুলির (RBC, WBC, Platelets) গঠন ও কাজ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

 * লোহিত রক্তকণিকা (RBC):

   * গঠন: মানুষের লোহিত কণিকা গোলাকার, দ্বি-অবতল এবং পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন। এতে লাল রঞ্জক হিমোগ্লোবিন থাকে।

   * কাজ: ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে অক্সিহিমোগ্লোবিন রূপে সারা দেহের কোশগুলিতে পৌঁছে দেওয়া এবং কোশ থেকে কিছু পরিমাণ CO_2 পরিবহন করা।

 * শ্বেত রক্তকণিকা (WBC):

   * গঠন: এরা বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং এদের আকার পরিবর্তনশীল (অ্যামিবার মতো)। এরা দানাদার (গ্র্যানুলোসাইট) ও দানাবিহীন (অ্যাগ্র্যানুলোসাইট) হয়।

   * কাজ: ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে রোগজীবাণু ভক্ষণ করা (যেমন- নিউট্রোফিল, মনোসাইট) এবং অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে দেহের অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা (লিম্ফোসাইট)।

 * অণুচক্রিকা (Platelets):

   * গঠন: এরা সবচেয়ে ক্ষুদ্র রক্তকণিকা, ডিম্বাকার বা তারকাকার এবং নিউক্লিয়াসবিহীন।

   * কাজ: দেহের কোনো অংশ কেটে গেলে বা রক্তপাত হলে এরা থ্রম্বোপ্লাস্টিন নিঃসরণ করে রক্ত জমাট বাঁধতে বা রক্ততঞ্চনে সাহায্য করে।

৬. মানুষের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্ত সংবহন পদ্ধতিটি (Blood Circulation) বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

মানুষের রক্ত সংবহন একটি দ্বি-চক্রী বা ডাবল সার্কুলেশন পদ্ধতি:

 * সারা দেহের দূষিত রক্ত (অক্সিজেন কম, CO_2 বেশি) ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা দিয়ে হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। ডান অলিন্দ সংকুচিত হলে রক্ত ত্রিপত্র কপাটিকা ভেদ করে ডান নিলয়ে পৌঁছায়।

 * ডান নিলয় সংকুচিত হলে দূষিত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে যায় এবং সেখানে অক্সিজেন গ্রহণ করে বিশুদ্ধ হয়।

 * ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত চারটি ফুসফুসীয় শিরার মাধ্যমে বাঁ অলিন্দে ফিরে আসে।

 * বাঁ অলিন্দ সংকুচিত হলে রক্ত দ্বিপত্র কপাটিকা ভেদ করে বাঁ নিলয়ে প্রবেশ করে।

 * সবশেষে, বাঁ নিলয় প্রবল বেগে সংকুচিত হলে বিশুদ্ধ রক্ত মহাধমনির (Aorta) মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

৭. রক্ততঞ্চন পদ্ধতিটি পর্যায়ক্রমে আলোচনা করো। সার্বজনীন দাতা ও সার্বজনীন গ্রহীতা কাকে বলে ও কেন? (৩+২)

উত্তর:

 * রক্ততঞ্চন পদ্ধতি:

   ১. ক্ষতস্থানের কলাকোশ ও অণুচক্রিকা ভেঙে গিয়ে থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক উৎসেচক নিঃসরণ করে।

   ২. থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তরসের ক্যালসিয়াম (Ca^{++}) আয়নের উপস্থিতিতে প্রোথ্রম্বিনকে সক্রিয় থ্রম্বিনে পরিণত করে।

   ৩. থ্রম্বিন রক্তে দ্রবীভূত ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন তন্তুতে রূপান্তরিত করে, যা জালক তৈরি করে রক্তপাত বন্ধ করে।

 * সার্বজনীন দাতা ও গ্রহীতা:

   * 'O' গ্রুপের রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন (A বা B) থাকে না, ফলে যেকোনো গ্রহীতাকে এই রক্ত দিলে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় না। তাই 'O' গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা বলে।

   * 'AB' গ্রুপের রক্তে অ্যান্টিবডি (a বা b) থাকে না, ফলে এরা যেকোনো গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই 'AB' গ্রুপকে সার্বজনীন গ্রহীতা বলে।

৮. উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রকার রেচন পদার্থগুলির (উপক্ষার, গঁদ, রজন, তরুক্ষীর) উৎস ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

 * উপক্ষার (Alkaloids): এগুলি নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য।

   * উৎস ও গুরুত্ব: সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে পাওয়া কুইনাইন ম্যালেরিয়ার ওষুধ রূপে; ধুতুরার ডাটুরিন হাঁপানির ওষুধ রূপে; এবং চায়ের থিন ক্লান্তি দূর করতে ব্যবহৃত হয়।

 * গঁদ (Gum):

   * উৎস: বহেড়া, বাবলা ও সজনে গাছের আঠালো ক্ষরণ।

   * গুরুত্ব: বই বাঁধাই, আঠা প্রস্তুতকরণ এবং ওষুধ তৈরিতে গঁদ ব্যবহৃত হয়।

 * রজন (Resin):

   * উৎস: পাইন, শাল গাছের রজন নালি থেকে নিঃসৃত হয়।

   * গুরুত্ব: কাঠ ও আসবাবপত্র রং করতে (বার্নিশ) এবং সাবান, ফিনাইল তৈরিতে রজন বা তার্পিন তেল ব্যবহৃত হয়।

 * তরুক্ষীর (Latex):

   * উৎস: রবার, বট, পেঁপে, কাঁঠাল গাছের তরুক্ষীর নালি বা কোশ থেকে নির্গত হয়।

   * গুরুত্ব: রবার গাছের তরুক্ষীর থেকে বাণিজ্যিক রবার ও টায়ার তৈরি হয়; পেঁপের তরুক্ষীর থেকে প্যাপাইন উৎসেচক মেলে যা হজমের ওষুধে কাজে লাগে।

৯. মানুষের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলির গঠন ও কাজ বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

মানুষের প্রধান রেচনতন্ত্র নিম্নোক্ত অংশগুলি নিয়ে গঠিত:

 * বৃক্ক বা কিডনি (Kidneys): উদরগহ্বরের পিছনে শিমের বীজের মতো দুটি বৃক্ক অবস্থিত। এর কাজ হলো রক্ত পরিশ্রুত করে মূত্র উৎপাদন করা এবং দেহ থেকে ইউরিয়া ও অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়া।

 * গবিনী বা ইউরেটার (Ureters): প্রতিটি বৃক্কের পেলভিস থেকে একটি করে পেশিবহুল নালী বের হয়ে মূত্রাশয়ে উন্মুক্ত হয়। এর কাজ হলো উৎপন্ন মূত্রকে বৃক্ক থেকে মূত্রাশয়ে বহন করা।

 * মূত্রাশয় (Urinary Bladder): এটি তলপেটে অবস্থিত একটি পেশিবহুল থলিবিশেষ। এর কাজ হলো বৃক্ক থেকে আসা মূত্র সাময়িকভাবে সঞ্চয় করে রাখা।

 * মূত্রনালী (Urethra): মূত্রাশয়ের তলদেশ থেকে নির্গত নালী যা দেহের বাইরে উন্মুক্ত হয়। মূত্রাশয় পূর্ণ হলে এর মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে নির্গত হয়।

১০. মানুষের বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক নেফ্রনের বিভিন্ন অংশের গঠন ও কাজ আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে। এর প্রধান দুটি অংশ:

 * ম্যালপিজিয়ান করপাসল:

   * বাউম্যানস ক্যাপসুল: এটি দ্বিস্তরী, পেয়ালার মতো আবরণ যা গ্লোমেরুলাসকে ধারণ করে।

   * গ্লোমেরুলাস: অন্তর্মুখী ধমনিকা প্রবেশ করে অসংখ্য রক্তজালক তৈরি করে যা বহির্মুখী ধমনিকা রূপে বেরিয়ে যায়। গ্লোমেরুলাস পরা-পরিশ্রাবক (Ultrafilter) হিসেবে কাজ করে এবং রক্ত থেকে জল, গ্লুকোজ, ইউরিয়া ইত্যাদি ছেঁকে বাউম্যানস ক্যাপসুলে পাঠায়।

 * বৃক্কীয় নালিকা: এটি তিন অংশে বিভক্ত:

   * পরাসংবর্ত নালিকা (PCT): বাউম্যানস ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশ, যা দরকারী পদার্থ (গ্লুকোজ, জল, অ্যামাইনো অ্যাসিড) পুনরায় শোষণ করে রক্তে ফিরিয়ে দেয়।

   * হেনলির লুপ: 'U' আকৃতির অংশ, যা মূলত জলের পুনঃশোষণে সাহায্য করে।

   * দূরসংবর্ত নালিকা (DCT): নালিকার শেষ অংশ, যা সোডিয়াম আয়ন ও জলের শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং উৎপন্ন মূত্রকে সংগ্রাহী নালিকায় উন্মুক্ত করে।








 ৪র্থ অধ্যায়: 'জীববিদ্যা ও মানবকল্যাণ'-এর ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নব্যাংক ও উত্তরপত্র নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে মূলত অনাক্রম্যতা (Immunity), বিভিন্ন মানুষের রোগ এবং মানবকল্যাণে অণুজীবের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর)

নিম্নলিখিত ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি কী?

উত্তর: রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করার জন্য মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনাক্রম্যতা বলে।

২. ইমিউনোলজির (অনাক্রম্যবিদ্যা) জনক কে?

উত্তর: এডওয়ার্ড জেনার (Edward Jenner)।

৩. প্রথম আবিষ্কৃত টিকার নাম কী?

উত্তর: গুটিবসন্তের (Smallpox) টিকা।

৪. গুটিবসন্তের টিকা কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: এডওয়ার্ড জেনার।

৫. অ্যান্টিবডি রাসায়নিকভাবে কোন ধরনের পদার্থ?

উত্তর: প্রোটিন বা গ্লাইকোপ্রোটিন।

৬. মানবদেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় কী বলে?

উত্তর: ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin বা Ig)।

৭. একটি অ্যান্টিবডির আকার ইংরেজি কোন অক্ষরের মতো হয়?

উত্তর: 'Y' অক্ষরের মতো।

৮. মানবদেহের রক্তে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা অ্যান্টিবডি কোনটি?

উত্তর: IgG

৯. মায়ের দুধ (কোলোস্ট্রাম) থেকে সদ্যোজাত শিশু কোন অ্যান্টিবডি পায়?

উত্তর: IgA

১০. অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্যকারী অ্যান্টিবডি কোনটি?

উত্তর: IgE

১১. T-লিম্ফোসাইট কোথায় পূর্ণতা (Maturation) লাভ করে?

উত্তর: থাইমাস (Thymus) গ্রন্থিতে।

১২. B-লিম্ফোসাইট কোথায় উৎপন্ন হয়?

উত্তর: অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো (Bone marrow)-তে।

১৩. পোলিও নিবারণের জন্য শিশুদের কোন টিকা দেওয়া হয়?

উত্তর: OPV (Oral Polio Vaccine)।

১৪. যক্ষ্মা বা TB রোগ প্রতিরোধে কোন টিকা দেওয়া হয়?

উত্তর: BCG (Bacillus Calmette–Guérin)।

১৫. ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিটেনাস প্রতিরোধের জন্য শিশুদের কোন মিশ্র টিকা দেওয়া হয়?

উত্তর: DPT (Diphtheria, Pertussis, and Tetanus)।

১৬. ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু কী ধরনের অণুজীব?

উত্তর: প্রোটোজোয়া বা আদ্যপ্রাণী (Plasmodium)।

১৭. ম্যালেরিয়া রোগের বাহক কোন প্রাণী?

উত্তর: স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা (Female Anopheles mosquito)।

১৮. ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে কোন মশা?

উত্তর: স্ত্রী এডিস মশা (Female Aedes mosquito)।

১৯. একটি জলবাহিত ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগের নাম লেখো।

উত্তর: কলেরা বা টাইফয়েড।

২০. কলেরা রোগের জীবাণুর নাম কী?

উত্তর: Vibrio cholerae (ভিব্রিও কলেরি)।

২১. এইডস (AIDS) রোগের ভাইরাসের নাম কী?

উত্তর: HIV (Human Immunodeficiency Virus)।

২২. যক্ষ্মা (TB) রোগের ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?

উত্তর: Mycobacterium tuberculosis।

২৩. হাত ধোয়ার বা ধৌতকরণের (Handwashing) প্রধান উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করা।

২৪. জৈব নিয়ন্ত্রণ বা বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল কী?

উত্তর: প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন- খাদক, পরজীবী বা প্যাথোজেন) ব্যবহার করে ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ বা পেস্ট দমন করার পদ্ধতি।

২৫. একটি নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী স্বাধীনজীবী ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: অ্যাজোটোব্যাকটর (Azotobacter)।

২৬. অ্যাজোলা (Azolla) কী?

উত্তর: এটি একটি জলজ ফার্ন, যা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার সাথে মিথোজীবী রূপে অবস্থান করে জীবসার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২৭. ধানের জমিতে নাইট্রোজেন যোগান দেওয়ার জন্য কোন অণুজীব ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: সায়ানোব্যাকটেরিয়া (যেমন- অ্যানাবিনা বা নস্টক)।

২৮. বি.টি. (Bt) তুলো তৈরিতে কোন ব্যাকটেরিয়ার জিন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bacillus thuringiensis)।

২৯. মাইকোরাইজা (Mycorrhiza) কাদের মধ্যে মিথোজীবী সম্পর্ক স্থাপন করে?

উত্তর: উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের মূল এবং ছত্রাকের মধ্যে।

৩০. পতঙ্গ দমনে ব্যবহৃত একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।

উত্তর: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bt)।

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি কাকে বলে?

উত্তর: যে বিশেষ ব্যবস্থায় মানবদেহ বাহ্যিক ক্ষতিকারক পদার্থ বা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে (অ্যান্টিজেন) চিনে নিয়ে তাদের ধ্বংস করে এবং নিজেকে রোগমুক্ত রাখে, তাকে অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি বলে।

২. অ্যান্টিজেন কী?

উত্তর: দেহের বাইরে থেকে প্রবিষ্ট যে সব বিজাতীয় পদার্থ বা জীবাণু (প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড) দেহে প্রবেশ করে অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং অ্যান্টিবডি সৃষ্টিতে বাধ্য করে, তাদের অ্যান্টিজেন বলে।

৩. অ্যান্টিবডি কাকে বলে?

উত্তর: অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির কারণে এবং অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করার জন্য দেহের B-লিম্ফোসাইট কোশ দ্বারা রক্তরসে যে বিশেষ প্রোটিন (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) উৎপন্ন হয়, তাকে অ্যান্টিবডি বলে।

৪. সহজাত (Innate) অনাক্রম্যতা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মানুষ জন্মসূত্রে লাভ করে এবং যা কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে নয় বরং সব ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধেই সমানভাবে কাজ করে, তাকে সহজাত বা প্রাথমিক অনাক্রম্যতা বলে। (যেমন- ত্বক, লালারসের লাইসোজাইম)।

৫. অর্জিত (Acquired) অনাক্রম্যতা কাকে বলে?

উত্তর: জন্মের পর জীবনকালে পরিবেশের বিভিন্ন জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অথবা টিকাকরণের মাধ্যমে মানুষের দেহে যে নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, তাকে অর্জিত অনাক্রম্যতা বলে।

৬. টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন কাকে বলে?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে দেহে কৃত্রিমভাবে সক্রিয় অর্জিত অনাক্রম্যতা গড়ে তোলার জন্য সেই রোগের মৃত, দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় জীবাণু (বা তার অংশ) মানুষের দেহে প্রবেশ করানোর পদ্ধতিকে টিকাকরণ বলে।

৭. টক্সয়েড (Toxoid) টিকা কী? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিনকে রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তার বিষক্রিয়া নষ্ট করে কিন্তু অ্যান্টিজেনিক ধর্ম বজায় রেখে যে টিকা তৈরি হয়, তাকে টক্সয়েড বলে। উদাহরণ: টিটেনাস টক্সয়েড (TT)।

৮. OPV ও BCG-এর সম্পূর্ণ নাম লেখো।

উত্তর: OPV = Oral Polio Vaccine (যা মুখে খাওয়ানো হয়)। BCG = Bacillus Calmette–Guérin (যক্ষ্মা প্রতিরোধক)।

৯. ভেক্টর বা বাহক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সব প্রাণী নিজেদের দেহে রোগ সৃষ্টি না করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা একজন অসুস্থ মানুষের দেহ থেকে একজন সুস্থ মানুষের দেহে রোগজীবাণু বহন করে নিয়ে যায়, তাদের ভেক্টর বা বাহক বলে। উদাহরণ: মশা, মাছি।

১০. ম্যালেরিয়া রোগের দুটি প্রধান উপসর্গ বা লক্ষণ লেখো।

উত্তর: (i) নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাঁপুনি দিয়ে প্রবল জ্বর আসা। (ii) ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়া এবং রোগীর চরম দুর্বলতা ও রক্তাল্পতা দেখা দেওয়া।

১১. ডেঙ্গু রোগের দুটি উপসর্গ লেখো।

উত্তর: (i) হঠাৎ তীব্র জ্বর, সাথে গাঁটে গাঁটে এবং পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা (যাকে 'ব্রেক বোন ফিভার' বলে)। (ii) চোখের পিছনে ব্যথা হওয়া এবং ত্বকে লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি বের হওয়া।

১২. যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের সংক্রমণ কীভাবে ঘটে?

উত্তর: এটি বায়ুবাহিত রোগ। যক্ষ্মা রোগীর হাঁচি, কাশি বা থুতুর সাথে যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া (M. tuberculosis) বাতাসে মিশে যায় এবং সুস্থ মানুষের শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে।

১৩. কলেরা রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ লেখো।

উত্তর: (i) চাল ধোয়া জলের মতো বারবার বমি ও পাতলা পায়খানা (ডায়রিয়া) হওয়া। (ii) শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দেওয়া এবং পেশিতে টান ধরা।

১৪. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা ধৌতকরণের দুটি গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: (i) সাবান দিয়ে হাত ধুলে হাতে থাকা ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস হয় এবং খাদ্য বা জলের মাধ্যমে পেটে রোগ ছড়ানো কমে। (ii) চর্মরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (যেমন ফ্লু) থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

১৫. জৈব নিয়ন্ত্রণ (Biological control) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতিকারক পোকামাকড় বা পেস্টকে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ না করে তাদের প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন- পাখি, শিকারী পতঙ্গ, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) ব্যবহার করে দমন করার পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিকে জৈব নিয়ন্ত্রণ বলে।

১৬. পেস্ট (Pest) কাকে বলে?

উত্তর: যে সব প্রাণী বা কীটপতঙ্গ মানুষের কৃষিজ ফসল, মজুত খাদ্য, গৃহপালিত পশু বা মানুষের নিজের অর্থনৈতিক বা স্বাস্থ্যগত ক্ষতিসাধন করে, তাদের পেস্ট বলে। (যেমন- ইঁদুর, পঙ্গপাল, উইপোকা)।

১৭. রাসায়নিক কীটনাশকের তুলনায় জৈব নিয়ন্ত্রণের দুটি সুবিধা লেখো।

উত্তর: (i) জৈব নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে পরিবেশ দূষণ (মাটি বা জল দূষণ) হয় না। (ii) রাসায়নিক বিষ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করার (জৈব বিবর্ধন) যে ঝুঁকি থাকে, এখানে তা থাকে না।

১৮. অণুজীব সার বা বায়োফার্টিলাইজার কাকে বলে?

উত্তর: যে সব জীবিত অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) প্রাকৃতিক উপায়ে মাটির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়ায়, তাদের অণুজীব সার বলে।

১৯. মাইকোরাইজা কীভাবে উদ্ভিদের উপকার করে?

উত্তর: মাইকোরাইজা হলো উদ্ভিদের মূল ও ছত্রাকের সহাবস্থান। ছত্রাক মাটি থেকে ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ লবণ শোষণ করে উদ্ভিদকে জোগায় এবং পরিবর্তে উদ্ভিদ থেকে পুষ্টিরস গ্রহণ করে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।

২০. রাইজোবিয়াম-এর ভূমিকা কী?

উত্তর: রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের (যেমন- মটর, ছোলা) মূলে অর্বুদ বা নডিউল গঠন করে মিথোজীবী রূপে বাস করে। এরা সরাসরি বাতাসের নাইট্রোজেন শোষণ করে মাটিতে নাইট্রোজেন যৌগের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

বিভাগ গ: ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও (সংক্ষেপে ৩টি পয়েন্টে):

১. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * উৎস: অ্যান্টিজেন সাধারণত দেহের বাইরের পরিবেশ থেকে প্রবেশ করা বিজাতীয় পদার্থ; অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের প্রভাবে দেহের ভেতরে উৎপন্ন হওয়া নিজস্ব পদার্থ।

 * রাসায়নিক প্রকৃতি: অ্যান্টিজেন প্রোটিন, পলিস্যাকারাইড বা লিপিড প্রকৃতির হতে পারে; অ্যান্টিবডি সর্বদা গ্লাইকোপ্রোটিন প্রকৃতির হয়।

 * কাজ: অ্যান্টিজেন দেহে রোগ সৃষ্টি করে বা অনাক্রম্যতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে; অ্যান্টিবডি সেই অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে।

২. সহজাত ও অর্জিত অনাক্রম্যতার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * উৎস: সহজাত অনাক্রম্যতা মানুষ জন্মসূত্রে পিতা-মাতার কাছ থেকে লাভ করে; অর্জিত অনাক্রম্যতা জন্মের পর জীবনকালে পরিবেশ থেকে বা টিকার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

 * নির্দিষ্টতা: সহজাত অনাক্রম্যতা কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে না (নন-স্পেসিফিক); অর্জিত অনাক্রম্যতা নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্টভাবে কাজ করে (স্পেসিফিক)।

 * স্মৃতি (Memory): সহজাত অনাক্রম্যতায় ইমিউনোলজিক্যাল স্মৃতি থাকে না; অর্জিত অনাক্রম্যতায় মেমরি সেল তৈরি হয় যা ভবিষ্যতে একই জীবাণু এলে দ্রুত সাড়া দেয়।

৩. মানবদেহে বিভিন্ন প্রকার ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Ig)-এর নাম ও একটি করে কাজ লেখো।

উত্তর:

 * IgG: এটি রক্তে সবচেয়ে বেশি থাকে এবং এটিই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা অমরা বা প্লাসেন্টা ভেদ করে মায়ের থেকে ভ্রূণের দেহে প্রবেশ করে অনাক্রম্যতা দেয়।

 * IgA: এটি মায়ের কোলস্ট্রাম (প্রথম মাতৃদুগ্ধ), লালা এবং অশ্রুতে থাকে, যা মিউকাস পর্দাকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

 * IgE: এটি অ্যালার্জি প্রতিরোধে এবং পরজীবী কৃমির আক্রমণে দেহের সুরক্ষায় প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে।

৪. টিকাকরণের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

 * ব্যক্তিগত স্তরে নির্দিষ্ট রোগ (যেমন- পোলিও, হেপাটাইটিস, যক্ষ্মা) প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা।

 * সমাজে 'হার্ড ইমিউনিটি' (Herd immunity) তৈরি করা, যাতে যারা টিকা নিতে পারে না তারাও সুরক্ষিত থাকে।

 * মহামারী রোধ করা এবং পৃথিবী থেকে গুটিবসন্ত বা পোলিওর মতো মারাত্মক রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা।

৫. তিন ধরনের টিকার নাম উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

 * লাইভ অ্যাটেনিউয়েটেড টিকা: জীবাণুকে জীবিত কিন্তু দুর্বল করে এই টিকা তৈরি হয়। (উদাহরণ: OPV, BCG)।

 * কিল্ড বা মৃত টিকা: তাপ বা রাসায়নিক প্রয়োগে জীবাণুকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলে এই টিকা তৈরি হয়। (উদাহরণ: কলেরার টিকা, IPV)।

 * টক্সয়েড টিকা: জীবাণুর ক্ষতিকারক টক্সিনকে নিষ্ক্রিয় করে এই টিকা তৈরি হয়। (উদাহরণ: টিটেনাস টক্সয়েড, ডিপথেরিয়া টক্সয়েড)।

৬. ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের তিনটি উপায় লেখো।

উত্তর:

 * মশা নিয়ন্ত্রণ: বাড়ির চারপাশে জল জমতে না দেওয়া, নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং মশার লার্ভা খেকো মাছ (যেমন গাপ্পি, গাম্বুসিয়া) জলাশয়ে ছাড়া।

 * ব্যক্তিগত সুরক্ষা: ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং মশা তাড়ানোর ধূপ বা ক্রিম ব্যবহার করা।

 * প্রতিকার: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ (যেমন- ক্লোরোকুইন, কুইনাইন) সঠিক মাত্রায় সেবন করা।

৭. ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের তিনটি উপায় আলোচনা করো।

উত্তর:

 * ডেঙ্গুর মশা (এডিস) পরিষ্কার স্থির জলে ডিম পাড়ে। তাই টায়ার, নারকেলের মালা, ফুলের টব বা এসি-র জমা জল নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার।

 * দিনের বেলায় এই মশা বেশি কামড়ায়, তাই দিনে ঘুমালেও মশারি ব্যবহার করা এবং ফুল-হাতা পোশাক পরা উচিত।

 * স্থানীয় পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নিয়মিত মশা মারার স্প্রে বা ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো।

৮. যক্ষ্মা (TB) রোগের প্রধান লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায় লেখো।

উত্তর:

 * লক্ষণ: তিন সপ্তাহের বেশি একটানা কাশি, কাশির সাথে রক্ত পড়া, বিকেলে হালকা জ্বর আসা এবং ওজন দ্রুত কমে যাওয়া।

 * প্রতিরোধ: জন্মের পরপরই শিশুকে BCG টিকা দেওয়া এবং যক্ষ্মা রোগীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা রাখা।

 * প্রতিকার: DOTS (Directly Observed Treatment, Short-course) পদ্ধতির মাধ্যমে অন্তত ৬-৮ মাস নিয়মিত যক্ষ্মার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা।

৯. ডায়রিয়া বা কলেরার ক্ষেত্রে ORS-এর ভূমিকা কী?

উত্তর:

 * ORS-এর সম্পূর্ণ নাম Oral Rehydration Solution।

 * কলেরা বা ডায়রিয়ায় শরীর থেকে প্রচুর জল ও খনিজ লবণ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম) বেরিয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হয়।

 * ORS পানের মাধ্যমে শরীরে দ্রুত হারানো জল ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরে আসে এবং রোগীর প্রাণরক্ষা হয়।

১০. মানবদেহে রোগ বিস্তারে মাছির তিনটি ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * মাছি (Housefly) ময়লা, আবর্জনা বা মলে বসে এবং তাদের পায়ে বা লোমে জীবাণু আটকে যায়।

 * সেই মাছি যখন ঢাকা না দেওয়া খাবারের ওপর বসে, তখন জীবাণুগুলি খাবারে মিশে যায়।

 * এই দূষিত খাবার গ্রহণ করলে মানুষের কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়-এর মতো আন্ত্রিক রোগগুলি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

১১. হাত ধোয়ার (Handwashing) সঠিক পদ্ধতির তিনটি ধাপ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

 * প্রথমে পরিষ্কার জলে হাত ভিজিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ নিতে হবে।

 * এরপর দুই হাতের তালু, আঙুলের ফাঁক, নখের ভেতর এবং হাতের পিছনের অংশ অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

 * শেষে পরিষ্কার প্রবহমান জলে হাত ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে বা রুমাল দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে।

১২. জৈব নিয়ন্ত্রণে পরজীবী ও খাদক পোকামাকড়ের ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * কৃষিতে ক্ষতিকারক পেস্টদের ধ্বংস করার জন্য লেডিবার্ড বিটল (Ladybird beetle) ব্যবহার করা হয় যা জাবপোকা (Aphids) খেয়ে ফসল রক্ষা করে।

 * ট্রাইকোগ্রামা (Trichogramma) নামক এক প্রকার ছোট বোলতা (পরজীবী) বিভিন্ন ক্ষতিকারক মথের ডিমে নিজেদের ডিম পাড়ে এবং তাদের ধ্বংস করে।

 * এর ফলে রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে ফসল রক্ষা পায়।

১৩. কৃষিতে অণুজীব সার ব্যবহারের তিনটি সুবিধা আলোচনা করো।

উত্তর:

 * অণুজীব সার রাসায়নিক সারের মতো মাটির স্বাভাবিক গঠন বা উর্বরতা নষ্ট করে না, বরং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে।

 * এগুলি পরিবেশবান্ধব এবং জল বা মাটি দূষণ ঘটায় না।

 * এগুলি রাসায়নিক সারের তুলনায় অনেক সস্তা এবং কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সাশ্রয় করে।

১৪. নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সায়ানোব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলাভ সবুজ শৈবাল (যেমন- নস্টক, অ্যানাবিনা) সরাসরি বায়ুমণ্ডলীয় মুক্ত নাইট্রোজেনকে গ্রহণ করে নিজ দেহে নাইট্রোজেন যৌগ গঠন করতে পারে।

 * এদের দেহে 'হেটারোসিস্ট' নামক বিশেষ কোশ থাকে যা এই কাজে সাহায্য করে।

 * এরা মারা গেলে বা এদের দেহাবশেষ মাটিতে মিশলে মাটির নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা ধান চাষে খুব উপকারী।

১৫. অণুজীব সার হিসেবে অ্যাজোলার গুরুত্ব কী?

উত্তর:

 * অ্যাজোলা (Azolla) হলো একটি দ্রুত বর্ধনশীল ভাসমান জলজ ফার্ন।

 * এর পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা (Anabaena azollae) নামক সায়ানোব্যাকটেরিয়া মিথোজীবী রূপে বাস করে এবং নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।

 * ধানের জমিতে জল ভর্তি করে অ্যাজোলা চাষ করলে তা পচে গিয়ে মাটিতে প্রচুর জৈব সার ও নাইট্রোজেন যোগ করে, ফলে ফলন বৃদ্ধি পায়।

১৬. রাসায়নিক সার ও অণুজীব সারের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * উৎস: রাসায়নিক সার কারখানায় কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে তৈরি হয়; অণুজীব সার জীবিত অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া/ছত্রাক) থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয়।

 * পরিবেশের প্রভাব: রাসায়নিক সার দীর্ঘদিন ব্যবহারে মাটি ও জল দূষিত হয়; অণুজীব সার পরিবেশবান্ধব এবং দূষণ ঘটায় না।

 * মাটির স্বাস্থ্য: রাসায়নিক সার মাটির গঠন নষ্ট করে ও উপকারী অণুজীব মেরে ফেলে; অণুজীব সার মাটির গঠন উন্নত করে ও জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।

১৭. বি.টি. (Bt) ফসল কী? এর গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

 * Bacillus thuringiensis (Bt) নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রাপ্ত বিষাক্ত জিন (cry gene) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে ফসলের উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে যে পতঙ্গ-প্রতিরোধী ফসল তৈরি হয়, তাকে Bt ফসল (যেমন- Bt তুলো, Bt বেগুন) বলে।

 * গুরুত্ব: এই ফসলগুলি নিজেরাই পতঙ্গনাশক প্রোটিন তৈরি করে। ফলে বাইরের কোনো শুঁয়োপোকা বা পতঙ্গ পাতা খেলেই মারা যায়। এতে আলাদা করে কীটনাশক স্প্রে করার দরকার হয় না।

১৮. ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রোগের বাহক মশার তিনটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

 * প্রজাতি: ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা; ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা।

 * কামড়ানোর সময়: অ্যানোফিলিস মশা মূলত সন্ধ্যা বা রাতের বেলায় কামড়ায়; এডিস মশা মূলত দিনের বেলায় কামড়ায়।

 * বিশ্রামের ভঙ্গি: অ্যানোফিলিস মশা যখন বসে তখন এর দেহ তলের সাথে একটি কোণ করে (লেজের দিক ওপরে) থাকে; এডিস মশা তলের সাথে প্রায় সমান্তরালভাবে বসে।

১৯. রোগ সংক্রমণের প্রধান তিনটি পদ্ধতি বা মাধ্যম উল্লেখ করো।

উত্তর:

 * বায়ুবাহিত: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বায়ুতে ছড়ানো ড্রপলেট থেকে (যেমন- যক্ষ্মা, কোভিড-১৯)।

 * জল ও খাদ্যবাহিত: দূষিত জল বা মাছি দ্বারা দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে (যেমন- কলেরা, টাইফয়েড)।

 * ভেক্টর বা বাহক বাহিত: মশা, মাছি, কুকুর ইত্যাদির কামড় বা সংস্পর্শের মাধ্যমে (যেমন- ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, রেবিস)।

২০. স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার তিনটি দিক উল্লেখ করো।

উত্তর:

 * নিয়মিত স্নান করা, নখ কাটা এবং পরিষ্কার কাচা পোশাক পরিধান করা।

 * খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।

 * দাঁত ও মুখের যত্ন নেওয়া (নিয়মিত ব্রাশ করা) এবং যেখানে-সেখানে থুতু না ফেলা।

বিভাগ ঘ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৫ নম্বর)

নিম্নলিখিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. অনাক্রম্যতা কাকে বলে? মানবদেহের সহজাত অনাক্রম্যতার বিভিন্ন প্রতিরোধক স্তর বা বাধাগুলি (Barriers) সংক্ষেপে আলোচনা করো। (১+৪)

উত্তর:

 * অনাক্রম্যতা: দেহের ভেতরে প্রবেশ করা রোগজীবাণু বা অ্যান্টিজেনকে প্রতিহত করে দেহকে সুস্থ রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতাকে অনাক্রম্যতা বলে।

 * সহজাত অনাক্রম্যতার বাধাগুলি: মানুষ জন্মসূত্রে যে অনাক্রম্যতা পায় তার প্রধান ৪টি স্তর হলো:

   ১. ভৌত বাধা (Physical Barrier): ত্বক বা চামড়া দেহের প্রধান বহিরাবরণ যা জীবাণুর প্রবেশে বাধা দেয়। শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের শ্লেষ্মা বা মিউকাস পর্দাও জীবাণু আটকে দেয়।

   ২. রাসায়নিক বা শারীরবৃত্তীয় বাধা (Physiological Barrier): পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), লালারস এবং চোখের জলে উপস্থিত লাইসোজাইম (Lysozyme) উৎসেচক অনেক ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়।

   ৩. কোশীয় বাধা (Cellular Barrier): রক্তে উপস্থিত শ্বেত রক্তকণিকা (যেমন- নিউট্রোফিল, মনোসাইট এবং ম্যাক্রোফাজ) ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে দেহে প্রবিষ্ট জীবাণুকে গিলে খেয়ে ফেলে ধ্বংস করে।

   ৪. সাইটোকাইন বাধা (Cytokine Barrier): ভাইরাস আক্রান্ত কোশগুলি ইন্টারফেরন (Interferon) নামক প্রোটিন নিঃসরণ করে, যা আশপাশের সুস্থ কোশগুলিকে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

২. অ্যান্টিবডির গঠন একটি চিহ্নিত চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

(ছাত্রছাত্রীদের এখানে একটি Y-আকৃতির অ্যান্টিবডির ছবি আঁকতে হবে। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো:)

একটি আদর্শ অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিউলিন (যেমন IgG) মূলত চারটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত।

 * শৃঙ্খল (Chains): এর মধ্যে দুটি শৃঙ্খল আকারে বড় এবং ভারী, এদের হেভি চেইন (Heavy Chain বা H-chain) বলে। বাকি দুটি শৃঙ্খল ছোট এবং হালকা, এদের লাইট চেইন (Light Chain বা L-chain) বলে।

 * বন্ধন (Bonds): এই চারটি শৃঙ্খল পরস্পর ডাই-সালফাইড বন্ড (-S-S-) দ্বারা যুক্ত হয়ে ইংরেজি 'Y' অক্ষরের মতো আকার ধারণ করে।

 * অংশ (Regions): প্রতিটি শৃঙ্খলের দুটি অংশ থাকে— একটি পরিবর্তনশীল অঞ্চল (Variable region), যা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয় এবং অপরটি অপরিবর্তনশীল অঞ্চল (Constant region)।

 * প্যারাটোপ: অ্যান্টিবডির যে নির্দিষ্ট স্থানে অ্যান্টিজেন আবদ্ধ হয় (Y-এর দুই মাথার প্রান্তভাগে), তাকে প্যারাটোপ বলে।

৩. টিকাকরণ কী? মানবদেহে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার টিকার বিবরণ দাও। (১+৪)

উত্তর:

 * টিকাকরণ (Vaccination): কোনো নির্দিষ্ট রোগের জীবাণুর অ্যান্টিজেনিক ধর্মযুক্ত মৃত বা দুর্বল অংশ দেহে প্রবেশ করিয়ে কৃত্রিমভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা (মেমরি সেল) গড়ে তোলার পদ্ধতিকে টিকাকরণ বলে।

 * বিভিন্ন প্রকার টিকা:

   ১. লাইভ অ্যাটেনিউয়েটেড টিকা: এখানে জীবাণুকে দুর্বল করে দেওয়া হয় যাতে সে রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু অনাক্রম্যতা জাগাতে পারে। উদাহরণ: BCG (যক্ষ্মার জন্য), OPV (পোলিওর জন্য), MMR।

   ২. ইনঅ্যাক্টিভেটেড বা মৃত টিকা: এখানে তাপ, অতিবেগুনি রশ্মি বা রাসায়নিক প্রয়োগে জীবাণুকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলে টিকা বানানো হয়। উদাহরণ: কলেরার টিকা, IPV (ইনজেক্টেবল পোলিও ভ্যাকসিন)।

   ৩. টক্সয়েড টিকা: ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত বিষ বা টক্সিনের বিষক্রিয়া নষ্ট করে এটি তৈরি হয়। উদাহরণ: টিটেনাস (TT) ও ডিপথেরিয়া টক্সয়েড।

   ৪. সাব-ইউনিট বা রিকম্বিন্যান্ট টিকা: জীবাণুর সম্পূর্ণ দেহ ব্যবহার না করে তার একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন প্রোটিন) ব্যবহার করা হয়। উদাহরণ: হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) টিকা।

৪. ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম লেখো। এই রোগের লক্ষণ, বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণের উপায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (১+৪)

উত্তর:

 * জীবাণুর নাম: ম্যালেরিয়া একটি প্রোটোজোয়া ঘটিত রোগ। এর প্রধান জীবাণু হলো Plasmodium vivax এবং Plasmodium falciparum।

 * লক্ষণ: নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাঁপুনি দিয়ে প্রবল জ্বর আসা এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়া। প্লীহা ও যকৃৎ বড় হয়ে যাওয়া। লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ফলে তীব্র রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া।

 * বিস্তার: ম্যালেরিয়া রোগাক্রান্ত মানুষের রক্ত পান করার সময় স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা জীবাণু গ্রহণ করে এবং পরে ওই মশা কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার লালারসের মাধ্যমে স্পোরোজয়েট দশায় জীবাণু সুস্থ মানুষের রক্তে প্রবেশ করে।

 * নিয়ন্ত্রণ:

   * মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো এবং মশা নিরোধক ব্যবহার করা।

   * জলাশয়ে গাপ্পি, তেচোখা মাছ ছাড়া যারা মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে।

   * নিয়মিত ক্লোরোকুইন বা চিকিৎসকের পরামর্শে অন্য ওষুধ সেবন করা।

৫. ডেঙ্গু রোগের কারণ, সংক্রমণ পদ্ধতি, প্রধান উপসর্গ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলি লেখো। (৫)

উত্তর:

 * কারণ: ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। এর জন্য দায়ী ফ্লাভিভাইরাস (Flavivirus) গোত্রের ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV)।

 * সংক্রমণ পদ্ধতি: স্ত্রী এডিস মশা (মূলত Aedes aegypti) ডেঙ্গু রোগীর রক্ত পান করে ভাইরাস বহন করে এবং সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার লালারসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। এরা পরিষ্কার স্থির জলে বংশবৃদ্ধি করে এবং দিনের বেলায় কামড়ায়।

 * প্রধান উপসর্গ: হঠাৎ প্রবল জ্বর (যা ১০৪ ডিগ্রি ফাঃ পর্যন্ত হতে পারে)। পেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা (ব্রেক বোন জ্বর)। চোখের পিছনে ব্যথা। গায়ে লাল র‍্যাশ বের হওয়া এবং মারাত্মক ক্ষেত্রে রক্তে অনুচক্রিকা (Platelet) কমে গিয়ে রক্তক্ষরণ (Dengue Hemorrhagic Fever) হওয়া।

 * প্রতিরোধ: বাড়ির আশেপাশে টায়ার, টব, ডাবের খোসায় জল জমতে না দেওয়া। দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা। জ্বর হলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

৬. যক্ষ্মা ও কলেরা রোগের জীবাণুর নাম, উপসর্গ এবং প্রতিরোধের উপায় তুলনামূলকভাবে আলোচনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

 * যক্ষ্মা (Tuberculosis):

   * জীবাণু: Mycobacterium tuberculosis (ব্যাকটেরিয়া)।

   * উপসর্গ: তিন সপ্তাহের বেশি একটানা কাশি, কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া, বুকে ব্যথা, বিকেলে হালকা জ্বর, ওজন হ্রাস এবং চরম ক্লান্তি।

   * প্রতিরোধ: জন্মের পর শিশুকে BCG টিকা দেওয়া। হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢাকা এবং রোগীর কফ-থুতু লোকালয়ে না ফেলা। DOTS পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা।

 * কলেরা (Cholera):

   * জীবাণু: Vibrio cholerae (ব্যাকটেরিয়া)।

   * উপসর্গ: চাল ধোয়া জলের মতো বমি ও পাতলা পায়খানা, দ্রুত ডিহাইড্রেশন, চোখ কোটরে ঢুকে যাওয়া, পেশিতে টান এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।

   * প্রতিরোধ: পরিচ্ছন্ন ও ফোটানো জল পান করা। ঢাকা দেওয়া খাবার খাওয়া। খাবার আগে ও শৌচাগারের পর হাত ধোয়া এবং আক্রান্তকে দ্রুত ORS ও স্যালাইন দেওয়া।

৭. মানবকল্যাণে স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে ধৌতকরণ (Washing) এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে ধৌতকরণ ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য:

 * জীবাণু সংক্রমণ রোধ: আমাদের হাত সারাদিন বিভিন্ন বস্তুর সংস্পর্শে আসে, ফলে তাতে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ডিম্বাণু লেগে থাকে। সাবান দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধুলে সেই জীবাণুগুলি মরে যায়, ফলে সেগুলি মুখ বা চোখের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে পারে না।

 * আন্ত্রিক রোগ প্রতিরোধ: ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদি খাদ্য ও জলবাহিত রোগগুলি হাত না ধোয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং খাওয়ার আগে হাত ধুলে এই রোগগুলি থেকে প্রায় সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যায়।

 * শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ: সর্দি-কাশি, ফ্লু বা কোভিড-১৯ এর মতো বায়ুবাহিত রোগের ভাইরাস আক্রান্ত পৃষ্ঠতলে লেগে থাকে। অপরিষ্কার হাত নাকে বা মুখে দিলে সংক্রমণ ছড়ায়। ধৌতকরণ এটি প্রতিহত করে।

 * চর্মরোগ ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত স্নান এবং জামাকাপড় ধোয়ার ফলে ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ (দাদ, হাজা), অ্যালার্জি এবং উকুন, চুলকানির মতো পরজীবী আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

 * সামাজিক স্বাস্থ্য: নিজের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে পরিবার ও সমাজের অন্য মানুষরাও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়।

৮. পেস্ট কী? পেস্ট দমনে রাসায়নিক পদ্ধতির ক্ষতিকর দিকগুলি কী কী এবং জৈব নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কীভাবে পরিবেশবান্ধব? (১+২+২)

উত্তর:

 * পেস্ট: যে সব প্রাণী অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসল, মজুত শস্য বা গৃহপালিত পশুর ক্ষতিসাধন করে মানবজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাদের পেস্ট বলে (যেমন- ইঁদুর, মাজরা পোকা, পঙ্গপাল)।

 * রাসায়নিক পদ্ধতির ক্ষতিকর দিক: রাসায়নিক পেস্টিসাইড বা কীটনাশক (যেমন BHC, এনড্রিন) প্রয়োগ করলে মাটি ও জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। এই রাসায়নিকগুলি সহজে নষ্ট হয় না এবং খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে 'জৈব বিবর্ধন' ঘটিয়ে পাখি, মাছ ও মানুষের দেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এছাড়া, উপকারী পোকা (যেমন মৌমাছি) মারা যায়।

 * জৈব নিয়ন্ত্রণ পরিবেশবান্ধব কারণ: এই পদ্ধতিতে রাসায়নিকের বদলে প্রাকৃতিক খাদক বা জীবাণু (যেমন- লেডিবার্ড বিটল, ট্রাইকোগ্রামা বোলতা বা Bt ব্যাকটেরিয়া) ব্যবহার করা হয়। এরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক পোকাকেই মারে, পরিবেশের অন্য প্রাণীর বা ফসলের কোনো ক্ষতি করে না, তাই এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব।

৯. অণুজীব সার বা বায়োফার্টিলাইজার বলতে কী বোঝো? কৃষিতে রাইজোবিয়াম, মাইকোরাইজা এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর:

 * বায়োফার্টিলাইজার: যে সব জীবিত ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল বা ছত্রাক প্রাকৃতিক উপায়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাদের অণুজীব সার বা বায়োফার্টিলাইজার বলে।

 * কৃষিতে ভূমিকা:

   * রাইজোবিয়াম: এরা শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের (মটর, ছোলা) মূলে নডিউল তৈরি করে মিথোজীবী হিসেবে থাকে। এরা বাতাসের নাইট্রোজেন শোষণ করে উদ্ভিদকে দেয় এবং মাটিকে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ করে।

   * মাইকোরাইজা: এটি উদ্ভিদ মূল ও ছত্রাকের মিথোজীবী সম্পর্ক। ছত্রাক তার সূত্রাকার জালের সাহায্যে অনেক দূর থেকে জল, ফসফরাস এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শোষণ করে উদ্ভিদকে সরবরাহ করে, যা অনুর্বর মাটিতে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

   * সায়ানোব্যাকটেরিয়া: নস্টক, অ্যানাবিনা ইত্যাদি নীলাভ সবুজ শৈবাল ধানের জমিতে স্বাধীনভাবে বা অ্যাজোলা ফার্নের পাতায় থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। এরা পচে গিয়ে জমিতে প্রচুর জৈব সার তৈরি করে।

১০. মানবদেহে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুদের প্রধান প্রকারভেদগুলি উদাহরণসহ লেখো এবং রোগ প্রতিরোধে সাধারণ সচেতনতা কীভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করো। (৩+২)

উত্তর:

 * জীবাণুদের প্রকারভেদ: মানবদেহে প্রধানত চার প্রকার জীবাণু বা প্যাথোজেন রোগ সৃষ্টি করে:

   ১. ভাইরাস: এরা সবচেয়ে ক্ষুদ্র এবং কেবল জীবিত কোশের ভেতরেই বংশবৃদ্ধি করে। (উদাহরণ: এইচআইভি (HIV) যা এইডস ঘটায়, ডেঙ্গু ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস)।

   ২. ব্যাকটেরিয়া: এরা এককোশী প্রোক্যারিওটিক অণুজীব। (উদাহরণ: ভিব্রিও কলেরি যা কলেরা ঘটায়, মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস যা যক্ষ্মা ঘটায়)।

   ৩. প্রোটোজোয়া বা আদ্যপ্রাণী: এরা এককোশী ইউক্যারিওটিক অণুজীব। (উদাহরণ: প্লাজমোডিয়াম যা ম্যালেরিয়া ঘটায়, এন্টামিবা যা আমাশয় ঘটায়)।

   ৪. ছত্রাক (Fungi): এরা মানুষের ত্বকে ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়। (উদাহরণ: ট্রাইকোফাইটন যা দাদ বা রিংওয়ার্ম সৃষ্টি করে)।

 * সচেতনতার ভূমিকা: রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো সঠিক জ্ঞান। জল ফুটিয়ে খাওয়া, মশারি ব্যবহার করা, যত্রতত্র থুতু না ফেলা এবং টিকাকরণের মতো সাধারণ সচেতনতা মেনে চললে জীবাণুর সংক্রমণ চক্র ভেঙে যায়। ব্যক্তি সচেতন হলে সমাজ সুস্থ থাকে এবং মহামারী প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।




 ৫ম অধ্যায়: 'পরিবেশ ও তার সম্পদ'-এর ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নব্যাংক ও উত্তরপত্র নিচে দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ে মূলত বাস্তুবিদ্যা, পপুলেশন, প্রাকৃতিক সম্পদ (বন, জল, খাদ্য, শক্তি) এবং স্থিতিশীল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিভাগ ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর)

নিম্নলিখিত ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. বাস্তুবিদ্যা বা Ecology শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: আর্নস্ট হেকেল (Ernst Haeckel) বা মতান্তরে রেইটার (Reiter)।

২. 'Ecosystem' বা বাস্তুতন্ত্র শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উত্তর: এ. জি. ট্যান্সলে (A.G. Tansley)।

৩. বাস্তুবিদ্যার ক্ষুদ্রতম বা প্রাথমিক একক কী?

উত্তর: জীব বা অর্গানিজম (Organism)।

৪. পপুলেশন (Population) কাকে বলে?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী একই প্রজাতির জীবগোষ্ঠীকে পপুলেশন বলে।

৫. জন্মহার (Natality) পরিমাপের সূত্রটি কী?

উত্তর: N = \frac{n}{t} (যেখানে N= জন্মহার, n= নতুন জন্ম নেওয়া জীবের সংখ্যা, t= সময়)।

৬. মৃত্যুহার (Mortality) পরিমাপের সূত্রটি কী?

উত্তর: M = \frac{m}{t} (যেখানে M= মৃত্যুহার, m= মৃত জীবের সংখ্যা, t= সময়)।

৭. যে পদ্ধতিতে অন্য জায়গা থেকে জীব এসে পপুলেশনে যুক্ত হয়, তাকে কী বলে?

উত্তর: ইমিগ্রেশন (Immigration)।

৮. পপুলেশনের ঘনত্ব (Density) মাপার সূত্র কী?

উত্তর: D = \frac{N}{S} (যেখানে D= ঘনত্ব, N= পপুলেশনের মোট জীবসংখ্যা, S= মোট আয়তন বা ক্ষেত্রফল)।

৯. কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব মিলে যে সংগঠন তৈরি করে তাকে কী বলে?

উত্তর: বায়োটিক কমিউনিটি বা জীবগোষ্ঠী (Biotic Community)।

১০. পৃথিবীর বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্রের নাম কী?

উত্তর: বায়োস্ফিয়ার বা জীবমণ্ডল (Biosphere)।

১১. প্রকৃতিতে একবার ব্যবহার করলে যে সম্পদ চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাকে কী বলে?

উত্তর: অপুনর্ভব সম্পদ (Non-renewable resource)।

১২. একটি পুনর্ভব বা নবীকরণযোগ্য (Renewable) সম্পদের উদাহরণ দাও।

উত্তর: সৌরশক্তি (বা বায়ুশক্তি, বনভূমি)।

১৩. একটি তরল জীবাশ্ম জ্বালানির নাম লেখো।

উত্তর: পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল।

১৪. কয়লার প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: কার্বন।

১৫. সবচেয়ে উন্নত মানের এবং ধোঁয়াহীন কয়লা কোনটি?

উত্তর: অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite)।

১৬. একটি অচিরাচরিত বা অপ্রচলিত শক্তির উদাহরণ দাও।

উত্তর: বায়ুশক্তি বা সৌরশক্তি।

১৭. SCP-এর সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: সিঙ্গল সেল প্রোটিন (Single Cell Protein) বা এককোশী প্রোটিন।

১৮. বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত একটি এককোশী শৈবালের নাম লেখো।

উত্তর: স্পিরুলিনা (Spirulina)।

১৯. বায়ুশক্তি উৎপাদনে ভারতের কোন রাজ্য প্রথম স্থানে রয়েছে?

উত্তর: তামিলনাড়ু।

২০. ভূতাপীয় শক্তি (Geothermal energy) উৎপাদনে ভারতের একটি কেন্দ্রের নাম লেখো।

উত্তর: হিমাচল প্রদেশের মণিকরণ।

২১. বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মিথেন (CH_4)।

২২. বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day) কবে পালিত হয়?

উত্তর: ৫ জুন।

২৩. 'চিপকো আন্দোলন' প্রধানত কীসের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: অরণ্য বা গাছ কাটা প্রতিরোধের সঙ্গে।

২৪. চিপকো আন্দোলনের একজন প্রধান নেতার নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরলাল বহুগুণা।

২৫. 'নর্মদা বাঁচাও' আন্দোলনের নেত্রীর নাম কী?

উত্তর: মেধা পাটেকর।

২৬. সুন্দরবনের একটি প্রধান শ্বাসমূলযুক্ত উদ্ভিদের নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরী গাছ।

২৭. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক কোনটি?

উত্তর: জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক (উত্তরাখণ্ড)।

২৮. ভূপৃষ্ঠের কত শতাংশ জল দ্বারা আবৃত?

উত্তর: প্রায় ৭১ শতাংশ।

২৯. পৃথিবীর মোট জলের কত শতাংশ মিষ্টি জল (Fresh water)?

উত্তর: প্রায় ৩ শতাংশ (যাঁর বেশিরভাগই বরফরূপে আছে)।

৩০. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) কথাটি প্রথম কোন রিপোর্টে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ১৯৮৭ সালের ব্রুন্ডটল্যান্ড কমিশন (Brundtland Commission) রিপোর্টে।

বিভাগ খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি (Ecology) কাকে বলে?

উত্তর: জীববিদ্যার যে শাখায় পরিবেশের সঙ্গে জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) এবং জীবদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়, তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।

২. বায়োম (Biome) বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণী সমন্বিত এমন একটি বিস্তীর্ণ স্থলজ অঞ্চল, যার নিজস্ব জলবায়ু আছে এবং যেখানে নির্দিষ্ট প্রকারের জীবগোষ্ঠী বসবাস করে, তাকে বায়োম বলে। উদাহরণ: তুন্দ্রা বায়োম বা মরুভূমি বায়োম।

৩. জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার কাকে বলে?

উত্তর: শিলামণ্ডল, বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের যে অংশে জীবের অস্তিত্ব আছে বা জীবন ধারণ সম্ভব, পৃথিবীর সেই সমগ্র অঞ্চলকে একত্রে জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার বলে।

৪. জন্মহার (Natality) ও মৃত্যুহার (Mortality) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জননের মাধ্যমে পপুলেশনে যত সংখ্যক নতুন জীবের জন্ম হয় বা বৃদ্ধি ঘটে তাকে জন্মহার বলে। অপরদিকে, নির্দিষ্ট সময়ে যত সংখ্যক জীবের মৃত্যু ঘটে তাকে মৃত্যুহার বলে।

৫. ইমিগ্রেশন ও এমিগ্রেশনের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ইমিগ্রেশন পদ্ধতিতে বাইরে থেকে জীব স্থায়ীভাবে কোনো পপুলেশনে এসে যুক্ত হয় (পপুলেশন বাড়ে)। আর এমিগ্রেশন পদ্ধতিতে পপুলেশন থেকে জীব স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় চলে যায় (পপুলেশন কমে)।

৬. প্রাকৃতিক সম্পদ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: প্রকৃতিতে প্রাপ্ত যে সব উপাদান (যেমন- আলো, বাতাস, জল, কয়লা, খনিজ পদার্থ) মানুষের জীবনধারণ, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে লাগে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে।

৭. পুনর্ভব ও অপুনর্ভব সম্পদের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) পুনর্ভব সম্পদ বারবার ব্যবহার করলেও শেষ হয় না (যেমন- সৌরশক্তি); অপুনর্ভব সম্পদ একবার ব্যবহার করলে চিরতরে শেষ হয়ে যায় (যেমন- কয়লা)। (ii) পুনর্ভব সম্পদ সাধারণত দূষণমুক্ত; অপুনর্ভব সম্পদ পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

৮. বনভূমির দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: (i) বনভূমি থেকে মূল্যবান কাঠ পাওয়া যায় যা আসবাবপত্র ও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়। (ii) বনভূমি থেকে গঁদ, রজন, মধু, মোম এবং বিভিন্ন ভেষজ ওষুধ সংগ্রহ করে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।

৯. জলের দুটি প্রধান ব্যবহার বা গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: (i) পানীয় হিসেবে ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে জল অপরিহার্য। (ii) কৃষিকাজে সেচ এবং বিভিন্ন শিল্প ও কারখানায় উৎপাদনের জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়।

১০. জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভের প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে যে জ্বালানিতে পরিণত হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

১১. চিরাচরিত ও অচিরাচরিত শক্তির দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: (i) চিরাচরিত শক্তি বহুকাল ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এর মজুত সীমিত (যেমন- কয়লা)। অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহার নতুনভাবে শুরু হয়েছে এবং এর মজুত অফুরন্ত (যেমন- সৌরশক্তি)। (ii) চিরাচরিত শক্তি দূষণ ছড়ায়, অচিরাচরিত শক্তি পরিবেশবান্ধব।

১২. সৌরশক্তির দুটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর: (i) সোলার প্যানেল ব্যবহার করে সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয় যা আলো জ্বালাতে বা যন্ত্র চালাতে কাজে লাগে। (ii) সোলার কুকার ব্যবহার করে সৌরশক্তির সাহায্যে রান্না করা হয়।

১৩. বায়ুশক্তির দুটি সুবিধা লেখো।

উত্তর: (i) বায়ুশক্তি একটি অফুরন্ত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। (ii) এই শক্তি উৎপাদনে কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ছাই উৎপন্ন হয় না, তাই এটি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।

১৪. বিকল্প খাদ্য (Alternative food) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য চিরাচরিত খাদ্যের (চাল, গম) পাশাপাশি অণুজীব বা শৈবাল থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ যে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, তাকে বিকল্প খাদ্য বলে। যেমন- স্পিরুলিনা।

১৫. সিঙ্গল সেল প্রোটিন (SCP) কী?

উত্তর: নির্দিষ্ট পরিবেশে চাষ করা এককোশী অণুজীব (যেমন- ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল) থেকে নিষ্কাশিত যে প্রোটিনসমৃদ্ধ পাউডার মানুষের খাদ্য বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাকে সিঙ্গল সেল প্রোটিন বা SCP বলে।

১৬. স্থিতিশীল উন্নয়ন বা Sustainable Development কাকে বলে?

উত্তর: যে উন্নয়ন পদ্ধতিতে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতাকেও অক্ষুণ্ণ রাখা হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার না করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।

১৭. স্থিতিশীল উন্নয়নের দুটি মূল নীতি লেখো।

উত্তর: (i) মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা কিন্তু পৃথিবীর ধারণ ক্ষমতার মধ্যে থেকে। (ii) প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় কমানো এবং পুনর্ভব সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

১৮. বৃষ্টির জল সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) কী?

উত্তর: বৃষ্টির জলকে ছাদের ওপর বা কোনো জলাধারে আটকে রেখে এবং পরে তাকে পরিশোধন করে দৈনন্দিন কাজে বা ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করার পদ্ধতিকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলে।

১৯. খাদ্যসঙ্কটের দুটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর: (i) পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। (ii) অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে।

২০. পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের দুটি ভূমিকা লেখো।

উত্তর: (i) গাছ লাগানো (বৃক্ষরোপণ) এবং গাছ কাটা রোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। (ii) জল ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করতে নিজেরা উদ্যোগী হওয়া।

বিভাগ গ: ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর)

নিম্নলিখিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দাও (সংক্ষেপে ৩টি পয়েন্টে):

১. বাস্তুবিদ্যার সংগঠন স্তরগুলি পর্যায়ক্রমে লেখো।

উত্তর:

বাস্তুবিদ্যার সংগঠন স্তরগুলি ছোট থেকে বড় আকারে হলো:

 * জীব (Organism): বাস্তুবিদ্যার ক্ষুদ্রতম একক।

 * পপুলেশন (Population) ও কমিউনিটি (Community): একই প্রজাতির জীব নিয়ে পপুলেশন এবং বিভিন্ন পপুলেশন নিয়ে কমিউনিটি।

 * বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) \rightarrow বায়োম (Biome) \rightarrow জীবমণ্ডল (Biosphere): জীবমণ্ডলে পৃথিবীর সমস্ত বায়োম ও বাস্তুতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২. পপুলেশন বৃদ্ধির ওপর জন্মহার ও মৃত্যুহারের প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তর:

 * জন্মহারের প্রভাব: পপুলেশনে জন্মহার বৃদ্ধি পেলে নতুন জীবের আগমন ঘটে, ফলে পপুলেশনের ঘনত্ব ও আকার বৃদ্ধি পায়।

 * মৃত্যুহারের প্রভাব: পপুলেশনে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেলে জীবের সংখ্যা কমে যায়, ফলে পপুলেশনের ঘনত্ব ও আকার হ্রাস পায়।

 * ভারসাম্য: জন্মহার মৃত্যুহারের চেয়ে বেশি হলে পপুলেশন বাড়ে, আর কম হলে পপুলেশন কমে। উভয় সমান হলে পপুলেশন স্থিতিশীল থাকে।

৩. পপুলেশনের ঘনত্ব বলতে কী বোঝো? এটি কীভাবে পরিমাপ করা হয়?

উত্তর:

 * সংজ্ঞা: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, কোনো নির্দিষ্ট একক আয়তন বা ক্ষেত্রফলের মধ্যে বসবাসকারী একই প্রজাতির মোট জীবের সংখ্যাকে পপুলেশনের ঘনত্ব বলে।

 * পরিমাপের সূত্র: পপুলেশন ঘনত্ব (D) = N / S।

 * যেখানে, N হলো পপুলেশনের মোট সদস্য সংখ্যা এবং S হলো পপুলেশনের অধিকৃত নির্দিষ্ট জায়গার ক্ষেত্রফল।

৪. প্রাকৃতিক সম্পদের তিনটি প্রধান শ্রেণিবিন্যাস উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর:

 * অব্যয়ী বা অফুরন্ত সম্পদ: যে সম্পদ বারবার ব্যবহার করলেও শেষ হয় না। (যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি)।

 * পুনর্ভব বা নবীকরণযোগ্য সম্পদ: যে সম্পদ ব্যবহারে কমে গেলেও প্রাকৃতিক উপায়ে বা মানুষের চেষ্টায় পুনরায় তৈরি হতে পারে। (যেমন: বনভূমি, কৃষিজাত দ্রব্য)।

 * অপুনর্ভব বা অনবীকরণযোগ্য সম্পদ: যে সম্পদ একবার ব্যবহার করলে চিরতরে শেষ হয়ে যায় এবং পুনরায় তৈরি করা যায় না। (যেমন: কয়লা, খনিজ তেল)।

৫. বনভূমি ধ্বংস বা অরণ্য বিনাশের তিনটি প্রধান কারণ লেখো।

উত্তর:

 * কৃষিজমি ও নগরায়ণ: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাসস্থানের জন্য এবং কৃষিকাজের জন্য নির্বিচারে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে।

 * কাঠের চাহিদা: আসবাবপত্র তৈরি, কাগজ শিল্প এবং জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে বিপুল পরিমাণে গাছ কাটা হচ্ছে।

 * দাবানল ও খনিজ উত্তোলন: প্রাকৃতিক বা মানুষের সৃষ্ট দাবানল এবং বনভূমির নিচে থাকা কয়লা বা খনিজ উত্তোলনের জন্য বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে।

৬. বনভূমি সংরক্ষণের তিনটি উপায় আলোচনা করো।

উত্তর:

 * নিয়ন্ত্রিত বৃক্ষছেদন: পরিণত গাছগুলিকেই কেবল কাটা উচিত এবং একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে অন্তত দুটি নতুন চারাগাছ লাগানো (বৃক্ষরোপণ) উচিত।

 * দাবানল ও পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: বনে আগুন লাগা থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা রাখা এবং বনের মধ্যে যথেচ্ছভাবে গবাদি পশু চরানো বন্ধ করা।

 * সামাজিক বনসৃজন: রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে বা রেললাইনের পাশে নতুন করে গাছ লাগিয়ে বনসৃজন করা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

৭. জল সংরক্ষণের তিনটি পদ্ধতি লেখো।

উত্তর:

 * বৃষ্টির জল সংরক্ষণ: বাড়ির ছাদে বা জলাধারে বৃষ্টির জল ধরে রেখে তা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তরের উন্নতি ঘটানো।

 * জলের অপচয় রোধ: ব্রাশ করার সময় বা স্নান করার সময় অকারণে কল খুলে না রাখা এবং কলের লিক দ্রুত সারিয়ে ফেলা।

 * পুনর্ব্যবহার (Recycling): শিল্পকারখানা ও পৌরসভার দূষিত জলকে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে পুনরায় সেচের কাজে বা কারখানায় ব্যবহার করা।

৮. খাদ্য সংরক্ষণের বা অপচয় রোধের তিনটি উপায় লেখো।

উত্তর:

 * সঠিক মজুতকরণ: ফসল কাটার পর তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোল্ড স্টোরেজ বা পরিষ্কার গুদামে মজুত রাখা যাতে ইঁদুর বা পোকা নষ্ট করতে না পারে।

 * খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন: প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার প্লেটে না নেওয়া এবং উদ্বৃত্ত খাবার ফেলে না দিয়ে তা অভাবীদের মধ্যে বন্টন করা।

 * পচন রোধ: মাছ, মাংস বা সবজিকে হিমঘর, লবণ মাখানো, রোদে শুকানো বা পাস্তুরাইজেশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ভালো রাখার ব্যবস্থা করা।

৯. বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানের তিনটি কারণ লেখো।

উত্তর:

 * ভাণ্ডার সীমিত: কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির পরিমাণ পৃথিবীতে সীমিত, অদূর ভবিষ্যতে তা ফুরিয়ে যাবে।

 * পরিবেশ দূষণ: চিরাচরিত শক্তিগুলি দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস (CO_2) উৎপন্ন হয় যা বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটাচ্ছে।

 * মূল্যবৃদ্ধি: জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত কমে আসায় এদের দাম দ্রুত বাড়ছে, তাই সস্তা ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস (যেমন- সৌরশক্তি) সন্ধান জরুরি।

১০. ভূতাপীয় শক্তির (Geothermal energy) ব্যবহার ও সুবিধাগুলি কী কী?

উত্তর:

 * উৎস: পৃথিবীর অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমার তাপে ভূগর্ভস্থ জল ফুটে যে বাষ্প তৈরি হয়, তাকে ভূতাপীয় শক্তি বলে।

 * ব্যবহার: এই বাষ্পকে পাইপের সাহায্যে ওপরে এনে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

 * সুবিধা: এটি একটি দূষণমুক্ত, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস এবং এর জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজন হয় না।

১১. জোয়ারভাটা শক্তির (Tidal energy) সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

উত্তর:

 * সুবিধা: এটি অফুরন্ত এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস। জোয়ারভাটার বেগ কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

 * অসুবিধা ১: কেবলমাত্র সমুদ্রের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বা নদীর মোহনাতেই এই শক্তি কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব, সর্বত্র নয়।

 * অসুবিধা ২: টারবাইন ও বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক খরচ অনেক বেশি এবং এটি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের কিছুটা ক্ষতি করতে পারে।

১২. বায়োগ্যাস কী? এর তিনটি ব্যবহার লেখো।

উত্তর:

 * বায়োগ্যাস: পশুর মল (গোবর), কৃষিজাত বর্জ্য এবং কচুরিপানা অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পচিয়ে যে দাহ্য গ্যাস (প্রধানত মিথেন) তৈরি হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।

 * ব্যবহার ১: গ্রামে রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস অত্যন্ত উপযোগী এবং এটি ধোঁয়াহীন।

 * ব্যবহার ২: বায়োগ্যাস পুড়িয়ে সরাসরি আলো জ্বালানো যায় বা বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়।

 * ব্যবহার ৩: গ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট স্লারি বা বর্জ্য জমিতে চমৎকার জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১৩. স্থিতিশীল উন্নয়নের (Sustainable Development) তিনটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য লেখো।

উত্তর:

 * পরিবেশ সুরক্ষা: প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য বজায় রাখা।

 * ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: প্রাকৃতিক সম্পদগুলিকে এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সুরক্ষিত থাকে।

 * সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি: সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে সমাজের সব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং দারিদ্র্য দূর করা।

১৪. পরিবেশে অরণ্য বা বনভূমির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লেখো।

উত্তর:

 * জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: অরণ্য পরিবেশে অক্সিজেনের জোগান দেয়, কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমায় এবং বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।

 * জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: বনভূমি হলো অসংখ্য বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বাসস্থান, যা পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

 * মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ: গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে বন্যা বা বৃষ্টির কারণে মাটির ক্ষয় রোধ হয়।

১৫. শক্তির অপচয় রোধ করার তিনটি উপায় লেখো।

উত্তর:

 * প্রয়োজন না থাকলে ঘরের আলো, পাখা, এসি বা টিভি বন্ধ রাখা উচিত।

 * বৈদ্যুতিক শক্তির অপচয় রোধ করতে সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে শক্তি-সাশ্রয়ী LED বাল্ব বা টিউব ব্যবহার করা।

 * ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে যথাসম্ভব গণপরিবহন (বাস, ট্রেন) বা সাইকেল ব্যবহার করা, যা পেট্রোলের সাশ্রয় করে।

১৬. কয়লা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী?

উত্তর:

 * কয়লা একটি অপুনর্ভব জীবাশ্ম জ্বালানি। পৃথিবীতে কয়লার ভাণ্ডার সীমিত এবং এটি তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লাগে।

 * বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পে কয়লার ব্যাপক ব্যবহারের ফলে কয়লার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

 * ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিদ্যুৎ ও শিল্পের চাকা সচল রাখতে কয়লা সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

১৭. বৃষ্টির জল সংরক্ষণের (Rainwater harvesting) তিনটি গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

 * এটি সহজে এবং কম খরচে ব্যবহারযোগ্য পরিষ্কার জল পাওয়ার একটি চমৎকার উপায়।

 * এই জল মাটিতে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বা ওয়াটার টেবিল বৃদ্ধি করা যায়।

 * শুষ্ক মরশুমে বা খরা প্রবণ এলাকায় এই সঞ্চিত জল সেচের কাজে বা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে জলসঙ্কট মেটানো যায়।

১৮. বিকল্প খাদ্য হিসেবে সিঙ্গল সেল প্রোটিনের (SCP) তিনটি সুবিধা লেখো।

উত্তর:

 * SCP বা এককোশী প্রোটিন (যেমন- স্পিরুলিনা) প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর, যা অপুষ্টি দূর করতে সাহায্য করে।

 * এদের চাষ করার জন্য কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না, কারখানার বর্জ্য জলেও এদের সহজে ও দ্রুত উৎপাদন করা যায়।

 * এটি সারা বছর উৎপাদন করা সম্ভব এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না।

১৯. জীবমণ্ডল (Biosphere) ও বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) এর সম্পর্ক কী?

উত্তর:

 * বাস্তুতন্ত্র হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সজীব ও নির্জীব উপাদানের মধ্যে আদানপ্রদানের একটি একক (যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র)।

 * আর পৃথিবীর সমস্ত জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্র মিলে একত্রে জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ার গঠন করে।

 * অর্থাৎ, বাস্তুতন্ত্র হলো জীবমণ্ডলের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং জীবমণ্ডল হলো পৃথিবীর বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্র।

২০. পপুলেশনের বয়স-ভিত্তিক বণ্টন (Age distribution) বলতে কী বোঝো?

উত্তর:

 * কোনো পপুলেশনে বিভিন্ন বয়সের জীব অবস্থান করে। সাধারণত এদের তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: প্রাক্-জননক্ষম (শিশুকাল), জননক্ষম (পূর্ণাঙ্গ) এবং জননোত্তর (বৃদ্ধকাল)।

 * একটি পপুলেশনে এই তিন বয়সের জীবের সংখ্যার অনুপাতকে বয়স-ভিত্তিক বণ্টন বলে।

 * এটি পপুলেশনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। প্রাক্-জননক্ষম জীবের সংখ্যা বেশি হলে পপুলেশন দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বিভাগ ঘ: দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (৫ নম্বর)

নিম্নলিখিত ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও:

১. বাস্তুবিদ্যার বিভিন্ন সংগঠন স্তরগুলি (জীব, পপুলেশন, কমিউনিটি, বাস্তুতন্ত্র, বায়োম, জীবমণ্ডল) পর্যায়ক্রমে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর:

বাস্তুবিদ্যার সংগঠন মূলত ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ স্তরে বিন্যস্ত:

 * জীব (Organism): বাস্তুবিদ্যার ক্ষুদ্রতম একক হলো জীব। প্রতিটি নির্দিষ্ট জীব (যেমন- একটি বাঘ বা একটি গাছ) পরিবেশের সাথে প্রতিনিয়ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে।

 * পপুলেশন (Population): কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী একই প্রজাতির জীবের সমষ্টিকে পপুলেশন বলে (যেমন- সুন্দরবনের সব বাঘ)।

 * কমিউনিটি (Community): কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির পপুলেশন মিলে কমিউনিটি গঠন করে (যেমন- সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ, সুন্দরী গাছ ও অন্যান্য জীব)।

 * বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem): একটি নির্দিষ্ট এলাকার সজীব কমিউনিটি এবং তার চারপাশের নির্জীব পরিবেশের (জল, মাটি, বাতাস) মধ্যে শক্তির আদানপ্রদান ও মিথস্ক্রিয়ার ফলে যে তন্ত্র গড়ে ওঠে, তাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।

 * বায়োম (Biome): নির্দিষ্ট জলবায়ু বিশিষ্ট বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল এবং সেখানকার সমস্ত জীবগোষ্ঠীকে একত্রে বায়োম বলে (যেমন- তুন্দ্রা বায়োম)।

 * জীবমণ্ডল (Biosphere): পৃথিবীর সমস্ত বায়োম বা বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গঠিত বৃহত্তম একক হলো জীবমণ্ডল, অর্থাৎ পৃথিবীর যেটুকু অংশে জীবের অস্তিত্ব আছে।

২. পপুলেশনের বৈশিষ্ট্যগুলি (জন্মহার, মৃত্যুহার, ঘনত্ব, পরিযান) সংক্ষেপে বর্ণনা করো। (৫)

উত্তর:

পপুলেশনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

 * ঘনত্ব (Density): নির্দিষ্ট সময়ে একক ক্ষেত্রফল বা আয়তনে বসবাসকারী জীবের মোট সংখ্যা। ঘনত্ব = মোট জীবসংখ্যা / ক্ষেত্রফল।

 * জন্মহার (Natality): একক সময়ে জননের মাধ্যমে পপুলেশনে নতুন জীব যুক্ত হওয়ার হার। জন্মহার বৃদ্ধি পেলে পপুলেশনের আকার বাড়ে।

 * মৃত্যুহার (Mortality): একক সময়ে প্রাকৃতিক বা বার্ধক্যের কারণে পপুলেশন থেকে যে সংখ্যক জীবের মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুহার বাড়লে পপুলেশনের আকার কমে।

 * পরিযান (Migration): খাদ্যের খোঁজে বা প্রাকৃতিক কারণে জীবের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত। এর দুটি ভাগ:

   * ইমিগ্রেশন: বাইরে থেকে জীব পপুলেশনে এলে সংখ্যা বাড়ে।

   * এমিগ্রেশন: পপুলেশন থেকে জীব অন্যত্র চলে গেলে সংখ্যা কমে।

৩. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে মানুষের ভূমিকা আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর:

 * সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: পৃথিবীর কয়লা, পেট্রোলিয়াম, বনভূমি বা স্বাদু জলের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমাণ সীমিত। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে এগুলি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সম্পদগুলিকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য (জীববৈচিত্র্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণ) রক্ষা করতে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ একান্ত প্রয়োজন।

 * সংরক্ষণে মানুষের ভূমিকা:

   * মানুষকে চিরাচরিত শক্তির বদলে অপ্রচলিত শক্তি (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।

   * 'Reduce, Reuse, Recycle' (ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহার এবং পুনর্চক্রায়ণ) নীতি মেনে চলতে হবে।

   * বনভূমি ধ্বংস রোধ করে প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে এবং অকারণে জল ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করতে হবে।

৪. বনভূমি ধ্বংসের কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো এবং পরিবেশে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি কী কী? (৩+২)

উত্তর:

 * বনভূমি ধ্বংসের কারণ:

   * নগরায়ণ ও শিল্পায়ন: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাসস্থানের জন্য এবং নতুন কলকারখানা তৈরির জন্য নির্বিচারে জঙ্গল কাটা হচ্ছে।

   * কৃষিকাজ: খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বনের পর বন কেটে কৃষিজমিতে পরিণত করা হচ্ছে।

   * কাঠ সংগ্রহ: জ্বালানি, আসবাবপত্র, রেলের স্লিপার ও কাগজ শিল্পের জন্য যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা হচ্ছে।

 * পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব:

   * বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে।

   * বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হওয়ায় বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

   * বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে এবং ভূমিক্ষয় ও বন্যার প্রবণতা বাড়ছে।

৫. জলসঙ্কট বা জলকষ্টের প্রধান কারণগুলি কী কী? দৈনন্দিন জীবনে জল সংরক্ষণের উপায়গুলি লেখো। (৩+২)

উত্তর:

 * জলসঙ্কটের কারণ:

   * জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পানীয় ও গৃহস্থালির জলের চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে।

   * কৃষিকাজে সেচ এবং শিল্পকারখানায় যথেচ্ছভাবে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়ায় জলের স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে।

   * কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও শহরের নর্দমার জল নদীতে মিশে স্বাদু জলকে পান করার অযোগ্য করে তুলছে।

 * জল সংরক্ষণের উপায়:

   * বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে (Rainwater harvesting) তাকে বিভিন্ন কাজে লাগানো।

   * কলের মুখ অযথা খুলে না রাখা এবং স্নান বা কাপড় কাচার সময় জলের অপচয় কমানো।

   * শিল্পের দূষিত জলকে শোধন করে পুনরায় ব্যবহার (Recycle) করা।

৬. শক্তির চিরাচরিত ও অচিরাচরিত উৎসের মধ্যে পার্থক্য লেখো। অচিরাচরিত শক্তির সুবিধাগুলি কী কী? (২+৩)

উত্তর:

 * পার্থক্য:

   * চিরাচরিত শক্তি: কয়লা, খনিজ তেল। এরা অপুনর্ভব, এদের মজুত সীমিত এবং এরা ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

   * অচিরাচরিত শক্তি: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি। এরা পুনর্ভব, অফুরন্ত এবং এরা পরিবেশবান্ধব বা দূষণমুক্ত।

 * অচিরাচরিত শক্তির সুবিধা:

   * এগুলি নবীকরণযোগ্য, অর্থাৎ কখনোই শেষ হবে না।

   * এই শক্তি উৎপাদনে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস (CO_2, SO_2) নির্গত হয় না, তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা পরিবেশ দূষণের ভয় নেই।

   * প্রাথমিক খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে এই শক্তি অত্যন্ত সস্তা এবং স্থানীয়ভাবে (গ্রামে বা দুর্গম স্থানে) উৎপাদন করা সহজ।

৭. সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তি উৎপাদনের পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো এবং এদের পরিবেশগত সুবিধাগুলি আলোচনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

 * সৌরশক্তি উৎপাদন: সূর্যের আলোকে কাজে লাগানোর জন্য সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়। সোলার প্যানেলে থাকা সিলিকনের ফটোভোলটাইক কোষ (Photovoltaic cell) সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে রাখা যায়।

 * বায়ুশক্তি উৎপাদন: ফাঁকা এবং প্রবল বাতাসযুক্ত স্থানে উঁচু পিলারের ওপর বিশাল বায়ুকল (Windmill) বসানো হয়। বাতাসের বেগে বায়ুকলের ব্লেড বা পাখা ঘুরলে, তার সাথে যুক্ত টারবাইন ঘোরে এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

 * পরিবেশগত সুবিধা: এই দুই প্রকার শক্তিই সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত। এদের উৎপাদনে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াতে হয় না, ফলে ধোঁয়া, ছাই বা গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয় না। এগুলি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ কার্যকর।

৮. খাদ্যসঙ্কট বা খাদ্যাভাবের প্রধান কারণগুলি কী কী? বিকল্প খাদ্য হিসেবে SCP (Single Cell Protein) এবং মাশরুমের গুরুত্ব আলোচনা করো। (২.৫+২.৫)

উত্তর:

 * খাদ্যসঙ্কটের কারণ:

   * পৃথিবীতে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটার ফলে খাদ্যের চাহিদা বিপুল হারে বাড়ছে।

   * বাসস্থান ও শিল্পের কারণে চাষযোগ্য কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে।

   * অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং খরা, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফসল নষ্ট করছে।

 * বিকল্প খাদ্যের গুরুত্ব:

   * SCP (সিঙ্গল সেল প্রোটিন): স্পিরুলিনা বা ইস্টের মতো অণুজীব থেকে তৈরি পাউডার প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এটি খুব কম জায়গায়, এমনকি কারখানার বর্জ্য জলেও দ্রুত চাষ করা যায়। এটি মানুষের অপুষ্টি দূর করতে এবং পশুখাদ্য হিসেবে দারুণ উপযোগী।

   * মাশরুম: এটি একটি ভোজ্য ছত্রাক যা প্রোটিন, ফাইবার এবং নানা খনিজ উপাদানে ভরপুর। এটি চাষ করতে বড় কৃষিজমি লাগে না, খড় বা কাঠের গুঁড়োর ওপর ঘরেই চাষ করা যায়। এটি খাদ্যসঙ্কট মেটাতে একটি চমৎকার বিকল্প।

৯. জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো এবং এগুলি সংরক্ষণের উপায় লেখো। (৩+২)

উত্তর:

 * ক্ষতিকর প্রভাব:

   * দূষণ: কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড উৎপন্ন হয় যা বায়ুদূষণ এবং অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়।

   * গ্লোবাল ওয়ার্মিং: অতিরিক্ত CO_2 গ্রিনহাউস প্রভাবের মাধ্যমে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে বরফ গলছে ও সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে।

   * সম্পদ নিঃশেষ: এই জ্বালানিগুলি অনবীকরণযোগ্য। যথেচ্ছ ব্যবহারে অচিরেই এদের মজুত ফুরিয়ে যাবে, ফলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী শক্তি-সঙ্কটের মুখে পড়বে।

 * সংরক্ষণের উপায়:

   * বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করা (LED বাল্ব ব্যবহার, বিনা প্রয়োজনে আলো-পাখা বন্ধ রাখা)।

   * ব্যক্তিগত যানের বদলে গণপরিবহন (বাস, ট্রেন) ব্যবহার করা এবং গাড়ির ইঞ্জিন ভালো রাখা।

   * জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

১০. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) বলতে কী বোঝো? বর্তমান বিশ্বে স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োগগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। (২+৩)

উত্তর:

 * স্থিতিশীল উন্নয়ন: যে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমান প্রজন্মের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাহিদা মেটানোর সাথে সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ না করে এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার করা হয়, তাকে স্থিতিশীল বা টেকসই উন্নয়ন বলে।

 * প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োগ:

   * প্রাকৃতিক সম্পদের (জল, খনিজ, কয়লা) যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে পৃথিবী আজ এক ভয়ানক সঙ্কটের মুখে। স্থিতিশীল উন্নয়ন এই সম্পদের অপচয় রোধ করতে শেখায়।

   * এটি পরিবেশ দূষণ কমিয়ে, অরণ্য সংরক্ষণ ও বিকল্প শক্তির ব্যবহারে জোর দেয়, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন আটকায়।

   * এর প্রয়োগ হিসেবে বর্তমানে প্লাস্টিকের বদলে পাটের ব্যাগ ব্যবহার, রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার, এবং চিরাচরিত শক্তির বদলে সোলার প্যানেল বা বায়ুকলের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সমাজ, অর্থনীতি এবং পরিবেশ—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকছে।