মেনু ও পেজসমূহ

দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস তৃতীয় সেমিস্টার

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (Semester-III) সিলেবাসের Unit-1: Through the Eyes of the Travelers (ভ্রমণকারীদের দৃষ্টিতে ভারত: দশম থেকে সপ্তদশ শতাব্দী) থেকে ১ থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

আল বিরুনি ও ‘কিতাব-উল-হিন্দ’

১. প্রশ্ন: আল বিরুনি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?

উত্তর: উজবেকিস্তান।

২. প্রশ্ন: আল বিরুনি কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে।

৩. প্রশ্ন: আল বিরুনি কার সঙ্গে ভারতে আসেন?

উত্তর: সুলতান মাহমুদ (গজনী)।

৪. প্রশ্ন: আল বিরুনির জন্মস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর: খোয়ারিজম।

৫. প্রশ্ন: আল বিরুনির লেখা বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?

উত্তর: কিতাব-উল-হিন্দ।

৬. প্রশ্ন: ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ কোন ভাষায় রচিত হয়েছিল?

উত্তর: আরবি ভাষায়।

৭. প্রশ্ন: ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ গ্রন্থটি কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত?

উত্তর: ৮০টি অধ্যায়ে।

৮. প্রশ্ন: আল বিরুনি ভারতে এসে কোন ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন?

উত্তর: সংস্কৃত ভাষা।

৯. প্রশ্ন: আল বিরুনি পতঞ্জলির ব্যাকরণ গ্রন্থ কোন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন?

উত্তর: আরবি ভাষায়।

১০. প্রশ্ন: আল বিরুনি ইউক্লিডের জ্যামিতি গ্রন্থ কোন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন?

উত্তর: সংস্কৃত ভাষায়।

১১. প্রশ্ন: আল বিরুনির মতে ভারতীয় সমাজকে বোঝার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কী ছিল?

উত্তর: ভাষা ও ধর্মের ভিন্নতা।

১২. প্রশ্ন: আল বিরুনির বর্ণনানুযায়ী ভারতের কোন ব্যবস্থা সমাজকে আলাদা করে রেখেছিল?

উত্তর: বর্ণপ্রথা।

১৩. প্রশ্ন: আল বিরুনি কোন শতাব্দীতে ভারতে আসেন?

উত্তর: একাদশ (১১তম) শতাব্দীতে।

১৪. প্রশ্ন: আল বিরুনির মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স কত ছিল?

উত্তর: প্রায় ৭০ বছর।

১৫. প্রশ্ন: ‘মেট্রোলজি’ (Metrology) বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তর: পরিমাপ বিজ্ঞান।

ইবন বতুতা ও ‘রਿਹਲਾ’ (Rihla)

১৬. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কোন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন?

উত্তর: মরক্কো।

১৭. প্রশ্ন: ইবন বতুতার জন্মস্থান কোথায় ছিল?

উত্তর: তাঞ্জিয়ার।

১৮. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কত খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন?

উত্তর: ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে।

১৯. প্রশ্ন: ইবন বতুতার ভ্রমণবৃত্তান্তের নাম কী?

উত্তর: রেহলা (Rihla)।

২০. প্রশ্ন: দিল্লির কোন সুলতান ইবন বতুতার পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কাজি পদে নিয়োগ করেন?

উত্তর: মুহাম্মদ বিন তুগলক।

২১. প্রশ্ন: ইবন বতুতাকে কোন দেশের সুলতান নিজের দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন?

উত্তর: চীন।

২২. প্রশ্ন: ইবন বতুতা মালদ্বীপে কতদিন কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন?

উত্তর: ১৮ মাস।

২৩. প্রশ্ন: ইবন বতুতার মতে কোন ফল ভারতীয় সমাজে অত্যন্ত পরিচিত ছিল?

উত্তর: নারকেল ও পান।

২৪. প্রশ্ন: ইবন বতুতার বিবরণ অনুযায়ী ভারতের ডাকব্যবস্থার নাম কী ছিল?

উত্তর: উলম ও ধাওয়া (ঘোড়া ও পদাতিক ডাকব্যবস্থা)।

২৫. প্রশ্ন: ইবন বতুতার মতে মুলতান থেকে দিল্লি পৌঁছাতে কত দিন সময় লাগত?

উত্তর: ৪০ দিন।

২৬. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কোন শতাব্দীতে ভারতে এসেছিলেন?

উত্তর: চতুর্দশ (১৪তম) শতাব্দীতে।

২৭. প্রশ্ন: ইবন বতুতা যখন ভ্রমণ শুরু করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?

উত্তর: ২২ বছর।

২৮. প্রশ্ন: ইবন বতুতার গ্রন্থটি কোন ভাষায় রচিত?

উত্তর: আরবি ভাষায়।

২৯. প্রশ্ন: ইবন বতুতার মতে দাসদের বাজারে কার সঙ্গে বেচাকেনা করা হতো?

উত্তর: ঘোড়া ও উটের মতো পণ্যের সঙ্গে।

৩০. প্রশ্ন: ইবন বতুতার ভ্রমণকালে ভারতীয় যাত্রাপথ কেন বিপজ্জনক ছিল?

উত্তর: ডাকাত দলের আক্রমণের কারণে।

ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে ও মুঘল ভারত

৩১. প্রশ্ন: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে কোন দেশের পরিব্রাজক ছিলেন?

উত্তর: ফ্রান্স।

৩২. প্রশ্ন: বার্নিয়ে পেশায় মূলত কী ছিলেন?

উত্তর: চিকিৎসক ও রাজনৈতিক দার্শনিক।

৩৩. প্রশ্ন: বার্নিয়ে কোন শতাব্দীতে মুঘল ভারতে আসেন?

উত্তর: সপ্তদশ (১৭তম) শতাব্দীতে।

৩৪. প্রশ্ন: বার্নিয়ে কার চিকিৎসাবৈদ্য বা পরিচারক হিসেবে কাজ করেছিলেন?

উত্তর: রাজপুত্র দারা শিকো ও মুঘল দরবার।

৩৫. প্রশ্ন: বার্নিয়ে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেছিলেন?

উত্তর: ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইকে।

৩৬. প্রশ্ন: বার্নিয়ের বিখ্যাত ভ্রমণ গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: ট্রাভেলস ইন দ্য মোগল এম্পায়ার (Travels in the Mogul Empire)।

৩৭. প্রশ্ন: বার্নিয়ে মুঘল ভারতের কোন ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন?

উত্তর: ভূমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার অভাব।

৩৮. প্রশ্ন: ‘ওরিয়েন্টাল ডেসপটিজম’ বা প্রাচ্যদেশীয় স্বৈরতন্ত্রের ধারণা কার লেখার মাধ্যমে প্রসার লাভ করে?

উত্তর: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে।

৩৯. প্রশ্ন: বার্নিয়ের মতে মুঘল সাম্রাজ্যের শহরগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: এগুলি মূলত ‘শিবির নগরী’ (Camp towns) ছিল।

৪০. প্রশ্ন: বার্নিয়ে কোন ভারতীয় প্রথার বিবরণ অত্যন্ত বিশদভাবে তুলে ধরেছেন?

উত্তর: সতীদাহ প্রথা।

৪১. প্রশ্ন: বার্নিয়ে মুঘল রাজাদের কী বলে অভিহিত করেছেন?

উত্তর: জমির একমাত্র মালিক।

৪২. প্রশ্ন: মুঘল আমলের হস্তশিল্প ও কারিগরদের কাজের মান সম্পর্কে বার্নিয়ে কী ধারণা পোষণ করতেন?

উত্তর: প্রণোদনার অভাবে কারিগররা উৎসাহ হারিয়ে ফেলত।

৪৩. প্রশ্ন: কোন ইউরোপীয় দার্শনিকের তত্ত্বে বার্নিয়ের লেখার প্রভাব পড়েছিল?

উত্তর: মন্তেস্কু ও কার্ল মার্ক্স।

৪৪. প্রশ্ন: বার্নিয়ে ভারতের শহরগুলোকে কোন প্রকৃতির বলে উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: কৃত্রিম শহর।

৪৫. প্রশ্ন: সপ্তদশ শতকে মুঘল সাম্রাজ্যে চিকিৎসাবিদ্যার অবস্থা কেমন ছিল তা কার বিবরণী থেকে জানা যায়?

উত্তর: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে।

মার্কো পলো ও আবদুর রাজ্জাক

৪৬. প্রশ্ন: মার্কো পলো কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?

উত্তর: ইতালি (ভেনিস)।

৪৭. প্রশ্ন: মার্কো পলো কোন শতাব্দীতে ভারত তথা এশিয়া ভ্রমণ করেছিলেন?

উত্তর: ত্রয়োদশ (১৩তম) শতাব্দীতে।

৪৮. প্রশ্ন: আবদুর রাজ্জাক কোন দেশের রাজদূত বা কূটনীতিক ছিলেন?

উত্তর: ইরান (হিরাত)।

৪৯. প্রশ্ন: আবদুর রাজ্জাক কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?

উত্তর: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের দেবরায় (দ্বিতীয় দেবরায়)।

৫০. প্রশ্ন: আবদুর রাজ্জাক কত খ্রিস্টাব্দে বিজয়নগর সফর করেন?

উত্তর: ১৫ শতকে (১৪৪৩ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ)।

৫১. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের বন্দর ও নগরব্যবস্থার চমৎকার বিবরণ কে দিয়েছেন?

উত্তর: আবদুর রাজ্জাক।

৫২. প্রশ্ন: মার্কো পলোর ভ্রমণবৃত্তান্তের নাম কী?

উত্তর: দ্য ট্রাভেলস অফ মার্কো পলো (Il Milione)।

৫৩. প্রশ্ন: আবদুর রাজ্জাক কোন দেশের রাজার দূত হিসেবে বিজয়নগরে আসেন?

উত্তর: পারস্যের শাসক শাহ রুখ।

৫৪. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সপ্তপ্রাকার দুর্গবেষ্টনীর কথা কোন বিদেশি পর্যটক উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: আবদুর রাজ্জাক।

৫৫. প্রশ্ন: মার্কো পলোর ভারত ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: বাণিজ্য ও ভৌগোলিক আবিষ্কার।

সমাজ, রাজনীতি ও অন্যান্য পরিব্রাজক সংক্রান্ত প্রশ্ন

৫৬. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভ্রমণসাহিত্য সাধারণত কোন ভাষায় বেশি লিখিত হতো?

উত্তর: আরবি ও ফারসি ভাষায়।

৫৭. প্রশ্ন: প্রাচীন ও মধ্যযুগে সাধারণ মানুষ সাধারণত কেন ভ্রমণ করত?

উত্তর: ব্যবসা, তীর্থযাত্রা, শিক্ষা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে।

৫৮. প্রশ্ন: মধ্যযুগে ভারতে আগত পর্যটকদের মধ্যে একমাত্র মহিলা পর্যটকের বিবরণ কি পাওয়া যায়?

উত্তর: না, নারীদের কোনো ভ্রমণ বিবরণী পাওয়া যায় না।

৫৯. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে দাসপ্রথার বিবরণ কোন পর্যটকের লেখায় পাওয়া যায়?

উত্তর: ইবন বতুতা।

৬০. প্রশ্ন: সুলতানি আমলে নারীদের অবস্থা সম্পর্কে কোন পর্যটকের লেখা থেকে ধারণা পাওয়া যায়?

উত্তর: ইবন বতুতা।

৬১. প্রশ্ন: আল বিরুনির মতে ভারতীয় সমাজে পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ধারণা কিসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: বর্ণপ্রথা ও জাতিভেদ প্রথা।

৬২. প্রশ্ন: কোন পর্যটকের বিবরণী থেকে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ঐশ্বর্য ও সুশাসনের পরিচয় পাওয়া যায়?

উত্তর: আবদুর রাজ্জাক।

৬৩. প্রশ্ন: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের উত্তরাধিকার যুদ্ধের সময় কোন পর্যটক ভারতে উপস্থিত ছিলেন?

উত্তর: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে।

৬৪. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম কী ছিল?

উত্তর: পদব্রজে, ঘোড়া ও পালকি।

৬৫. প্রশ্ন: ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ গ্রন্থে আল বিরুনি কোন ধর্মের দর্শন গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন?

উত্তর: হিন্দু দর্শন ও পুরাণ।

৬৬. প্রশ্ন: কোন বিদেশি পর্যটক ভারতের গ্রামগুলোকে 'স্বয়ংসম্পূর্ণ ছোট প্রজাতন্ত্র' হিসেবে দেখতে পাননি, বরং গ্রামীণ শোষণের কথা বলেছেন?

উত্তর: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে।

৬৭. প্রশ্ন: ইবন বতুতার মতে সুলতানের গুপ্তচর হিসেবে কারা কাজ করত?

উত্তর: মহিলা দাসীরা।

৬৮. প্রশ্ন: মধ্যযুগে বিদেশি পর্যটকরা মূলত কোন ভারতীয় পণ্যের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতেন?

উত্তর: মশলা, টেক্সটাইল ও রত্নাবলী।

৬৯. প্রশ্ন: আল বিরুনি কোন গ্রীক দার্শনিকের রচনার সাথে পরিচিত ছিলেন?

উত্তর: প্লেটো।

৭০. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে আসা পর্যটকদের রচনা প্রধানত কোন ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়?

উত্তর: সাহিত্যিক উৎস।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (৭১ - ১০০)

৭১. প্রশ্ন: আল বিরুনির প্রকৃত নাম কী ছিল?

উত্তর: আবু রায়হান মুহাম্মদ বিন আহমদ আল বিরুনি।

৭২. প্রশ্ন: আল বিরুনি কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন যা বর্তমানে উজবেকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত?

উত্তর: খোয়ারিজম।

৭৩. প্রশ্ন: সুলতান মাহমুদ কত খ্রিস্টাব্দে খোয়ারিজম আক্রমণ করেন?

উত্তর: ১০১৭ খ্রিস্টাব্দে।

৭৪. প্রশ্ন: আল বিরুনি সংস্কৃত শেখার জন্য কাদের সাহচর্য লাভ করেছিলেন?

উত্তর: ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের।

৭৫. প্রশ্ন: ‘বিদ্যা সাগর’ উপাধি কোন বিদেশি পণ্ডিতকে দেওয়া হয়েছিল?

উত্তর: আল বিরুনিকে (ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের দ্বারা)।

৭৬. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কোন শতাব্দীতে মরক্কো ত্যাগ করে বিশ্বভ্রমণে বের হন?

উত্তর: চতুর্দশ শতাব্দীতে (১৩২৫ সালে)।

৭৭. প্রশ্ন: ইবন বতুতার বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি ‘রেহলা’ কে লিপিবদ্ধ করেছিলেন?

উত্তর: ইবন জুজাই (সুলতানের নির্দেশে)।

৭৮. প্রশ্ন: ইবন বতুতার ভারত ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ কী ছিল?

উত্তর: দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলকের উদারতা ও খ্যাতি।

৭৯. প্রশ্ন: ইবন বতুতা ভারতে এসে কোন অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন?

উত্তর: দিল্লি।

৮০. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কোন দ্বীপপুঞ্জে ১৮ মাস কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?

উত্তর: মালদ্বীপ।

৮১. প্রশ্ন: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে পেশায় একজন ফরাসি কী ছিলেন?

উত্তর: চিকিৎসক ও প্রকৃতিবিদ।

৮২. প্রশ্ন: বার্নিয়ে মুঘল ভারতে কত বছর অতিবাহিত করেছিলেন?

উত্তর: প্রায় ১২ বছর (১৬৫৬ থেকে ১৬৬৮ সাল)।

৮৩. প্রশ্ন: বার্নিয়ে মুঘল আমলের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে কোন ব্যবস্থার তুলনা করেছিলেন?

উত্তর: ইউরোপীয় সামন্ততন্ত্র।

৮৪. প্রশ্ন: বার্নিয়ের মতে মুঘল সাম্রাজ্যের কৃষকদের অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: অত্যন্ত শোচনীয় ও নিপীড়িত।

৮৫. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী পরিদর্শনের পর কোন বিদেশি পর্যটক এর বিশাল আয়তন ও সুন্দর বাজারের প্রশংসা করেন?

উত্তর: আবদুর রাজ্জাক।

৮৬. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে সতীদাহ প্রথা মূলত কোন সমাজের প্রচলিত একটি প্রথা ছিল?

উত্তর: উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ।

৮৭. প্রশ্ন: আল বিরুনির মতে ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় অস্পৃশ্য বা অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষেরা কোথায় বসবাস করত?

উত্তর: গ্রামের বাইরে।

৮৮. প্রশ্ন: ইবন বতুতার বিবরণ অনুযায়ী ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি কেমন ছিল?

উত্তর: কৃষিনির্ভর ও সমৃদ্ধশালী।

৮৯. প্রশ্ন: মধ্যযুগে ভারতে আসা পর্যটকদের বিবরণ থেকে কোন বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি আলো পড়ে?

উত্তর: সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন।

৯০. প্রশ্ন: আল বিরুনি তাঁর গ্রন্থে ভারতের কোন ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: হিন্দু জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকা পদ্ধতি।

৯১. প্রশ্ন: ইবন বতুতা কোন বন্দর দিয়ে প্রথম ভারতে প্রবেশ করেন?

উত্তর: সিন্ধু প্রদেশের বন্দর।

৯২. প্রশ্ন: বার্নিয়ে তাঁর লেখায় মুঘল রাজপ্রাসাদের কোন দিকটি তুলে ধরেছেন?

উত্তর: অমিতব্যয়িতা ও আমোদপ্রমোদ।

৯৩. প্রশ্ন: কোন পর্যটকের লেখা পড়ে পরবর্তীকালে ইউরোপে এশীয় শাসনপদ্ধতি সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল?

উত্তর: ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ে।

৯৪. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে কোন পর্যটকের বিবরণ সবচেয়ে মূল্যবান?

উত্তর: মার্কো পলো ও ইবন বতুতা।

৯৫. প্রশ্ন: আল বিরুনি কোন মুসলিম শাসকের আক্রমণকে কেন্দ্র করে ভারতে আসেন?

উত্তর: সুলতান মাহমুদ গজনভি।

৯৬. প্রশ্ন: ইবন বতুতা চীন যাওয়ার পথে ভারতের কোন অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করেন?

উত্তর: কেরালা, মালদ্বীপ, বাংলা ও আসাম।

৯৭. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে দাসপ্রথা মূলত কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল বলে ইবন বতুতা উল্লেখ করেছেন?

উত্তর: গৃহদাস এবং রাজদরবারের দাস-দাসী।

৯৮. প্রশ্ন: বার্নিয়ে ভারতের কারিগরদের কাজের দক্ষতার অভাব কেন ঘটেছে বলে মনে করতেন?

উত্তর: রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ভূমির মালিকানার অনিরাপত্তার কারণে।

৯৯. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভ্রমণসাহিত্য পাঠ করলে প্রধানত কোন ধরনের ঐতিহাসিক উপাদান লাভ করা যায়?

উত্তর: সমসাময়িক প্রত্যক্ষ বিবরণ ও সামাজিক ইতিহাস।

১০০. প্রশ্ন: আল বিরুনির ‘কিতাব-উল-হিন্দ’ গ্রন্থটি প্রথম কে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?

উত্তর: এডওয়ার্ড সি. সচাউ (E.C. Sachau)।


দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (Semester-III) সিলেবাসের Unit-1: Cultural Amalgamation (উপবিভাগ ২: ভক্তি আন্দোলন ও সুফি আন্দোলন) থেকে ১ থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

ভক্তি আন্দোলন: সাধারণ পরিচিতি ও মূল বৈশিষ্ট্য

১. প্রশ্ন: 'ভক্তি' শব্দের মূল অর্থ কী?

উত্তর: ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রীতি বা ভক্তিভাব।

২. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন এবং জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা।

৩. প্রশ্ন: দক্ষিণ ভারতে ভক্তি আন্দোলনের মূল প্রসার কারা ঘটিয়েছিলেন?

উত্তর: আলওয়ার ও নায়নার সন্তগণ।

৪. প্রশ্ন: আলওয়ার সন্তরা কাদের উপাসক ছিলেন?

উত্তর: বিষ্ণু বা নারায়ণের উপাসক।

৫. প্রশ্ন: নায়নার সন্তরা কোন দেবতার উপাসক ছিলেন?

উত্তর: শিবের উপাসক।

৬. প্রশ্ন: দক্ষিণ ভারতের ভক্তি আন্দোলন মূলত কোন শতাব্দীতে শুরু হয়েছিল?

উত্তর: ষষ্ঠ থেকে নবম শতাব্দীতে।

৭. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনকে দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর ভারতে কে নিয়ে এসেছিলেন?

উত্তর: রামানন্দ।

৮. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের প্রচারকরা সাধারণত কোন ভাষায় প্রচার করতেন?

উত্তর: সাধারণ মানুষের আঞ্চলিক ভাষায়।

৯. প্রশ্ন: ভক্তি সন্তরা সমাজের কোন কুপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র সোচ্চার হয়েছিলেন?

উত্তর: বর্ণপ্রথা ও অস্পৃশ্যতা।

১০. প্রশ্ন: দ্বৈতবাদের প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: মধ্যাচার্য।

ভক্তি আন্দোলনের প্রধান সন্তগণ: কবির, গুরু নানক ও চৈতন্যদেব

১১. প্রশ্ন: কবীর কোন শতকের সন্ত ছিলেন?

উত্তর: পঞ্চদশ (১৫তম) শতকের।

১২. প্রশ্ন: কবীরের অনুগামীদের কী বলা হয়?

উত্তর: কবীরপন্থী।

১৩. প্রশ্ন: কবীরের উপদেশগুলো কোন গ্রন্থে সংকলিত আছে?

উত্তর: বীজক (Bijak)।

১৪. প্রশ্ন: কবীরের বিখ্যাত পদ বা দোহাগুলি কোন ভাষায় রচিত?

উত্তর: সাধু ভাষা বা হিন্দি মিশ্রিত অবহট্ঠ।

১৫. প্রশ্ন: শিখ ধর্মের প্রবক্তা বা প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তর: গুরু নানক।

১৬. প্রশ্ন: গুরু নানকের জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: তলওয়ান্ডি (বর্তমান পাকিস্তানের নানকানা সাহেব)।

১৭. প্রশ্ন: গুরু নানক কোন মুঘল সম্রাটের সমসাময়িক ছিলেন?

উত্তর: বাবর।

১৮. প্রশ্ন: শিখদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: আদি গ্রন্থ বা গুরু গ্রন্থ সাহেব।

১৯. প্রশ্ন: শিখদের দ্বিতীয় গুরু কে ছিলেন?

উত্তর: গুরু অঙ্গদ।

২০. প্রশ্ন: বাংলা তথা ভারতের বৈষ্ণব ধর্মের প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব।

২১. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: নবদ্বীপ (মায়াপুর)।

২২. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেবের প্রবর্তিত ভক্তি মার্গের মূল দর্শন কী নামে পরিচিত?

উত্তর: অচিন্ত্য ভেদাভেদবাদ।

২৩. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যদেব কোন আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে বিপ্লব এনেছিলেন?

উত্তর: সংকীর্তন আন্দোলন।

২৪. প্রশ্ন: শ্রীচৈতন্যের প্রধান দুই শিষ্য বা রূপ-সনাতন কোথায় তাঁদের সাধনা করেছিলেন?

উত্তর: বৃন্দাবন।

২৫. প্রশ্ন: মীরাবাই ভক্তি আন্দোলনের কোন ধারার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ছিলেন?

উত্তর: কৃষ্ণভক্তি ধারা।

মীরাবাই, তুলসীদাস ও অন্যান্য সন্তগণ

২৬. প্রশ্ন: মীরাবাইয়ের জন্ম কোন রাজবংশে হয়েছিল?

উত্তর: মেওয়ারের রথোর রাজবংশ (মীরতা)।

২৭. প্রশ্ন: মীরাবাই কার উপাসক ছিলেন?

উত্তর: গিরিধারী গোপাল বা শ্রীকৃষ্ণের।

২৮. প্রশ্ন: রামচরিতমানস গ্রন্থের রচয়ীতা কে?

উত্তর: তুলসীদাস।

২৯. প্রশ্ন: তুলসীদাস কোন মুঘল সম্রাটের সমসাময়িক ছিলেন?

উত্তর: আকবর।

৩০. প্রশ্ন: বল্লভাচাৰ্য কোন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন?

উত্তর: শুদ্ধাদ্বৈতবাদ।

৩১. প্রশ্ন: রামানুজাচার্য কোন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন?

উত্তর: বিশিষ্টা দ্বৈতবাদ।

৩২. প্রশ্ন: শংকরাচার্য কোন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন?

উত্তর: অদ্বৈতবাদ।

৩৩. প্রশ্ন: জ্ঞানেশ্বর কোন রাজ্যের ভক্তি আন্দোলনের সন্ত ছিলেন?

উত্তর: মহারাষ্ট্র।

৩৪. প্রশ্ন: মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘ওয়ার্কারী সম্প্রদায়’ কার ভক্তিতে গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: বিঠোবা বা ভিট্ঠল (পাণ্ডুরঙ্গ)।

৩৫. প্রশ্ন: তুকারাম কোন অঞ্চলের বিখ্যাত ভক্তি সন্ত ছিলেন?

উত্তর: মহারাষ্ট্র।

সুফি আন্দোলন: উৎপত্তি ও মূল ধারা

৩৬. প্রশ্ন: 'সুফি' শব্দটির উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে বলে মনে করা হয়?

উত্তর: 'সফ' (Saf - পবিত্রতা) অথবা 'সুফ' (Suf - পশম বা চাদর)।

৩৭. প্রশ্ন: সুফিবাদের মূল ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: ইশক-ই-হাকিকি (ঈশ্বরের প্রতি ঐশ্বরিক প্রেম)।

৩৮. প্রশ্ন: সুফি সন্তরা ঈশ্বর লাভের জন্য কিসের ওপর সর্বাধিক জোর দিতেন?

উত্তর: প্রেম, ভক্তি ও গুরু বা পীরের পথনির্দেশ।

৩৯. প্রশ্ন: সুফিদের সাধনার প্রধান কেন্দ্রগুলোকে কী বলা হতো?

উত্তর: খানকাহ (Khankah)।

৪০. প্রশ্ন: সুফি সন্তদের বসবাসের স্থান বা মাজারকে কী বলা হয়?

উত্তর: দরگاہ (Dargah)।

৪১. প্রশ্ন: ভারতে কোন সুফি সিলসিলা বা ধারা প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: চিশতি সিলসিলা।

৪২. প্রশ্ন: চিশতি সিলসিলা ভারতে কে প্রবর্তন করেছিলেন?

উত্তর: খাজা মইনুদ্দিন চিশতি।

৪৩. প্রশ্ন: খাজা মইনুদ্দিন চিশতির দরগাহ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: আজমেঢ় (রাজস্থান)।

৪৪. প্রশ্ন: নিজামউদ্দিন আউলিয়া কোন সিলসিলার সন্ত ছিলেন?

উত্তর: চিশতি সিলসিলা।

৪৫. প্রশ্ন: দিল্লির কোন বিখ্যাত সুলতানের সঙ্গে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার সুসম্পর্ক ছিল না?

উত্তর: আলাউদ্দিন খলজী (মতান্তরে মুহাম্মদ বিন তুগলক)।

সুফি সিলসিলা ও প্রখ্যাত সুফি সন্তগণ

৪৬. প্রশ্ন: বাবা ফরিদ কোন সিলসিলার প্রখ্যাত সন্ত ছিলেন?

উত্তর: চিশতি সিলসিলা।

৪৭. প্রশ্ন: সুফি সঙ্গীতে ব্যবহৃত ইশ্বর আরাধনার গানকে কী বলা হয়?

উত্তর: কওয়ালি (Qawwali)।

৪৮. প্রশ্ন: সুফি সাধনায় মুরিদ বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তর: শিষ্য বা ভক্ত।

৪৯. প্রশ্ন: সুফি সাধনায় পীর বা শেখ বলতে কী বোঝানো হয়?

উত্তর: গুরু বা আধ্যাত্মিক শিক্ষক।

৫০. প্রশ্ন: সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: শিহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দী।

৫১. প্রশ্ন: ভারতে সোহরাওয়ার্দী সিলসিলা মূলত কোন অঞ্চলে বেশি প্রসার লাভ করেছিল?

উত্তর: সিন্ধু ও পাঞ্জাব।

৫২. প্রশ্ন: নকশবন্দী সিলসিলা ভারতে কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

উত্তর: খোয়াজা বাকি বিল্লাহ।

৫৩. প্রশ্ন: কোন সুফি সিলসিলা মুঘল দরবারে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল?

উত্তর: নকশবন্দী সিলসিলা।

৫৪. প্রশ্ন: শেখ আহমেদ সিরহিন্দি কোন সিলসিলার সন্ত ছিলেন?

উত্তর: নকশবন্দী সিলসিলা।

৫৫. প্রশ্ন: কাদিরিয়া সিলসিলার প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: আবদুল কাদির জিলানি।

ভক্তি ও সুফি আন্দোলনের প্রভাব এবং ফলাফল

৫৬. প্রশ্ন: ভক্তি ও সুফি আন্দোলনের ফলে কোন ভাষার বিকাশ ঘটেছিল?

উত্তর: আঞ্চলিক ভাষা (যেমন- হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, পাঞ্জাবি)।

৫৭. প্রশ্ন: ভক্তি ও সুফি আন্দোলন সমাজে মূলত কিসের সেতু বন্ধন করেছিল?

উত্তর: হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি।

৫৮. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের ফলে সমাজে কোন বৈষম্য হ্রাস পেয়েছিল?

উত্তর: জাতিভেদ ও উচচ-নীচ ভেদাভেদ।

৫৯. প্রশ্ন: কবীর ও নানকের বাণীতে কোন ধর্মের আদর্শের মেলবন্ধন দেখা যায়?

উত্তর: হিন্দু ও ইসলাম ধর্ম।

৬০. প্রশ্ন: সুফি সন্তরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করতেন?

উত্তর: লোকভাষা ও সঙ্গীত।

৬১. প্রশ্ন: চৈতন্যদেবের প্রভাবে কোন ধর্মে জাতিবর্ণের সংকীর্ণতা দূর হয়েছিল?

উত্তর: বৈষ্ণব ধর্ম।

৬২. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের ফলে সমাজে কোন শ্রেণির মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল?

উত্তর: নারী ও নিম্নবর্ণের মানুষ।

৬৩. প্রশ্ন: সুফি আন্দোলনের মূল বার্তা কী ছিল?

উত্তর: মানবপ্রেম ও বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ।

৬৪. প্রশ্ন: মধ্যযুগের ভারতে কোন আন্দোলনকে 'সাংস্কৃতিক সমন্বয় সাধনের আন্দোলন' বলা হয়?

উত্তর: ভক্তি ও সুফি আন্দোলন।

৬৫. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের প্রবক্তারা মূর্তিপূজার বিষয়ে কী ধারণা পোষণ করতেন?

উত্তর: অনেকে মূর্তিপূজার বিরোধিতা করে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা প্রচার করেছিলেন।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (৬৬ - ১০০)

৬৬. প্রশ্ন: রামানন্দের প্রধান বারোজন শিষ্যের মধ্যে কারা সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত ছিলেন?

উত্তর: কবীর, রুইদাস, সেনা, নামদেব প্রমুখ।

৬৭. প্রশ্ন: শিখদের পবিত্র গ্রন্থ 'আদি গ্রন্থ' কে সংকলন করেছিলেন?

উত্তর: গুরু অর্জুন দেব।

৬৮. প্রশ্ন: শিখদের দশম তথা শেষ গুরু কে ছিলেন?

উত্তর: গুরু গোবিন্দ সিং।

৬৯. প্রশ্ন: খালসা বাহিনী কে এবং কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: গুরু গোবিন্দ সিং, ১৬৯৯ খ্রিস্টাব্দে।

৭০. প্রশ্ন: চৈতন্যদেবের জন্মলগ্নে বাংলার সুলতান কে ছিলেন?

উত্তর: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

৭১. প্রশ্ন: কে চৈতন্যদেবকে 'মহাপ্রভু' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?

উত্তর: তাঁর ভক্ত ও অনুগামীরা।

৭২. প্রশ্ন: দক্ষিণ ভারতের ভক্তি আন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছিলেন কোন সাধক?

উত্তর: আদি শংকরাচার্য।

৭৩. প্রশ্ন: অদ্বৈতবাদের মূল কথা কী?

উত্তর: ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা; জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন।

৭৪. প্রশ্ন: রামানুজের বিশিষ্টা দ্বৈতবাদ দর্শনে কার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ভক্তি ও ব্যক্তিগত ঈশ্বরের ওপর।

৭৫. প্রশ্ন: মহারাষ্ট্রের ভক্তি আন্দোলনে কোন সাধকের অবদান সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: জ্ঞানেশ্বর ও নামদেব।

৭৬. প্রশ্ন: একনাথ কোন অঞ্চলের ভক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর: মহারাষ্ট্র।

৭৭. প্রশ্ন: সুফি মতবাদের উত্থান মূলত কোন ধর্মে হয়েছিল?

উত্তর: ইসলাম ধর্মে।

৭৮. প্রশ্ন: বাগদাদের বিখ্যাত সুফি সাধক বায়োজিদ বোস্তামীর প্রভাবে কোন ধারণা জোরালো হয়?

উত্তর: ফানা (আত্ম বিলোপ বা ঈশ্বরের মধ্যে লীন হয়ে যাওয়া)।

৭৯. প্রশ্ন: চিশতি সিলসিলার সন্তরা রাজদরবার ও সরকারি অনুদান সম্পর্কে কেমন নীতি অনুসরণ করতেন?

উত্তর: তাঁরা রাজদরবার ও অনুদান এড়িয়ে চলতেন।

৮০. প্রশ্ন: আমির খসরু কার শিষ্য ছিলেন?

উত্তর: নিজামউদ্দিন আউলিয়ার।

৮১. প্রশ্ন: নিজামউদ্দিন আউলিয়াকে কী উপাধিতে ভূষিত করা হতো?

উত্তর: মাহবুব-এ-ইলাহি (আল্লাহর প্রিয়পাত্র)।

৮২. প্রশ্ন: কোন সুফি সন্তকে 'চিরাগ-ই-দিল্লি' বলা হতো?

উত্তর: শেখ নাসিরউদ্দিন চাগরাই (নাসিরউদ্দিন মাহমুদ)।

৮৩. প্রশ্ন: সুফি আন্দোলনের কোন ধারাটি গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতার পক্ষে বেশি সোচ্চার ছিল?

উত্তর: নকশবন্দী সিলসিলা।

৮৪. প্রশ্ন: সম্রাট আকবরের উদার ধর্মনীতি গঠনে কোন আন্দোলনের প্রভাব ছিল?

উত্তর: ভক্তি ও সুফি আন্দোলন।

৮৫. প্রশ্ন: দারা শিকো কোন সুফি সাধক ও দর্শনের অনুরাগী ছিলেন?

উত্তর: কাদরিয়া সিলসিলা ও বেদান্ত দর্শন।

৮৬. প্রশ্ন: মধ্যযুগে বাংলায় কোন সুফি সাধক পাণ্ডুয়ায় তাঁর খানকাহ স্থাপন করেছিলেন?

উত্তর: শেখ আলাউল হক ও নূর কুতুব আলম।

৮৭. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের সন্ত নামদেব কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর: দর্জি।

৮৮. প্রশ্ন: সাধিকা মীরাবাইয়ের পতি বা শ্বশুরকুল কোন রাজবংশের ছিল?

উত্তর: মেওয়ারের সিসোদিয়া রাজবংশ।

৮৯. প্রশ্ন: গুরু নানক তাঁর জীবনের শেষ সময় কোথায় অতিবাহিত করেছিলেন?

উত্তর: করতারপুরে।

৯০. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের ফলে ভারতের কোন সাহিত্য ধারার ব্যাপক উন্নতি ঘটে?

উত্তর: ভক্তিমূলক পদাবলি ও মার্জিত লোকসাহিত্য।

৯১. প্রশ্ন: কোন মুঘল সম্রাট মথুরা ও বৃন্দাবনের মন্দিরের জন্য জমি দান করেছিলেন?

উত্তর: আকবর।

৯২. প্রশ্ন: সুফি সাধকরা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের জন্য কোন পদ্ধতির ওপর জোর দিতেন?

উত্তর: জিকির (ঈশ্বরের নাম জপ করা) ও রক্স (নৃত্য ও সঙ্গীত)।

৯৩. প্রশ্ন: উত্তর ভারতে রামভক্তি ধারার প্রধান প্রচারক কে ছিলেন?

উত্তর: তুলসীদাস ও রামানন্দ।

৯৪. প্রশ্ন: কৃষ্ণভক্তি ধারার মূল কেন্দ্র বৃন্দাবনধাম গড়ে তোলার পেছনে কাদের অবদান ছিল?

উত্তর: বল্লভাচার্য ও চৈতন্যদেবের অনুগামীরা (ষড় গোস্বামী)।

৯৫. প্রশ্ন: 'সফি' কথার আক্ষরিক অর্থ পশমি পোশাকধারীদের সঙ্গে যুক্ত কেন?

উত্তর: প্রাথমিক যুগের সুফি সাধকরা রুক্ষ পশমের চাদর পরতেন বলে।

৯৬. প্রশ্ন: বাংলায় বৈষ্ণব সমাজের প্রধান দার্শনিক ভিত্তি কে রচনা করেছিলেন?

উত্তর: জীব গোস্বামী ও রূপ গোস্বামী।

৯৭. প্রশ্ন: শিখদের প্রধান তীর্থস্থান 'হরমন্দির সাহিব' বা স্বর্ণমন্দির কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: অমৃতসর।

৯৮. প্রশ্ন: কোন আন্দোলনের ফলে ভারতীয় সংস্কৃতিতে উদারতা ও সহিষ্ণুতার মানসিকতা দৃঢ় হয়েছিল?

উত্তর: ভক্তি ও সুফি আন্দোলন।

৯৯. প্রশ্ন: কবীরের জন্ম কোথায় হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে?

উত্তর: বারাণসী (লহর তারা হ্রদের নিকট)।

১০০. প্রশ্ন: ভক্তি আন্দোলনের মূল বার্তা কী ছিল?

উত্তর: মানবপ্রেম, ভক্তি ও সর্বভূতে ঈশ্বর দর্শন।


দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (Semester-III) সিলেবাসের Unit-1 এর উপবিভাগ ৩: বিজয়নগর, বাহমণি ও বাংলা (Vijaynagara, Bahamani and Bengal) থেকে ১ থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসন

১. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্য কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে।

২. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্য কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

উত্তর: হরিহর ও বুক্কা রায়।

৩. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্য কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে।

৪. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রথম রাজবংশ কোনটি ছিল?

উত্তর: সঙ্গম রাজবংশ।

৫. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?

উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।

৬. প্রশ্ন: কৃষ্ণদেব রায় কোন রাজবংশের রাজা ছিলেন?

উত্তর: তুলুব রাজবংশ।

৭. প্রশ্ন: কৃষ্ণদেব রায়ের রাজত্বকাল কোন সময় হিসেবে পরিচিত?

উত্তর: বিজয়নগরের স্বর্ণযুগ।

৮. প্রশ্ন: কৃষ্ণদেব রায় তেলুগু ভাষায় কোন বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন?

উত্তর: আমুক্তমাল্যদা।

৯. প্রশ্ন: কৃষ্ণদেব রায়ের রাজসভায় কোন আটজন তেলুগু কবি বা পন্ডিত ছিলেন যাঁদের একত্রে কী বলা হতো?

উত্তর: অষ্টদিগ্গজ।

১০. প্রশ্ন: ‘অষ্টদিগ্গজ’-এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত কবি কে ছিলেন?

উত্তর: আল্লসানি পেদ্দনা (যিনি ‘অষ্টদিগ্গজপিতামহ’ নামে পরিচিত)।

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সমাজ, অর্থনীতি ও বৈদেশিক পর্যটক

১১. প্রশ্ন: পর্তুগিজ পর্যটক ডমিনগো পিয়াস কার রাজত্বকালে বিজয়নগর পরিদর্শনে আসেন?

উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।

১২. প্রশ্ন: নিকোলো কন্টি কোন দেশের পর্যটক ছিলেন যিনি বিজয়নগর ভ্রমণ করেছিলেন?

উত্তর: ইতালি।

১৩. প্রশ্ন: ফারসি পর্যটক আবদুর রাজ্জাক কোন সুলতানের দূত হিসেবে বিজয়নগরে আসেন?

উত্তর: পারস্যের শাসক শাহ রুখ।

১৪. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রধান আয়ের উৎস কী ছিল?

উত্তর: কৃষিজমির রাজস্ব ও বাণিজ্য কর।

১৫. প্রশ্ন: বিজয়নগরের শাসনব্যবস্থায় ‘অনায়কর’ বা ‘নায়ঙ্কর’ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝানো হতো?

উত্তর: সামরিক প্রধান বা নায়কদের জমি ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান।

৬. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে কর্মরত বিশেষ সামরিক সামন্তদের কী বলা হতো?

উত্তর: নায়ক বা অমরনায়ক।

১৭. প্রশ্ন: বিজয়নগর ও বাহমণি রাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তর: উর্বর রায়চুর দোয়াব অঞ্চল দখল।

১৮. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের বিখ্যাত যুদ্ধ বা তালিকোটার যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?

উত্তর: ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে।

১৯. প্রশ্ন: তালিকোটার যুদ্ধ আর কী নামে পরিচিত?

উত্তর: রাক্ষসী-তঙ্গদীর যুদ্ধ।

২০. প্রশ্ন: তালিকোটার যুদ্ধে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কোন শক্তিগুলো যৌথভাবে লড়াই করেছিল?

উত্তর: বাহমণি রাজ্যের উত্তরাধিকারী সুলতানি রাজ্যসমূহ (বিজাপুর, গোলকুণ্ডা, আহমদনগর ও বিদর)।

বাহমণি রাজ্য ও তার ইতিহাস

২১. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্য কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে।

২২. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: আলাউদ্দিন বাহমন শাহ (হসান গঙ্গু)।

২৩. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: গুলবার্গা (পরবর্তীকালে বিদরে স্থানান্তরিত হয়)।

২৪. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মন্ত্রী কে ছিলেন যিনি তাঁর প্রশাসনিক সংস্কার ও শিক্ষাবিস্তারের জন্য বিখ্যাত?

উত্তর: মাহমুদ গাওয়ান।

২৫. প্রশ্ন: মাহমুদ গাওয়ান কোন বাহমণি সুলতানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন?

উত্তর: তৃতীয় মোহাম্মদ শাহ।

২৬. প্রশ্ন: মাহমুদ গাওয়ান রাজ্যের প্রশাসনকে পরিচালনার জন্য কয়টি প্রদেশে (তারাফ) ভাগ করেছিলেন?

উত্তর: আটটি প্রদেশে।

২৭. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের বিভাজনের ফলে মোট কয়টি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়?

উত্তর: পাঁচটি (বিজাপুর, গোলকুণ্ডা, আহমদনগর, বেরার ও বিদর)।

২৮. প্রশ্ন: বিজাপুরের স্বাধীন আদিল শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: ইউসুফ আদিল শাহ।

২৯. প্রশ্ন: গোলকুণ্ডার কুতুবশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: কুল্লি কুতুব শাহ।

৩০. প্রশ্ন: ঐতিহাসিক রায়চুর দোয়াব অঞ্চলটি কোন দুটি নদীর মাঝে অবস্থিত?

উত্তর: কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রা নদী।

স্বাধীন বাংলা ও সুলতানি যুগ: ইলিয়াস শাহী ও হোসেন শাহী বংশ

৩১. প্রশ্ন: স্বাধীন বাংলা কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

উত্তর: শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।

৩২. প্রশ্ন: শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ কত খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন ইলিয়াস শাহী বংশের সূচনা করেন?

উত্তর: ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে।

৩৩. প্রশ্ন: ইলিয়াস শাহ কোন উপাধি ধারণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন?

উত্তর: শাহ-ই-বঙ্গাল।

৩৪. প্রশ্ন: দিল্লি সুলতানির কোন সুলতান ইলিয়াস শাহকে দমন করতে বাংলা আক্রমণ করেছিলেন?

উত্তর: ফিরোজ শাহ তুগলক।

৩৫. প্রশ্ন: পাণ্ডুয়ার বিখ্যাত আদিনা মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: সিকান্দর শাহ।

৩৬. প্রশ্ন: বাংলার কোন সুলতান ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটান?

উত্তর: গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ।

৩৭. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে চীনা পর্যটক মা হুয়ান কার রাজত্বকালে বাংলা ভ্রমণ করেন?

উত্তর: গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (মতান্তরে জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ)।

৩৮. প্রশ্ন: বাংলার কোন সুলতান ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী হিন্দু রাজা গণেশের পুত্র ছিলেন?

উত্তর: জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ (যিনি পূর্বে যদু নামে পরিচিত ছিলেন)।

৩৯. প্রশ্ন: বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সমৃদ্ধ রাজবংশ কোনটি ছিল?

উত্তর: হোসেন শাহী বংশ।

৪০. প্রশ্ন: হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ও বাংলার সংস্কৃতি

৪১. প্রশ্ন: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ কত খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন?

উত্তর: ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে।

৪২. প্রশ্ন: হোসেন শাহ কোন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?

উত্তর: জগৎভূষণ ও কৃষ্ণদেবের অবতার (জনগণের দ্বারা)।

৪৩. প্রশ্ন: হোসেন শাহের রাজত্বকালে বাংলার কোন বিখ্যাত সাধকের আগমন বা প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল?

উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব।

৪৪. প্রশ্ন: হোসেন শাহের আমলে কে ভাগবত পুরাণ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন?

উত্তর: মালধর বসু।

৪৫. প্রশ্ন: মালধর বসুকে হোসেন শাহ কোন উপাধি দিয়েছিলেন?

উত্তর: সত্যরাজ খাঁ।

৪৬. প্রশ্ন: রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী হোসেন শাহের রাজসভায় কোন উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন?

উত্তর: সাকর মল্লিক ও দাবির খাস (মন্ত্রী বা সচিব)।

৪৭. প্রশ্ন: হোসেন শাহের বিখ্যাত সেনাপতি কে ছিলেন যিনি কামরূপ ও আসাম অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?

উত্তর: ইসমাইল গাজী বা পরাগল খান (মহাভারত অনুবাদ পৃষ্ঠপোষক)।

৪৮. প্রশ্ন: বাংলার কোন সুলতানের আমলে গৌড় ও পান্ডুয়ার স্থাপত্যশিল্পের চরম বিকাশ ঘটেছিল?

উত্তর: হোসেন শাহী আমল।

৪৯. প্রশ্ন: হোসেন শাহের পুত্র ও উত্তরাধিকারী কে ছিলেন?

উত্তর: নসরত শাহ।

৫০. প্রশ্ন: বাবর যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন বাংলার শাসক কে ছিলেন?

উত্তর: নসরত শাহ।

বিজয়নগর, বাহমণি ও বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি

৫১. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হম্পি কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

উত্তর: তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে।

৫২. প্রশ্ন: বিজয়নগরের বিখ্যাত ‘বিঠ্ঠলস্বামী মন্দির’ ও ‘হাজার রামাস্বামী মন্দির’ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।

৫৩. প্রশ্ন: বিজয়নগর স্থাপত্যের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: বিশাল আকৃতির সুউচ্চ প্রবেশদ্বার বা ‘গোপুরম’।

৫৪. প্রশ্ন: বাহমণি আমলের গুলবার্গের বিখ্যাত জামিয়া মসজিদ কোন স্থাপত্য শৈলীর দ্বারা প্রভাবিত ছিল?

উত্তর: পারস্য বা ইসলামি স্থাপত্য শৈলী।

৫৫৮. প্রশ্ন: বিদরের বিখ্যাত ‘মাদ্রাসা’ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: মাহমুদ গাওয়ান।

৫৬. প্রশ্ন: বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত ছোট সোনা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: গৌড় (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)।

৫৭. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে নির্মিত বড় সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদ কে নির্মাণ করেন?

উত্তর: নসরত শাহ।

৫৮. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে কোন ভাষার প্রভূত উন্নতি ও বিকাশ ঘটেছিল?

উত্তর: বাংলা ভাষা।

৫৯. প্রশ্ন: কৃত্তিবাস ওঝা কার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় রামায়ণ অনুবাদ করেছিলেন?

উত্তর: গৌড়ের সুলতানের সমসাময়িক স্থানীয় শাসক বা জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায়।

৬০. প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়ীতা কে?

উত্তর: বড়ু চণ্ডীদাস।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (৬১ - ১০০)

৬১. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হরিহর ও বুক্কা কার নিকট দীক্ষা নিয়ে সাম্রাজ্য স্থাপন করেন?

উত্তর: সাধু বিদ্যাসারণী ও মাধবাচার্য।

৬২. প্রশ্ন: হরিহর ও বুক্কা বিজয়নগর প্রতিষ্ঠার পূর্বে কার অধীনে চাকরি করতেন?

উত্তর: কাকতীয় রাজা বা কাম্পিল্যের রাজা।

৬৩. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবহর কোন বন্দরের নিয়ন্ত্রণে ছিল?

উত্তর: ভাটকাল ও গোয়া (পশ্চিম উপকূলের বন্দরসমূহ)।

৬৪. প্রশ্ন: পর্তুগিজ বণিক আলবুকার্ক কার অনুমতি নিয়ে গোয়া দখল করেছিলেন?

উত্তর: বিজয়নগরের শাসক কৃষ্ণা রায়ের।

৬৫. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে নারীদের সামাজিক অবস্থান কেমন ছিল?

উত্তর: নারীরা পড়াশোনা, কুস্তি, জ্যোতির্বিদ্যা ও এমনকি সেনাবাহিনীতেও অংশ নিত।

৬৬. প্রশ্ন: বিজয়নগর রাজসভায় প্রধান সামরিক কর্মকর্তাদের কী বলা হতো?

উত্তর: মহাপ্রধান বা সেনাধিপতি।

৬৭. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের প্রথম রাজধানী গুলবার্গা থেকে কোথায় স্থানান্তরিত হয়?

উত্তর: বিদর।

৬৮. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হসান গঙ্গু নিজেকে কোন বংশের উত্তরসূরি বলে দাবি করতেন?

উত্তর: পারস্যের বীর বাহমন ইবন ইসফান্দিয়ার।

৬৯. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের কোন সুলতান সংগীত ও শিল্পের প্রতি অনুরাগী হওয়ার জন্য ‘জালিম’ বা নিষ্ঠুর উপাধিতেও পরিচিত ছিলেন?

উত্তর: হুমায়ুন শাহ বাহমণি।

৭০. প্রশ্ন: বিজাপুর রাজ্যের বিখ্যাত স্থাপত্য গোল গুম্বজ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: মোহাম্মদ আদিল শাহ।

৭১. প্রশ্ন: গোল গুম্বজের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম্বুজ এবং এর অদ্ভুত প্রতিধ্বনি কক্ষ।

৭২. প্রশ্ন: বাংলার কোন সুলতান পাণ্ডুয়ায় বিখ্যাত ‘এক লাখি মসজিদ’ নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ।

৭৩. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে কোন বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র ছিল?

উত্তর: সোনারগাঁও ও চট্টগ্রাম (পোর্ট অব গ্রান্দে)।

৭৪. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে সোনা ও রূপার মুদ্রার অবাধ প্রচলন থাকায় বাংলাকে কে ‘জাহান-ই-পুর নেমাত’ (পণ্যসম্ভারে পূর্ণ স্বর্গ) বলেছেন?

উত্তর: ইবন বতুতা।

৭৫. প্রশ্ন: সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে কোন ঐতিহাসিক ‘পুরো বাংলার প্রথম সার্বভৌম শাসক’ বলে অভিহিত করেছেন?

উত্তর: ড. এ. বি. এম. হাবিবুল্লাহ।

৭৬. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজকীয় প্রতীক বা লোগো কী ছিল?

উত্তর: বরাহ বা শুকর।

৭৭. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের আয় ও ব্যয়ের হিসাব রক্ষণের প্রধান দপ্তরের নাম কী ছিল?

উত্তর: ভাণ্ডার।

৭৮. প্রশ্ন: কোন বিদেশি পর্যটক বিজয়নগরের বাজার ব্যবস্থায় হীরা ও রত্ন মুক্তো রাস্তার ধারে বেচাকেনা হতে দেখেছেন?

উত্তর: আবদুর রাজ্জাক।

৭৯. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের উৎসবের মধ্যে কোন উৎসবটি সবচেয়ে ঘটা করে পালিত হতো?

উত্তর: মহানবমী উৎসব।

৮০. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের সুপরিচিত মন্ত্রী মাহমুদ গাওয়ান কোন দেশের বংশোদ্ভূত ছিলেন?

উত্তর: পারস্য (ইরান)।

৮১. প্রশ্ন: মাহমুদ গাওয়ানকে দেশদ্রোহিতার মিথ্যে অভিযোগে কোন বাহমণি সুলতান মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন?

উত্তর: তৃতীয় মুহাম্মদ শাহ।

৮২. প্রশ্ন: বিজাপুর রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: বিজাপুর।

৮৩. প্রশ্ন: গোলকুণ্ডা কুতুবশাহী বংশের বিখ্যাত দুর্গটি কোন খনিজ পদার্থের জন্য বিখ্যাত ছিল?

উত্তর: হীরা (কোহিনূর হীরা এখান থেকেই প্রাপ্ত হয়েছিল বলে জনশ্রুতি আছে)।

৮৪. প্রশ্ন: বাংলার হোসেন শাহী বংশের শেষ স্বাধীন সুলতান কে ছিলেন?

উত্তর: গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।

৮৫. প্রশ্ন: পর্তুগিজরা কোন সুলতানের অনুমতি নিয়ে প্রথম বাংলায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?

উত্তর: গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ।

৮৬. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে কদম রসূল প্রাঙ্গণ ও মসজিদ কে নির্মাণ করেছিলেন?

উত্তর: নসরত শাহ।

৮৭. প্রশ্ন: বিজয়নগরের কোন রাজা ‘অন্ধ্রভোজ’ উপাধি পেয়েছিলেন?

উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।

৮৮. প্রশ্ন: পর্তুগিজ পর্যটক বারবোসা কার রাজত্বকালে বিজয়নগর ভ্রমণ করেন?

উত্তর: কৃষ্ণদেব রায়।

৮৯. প্রশ্ন: বিজয়নগরের রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি কোন মন্দিরের গায়ে খোদাই করা আছে?

উত্তর: হাজার রামাস্বামী মন্দির।

৯০. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের সরকারি ভাষা কী ছিল?

উত্তর: ফারসি ভাষা।

৯১. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের মুদ্রা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রধান স্বর্ণমুদ্রার নাম কী ছিল?

উত্তর: বরাহ বা প্যাগোডা।

৯২. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যে দাসপ্রথার অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন বিদেশি পর্যটক বিস্তারিত লিখেছেন?

উত্তর: নিকোলো কন্টি ও পেয়াস।

৯৩. প্রশ্ন: বাংলার সুলতানি আমলে স্থানীয় প্রশাসনিক একক বা গ্রামগুলোকে কী বলা হতো?

উত্তর: গ্রাম বা মৌজা, যার দায়িত্বে ছিলেন ‘মুকদ্দম’ বা ‘চৌধুরী’।

৯৪. প্রশ্ন: বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলে কোন ধর্মীয় সংস্কৃতির সুদৃঢ় মেলবন্ধন ঘটেছিল?

উত্তর: ইসলাম ও হিন্দু সংস্কৃতির (সমন্বয়ী সংস্কৃতি)।

৯৫. প্রশ্ন: বিজয়নগর ও বাহমণি সংঘর্ষের মূল ক্ষেত্র রায়চুর দোয়াব অঞ্চলের মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: অত্যন্ত উর্বর পলিমাটি।

৯৬. প্রশ্ন: বিজয়নগরের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল কোন যুদ্ধের পরাজয়ের মাধ্যমে?

উত্তর: তালিকোটার যুদ্ধ (১৫৬৫)।

৯৭. প্রশ্ন: বিজয়নগরের ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে কর্ণাটকের কোন জেলায় বিস্তৃত?

উত্তর: বেল্লারী জেলার হম্পি নামক স্থানে।

৯৮. প্রশ্ন: বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসন কত খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি দ্বারা সম্পূর্ণরূপে অবসান ঘটে?

উত্তর: ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে (রাজমহলের যুদ্ধের মাধ্যমে)।

৯৯. প্রশ্ন: বাহমণি রাজ্যের পতনের পর কোন রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে?

উত্তর: বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা।

১০০. প্রশ্ন: বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হরিহর ও বুক্কার পিতৃদেবের নাম কী ছিল?

উত্তর: সম্দ্ধু বা কুক্কপ (সংগম)।

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (Semester-III) সিলেবাসের Unit-2 এর উপবিভাগ ১: ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ (১৭ ও ১৮ শতকে এশিয়া এবং নতুন পৃথিবী) থেকে ১ থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

এশিয়ায় ও নতুন বিশ্বে ঔপনিবেশিকতাবাদের সূচনা

১. প্রশ্ন: সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় শক্তির প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: বাণিজ্য বিস্তার ও উপনিবেশ স্থাপন।

২. প্রশ্ন: কোন মহাদেশকে ‘নতুন বিশ্ব’ (New World) বলা হয়?

উত্তর: আমেরিকা মহাদেশকে।

৩. প্রশ্ন: ক্রিস্টোফার কলম্বাস কত খ্রিস্টাব্দে আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তর: ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে।

৪. প্রশ্ন: আমেরিকা নামটি কার নামানুসারে রাখা হয়েছে?

উত্তর: আমেরিগো ভেসপুচি।

৫. প্রশ্ন: ভাস্কো দা গামা কত খ্রিস্টাব্দে ভারতে আগমন করেন?

উত্তর: ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে (কালিকট বন্দরে)।

৬. প্রশ্ন: প্রথম কোন ইউরোপীয় শক্তি ভারতে সমুদ্রপথ আবিষ্কার করে বাণিজ্যের সূচনা করে?

উত্তর: পর্তুগিজরা।

৭. প্রশ্ন: ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে।

৮. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে।

৯. প্রশ্ন: ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে (চতুর্দশ লুইয়ের আমলে)।

১০. প্রশ্ন: ইউরোপীয় বণিকদের প্রধান আকর্ষণ ভারতের কোন পণ্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি ছিল?

উত্তর: মসলা, রেশম ও সুতি বস্ত্র।

বণিকবাদী অর্থনীতি ও বাণিজ্য পুঁজিবাদ

১১. প্রশ্ন: ‘বণিকবাদ’ বা ‘মারকেন্টাইলিজম’ (Mercantilism) কথাটি কোন শতকে ইউরোপে প্রাধান্য বিস্তার করেছিল?

উত্তর: ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীতে।

১২. প্রশ্ন: বণিকবাদী অর্থনীতির মূল ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: মূল্যবান ধাতু (স্বর্ণ ও রৌপ্য) সঞ্চয় এবং অনুকূল বাণিজ্য ভারসাম্য।

১৩. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোর প্রধান কাজ কী ছিল?

উত্তর: মাতৃভূমির জন্য কাঁচামাল সরবরাহ এবং পণ্যের বাজার হওয়া।

১৪. প্রশ্ন: ‘বাণিজ্যিক পুঁজিবাদ’ (Commercial Capitalism) থেকে পরবর্তী কোন ব্যবস্থার উদ্ভব হয়?

উত্তর: শিল্প পুঁজিবাদ (Industrial Capitalism)।

১৫. প্রশ্ন: ইউরোপীয় দেশগুলো কোন ব্যবস্থার মাধ্যমে উপনিবেশের অর্থনীতি শোষণ করত?

উত্তর: একচেটিয়া বাণিজ্য নীতি।

১৬. প্রশ্ন: প্রথম ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য কোন দেশগুলো গড়ে তুলেছিল?

উত্তর: স্পেন ও পর্তুগাল।

১৭. প্রশ্ন: আমেরিকার আদিবাসীদের প্রধান দুটি উন্নত সভ্যতা কী ছিল?

উত্তর: ইনকা ও অ্যাজটেক সভ্যতা।

১৮. প্রশ্ন: হার্নান কর্টেজ কোন দেশের ঔপনিবেশিক সেনাপতি ছিলেন যিনি অ্যাজটেক সাম্রাজ্য ধ্বংস করেন?

উত্তর: স্পেন।

১৯. প্রশ্ন: ফ্রান্সিসকো পিজারো কোন অঞ্চলের ইনকা সভ্যতা ধ্বংস করেছিলেন?

উত্তর: পেরু।

২০. প্রশ্ন: ইউরোপীয়দের আমেরিকা বিজয়ের ফলে সেখানকার আদিবাসীদের প্রধানত কিসের শিকার হতে হয়েছিল?

উত্তর: মহামারী ও নির্মম দাসত্ব।

উপনিবেশগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ

২১. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মূল হাতিয়ার কী ছিল?

উত্তর: সামরিক শক্তি ও স্থানীয় শাসকদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ।

২২. প্রশ্ন: ভারতে ইউরোপীয় বণিকরা বাণিজ্যের পাশাপাশি আর কী প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে?

উত্তর: রাজনৈতিক আধিপত্য।

২৩. প্রশ্ন: ব্রিটিশরা বাংলায় প্রথম রাজনৈতিক প্রাধান্য লাভ করে কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭)।

২৪. প্রশ্ন: দেওয়ানি লাভ কত খ্রিস্টাব্দে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে (বক্সার যুদ্ধের পর)।

২৫. প্রশ্ন: দেওয়ানি লাভের ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন ক্ষমতা লাভ করে?

উত্তর: রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা।

২৬. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে অর্থনৈতিক শোষণের ফলে সেখানকার ঐতিহ্যশালী কোন শিল্পের মারাত্মক পতন ঘটেছিল?

উত্তর: কুটির শিল্প ও তাঁত শিল্প।

২৭. প্রশ্ন: উপনিবেশের অর্থনীতিকে মাতৃভূমির স্বার্থে ব্যবহার করার নীতিকে কী বলা হয়?

উত্তর: ঔপনিবেশিক শোষণ নীতি।

২৮. প্রশ্ন: কোন চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয়রা নতুন বিশ্বে উপনিবেশগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল?

উত্তর: তোরদেসিলাসের চুক্তি (১৪৯৪)।

২৯. প্রশ্ন: আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে গড়ে ওঠা ত্রিকোণ বাণিজ্য ব্যবস্থার মূল উপাদান কী ছিল?

উত্তর: ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা কেন্দ্রিক দাস বাণিজ্য।

৩০. প্রশ্ন: আটলান্টিক বাণিজ্য বা ‘মিডল প্যাসেজ’ (Middle Passage)-এর মাধ্যমে কাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো?

উত্তর: আফ্রিকান দাসদের।

বর্ণবাদ, নব্য-সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশের সমাজ

৩১. প্রশ্ন: ‘হোমল্যান্ডার্স বার্ডেন’ বা শ্বেতাঙ্গদের বোঝা তত্ত্বটি কার সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে সমর্থন করত?

উত্তর: ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের।

৩২. প্রশ্ন: বর্ণবাদ (Racism) ঔপনিবেশিক সমাজে কী হিসেবে কাজ করত?

উত্তর: শোষণের আদর্শগত হাতিয়ার।

৩৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক সমাজে শাসক ও শাসিতের মধ্যে প্রধান বিভাজন কী ছিল?

উত্তর: জাতিগত ও বর্ণগত ব্যবধান।

৩৪. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিকবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের পরবর্তী পর্যায়কে কী বলা হয়?

উত্তর: নব্য-সাম্রাজ্যবাদ (Neo-Imperialism)।

৩৫. প্রশ্ন: শিল্প বিপ্লব ইউরোপীয় দেশগুলোকে নতুন উপনিবেশ গড়তে কেন বাধ্য করেছিল?

উত্তর: অতিরিক্ত পণ্যের বাজার ও কাঁচামালের খোঁজে।

৩৬. প্রশ্ন: সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকে ঔপনিবেশিক শক্তির লড়াইয়ে কোন দেশ সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে?

উত্তর: ব্রিটেন।

৩৭. প্রশ্ন: ব্রিটিশরা উত্তর আমেরিকায় কয়টি উপনিবেশ স্থাপন করেছিল?

উত্তর: ১৩টি উপনিবেশ।

৩৮. প্রশ্ন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে।

৩৯. প্রশ্ন: সপ্তবর্ষের যুদ্ধ (Seven Years' War) কোন দুটি শক্তির মধ্যে মূলত সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর: ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

৪০. প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির (১৭৬৩) মাধ্যমে কোন দেশের ঔপনিবেশিক শক্তির অবসান ঘটেছিল?

উত্তর: উত্তর আমেরিকায় ফরাসি শক্তির।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (৪১ - ১০০)

৪১. প্রশ্ন: কেপ অফ গুড হোপ বা উত্তম আশা অন্তরীপ কে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তর: বার্থলোমিউ ডায়াজ।

৪২. প্রশ্ন: কোন পর্তুগিজ নাবিক প্রথম জলপথে ভারত আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ভাস্কো দা গামা।

৪৩. প্রশ্ন: ষোড়শ শতাব্দীতে বিশ্বের কোন দেশ সমুদ্র বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল?

উত্তর: পর্তুগাল ও স্পেন।

৪৪. প্রশ্ন: ওলন্দাজরা এশিয়ায় প্রধানত কোন অঞ্চলের বাণিজ্যে নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করেছিল?

উত্তর: ইন্দোনেশিয়া বা ইস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জ।

৪৫. প্রশ্ন: ফরাসিরা ভারতে তাদের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় গড়ে তুলেছিল?

উত্তর: পন্ডিচেরি (পুদুচেরি)।

৪৬. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?

উত্তর: সুরাট।

৪৭. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ ও ফরাসিদের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কোন যুদ্ধ নামে পরিচিত?

উত্তর: কর্ণাটকের যুদ্ধ।

৪৮. প্রশ্ন: পলাশীর যুদ্ধের সময় বাংলার নবাব কে ছিলেন?

উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা।

৪৯. প্রশ্ন: ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ভারতের ঐতিহ্যবাহী কোন অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছিল?

উত্তর: স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম অর্থনীতি।

৫০. প্রশ্ন: অষ্টাদশ শতকে ইউরোপীয় বণিকরা এশিয়ায় রূপার বদলে কী বিনিময় করত?

উত্তর: ভারতীয় কারুশিল্প ও সুতি বস্ত্র।

৫১. প্রশ্ন: আমেরিকার আদিবাসীদের মূলত কী বলা হয়?

উত্তর: রেড ইন্ডিয়ান।

৫২. প্রশ্ন: দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন ইনকা সভ্যতার প্রধান কেন্দ্র কোথায় ছিল?

উত্তর: আন্দিজ পর্বতমালা (পেরু)।

৫৩. প্রশ্ন: মেক্সিকোর প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতার রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: তেনোতচতিতলান।

৫৪. প্রশ্ন: ইউরোপীয়দের আগমনের ফলে আমেরিকার আদিবাসী জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাসের কারণ কী ছিল?

উত্তর: বসন্তরোগ ও অন্যান্য মহামারী।

৫৫. প্রশ্ন: উপনিবেশবাদের যুগে ‘বুলিয়নবাদ’ (Bullionism) বলতে কী বোঝানো হতো?

উত্তর: সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতু জমাকরণের নীতি।

৫৬. প্রশ্ন: বাণিজ্যিক পুঁজির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: কম দামে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন।

৫৭. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশরা প্রধানত কোন বাণিজ্যিক ফসল উৎপাদনে জোর দিয়েছিল?

উত্তর: নীল, চা, পাট ও তুলা।

৫৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় শিল্প ধ্বংসের ফলে কৃষির ওপর কী প্রভাব পড়েছিল?

উত্তর: কৃষির ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

৫৯. প্রশ্ন: আফ্রিকান দাসদের আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে কোথায় ব্যবহার করা হতো?

উত্তর: আখের ও তুলার খামারে (প্ল্যান্টেশন)।

৬০. প্রশ্ন: ‘দাস ব্যবসা’ ত্রিভুজ বাণিজ্যের কোন দিকটির সঙ্গে যুক্ত ছিল?

উত্তর: আফ্রিকা থেকে আমেরিকা সংযোগকারী মধ্যপথ।

৬১. প্রশ্ন: সপ্তদশ শতাব্দীতে কোন দেশ বিশ্ব বাণিজ্যে ডাচদের পেছনে ফেলে আধিপত্য বিস্তার করে?

উত্তর: ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

৬২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনকালে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ফলে কার লাভ হয়েছিল?

উত্তর: ঔপনিবেশিক সরকার ও তাদের অনুগত মধ্যস্বত্বভোগীদের।

৬৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক সমাজের উচ্চ স্তরে কারা অবস্থান করত?

উত্তর: ইউরোপীয় শাসক ও কর্মকর্তারা।

৬৪. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিকতাবাদের প্রভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে কী ঘটেছিল?

উত্তর: পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব ও পরাধীনতার মানসিকতা।

৬৫. প্রশ্ন: ‘সাম্রাজ্যবাদ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: একটি শক্তিশালী দেশের দ্বারা অন্য দুর্বল দেশের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা।

৬৬. প্রশ্ন: ১৭৫7 সালের পর বাংলার অর্থনীতিতে কোন সংকট দেখা দিয়েছিল?

উত্তর: চরম অর্থনৈতিক নিষ্কাশন ও ১৭৭০ সালের মন্বন্তর।

৬৭. প্রশ্ন: দাদাভাই নওরোজি তাঁর কোন তত্ত্বে ব্রিটিশদের দ্বারা ভারত শোষণের কথা তুলে ধরেছিলেন?

উত্তর: সম্পদের নিষ্কাশন তত্ত্ব (Drain of Wealth)।

৬৮. প্রশ্ন: ইউরোপে ‘শিল্প বিপ্লব’ প্রথম কোন দেশে শুরু হয়েছিল?

উত্তর: গ্রেট ব্রিটেনে (অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে)।

৬৯. প্রশ্ন: শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে কোন নীতি জোরালো হয়?

উত্তর: সাম্রাজ্য বিস্তার ও উপনিবেশ দখল।

৭০. প্রশ্ন: ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোতে বর্ণবাদী নীতি প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা ও স্থানীয়দের দাবিয়ে রাখা।

৭১. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে এশিয়ার সমাজ ব্যবস্থায় কোন নতুন শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিল?

উত্তর: পাশ্চাত্যশিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি।

৭২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শহরের বদলে কোন নতুন শহরগুলোর বিকাশ ঘটেছিল?

উত্তর: কলকাতা, বোম্বে ও মাদ্রাজ (বন্দর নগরীগুলো)।

৭৩. প্রশ্ন: পর্তুগিজরা ভারতের পশ্চিম উপকূলে কোন বন্দরটি দখল করে বাণিজ্যের কেন্দ্র করেছিল?

উত্তর: গোয়া।

৭৪. প্রশ্ন: ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে গঠিত হওয়ার পর প্রাচ্যে ব্যবসা শুরু করে?

উত্তর: ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে।

৭৫. প্রশ্ন: সপ্তদশ শতকে ঔপনিবেশিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোন ইউরোপীয় শক্তি পরাজিত হয়ে ভারত থেকে বাণিজ্য গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়?

উত্তর: পর্তুগিজ ও ওলন্দাজরা অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ে।

৭৬. প্রশ্ন: উপনিবেশ স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চার্টার বা সনদ প্রথা কোন দেশ প্রথম চালু করে?

উত্তর: ব্রিটেন (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সনদ দিয়ে)।

৭৭. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে ‘একচেটিয়া বাণিজ্য’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: নির্দিষ্ট কোনো একটি কোম্পানির বা দেশের এককভাবে ব্যবসা করার অধিকার।

৭৮. প্রশ্ন: সপ্তদশ শতকে ব্রিটিশ বণিকরা কোন মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলায় বাণিজ্যের অনুমতি লাভ করে?

উত্তর: জাহাঙ্গীর ও পরবর্তীতে শাহজাহান এবং আওরঙ্গজেব।

৭৯. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক যুগে আফ্রিকাকে কী বলা হতো?

উত্তর: অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ (Dark Continent)।

৮০. প্রশ্ন: আফ্রিকাতে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর দখলের প্রতিযোগিতা কোন শতকে চরমে পৌঁছায়?

উত্তর: ১৯ শতকের শেষভাগে।

৮১. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো উপনিবেশের প্রশাসন চালানোর জন্য কোন নীতি ব্যবহার করত?

উত্তর: ‘বিভক্ত করো এবং শাসন করো’ নীতি।

৮২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক বিচার ব্যবস্থায় কাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো?

উত্তর: ইউরোপীয় নাগরিকদের।

৮৩. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে প্রথম কোন আইনগত ব্যবস্থায় বৈষম্যমূলক আচরণ প্রকাশ পেত?

উত্তর: বর্ণভিত্তিক বিচার বৈষম্য (যেমন ইলবার্ট বিল বিতর্ক)।

৮৪. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে রেলওয়ে বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিস্তারের পেছনে ব্রিটিশদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: কাঁচামাল সহজে বন্দরে নিয়ে যাওয়া এবং সৈন্য যাতায়াত।

৮৫. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক নীতির ফলে কোন শিল্পের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছিল?

উত্তর: ভারতের তাঁত ও কুটির শিল্প।

৮৬. প্রশ্ন: ১৭৭৩ সালের কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: রেগুলেটিং অ্যাক্ট।

৮৭. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে স্থানীয় সংস্কৃতিকে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতাকে কী বলা হয়?

উত্তর: ইউরোকেন্দ্রিক মানসিকতা বা সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ।

৮৮. প্রশ্ন: স্পেনের উপনিবেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম আদায় করার প্রথাটির নাম কী ছিল?

উত্তর: মিতে ও এনকোমিয়েণ্ডা প্রথা।

৮৯. প্রশ্ন: আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল স্লোগান কী ছিল?

উত্তর: "প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কর প্রদান নয়" (No taxation without representation)।

৯০. প্রশ্ন: অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের বণিকবাদীদের মতে দেশের সমৃদ্ধি কিসের ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: দেশের ভাণ্ডারে কত বেশি সোনা ও রূপা জমা আছে তার ওপর।

৯১. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে ইউরোপীয়রা বসতি স্থাপন করার পর সেখানকার মূল বাসিন্দাদের কী করা হতো?

উত্তর: উচ্ছেদ বা দমন করা হতো।

৯২. প্রশ্ন: সপ্তদশ শতকে ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের বণিকবাদী নীতি কী নামে পরিচিত ছিল?

উত্তর: কোলবার্টিজম (Colbertism)।

৯৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে কোন দুটি দেশ প্রাথমিকভাবে এগিয়ে ছিল?

উত্তর: স্পেন ও পর্তুগাল।

৯৪. প্রশ্ন: নতুন বিশ্বে ইউরোপীয়দের ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের ফলে কোন রোগের প্রাদুর্ভাবে লক্ষ লক্ষ আদিবাসী মারা যায়?

উত্তর: গুটিবসন্ত।

৯৫. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক যুগে কোন ইউরোপীয় দেশ ব্রাজিল দখল করেছিল?

উত্তর: পর্তুগাল।

৯৬. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর ফল কী হয়েছিল?

উত্তর: কৃষকদের চরম দারিদ্র্য ও ঋণের জালে বন্দি হওয়া।

৯৭. প্রশ্ন: ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফরাসি উপনিবেশগুলোতে কোন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল?

উত্তর: বর্ণবৈষম্য ও দাসপ্রথা।

৯৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিকতাবাদ মূলত কার স্বার্থ রক্ষা করে?

উত্তর: মাতৃভূমির বা ঔপনিবেশিক শাসক দেশের পুঁজিপতিদের।

৯৯. প্রশ্ন: সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে এশিয়ার কোন দুটি বৃহৎ সাম্রাজ্য ইউরোপীয় শক্তির প্রাথমিক বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয়েছিল?

উত্তর: মুঘল ভারত এবং চীন (চিং সাম্রাজ্য)।

১০০. প্রশ্ন: উপনিবেশগুলোতে ইউরোপীয় ভাষা ও শিক্ষা প্রচারের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: অনুগত কেরানি শ্রেণি তৈরি করা এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করা।

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস (Semester-III) সিলেবাসের Unit-2 এর উপবিভাগ ২: ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার (The Levers of Colonial Control: India - as a 'colonised' state - The instruments of control: Law/Legislature/Bureaucracy/Police/Army - The subordination of the colonial economy) থেকে ১ থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

ভারত: একটি 'উপনিবেশিক' রাষ্ট্র হিসেবে রূপান্তর

১. প্রশ্ন: ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল?

উত্তর: একটি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে।

২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনের মূল ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: মাতৃভূমির স্বার্থে উপনিবেশের শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ।

৩. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা মূলত কোন ঘটনার মাধ্যমে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ।

৪. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভ করে?

উত্তর: ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে।

৫. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রধান হাতিয়ার কী ছিল?

উত্তর: সামরিক শক্তি ও কূটনীতি।

৬. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন ছিল?

উত্তর: পরপীড়ক ও শোষণমূলক।

৭. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোন আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

উত্তর: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট।

৮. প্রশ্ন: কোন আইনের মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে সরাসরি ব্রিটিশ Crown বা মুকুটের হাতে ক্ষমতা চলে যায়?

উত্তর: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন।

৯. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার মূল উৎস কোথায় ছিল?

উত্তর: গ্রেট ব্রিটেন।

১০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ব্যবস্থার কী ঘটেছিল?

উত্তর: সম্পূর্ণ পতন ঘটেছিল।

আইন ও আইনসভা (Law and Legislature)

১১. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা ও শাসনকে পোক্ত করা।

১২. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ আমলে প্রথম সুপ্রিম কোর্ট কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?

উত্তর: কলকাতায় (১৭৭৪ সালে)।

১৩. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: ওয়ারেন হেস্টিংস।

১৪. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন সংকলনের কাজ কে শুরু করেছিলেন?

উত্তর: ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিস।

১৫. প্রশ্ন: 'কর্নওয়ালিস কোড' কবে প্রবর্তিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৭৯৩ সালে।

৬. প্রশ্ন: কোন আইনের মাধ্যমে ভারতীয় আইন প্রণয়নে প্রথম ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্বের সামান্য সুযোগ দেওয়া হয়?

উত্তর: ১৮৬১ সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট।

১৭. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক আইনে কাদের স্বার্থ সবসময় প্রাধান্য পেত?

উত্তর: ব্রিটিশ শাসক ও বণিকদের।

১৮. প্রশ্ন: ভারতীয়দের দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার কোন দমনমূলক আইন জারি করেছিল?

উত্তর: রাউলাট আইন (১৯১৯)।

১৯. প্রশ্ন: লর্ড ম্যাকলের নেতৃত্বে কোন কমিশন গঠিত হয়েছিল যা দণ্ডবিধি তৈরিতে ভূমিকা রাখে?

উত্তর: প্রথম আইন কমিশন।

২০. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে প্রবর্তিত আইন ব্যবস্থা মূলত কোন আইনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: ইংলিশ কমন ল' (English Common Law)।

আমলাতন্ত্র (Bureaucracy)

২১. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে 'ইস্পাত কাঠামো' বা 'Steel Frame' নামে কোনটি পরিচিত ছিল?

উত্তর: সিভিল সার্ভিস বা আমলাতন্ত্র।

২২. প্রশ্ন: সিভিল সার্ভিস বা সিভিল সার্ভিসের জনক ভারতে কাকে বলা হয়?

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস।

২৩. প্রশ্ন: ভারতে সিভিলিয়ানদের প্রশিক্ষণের জন্য কোন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে)।

২৪. প্রশ্ন: পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে সিভিলিয়ানদের প্রশিক্ষণের জন্য কোন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: হেইলিবেরি কলেজ।

২৫. প্রশ্ন: কোন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ভারতীয়রা আইসিএস (ICS) পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান?

উত্তর: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।

২৬. প্রশ্ন: সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিস্টাব্দে প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?

উত্তর: ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে।

২৭. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্রের মূল কাজ কী ছিল?

উত্তর: আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা।

২৮. প্রশ্ন: ভারতীয় আমলাতন্ত্রে উচ্চ পদগুলো কাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশদের জন্য।

২৯. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক প্রশাসন ব্যবস্থায় জেলা স্তরের প্রধান কর্মকর্তা কে ছিলেন?

উত্তর: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টর।

৩০. প্রশ্ন: আমলাতন্ত্র ব্রিটিশ সরকারকে ভারতে টিকিয়ে রাখতে কেমন ভূমিকা পালন করেছিল?

উত্তর: মেরুদণ্ড হিসেবে।

পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা (Police and Judiciary)

৩১. প্রশ্ন: ভারতে আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থার প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৯৩ সালে দারোগা ব্যবস্থা চালু করে)।

৩২. প্রশ্ন: কর্নওয়ালিস পুলিশ ব্যবস্থায় থানার দায়িত্ব কার হাতে অর্পণ করেছিলেন?

উত্তর: দারোগা।

৩৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক পুলিশ বাহিনীর প্রধান কাজ কী ছিল?

উত্তর: ভারতীয় জনগণের ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক আন্দোলন দমন করা।

৩৪. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে অপরাধ দমনের জন্য কোন বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ঠগ ও ডাকাত দমন বিভাগ (উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আমলে)।

৩৫. প্রশ্ন: বিচার ব্যবস্থায় লর্ড কর্নওয়ালিস কোন বৈষম্যমূলক নীতি চালু করেছিলেন?

উত্তর: ইউরোপীয়দের জন্য আলাদা বিচার ব্যবস্থা।

৩৬. প্রশ্ন: ইলোবার্ট বিল বিতর্ক কত সালে কার আমরে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৮৮৩ সালে, লর্ড রিপনের আমলে।

৩৭. প্রশ্ন: ইলবার্ট বিলের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার দেওয়া।

৩৮. প্রশ্ন: ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থায় সাধারণ ভারতীয়দের বিচার পাওয়ার সুযোগ কেমন ছিল?

উত্তর: ব্যয়বহুল ও জটিল।

৩৯. প্রশ্ন: বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগকে পৃথক করার দাবি কে প্রথম জোরালো করেছিলেন?

উত্তর: জাতীয়তাবাদী নেতারা।

৪০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগ মূলত কার স্বার্থ রক্ষা করত?

উত্তর: ব্রিটিশ রাজত্ব ও সম্পত্তি আইন।

সেনাবাহিনী (Army)

৪১. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে ঔপনিবেশিক সেনা বাহিনীর মূল ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: ভারতীয় সিপাহিরা।

৪২. প্রশ্ন: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় পদাতিক সৈন্যদের কী বলা হতো?

উত্তর: সিপাহি (Sepoy)।

৪৩. প্রশ্ন: ভারতীয় সেনাদলের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা সবাই কোন দেশের ছিলেন?

উত্তর: ব্রিটেন (ব্রিটিশ)।

৪৪. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনী ভারতে কী কাজে ব্যবহৃত হতো?

উত্তর: অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং সাম্রাজ্য বিস্তার।

৪৫. প্রশ্ন: বাইরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য ভারতীয় সেনাকে কোথায় পাঠানো হয়েছিল?

উত্তর: আফ্রিকা, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও বার্মা।

৪৬. প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে।

৪৭. প্রশ্ন: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সেনাদলে কোন নীতি গ্রহণ করা হয়?

উত্তর: 'বিভাজিত করো ও শাসন করো' এবং নির্দিষ্ট জাতিভিত্তিক সৈন্য নিয়োগ (Marshal Races)।

৪৮. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দেশীয় সৈন্যদের অনুপাত কেমন রাখা হয়েছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ সৈন্যদের তুলনায় অনেক বেশি, তবে কম পদে রেখে।

৪৯. প্রশ্ন: ভারতীয় সেনাবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কোন দেশ বহন করত?

উত্তর: ভারত সরকার (বা ভারতীয় রাজস্ব থেকে)।

৫০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শক্তির চূড়ান্ত রক্ষক হিসেবে কোনটি কাজ করত?

উত্তর: সেনাবাহিনী।

উপনিবেশিক অর্থনীতির অধীনতা (Subordination of Colonial Economy)

৫১. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক আমলে ভারতীয় অর্থনীতি কার স্বার্থে পরিচালিত হতো?

উত্তর: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থে।

৫২. প্রশ্ন: দাদাভাই নওরোজি তাঁর কোন তত্ত্বে ব্রিটিশদের শোষণ তুলে ধরেন?

উত্তর: সম্পদের নিষ্কাশন তত্ত্ব (Drain of Wealth)।

৫৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে ভারতের ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প ও তাঁত শিল্পের কী ঘটেছিল?

উত্তর: সম্পূর্ণ ধ্বংস বা পতন।

৫৪. প্রশ্ন: ব্রিটিশরা ভারত থেকে কী হিসেবে কাঁচামাল নিয়ে যেত?

উত্তর: সস্তা দামে তুলো, নীল, পাট ও খাদ্যশস্য।

৫৫. প্রশ্ন: ব্রিটেন থেকে ভারতে কী আমদানি করা হতো?

উত্তর: কলের তৈরি সস্তা শিল্পজাত পণ্য।

৫৬. প্রশ্ন: ভারতে রেলপথ চালুর পেছনে ব্রিটিশদের প্রধান অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: কাঁচামাল সহজে বন্দরে নিয়ে যাওয়া ও ব্রিটিশ পণ্য বাজারে ছড়ানো।

৫৭. প্রশ্ন: ভারতে প্রথম কবে রেলপথ চালু হয়?

উত্তর: ১৮৫৩ সালে (বম্বে থেকে থানে)।

৫৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার কারণে কাদের রমরমা বৃদ্ধি পেয়েছিল?

উত্তর: জমিদার ও মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণি।

৫৯. প্রশ্ন: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে প্রবর্তন করেছিলেন?

উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস (১৭৯৩ সালে)।

৬০. প্রশ্ন: রায়তওয়ারি বন্দোবস্ত প্রধানত কোথায় প্রবর্তিত হয়েছিল?

উত্তর: মাদ্রাজ ও বোম্বে প্রেসিডেন্সিতে।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (৬১ - ১০০)

৬১. প্রশ্ন: মহলওয়ারি বন্দোবস্ত কোথায় চালু করা হয়েছিল?

উত্তর: উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, পাঞ্জাব ও মধ্য ভারতে।

৬২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভূমি রাজস্ব নীতির ফলে ভারতীয় কৃষকদের কী দশা হয়েছিল?

উত্তর: চরম দারিদ্র্য ও ঋণের জালে বন্দি হওয়া।

৬৩. প্রশ্ন: ভারতে বাণিজ্যিক কৃষির (Commercial Agriculture) প্রসারের ফলে কোন ফসলগুলোর চাষ বৃদ্ধি পায়?

উত্তর: নীল, চা, পাট, তুলা ও রবার।

৬৪. প্রশ্ন: নীল কমিশন কত সালে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৬০ সালে।

৬৫. প্রশ্ন: ব্রিটিশ আমলে ভারতের কোন শিল্প বিকশিত হয়েছিল যা মূলত ব্রিটিশ মূলধনে চলত?

উত্তর: পাট ও চা শিল্প।

৬৬. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভারতে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার নিয়ন্ত্রণে ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ ব্যাংক ও পুঁজিপতিদের।

৬৭. প্রশ্ন: হোম চার্জেস (Home Charges) বলতে কী বোঝানো হতো?

উত্তর: ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ সরকারের ভারত সচিব ও অফিসের যাবতীয় খরচ ভারত থেকেই পাঠানো।

৬৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শোষণের কারণে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে বাংলায় কোন ভয়াবহ মন্বন্তর দেখা দিয়েছিল?

উত্তর: ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১৭৭০)।

৬৯. প্রশ্ন: ব্রিটিশ ভারতে বাজেট ব্যবস্থা প্রথম কবে চালু হয়?

উত্তর: ১৮৬০ সালে (জেমস উইলসনের মাধ্যমে)।

৭০. প্রশ্ন: ভারতে আধুনিক মুদ্রাব্যবস্থা ও কাগজি মুদ্রা চালুর পেছনে কার ভূমিকা ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের।

৭১. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে স্থানীয় শিল্পপতিদের বিকাশ কেমন ছিল?

উত্তর: অত্যন্ত শ্লথ ও সীমিত।

৭২. প্রশ্ন: ভারতে প্রথম তুকল কল বা কটন মিল কোথায় গড়ে উঠেছিল?

উত্তর: বোম্বেতে (১৮৫৪ সালে)।

৭৩. প্রশ্ন: ভারতের প্রথম পাটকল কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?

উত্তর: রিশরা, বাংলায় (১৮৫৫ সালে)।

৭৪. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে 'মুক্ত বাণিজ্য নীতি' (Free Trade Policy) ভারতীয় শিল্পের জন্য কেমন ফল বয়ে এনেছিল?

উত্তর: ধ্বংসাত্মক।

৭৫. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারির জন্য কে 'দেশীয় মুদ্রাযন্ত্র আইন' (Vernacular Press Act) পাস করেন?

উত্তর: লর্ড লিটন (১৮৭৮ সালে)।

৭৬. প্রশ্ন: কোন আইনের মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল?

উত্তর: ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট ও গ্যাটিং অ্যাক্ট।

৭৭. প্রশ্ন বাজেট বা কর নীতির ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার সবসময় কার স্বার্থ দেখত?

উত্তর: ল্যাঙ্কাশায়ারের বস্ত্রশিল্প ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের।

৭৮. প্রশ্ন: ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনকালে ডাক ও তার ব্যবস্থা কে চালু করেছিলেন?

উত্তর: লর্ড ডালহৌসি।

৭৯. প্রশ্ন: টেলিগ্রাফ ও ডাকব্যবস্থা চালুর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা।

৮০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে ভারতীয়দের উচ্চশিক্ষার প্রসারের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর: অনুগত কেরানি ও প্রশাসন চালানোর কর্মী তৈরি করা (ম্যাকালে মিনিট)।

৮১. প্রশ্ন: লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত ‘সত্তা বিলোপ নীতি’ (Doctrine of Lapse)-র শিকার প্রথম রাজ্য কোনটি ছিল?

উত্তর: সাতারা।

৮২. প্রশ্ন: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি (Subsidiary Alliance) কে প্রবর্তন করেছিলেন?

উত্তর: লর্ড ওয়েলেসলি।

৮৩. প্রশ্ন: অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি প্রথম কোন রাজ্য গ্রহণ করেছিল?

উত্তর: হায়দ্রাবাদের নিজাম।

৮৪. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভারতের বিচার ব্যবস্থায় কোন নীতি অনুসরণ করা হতো?

উত্তর: শ্রেণি ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যমূলক নীতি।

৮৫. প্রশ্ন: পুলিশ কমিশন (পুলিস কমিশন ১৯০২-০৩) কার আমলে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: লর্ড কার্জন।

৮৬. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভারতের সিভিল সার্ভিসে ভারতীয়দের প্রবেশের প্রধান বাধা কী ছিল?

উত্তর: পরীক্ষার বয়সসীমা হ্রাস এবং লন্ডনে পরীক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।

৮৭. প্রশ্ন: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যা থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল?

উত্তর: আইসিএস (ICS)।

৮৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক আমলে ভারতের গ্রাম অর্থনীতি কেমন ছিল?

উত্তর: ভেঙে পড়া ও পরনির্ভরশীল।

৮৯. প্রশ্ন: ভারতে ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখতে কোন চারটি স্তম্ভ প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল?

উত্তর: আইন, আমলাতন্ত্র, পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

৯০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে স্থানীয় জনগণের মৌলিক অধিকার কেমন ছিল?

উত্তর: সম্পূর্ণ সংকুচিত বা অনুপস্থিত।

৯১. প্রশ্ন: ভারতে প্রথম কবে মরশুম ভিত্তিক বা দুর্ভিক্ষ কমিশন গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ক্যাম্পবেল কমিশন (১৮৭৮ সালে)।

৯২. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক ভারতের শেষ পর্যায়ে এসে অর্থনীতি কোন সংকটের মুখোমুখি হয়?

উত্তর: চরম অবক্ষয় ও মহামন্দা।

৯৩. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের মধ্যে কোন চেতনার বিকাশ ঘটেছিল?

উত্তর: জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা চেতনা।

৯৪. প্রশ্ন: ব্রিটিশ আমলে ভারতের কোন অঞ্চল শোষণের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে?

উত্তর: প্রথমে বাংলা, পরে সমগ্র ভারত।

৯৫. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে মূলত কার স্বার্থ রক্ষা করা হতো?

উত্তর: ব্রিটিশ রাজত্ব ও পুঁজির।

৯৬. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে ভারতীয়দের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর: খুবই সীমিত ও ক্ষমতাহীন।

৯৭. প্রশ্ন: রাউলাট আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে কোন স্লোগান উঠেছিল?

উত্তর: "নো উকিল, নো দলিল, নো আপীল"।

৯৮. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক অর্থনীতিতে 'ট্রিবিউট' বা কর হিসেবে ব্রিটেন কী পেত?

উত্তর: ভারতের রাজস্ব থেকে উদ্বৃত্ত অর্থ।

৯৯. প্রশ্ন: ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার কেমন ছিল?

উত্তর: স্থবির বা ঋণাত্মক।

১০০. প্রশ্ন: ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: ভারতকে চিরতরে পরাধীন রেখে ব্রিটিশ অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষা করা।