মেনু ও পেজসমূহ

10lsc


MADHYAMIK SUGGESTION 2027 LIFE SCIENCE


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির প্রথম অধ্যায় "জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও সাড়া প্রদান এবং বিভিন্ন প্রকার চলন

১. লজ্জাবতীর পাতায় হাত দিলে পাতাগুলি মুড়ে যায়, এটি কী ধরনের চলন?

উত্তর: (খ) সিসমোন্যাস্টিক চলন

২. সূর্যমুখী ফুল সূর্যের দিকে মুখ করে ফোটে, এটি কোন প্রকৃতির চলন?

উত্তর: (ক) ফোটোন্যাস্টিক

৩. উদ্ভিদ অঙ্গের আলোর উৎসের দিকে বক্রীভবন চলনকে কী বলে?

উত্তর: (গ) ফোটোট্রপিক চলন

৪. অভিকর্ষের অনুকূলে উদ্ভিদের কাণ্ডের বৃদ্ধি কোন চলনের উদাহরণ?

উত্তর: (ক) প্রতিকূল জিওট্রপিক

৫. মূলের অভিকর্ষজ চলন কোন প্রকৃতির?

উত্তর: (ঘ) অনুকূল জিওট্রপিক

৬. হাইড্রা নামক প্রাণীতে কী ধরনের চলন দেখা যায়?

উত্তর: (ক) গমন (সাঁতার কাটা ও লবঙ্গকরণ)

৭. কোন উদ্ভিদে ট্রপিক চলন দেখা যায় না?

উত্তর: (গ) ক্লামাইডোমোনাস

৮. বেলের পাতায় মৃদু আলো ও উষ্ণতা বাড়লে পাতাগুলি খুলে যায়, এটি কী ধরনের চলন?

উত্তর: (খ) থার্মোন্যাস্টিক

৯. বনচাঁড়াল উদ্ভিদের ত্রিভৌমিক পত্রে যে দ্রুত পাতার নড়চড়া দেখা যায়, তা হলো—

উত্তর: (ঘ) ব্যাতন্যাস্টিক বা প্রকরণ চলন

১০. উদ্ভিদের ফটোট্রপিক চলনে সাহায্য করে কোন হরমোন?

- উত্তর: (ক) অক্সিন

উদ্ভিদ হরমোন (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন)

১১. উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক একটি কৃত্রিম হরমোনের নাম হলো—

- উত্তর: (গ) 2,4-D

১২. কোন হরমোন বীজহীন ফল উৎপাদনে (পার্থেনোকার্পি) সাহায্য করে?

- উত্তর: (ক) অক্সিন

১৩. উদ্ভিদের অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি বজায় রেখে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় কোন হরমোন?

- উত্তর: (খ) অক্সিন

১৪. পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য দ্রুত বৃদ্ধি করতে কোন হরমোন সাহায্য করে?

- উত্তর: (ঘ) জিব্বেরেলিন

১৫. উদ্ভিদের বার্ধক্য বিলম্বিত করতে বা জরা রোধ করতে সাহায্য করে—

- উত্তর: (গ) সাইটোকাইনিন

১৬. কোন হরমোনটি গ্যাসীয় প্রকৃতির?

- উত্তর: (ক) ইথিলিন

১৭. নিচের কোনটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘাতক বা ইনহিবিটর হরমোন?

- উত্তর: (ঘ) অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA)

১৮. কোন হরমোনের প্রভাবে জিনগত খর্বাকৃতির উদ্ভিদের কাণ্ড অতিরিক্ত লম্বা হয়?

- উত্তর: (খ) জিব্বেরেলিন

১৯. উদ্ভিদের কোন হরমোন কোশ বিভাজনে সরাসরি উদ্দীপিত করে?

- উত্তর: (গ) সাইটোকাইনিন

২০. ধান গাছের ‘বাকানে’ রোগের জন্য দায়ী হরমোনটি হলো—

- উত্তর: (ঘ) জিব্বেরেলিন

প্রাণী হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি

২১. মানবদেহের বৃহত্তম মিশ্র গ্রন্থি কোনটি?

- উত্তর: (ক) অগ্ন্যাশয়

২২. 'জরুরি কালীন হরমোন' বা 'ফাইট অর ফ্লাই' হরমোন কাকে বলা হয়?

- উত্তর: (ঘ) অ্যাড্রেনালিন

২৩. ইনসুলিন হরমোন ক্ষরিত হয় কোথা থেকে?

- উত্তর: (খ) অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ

২৪. গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরিত হয় কোথা থেকে?

- উত্তর: (গ) অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোশ

২৫. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে সাহায্য করে কোনটি?

- উত্তর: (ক) ইনসুলিন

২৬. থাইরক্সিন হরমোন তৈরির জন্য কোন মৌলের প্রয়োজন অপরিহার্য?

- উত্তর: (ঘ) আয়োডিন

২৭. বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস রোগ কোন হরমোনের অভাবে হয়?

- উত্তর: (খ) ADH (অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন)

২৮. পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি বলার কারণ কী?

- উত্তর: (গ) এটি অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে

২৯. থাইরক্সিনের অতিরিক্ত ক্ষরণে কোন রোগ হয়?

- উত্তর: (ক) এক্সপথ্যালমিক গয়টার বা গ্রেভস ডিজিজ

৩০. শিশুদের থাইরক্সিনের স্বল্পক্ষরণে কোন রোগটি দেখা যায়?

- উত্তর: (ঘ) ক্রেটিনিজম

৩১. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থাইরক্সিনের কম ক্ষরণে কোন রোগ হয়?

- উত্তর: (খ) মিক্সিডিমা

৩২. টেস্টোস্টেরন কোন হরমোনটি ক্ষরণকারী গ্রন্থি?

- উত্তর: (গ) বৃশ্চিক বা শুক্রাশয়ের লেডিগের আন্তঃকোশ

৩৩. মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে ক্ষরিত একটি হরমোনের নাম—

- উত্তর: (ক) ইস্ট্রোজেন

৩৪. কর্পাস লুটিয়াম বা পীতগ্রন্থি থেকে কোন হরমোন ক্ষরিত হয়?

- উত্তর: (ঘ) প্রোজেস্টেরন

৩৫. আপৎকালীন সময়ে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?

- উত্তর: (খ) অ্যাড্রেনালিন

স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুকোষ (নিউরন)

৩৬. মানব স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যগত একককে কী বলে?

- উত্তর: (গ) নিউরন

৩৭. নিউরনের দীর্ঘ প্রবর্ধিত অংশকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (ক) অ্যাক্সন

৩৮. নিউরনের কোষদেহে উপস্থিত দানাদার অংশ যা প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে, তাকে বলে—

- উত্তর: (ঘ) নিজল দানা

৩৯. অ্যাক্সনের বাইরের পীতবর্ণের বা মায়োলিনযুক্ত আবরণীকে ঘিরে থাকা মেমব্রেন হলো—

- উত্তর: (খ) নিউরোলেমা

৪০. দুটি পরপর নিউরনের সংযোগস্থলকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (গ) সাইন্যাপস

৪১. সাইন্যাপসের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের বার্তা পরিবহনে সাহায্যকারী রাসায়নিক পদার্থটির নাম—

- উত্তর: (ক) অ্যাসিটাইল কোলিন

৪২. মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ কোনটি?

- উত্তর: (ঘ) গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিভ্রাম

৪৩. দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?

- উত্তর: (খ) লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম

৪৪. সুষুষ্ণাকর্ষ বা সুষুষ্ণাকাণ্ডের সাথে মস্তিষ্ককে যুক্ত রাখে কোনটি?

- উত্তর: (গ) মেডালা অবলংগাটা

৪৫. মানব মস্তিষ্কের প্রকোষ্ঠ বা ভেন্ট্রিকলগুলির মধ্যে কি তরল থাকে?

- উত্তর: (ক) সেব্রেস্পাইনাল ফ্লুইড বা CSF

প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ

৪৬. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ধারণা প্রথম প্রবর্তন করেন কে?

- উত্তর: (ঘ) রেনে ডেকার্তে

৪৭. হাঁচি বা কাশি কোন ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়া?

- উত্তর: (খ) জন্মগত বা অনিয়ত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

৪৮. সাইকেল চালানো শেখা বা পিয়ানো বাজানো কোন ধরনের প্রতিবর্ত ক্রিয়া?

- উত্তর: (গ) অর্জিত বা অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া

৪৯. প্রতিবর্ত পথের সঠিক ক্রম কোনটি?

- উত্তর: (ক) গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক

৫০. চোখে তীব্র আলো পড়লে হঠাৎ চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিসের উদাহরণ?

- উত্তর: (ঘ) প্রতিবর্ত ক্রিয়া

চোখ ও দৃষ্টির অভিযোজন

৫১. চোখের আলো প্রবেশের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কে?

- উত্তর: (খ) আইরিস বা কর্নোটারী

৫২. চোখের লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তনের ক্ষমতাকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (গ) উপযোজন

৫৩. দূরের বস্তু দেখার সময় চোখের লেন্সের কী পরিবর্তন ঘটে?

- উত্তর: (ক) লেন্স পাতলা বা চ্যাপ্টা হয়

৫৪. কাছের বস্তু দেখার সময় সিলিয়ারি পেশির কীরূপ অবস্থা হয়?

- উত্তর: (ঘ) সংকুচিত হয়

৫৫. চোখের রেটিনার কোন কোশ উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ চিনতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (খ) কোন কোশ (Cone cell)

৫৬. মৃদু আলোতে দেখার জন্য রেটিনার কোন কোশ সক্রিয় থাকে?

- উত্তর: (গ) রড কোশ (Rod cell)

৫৭. রড কোশে কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে?

- উত্তর: (ক) রোডপসিন

৫৮. মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?

- উত্তর: (ঘ) অবতল লেন্স

৫৯. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টি ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোন লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়?

- উত্তর: (খ) উত্তল লেন্স

৬০. চোখের কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে কি তরল থাকে?

- উত্তর: (গ) অ্যাকুয়াস হিউমার

প্রাণীদের গমন (অ্যামিবা থেকে মানুষ)

৬১. অ্যামিবার গমনাঙ্গের নাম কী?

- উত্তর: (ক) ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া

৬২. প্যারামেডিয়ামের গমনাঙ্গের নাম কী?

- উত্তর: (ঘ) সিলিয়া

৬৩. ইউগ্লিনার গমনাঙ্গ কোনটি?

- উত্তর: (খ) ফ্ল্যাজেলা

৬৪. রুই মাছের প্রধান গমনাঙ্গের নাম কী?

- উত্তর: (গ) জোড় ও বেজোড় পাখনা

৬৫. মাছের জলের গভীরে বা ওপরে উঠতে সাহায্য করে কোন অঙ্গ?

- উত্তর: (ক) পটকা

৬৬. পায়রার উড্ডয়ন পেশিগুলির মধ্যে কোনটি ডানাকে নিচে নামাতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ঘ) পেক্টোরালিস মেজর

৬৭. মানুষের দ্বিপদ গমনে প্রধান সাহায্যকারী পেশি কোনটি?

- উত্তর: (খ) গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস

৬৮. জোঁকের গমনাঙ্গের নাম বা পদ্ধতি কী?

- উত্তর: (গ) লটকণ বা ক্রিপিং

৬৯. পাখির দেহে পটকার পরিবর্তে হালকা ও ওড়া সহজ করার জন্য কি থাকে?

- উত্তর: (ক) বায়ুথলি বা এয়ারস্যাক

৭০. মানুষের করোটিন স্নায়ুর সংখ্যা কয়টি?

- উত্তর: (ঘ) ১২ জোড়া

বিবিধ ও অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ ১-নম্বরের প্রশ্নসমূহ

৭১. হরমোন রাসায়নিকভাবে সাধারণত কী প্রকৃতির?

- উত্তর: (খ) রাসায়নিক বার্তাবাহক বা অর্গানিক ক্যাটালিস্ট

৭২. কোন হরমোন উদ্ভিদের অগ্রমুকুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ক) অক্সিন

৭৩. কোন্ হরমোনের অভাবে বহুমূত্র রোগ হয়?

- উত্তর: (গ) এডিএইচ (ADH)

৭৪. ইনসুলিনের উৎস কোশ কোনটি?

- উত্তর: (ঘ) অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ

৭৫. জিপ্রেলিন হরমোন আবিষ্কৃত হয় কোন উদ্ভিদের মাধ্যমে?

- উত্তর: (খ) গিব্বেরেল্লা ফুজিকরোই (ছত্রাক)

৭৬. স্নায়ুতন্ত্রের কাজের একক কী?

- উত্তর: (গ) নিউরন

৭৭. মানুষের সুষুষ্ণাকীয় স্নায়ুর সংখ্যা কয়টি?

- উত্তর: (ক) ৩১ জোড়া

৭৮. মস্তিষ্কের যে অংশে রক্তের শর্করা ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, তা হলো—

- উত্তর: (ঘ) হাইপোথ্যালামাস

৭৯. চোখের যে বিন্দুতে কোনো রড বা কোন কোশ থাকে না, তাকে বলে—

- উত্তর: (খ) অন্ধবিন্দু

৮০. চোখের রেটিনার যে অংশে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, তাকে বলে—

- উত্তর: (গ) পীতবিন্দু বা ফোভিয়া সেন্ট্রালিস

৮১. উদ্ভিদ হরমোন কে আবিষ্কার করেন?

- উত্তর: (ক) এফ. ডব্লিউ. ওয়েন্ট (অক্সিন)

৮২. কোন হরমোনটি বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ঘ) সাইটোকাইনিন

৮৩. কোন্ হরমোন প্রভাবে উদ্ভিদের ট্রপিক চলন ঘটে?

- উত্তর: (খ) অক্সিন

৮৪. মানুষের শরীরে মাস্টার গ্ল্যান্ড কাকে বলা হয়?

- উত্তর: (গ) পিটুইটারি গ্রন্থি

৮৫. কোন গ্রন্থিকে আপৎকালীন গ্রন্থি বলা হয়?

- উত্তর: (ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি

৮৬. কোন হরমোন রক্তের শর্করা বাড়াতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ঘ) গ্লুকাগন

৮৭. এড্রিনালিন হরমোন ক্ষরিত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?

- উত্তর: (খ) এড্রিনাল বা সুপ্রারেনাল গ্রন্থি

৮৮. কোন হরমোনটি স্ত্রীদেহের গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশে সাহায্য করে?

- উত্তর: (গ) ইস্ট্রোজেন

৮৯. পুরুষদের মুখ্য জননাঙ্গের নাম কী?

- উত্তর: (ক) শুক্রাশয়

৯০. মহিলাদের মুখ্য জননাঙ্গের নাম কী?

- উত্তর: (ঘ) ডিম্বাশয়

৯১. নিউরনের কোষদেহের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত প্রোটিন ও রাইবোসোমযুক্ত কণাগুলিকে কী বলে?

- উত্তর: (খ) নিজল দানা

৯২. স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?

- উত্তর: (গ) নিউরন

৯৩. দুর্ঘটনাবশত পায়ে কাঁটা ফুটলে পা সঙ্গে সঙ্গে তুলে নেওয়া কোন ধরনের ক্রিয়া?

- উত্তর: (ক) প্রতিবর্ত ক্রিয়া

৯৪. মানুষের চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্বের পরিবর্তন ঘটায় কে?

- উত্তর: (ঘ) সিলিয়ারি পেশি

৯৫. চোখের কোন অংশে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?

- উত্তর: (খ) রেটিনা

৯৬. মাছের বক্ষপাখনা কোন দিকে চলতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (গ) দিক পরিবর্তনে

৯৭. পায়রার কোন পেশি ওড়ার সময় ডানাকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ক) পেক্টোরালিস মাইনর

৯৮. উদ্ভিদের কাণ্ডের আলোকবর্তিতা চলন কোন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?

- উত্তর: (ঘ) অক্সিন

৯৯. মানুষের সুষুষ্ণাকান্ডের বাইরের সাদা অংশকে কী বলে?

- উত্তর: (খ) হোয়াইট ম্যাটার

১০০. কোন হরমোন উদ্ভিদের মূলের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে?

- উত্তর: (গ) অধিক মাত্রায় অক্সিন



IMPORTENT  S.A QUESTION 

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির প্রথম অধ্যায় "জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - ২ বা ১ নম্বরের উপযোগী) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও সাড়া প্রদান এবং বিভিন্ন প্রকার চলন

১. ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উত্তর: উদ্ভিদ অঙ্গের গতি যখন উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, তখন সেই বক্রচলনকে ন্যাস্টিক বা ব্যাপ্ত চলন বলে। (যেমন: লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে মুড়ে যাওয়া)।

২. ট্রপিক চলন ও ন্যাস্টিক চলনের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে শুধুমাত্র তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৩. সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: তীব্র আঘাত, স্পর্শ, কম্পন বা বাতাসের ধাক্কার মতো উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন—লজ্জাবতী গাছের পাতায় হাত দিলে পাতাগুলি নুয়ে পড়ে।

৪. ফোটোন্যাস্টিক চলনের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: পদ্ম ও সূর্যমুখী ফুল বেশি আলোয় ফোটে এবং কম আলোয় বা অন্ধকারে বুজে যায়।

৫. থার্মোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উত্তর: উষ্ণতার তারতম্যের প্রভাবে উদ্ভিদের অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বলে (যেমন—টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে)।

৬. হাইড্রা কী ধরনের চলন ও গমন সম্পন্ন করে?

উত্তর: হাইড্রা লবঙ্গকরণ (Looping), সমারসল্টিং (Somersaulting) ও সাঁতার কাটার মাধ্যমে গমন করে।

৭. ফটোট্রপিক চলন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আলোর উৎসের গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের (যেমন কাণ্ড) বক্রবৃদ্ধিকে ফটোট্রপিক চলন বা আলোকবর্তিতা বলে।

৮. জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষজ চলন কী?

উত্তর: অভিকর্ষ বলের টানে বা প্রতিকূলে উদ্ভিদ অঙ্গের (মূল বা কাণ্ড) যে বক্রবৃদ্ধি ঘটে, তাকে জিওট্রপিক চলন বলে।

৯. হাইড্রেট্রেপিক বা জলবর্তী চলন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: জলের উৎসের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের (বিশেষ করে মূলের) বক্রচলনকে হাইড্রেট্রেপিক চলন বলে।

১০. বনচাড়াল উদ্ভিদের ত্রিভৌমিক পত্রে কোন চলন দেখা যায়?

- উত্তর: বনচাড়াল উদ্ভিদের পার্শ্বীয় পত্রদ্বয়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রকরণ চলন বা ব্যাতন্যাস্টিক চলন দেখা যায়।

উদ্ভিদ হরমোন (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন)

১১. হরমোনকে 'রাসায়নিক সমন্বয়সাধক' বলা হয় কেন?

- উত্তর: হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে বিভিন্ন কোষের কার্যাবলীকে রাসায়নিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত করে বলে একে রাসায়নিক সমন্বয়সাধক বলে।

১২. গ্রোথ ইনহিবিটর বা বৃদ্ধি ঘাতক হরমোন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: যে সমস্ত হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশকে প্রতিহত বা ধীর করে দেয়, তাদের গ্রোথ ইনহিবিটর বলে। যেমন—অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA)।

১৩. কৃত্রিম অক্সিনের দুটি উদাহরণ ও ব্যবহার লেখো।

- উত্তর: দুটি কৃত্রিম অক্সিন হলো NAA এবং IBA। এগুলি আগাছা দমনে এবং শাখা কলমে মূল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

১৪. পার্থেনোকার্পি বা বীজহীন ফল উৎপাদনে কোন হরমোন সাহায্য করে?

- উত্তর: অক্সিন (যেমন—IBA বা IAA) হরমোনের প্রভাবে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাশয় বীজহীন ফলে পরিণত হয়।

১৫. অগ্রমুকুলের প্রাধান্য (Apical Dominance) বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: উদ্ভিদের অগ্রমুকুল থেকে ক্ষরিত অক্সিন হরমোনের প্রভাবে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অগ্রমুকুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়, একে অগ্রমুকুলের প্রাধান্য বলে।

১৬. জিব্বেরেলিনের প্রধান উৎস কী?

- উত্তর: জিব্বেরেলিন প্রধানত পরিপক্ক বীজ, অঙ্কুরিত চারাগাছ, এবং Gibberella fujikuroi নামক ছত্রাকে পাওয়া যায়।

১৭. বোল্টিং (Bolting) কী?

- উত্তর: জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাবে কম ইন্টারনেট যুক্ত দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদের ফুল ফোটার আগে হঠাৎ পর্বমধ্যের অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটার ঘটনাকে বোল্টিং বলে।

১৮. সাইটোকাইনিনের একটি প্রধান কাজ লেখো।

- উত্তর: কোশ বিভাজনকে দ্রুত করা এবং উদ্ভিদের জরা বা বার্ধক্য বিলম্বিত করা।

১৯. ইথিলিন হরমোনের একটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।

- উত্তর: কাঁচা ফল পাকাতে ইথিলিন সাহায্য করে।

২০. অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA)-এর কাজ কী?

- উত্তর: এটি উদ্ভিদের পাতা ঝরে পড়া (অ্যাবসিশন) ত্বরান্বিত করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে জলক্ষয় রোধ করে।

প্রাণী হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি

২১. 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি কাকে বলে এবং কেন?

- উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়, কারণ এখান থেকে ক্ষরিত হরমোনগুলি শরীরের অন্যান্য প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

২২. সন্ধান বা মিশ্র গ্রন্থি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: যে গ্রন্থিগুলি একই সাথে বহিক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় গ্রন্থিরূপে কাজ করে তাদের মিশ্র গ্রন্থি বলে। যেমন—অগ্ন্যাশয়।

২৩. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনকে পরস্পরের বিপরীতধর্মী হরমোন বলা হয় কেন?

- উত্তর: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় (গ্লাইকোজেনেসিস ঘটিয়ে), আর গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস ঘটিয়ে)। তাই এদের বিপরীতধর্মী বলা হয়।

২৪. ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র রোগ কেন হয়?

- উত্তর: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ থেকে অপর্যাপ্ত ইনসুলিন ক্ষরিত হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

২৫. ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস রোগ কোন হরমোনের অভাবে ঘটে?

- উত্তর: পিটুইটারির পশ্চাৎপ্রকোষ্ঠ থেকে ক্ষরিত ADH (অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন বা ভ্যাসোপ্রেসিন)-এর অভাবে এই রোগ হয়, ফলে অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ ঘটে।

২৬. অ্যাড্রেনালিনকে 'আপৎকালীন হরমোন' বলা হয় কেন?

- উত্তর: ভয়, রাগ, আনন্দ বা বিপদের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এই হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়ে দেহকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহায্য করে বলে একে আপৎকালীন হরমোন বলে।

২৭. ক্রেটিনিজম রোগ কেন হয়? এর দুটি লক্ষণ লেখো।

- উত্তর: শিশুদের থাইরক্সিন হরমোনের স্বল্পক্ষরণে এই রোগ হয়। লক্ষণ: শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং কম বুদ্ধিসম্পন্ন (বামনাকৃতি) হয়।

২৮. মিক্সিডিমা কী?

- উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণে বিপাক হার কমে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও পুরু হয়ে যায়, এই অবস্থাকে মিক্সিডিমা বলে।

২৯. এক্সপথ্যালমিক গয়টার বা গ্রেভস ডিজিজ কী কারণে হয়?

- উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে থাইরক্সিনের অতি ক্ষরণের ফলে এই রোগ হয়, এতে চোখ ঠিকরে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায় ও হৃদস্পন্দন বাড়ে।

৩০. গয়টার বা গলগণ্ড রোগ কেন হয়?

- উত্তর: খাদ্যে আয়োডিনের অভাব ঘটলে থাইরক্সিন হরমোন সংশ্লেষ ব্যাহত হয় এবং থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করে।

স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুকোষ (নিউরন)

৩১. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক কী? এর প্রধান অংশগুলি কী কী?

- উত্তর: স্নায়ুতন্ত্রের একক হলো নিউরন। এর প্রধান দুটি অংশ হলো—কোষদেহ এবং প্রবর্ধিত অংশ (অ্যাক্সন ও ডেনড্রন)।

৩২. নিজল দানা (Nissl Granules) কী? এর কাজ কী?

- উত্তর: নিউরনের কোষদেহের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত রাইবোসোম ও দানাদার এন্ডোপ্লাজমিক জালিকাযুক্ত কণাগুলিকে নিজল দানা বলে। এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষ করা।

৩৩. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের একটি পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: অ্যাক্সন সাধারণত সংখ্যায় একটি এবং দীর্ঘ হয় ও স্নায়ুতম্প্রাণীকে কোষদেহ থেকে দূরে নিয়ে যায়; অন্যদিকে ডেনড্রনগুলি সংখ্যায় একাধিক, খাটো এবং স্নায়ুতম্প্রাণীকে কোষদেহের দিকে নিয়ে আসে।

৩৪. মায়োলিন sheath (মেমব্রেন) বা মায়োলিন আবরণী কোথায় থাকে? এর কাজ কী?

- উত্তর: অ্যাক্সনের বাইরের দিকে শ Schwann কোশ দ্বারা গঠিত এই চর্বিযুক্ত আবরণী থাকে। এটি স্নায়ুতম্প্রাণীর দ্রুত পরিবহনে এবং ইনসুলেশন বা অন্তরক হিসেবে কাজ করে।

৩৫. র্যানভিিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier) কাকে বলে?

- উত্তর: অ্যাক্সনের গায়ে মায়োলিন আবরণী যেখানে বিচ্ছিন্ন বা অনুপস্থিত থাকে, সেই খাঁজ বা স্থানকে র্যানভিিয়ারের পর্ব বলে।

৩৬. সাইন্যাপস (Synapse) কাকে বলে? এর কাজ কী?

- উত্তর: দুটি পরপর নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে। এর কাজ হলো এক নিউরন থেকে অন্য নিউরণে রাসায়নিক পদার্থের (নিউ্রোট্রান্সমিটার) মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দন বা বার্তা প্রেরণ করা।

৩৭. নিউরোসেন্ট্রাল বা নিউরোট্রান্সমিটারের একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: অ্যাসিটাইল কোলিন (Acetylcholine) বা নরএপিনেফ্রিন।

৩৮. সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?

- উত্তর: মস্তিষ্ক এবং সুষুষ্ণাকাণ্ড (Spinal Cord) নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

৩৯. মস্তিষ্ককে রক্ষা করার জন্য এর বাইরে কয়টি ও কী কী পর্দা থাকে? এদের একত্রে কী বলে?

- উত্তর: তিনটি পর্দা থাকে—ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড মেমব্রেন ও পিয়ামেটার। এদের একত্রে মেনিনজেস (Meninges) বলে।

৪০. সেরিব্রস্পাইনাল ফ্লুইড বা CSF কোথায় থাকে এবং এর কাজ কী?

- উত্তর: এটি মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল এবং মেনিনজেসের সাব-অ্যারাকনয়েড স্পেসে থাকে। এর কাজ মস্তিষ্ক ও সুষুষ্ণাকাণ্ডকে আঘাত থেকে রক্ষা করা এবং পুষ্টি সরবরাহ করা।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ

৪১. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) কাকে বলে?

- উত্তর: পরিবেশের কোনো উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে আমাদের শরীরের যে স্বতস্ফূর্ত, দ্রুত ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়া সুষুষ্ণাকাণ্ড বা মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।

৪২. অনিয়ত বা জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার দুটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: ১. চোখের সামনে হঠাৎ তীব্র আলো পড়লে পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

- ২. জন্মভূমির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাতৃস্তন থেকে দুধ পান করা।

৪৩. অর্জিত বা অভ্যাসগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: সাইকেল চালানো শেখা বা পিয়ানো বাজানো।

৪৪. প্রতিবর্ত পথ (Reflex Arc) কাকে বলে?

- উত্তর: যে পথ ধরে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার বার্তা গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ুকেন্দ্র এবং সেখান থেকে কারক অঙ্গে পৌঁছায়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বলে।

৪৫. প্রতিবর্ত পথের উপাদানগুলি ক্রমানুসারে লেখো।

- উত্তর: গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু → স্নায়ুকেন্দ্র → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক অঙ্গ।

৪৬. গ্রাহক (Receptor) ও কারক (Effector) বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: দেহের যে সংবেদী অংশ উদ্দীপনা গ্রহণ করে তাকে গ্রাহক (যেমন—ত্বক, চোখ) বলে এবং যে অঙ্গ সাড়া প্রদান করে বা কাজ সম্পন্ন করে তাকে কারক (যেমন—পেশি, গ্রন্থি) বলে।

৪৭. অন্তর্বাহী ও বহির্বাহী স্নায়ুর একটি পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: অন্তর্বাহী স্নায়ু গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে উদ্দীপনা বহন করে, আর বহির্বাহী স্নায়ু স্নায়ুকেন্দ্র থেকে কারক অঙ্গে সাড়া বহন করে নিয়ে যায়।

৪৮. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার আবিষ্কারক কে?

- উত্তর: ফরাসি দার্শনিক ও বিজ্ঞানী রেনে ডেকার্তে।

৪৯. সুষুষ্ণাকাণ্ডের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি গুরুত্ব লেখো।

- উত্তর: এটি আমাদের শরীরকে খুব দ্রুত ও আকস্মিক ক্ষতিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করে।

৫০. মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: সুস্বাদু খাবার দেখলে মুখে লালারস ক্ষরণ হওয়া।

চোখ ও দৃষ্টির অভিযোজন

৫১. চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্বের পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষমতাকে কী বলে?

- উত্তর: উপযোজন (Accommodation)।

৫২. মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি ত্রুটি কী? এটি সংশোধনের জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?

- উত্তর: চোখের এই ত্রুটিতে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যায় না কিন্তু কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায়। এটি সংশোধনের জন্য অবতল লেন্স (Concave Lens) ব্যবহার করা হয়।

৫৩. হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টি ত্রুটি কী? এটি কীভাবে সংশোধন করা হয়?

- উত্তর: এই ত্রুটিতে কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায় না কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়। এটি সংশোধনের জন্য উত্তল লেন্স (Convex Lens) ব্যবহার করা হয়।

৫৪. প্রেসবিওপিয়া (Presbyopia) কী?

- উত্তর: বয়সের বৃদ্ধির সাথে সাথে চোখের লেন্সের স্থিতিস্থাপকতা ও সিলিয়ারি পেশির ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে কাছের বস্তু দেখতে অসুবিধা হয়, একে প্রেসবিওপিয়া বলে।

৫৫. অন্ধবিন্দু (Blind Spot) কাকে বলে?

- উত্তর: রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থলে কোনো রড বা কোন কোশ থাকে না, ফলে এখানে কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, একে অন্ধবিন্দু বলে।

৫৬. পীতবিন্দু বা ফোভিয়া সেন্ট্রালিস (Yellow Spot) কোথায় থাকে এবং এর কাজ কী?

- উত্তর: এটি রেটিনার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এবং এখানে সবচেয়ে স্পষ্ট ও উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

৫৭. রড কোশ ও কোন কোশের একটি পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: রড কোশ মৃদু আলোতে দেখতে ও রোডপসিন তৈরিতে সাহায্য করে, আর কোন কোশ উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ চিনতে (আয়োডপসিন রঞ্জক সহকারে) সাহায্য করে।

৫৮. অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমার কোথায় থাকে?

- উত্তর: অ্যাকুয়াস হিউমার কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে এবং ভিট্রিয়াস হিউমার লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে থাকে।

৫৯. কর্নিয়ার কাজ কী?

- উত্তর: কর্নিয়া চোখের প্রধান প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

৬০. আইরিসের কাজ কী?

- উত্তর: চোখের পিউপিল বা তারারন্ধ্রের ছোট ও বড় হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে চোখের ভেতরে আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রাণীদের গমন (অ্যামিবা থেকে মানুষ)

৬১. গমন ও চলনের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: চলনে জীব একই স্থানে স্থির থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে স্থান পরিবর্তন করে না, কিন্তু গমনে জীব সমগ্র শরীরকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করে।

৬২. অ্যামিবা, প্যারামেডিয়াম ও ইউগ্লিনার গমনাঙ্গগুলির নাম লেখো।

- উত্তর: অ্যামিবার গমনাঙ্গ হলো ক্ষণপদ (Pseudopodia), প্যারামেডিয়ামের সিলিয়া (Cilia), এবং ইউগ্লিনার ফ্ল্যাজেলা (Flagella)।

৬৩. রুই মাছে পটকার কাজ কী?

- উত্তর: পটকা মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে জলের বিভিন্ন গভীরে সহজে ভেসে থাকতে বা নিচে ডুবতে সাহায্য করে।

৬৪. মাছের গমনে মায়োটোম পেশির ভূমিকা কী?

- উত্তর: মায়োটোম পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে মাছের দেহ তরঙ্গাকারে বাঁকা হয়, যা মাছকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

৬৫. পায়রার উড্ডয়নে সাহায্যকারী দুটি প্রধান পেশির নাম লেখো।

- উত্তর: পেক্টোরালিস মেজর এবং পেক্টোরালিস মাইনর।

৬৬. পেক্টোর্যালিস মেজর পেশির কাজ কী?

- উত্তর: এটি পায়রার ডানাকে নিচের দিকে নামাতে বা শক্তিশালী ধাক্কা দিতে সাহায্য করে।

৬৭. পেক্টোর্যালিস মাইনর পেশির কাজ কী?

- উত্তর: এটি ডানাকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে।

৬৬. পাখির উড্ডয়নে সাহায্যকারী বিশেষ অঙ্গটির নাম কী?

- উত্তর: বায়ুথলি বা এয়ারস্যাক (Air Sac)।

৬৯. জোঁকের গমনাঙ্গের নাম কী? এটি কীভাবে গমন করে?

- উত্তর: জোঁকের গমনাঙ্গ হলো দু'টি চোষক (অগ্র ও পশ্চাৎ চোষক)। এটি লটকণ বা ক্রিপিং (Creeping) পদ্ধতিতে গমন করে।

৭০. মানুষের দ্বিপদ গমনে কোন পেশি সাহায্য করে?

- উত্তর: গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস (Gastrocnemius) এবং বাইসেপস-ট্রাইসেপস পেশী।

বিবিধ ও অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহ

৭১. ট্রেস হরমোন (Trace Hormone) কাকে বলে?

- উত্তর: যে সমস্ত হরমোন অত্যন্ত অল্প পরিমাণে ক্ষরিত হয়েও শরীরের বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের ট্রেস হরমোন বলে।

৭২. নিউরোসিশন বা স্নায়ুক্ষরণ কী?

- উত্তর: যখন কোনো স্নায়ুকোষ বা নিউরনের প্রান্তদেশ থেকে হরমোনের মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়, তখন তাকে নিউরোসিক্রেশন বলে।

৭৩. ভার্নালাইজেশন (Vernalization) কী?

- উত্তর: নিম্ন উষ্ণতার প্রভাবে উদ্ভিদের ফুল ফোটার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার পদ্ধতিকে ভার্নালাইজেশন বলে, যাতে জিব্বেরেলিন সাহায্য করে।

৭৪. অ্যাবসিশন বা পর্ণমোচন বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফল বৃস্তীর্ণ হওয়ার সময় বোঁটার গোড়ায় বিশেষ পরিবর্তনের ফলে খসে পড়ার ঘটনাকে অ্যাবসিশন বলে।

৭৫. ফটোট্যাকটিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: আলোর উৎসের দিকে সমগ্র উদ্ভিদ বা অঙ্গের স্থান পরিবর্তনকে ফটোট্যাকটিক চলন বলে। যেমন—ভলভক্স বা ক্ল্যামাইডোমোনাসের আলোের দিকে সরণ।

৭৬. কেমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: রাসায়নিক পদার্থের তীব্রতা দ্বারা প্রভাবিত ন্যাস্টিক চলনকে কেমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন—সূর্যশিশির বা কলসী গাছের পাতার কলাপ পাতা কীট পতঙ্গ স্পর্শ করলে মুড়ে যায়।

৭৭. স্নায়ুগ্রন্থি বা গ্যাংলিয়ন কী?

- উত্তর: বহু স্নায়ুকোষের কোষদেহ যখন একত্রে একটি পুঞ্জ বা গুচ্ছ গঠন করে, তখন তাকে গ্যাংলিয়ন বলে।

৭৮. প্রতিবর্ত ধনু বা রিফ্লেক্স আর্ক কাকে বলে?

- উত্তর: যে নির্দিষ্ট পথ ধরে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদ্দীপনা যাতায়াত করে, তাকে প্রতিবর্ত ধনু বলা হয়।

৭৯. মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশটির নাম ও কাজ কী?

- উত্তর: গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিভ্রাম। এর কাজ চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, জ্ঞান এবং ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা।

৮০. লঘুমস্তিষ্কের কাজ কী?

- উত্তর: দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং ঐচ্ছিক পেশির কাজের সমন্বয় সাধন করা।

৮১. হাইপোথ্যালামাসের একটি প্রধান কাজ লেখো।

- উত্তর: এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।

৮২. মেডালা অবলংগাটার কাজ কী?

- উত্তর: হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া এবং রক্তচাপের মতো অনৈচ্ছিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করা।

৮৩. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System) কয়টি ভাগে বিভক্ত ও কী কী?

- উত্তর: দুটি ভাগে বিভক্ত—সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র।

৮৪. হরমোন ও স্নায়ুর একটি মূলগত পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: স্নায়ুর মাধ্যমে বার্তা খুব দ্রুত (তড়িৎ রাসায়নিকাবে) পরিবাহিত হয়, আর হরমোনের মাধ্যমে বার্তা ধীরগতিতে রাসায়নিক উপায়ে বাহিত হয়।

৮৫. নেত্রগোলকের কয়টি স্তর থাকে ও কী কী?

- উত্তর: তিনটি স্তর—স্ক্লেরা, করয়েড এবং রেটিনা।

৮৬. স্ক্লেরার সামনের স্বচ্ছ অংশকে কী বলে?

- উত্তর: কর্নিয়া।

৮৭. চোখের কোন অংশে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়?

- উত্তর: রেটিনা।

৮৮. কোন হরমোন উদ্ভিদের পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি ঘটায়?

- উত্তর: সাইটোকাইনিন।

৮৯. উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোনটির নাম কী?

- উত্তর: অক্সিন।

৯০. ফাইট অর ফ্লাই (Fight or Flight) হরমোন কাকে বলে?

- উত্তর: অ্যাড্রেনালিন।

৯১. রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন?

- উত্তর: প্যারাথরমোন (PTH) এবং ক্যালসিটোনিন।

৯২. থাইরোক্যালসিটোনিন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?

- উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে।

৯৩. টেস্টোস্টেরন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?

- উত্তর: শুক্রাশয়ের লেডিগের আন্তঃকোশ থেকে।

৯৪. প্রোজেস্টেরন হরমোনকে 'গর্ভরক্ষক হরমোন' বলা হয় কেন?

- উত্তর: এটি গর্ভকালীন জরায়ুর প্রাচীরকে সুস্থ রাখতে এবং ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে একে গর্ভরক্ষক হরমোন বলে।

৯৫. ইস্ট্রোজেনের একটি প্রধান কাজ লেখো।

- উত্তর: এটি স্ত্রীদেহের গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশে এবং ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৯৬. কোন গ্রন্থিকে 'সংকটকালীন গ্রন্থি' বলা হয়?

- উত্তর: অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি।

৯৭. প্রসবকালীন সাহায্যকারী পিটুইটারি হরমোনটির নাম কী?

- উত্তর: অক্সিটোসিন।

৯৮. দুগ্ধ উৎপাদনে সাহায্যকারী হরমোন কোনটি?

- উত্তর: প্রোল্যাকটিন বা LTH।

৯৯. বামনত্ব (Dwarfism) কোন হরমোনের স্বল্পক্ষরণে হয়?

- উত্তর: গ্রোথ হরমোন বা STH (সোমাটোট্রপিক হরমোন)।

১০০. অ্যাক্রোমেগালি (Acromegaly) রোগ কেন হয়?

- উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের দেহে গ্রোথ হরমোনের (STH) অতিরিক্ত ক্ষরণের ফলে হাত, পা ও মুখের চোয়ালের অস্থি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, যাকে অ্যাক্রোমেগালি বলে।


মান -২ এর প্রশ্ন 


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির প্রথম অধ্যায় "জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৫০টি দুই নম্বরের (2 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও সাড়া প্রদান এবং বিভিন্ন প্রকার চলন

১. ন্যাস্টিক ও ট্রপিক চলনের দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের উৎসের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. ট্রপিক চলন উদ্ভিদের বৃদ্ধিজনিত গতি, আর অধিকাংশ ন্যাস্টিক চলন রসস্ফীতিজনিত গতি।

২. সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: তীব্র আঘাত, স্পর্শ বা কম্পনের মতো উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের যে ন্যাস্টিক চলন ঘটে, তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে। যেমন—লজ্জাবতী গাছের পাতায় হাত দিলে পাতাগুলি মুড়ে নুয়ে পড়ে।

৩. ফটোট্রপিক চলন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: আলোর উৎসের গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের (যেমন কাণ্ড) বক্রবৃদ্ধিকে ফটোট্রপিক চলন বলে। যেমন—আলোর দিকে উদ্ভিদের কাণ্ডের বৃদ্ধি।

৪. জিওট্রপিক চলন বা অভিকর্ষজ চলন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: অভিকর্ষ বলের টানে বা প্রতিকূলে উদ্ভিদ অঙ্গের (মূল বা কাণ্ড) যে বক্রবৃদ্ধি ঘটে, তাকে জিওট্রপিক চলন বলে। যেমন—উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের অনুকূলে নিচের দিকে বৃদ্ধি পায়।

৫. বনচণ্ডালের ত্রিভৌমিক পত্রে কী ধরনের চলন দেখা যায়? সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: বনচণ্ডালের ত্রিভৌমিক পত্রে স্বতঃস্ফূর্ত প্রকরণ চলন বা ব্যাতন্যাস্টিক চলন দেখা যায়। এই উদ্ভিদের পার্শ্বীয় পত্রদ্বয় ওপর-নিচ হতে থাকে।

৬. ফোটোন্যাস্টিক ও থার্মোন্যাস্টিক চলনের একটি করে উদাহরণ দাও।

উত্তর: ফোটোন্যাস্টিক চলন—পদ্ম ও সূর্যমুখী ফুল বেশি আলোয় খোলে এবং কম আলোয় বুজে যায়। থার্মোন্যাস্টিক চলন—টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে।

৭. হাইড্রা কী ধরনের চলন ও গমন সম্পন্ন করে?

উত্তর: হাইড্রা লবঙ্গকরণ (Looping), সমারসল্টিং (Somersaulting) এবং কর্ষিকা ও দেহের সাহায্যে সাঁতার কাটার মাধ্যমে গমন ও চলন সম্পন্ন করে।

৮. ট্যাকটিক ও ট্রপিক চলনের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ট্যাকটিক চলনে সমগ্র উদ্ভিদ বা কোষের স্থান পরিবর্তন ঘটে (গমনের মতো), কিন্তু ট্রপিক চলনে উদ্ভিদের অঙ্গের বক্রবৃদ্ধি ঘটে কিন্তু সমগ্র উদ্ভিদের স্থান পরিবর্তন হয় না।

৯. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা বলতে কী বোঝো?

উত্তর: উদ্ভিদের পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপনা (যেমন আলো, স্পর্শ, উষ্ণতা, অভিকর্ষ) গ্রহণ করার এবং সেই অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।

১০. চলন ও গমনের মধ্যে একটি মূলগত পার্থক্য লেখো।

উত্তর: চলনে জীব একই স্থানে স্থির থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে স্থান পরিবর্তন করে না, কিন্তু গমনে জীব সমগ্র শরীরকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করে।

উদ্ভিদ হরমোন (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন)

১১. হরমোনকে 'রাসায়নিক সমন্বয়সাধক' বলা হয় কেন?

উত্তর: হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে বিভিন্ন কোষের কার্যাবলীকে রাসায়নিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত করে বলে একে রাসায়নিক সমন্বয়সাধক বলে।

১২. গ্রোথ ইনহিবিটর বা বৃদ্ধি ঘাতক হরমোন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত হরমোন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশকে প্রতিহত বা ধীর করে দেয়, তাদের গ্রোথ ইনহিবিটর বলে। যেমন—অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA)।

১৩. কৃত্রিম অক্সিনের দুটি উদাহরণ ও ব্যবহার লেখো।

উত্তর: দুটি কৃত্রিম অক্সিন হলো NAA (ন্যাপথালিন অ্যাসটিক অ্যাসিড) এবং IBA (ইন্ডোল বিউটাইরিক অ্যাসিড)। এগুলি আগাছা দমনে এবং শাখা কলমে মূল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

১৪. পার্থেনোকার্পি বা বীজহীন ফল উৎপাদনে কোন হরমোন সাহায্য করে?

উত্তর: অক্সিন (যেমন—IAA বা IBA) হরমোনের কৃত্রিম প্রভাবে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাশয় বীজহীন ফলে পরিণত হয়।

১৫. অগ্রমুকুলের প্রাধান্য (Apical Dominance) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: উদ্ভিদের অগ্রমুকুল থেকে ক্ষরিত অক্সিন হরমোনের প্রভাবে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অগ্রমুকুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়, একে অগ্রমুকুলের প্রাধান্য বলে।

১৬. বোল্টিং (Bolting) কী?

উত্তর: জিব্বেরেলিন হরমোনের প্রভাবে কম ইন্টারনেট যুক্ত দ্বিবর্ষজীবী উদ্ভিদের ফুল ফোটার আগে হঠাৎ পর্বমধ্যের অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটার ঘটনাকে বোল্টিং বলে।

১৭. সাইটোকাইনিনের একটি প্রধান কাজ লেখো।

উত্তর: সাইটোকাইনিন কোশ বিভাজনকে সরাসরি উদ্দীপিত করে এবং উদ্ভিদের জরা বা বার্ধক্য বিলম্বিত করতে সাহায্য করে।

১৮. ইথিলিন হরমোনের একটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর: ইথিলিন গ্যাসীয় প্রকৃতির হরমোন, যা কাঁচা ফল পাকাতে এবং ফল ঝরে পড়া ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।

১৯. অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA)-এর কাজ কী?

উত্তর: এটি উদ্ভিদের পাতা ঝরে পড়া (অ্যাবসিশন) ত্বরান্বিত করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে জলক্ষয় রোধ করে।

২০. উদ্ভিদ হরমোনের দুটি উৎসগত বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: ১. উদ্ভিদ হরমোন সাধারণত ভাজক কলা থেকে ক্ষরিত হয়।

২. হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে পরিবাহিত হয়ে দূরে গিয়ে কাজ করে এবং কাজের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

প্রাণী হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি

২১. 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি কাকে বলে এবং কেন?

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়, কারণ এখান থেকে ক্ষরিত ট্রপিক হরমোনগুলি শরীরের অন্যান্য প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

২২. মিশ্র গ্রন্থি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে গ্রন্থিগুলি একই সাথে বহিক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় গ্রন্থিরূপে কাজ করে তাদের মিশ্র গ্রন্থি বলে। যেমন—অগ্ন্যাশয়।

২৩. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনকে পরস্পরের বিপরীতধর্মী হরমোন বলা হয় কেন?

উত্তর: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় (গ্লাইকোজেনেসিস ঘটিয়ে), আর গ্লুকাগন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস ঘটিয়ে)। তাই এদের বিপরীতধর্মী বলা হয়।

২৪. ডায়াবেটিস মেলিটাস বা বহুমূত্র রোগ কেন হয়?

উত্তর: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ থেকে অপর্যাপ্ত ইনসুলিন ক্ষরিত হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

২৫. ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস রোগ কোন হরমোনের অভাবে ঘটে?

উত্তর: পিটুইটারির পশ্চাৎপ্রকোষ্ঠ থেকে ক্ষরিত ADH (অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন বা ভ্যাসোপ্রেসিন)-এর অভাবে এই রোগ হয়, ফলে অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ ঘটে।

২৬. অ্যাড্রেনালিনকে 'আপৎকালীন হরমোন' বলা হয় কেন?

উত্তর: ভয়, রাগ, আনন্দ বা বিপদের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এই হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়ে দেহকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সাহায্য করে বলে একে আপৎকালীন হরমোন বলে।

২৭. ক্রেটিনিজম রোগ কেন হয়? এর প্রধান লক্ষণ কী?

উত্তর: শিশুদের থাইরক্সিন হরমোনের স্বল্পক্ষরণে এই রোগ হয়। লক্ষণ: এতে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং কম বুদ্ধিসম্পন্ন বা বামনাকৃতি হয়।

২৮. মিক্সিডিমা কী?

উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণে বিপাক হার কমে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও পুরু হয়ে যায়, এই অবস্থাকে মিক্সিডিমা বলে।

২৯. এক্সপথ্যালমিক গয়টার বা গ্রেভস ডিজিজ কী কারণে হয়?

উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিনের অতি ক্ষরণের ফলে এই রোগ হয়, এতে বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, চোখ ঠিকরে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায় ও হৃদস্পন্দন বাড়ে।

৩০. গয়টার বা গলগণ্ড রোগ কেন হয়?

উত্তর: খাদ্যে আয়োডিনের অভাব ঘটলে থাইরক্সিন হরমোন সংশ্লেষ ব্যাহত হয় এবং তার প্রভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করে।

স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুকোষ (নিউরন)

৩১. নিজল দানা (Nissl Granules) কী? এর কাজ কী?

উত্তর: নিউরনের কোষদেহের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত রাইবোসোম ও দানাদার এন্ডোপ্লাজমিক জালিকাযুক্ত কণাগুলিকে নিজল দানা বলে। এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষ করা।

৩২. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: অ্যাক্সন সাধারণত সংখ্যায় একটি এবং দীর্ঘ হয় ও স্নায়ুস্পন্দনকে কোষদেহ থেকে দূরে নিয়ে যায়; অন্যদিকে ডেনড্রনগুলি সংখ্যায় একাধিক, খাটো এবং স্নায়ুস্পন্দনকে কোষদেহের দিকে নিয়ে আসে।

৩৩. মায়োলিন আবরণী (Myelin Sheath) কোথায় থাকে? এর কাজ কী?

উত্তর: অ্যাক্সনের বাইরের দিকে সোয়ান কোশ দ্বারা গঠিত এই চর্বিযুক্ত আবরণী থাকে। এটি স্নায়ুস্পন্দন দ্রুত পরিবহনে এবং ইনসুলেশন বা অন্তরক হিসেবে কাজ করে।

৩৪. র্যানভিিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier) কাকে বলে?

উত্তর: অ্যাক্সনের গায়ে মায়োলিন আবরণী যেখানে বিচ্ছিন্ন বা অনুপস্থিত থাকে, সেই খাঁজ বা স্থানকে র্যানভিিয়ারের পর্ব বলে।

৩৫. সাইন্যাপস (Synapse) কাকে বলে? এর কাজ কী?

উত্তর: দুটি পরপর নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে। এর কাজ হলো এক নিউরন থেকে অন্য নিউরণে রাসায়নিক পদার্থের (নিউ্রোট্রান্সমিটার) মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দন বা বার্তা প্রেরণ করা।

৩৬. সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কী নিয়ে গঠিত?

উত্তর: মস্তিষ্ক এবং সুষুষ্ণাকাণ্ড (Spinal Cord) নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

৩৭. মেনিনজেস (Meninges) কাকে বলে? এর কাজ কী?

উত্তর: মস্তিষ্ক ও সুষুষ্ণাকাণ্ডকে ঘিরে থাকা তিনটি সুরক্ষামূলক পর্দা (ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড ও পিয়ামেটার)-কে একত্রে মেনিনজেস বলে। এর কাজ হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করা।

৩৮. সেরিব্রস্পাইনাল ফ্লুইড বা CSF কোথায় থাকে এবং এর কাজ কী?

উত্তর: এটি মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল এবং মেনিনজেসের সাব-অ্যারাকনয়েড স্পেসে থাকে। এর কাজ মস্তিষ্ক ও সুষুষ্ণাকাণ্ডকে আঘাত থেকে রক্ষা করা এবং পুষ্টি সরবরাহ করা।

৩৯. সংবেদী নিউরন ও আজ্ঞাবহ (চেষ্টীয়) নিউরনের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: সংবেদী নিউরন গ্রাহক থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে উদ্দীপনা বহন করে, আর আজ্ঞাবহ নিউরন স্নায়ুকেন্দ্র থেকে কারক অঙ্গে সাড়া বা আদেশ বহন করে নিয়ে যায়।

৪০. মিশ্র স্নায়ু কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে স্নায়ুগুলি সংবেদী ও আজ্ঞাবহ উভয় প্রকার স্নায়ুতন্তু নিয়ে গঠিত এবং উভয়মুখী বার্তা পরিবহন করে, তাদের মিশ্র স্নায়ু বলে। যেমন—ভেগাস স্নায়ু (দশম করোটিন স্নায়ু)।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া, চোখ ও গমন

৪১. প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: পরিবেশের কোনো উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে আমাদের শরীরের যে স্বতস্ফূর্ত, দ্রুত ও অনৈচ্ছিক ক্রিয়া সুষুষ্ণাকাণ্ড বা মস্তিষ্কের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন—চোখে হঠাৎ তীব্র আলো পড়লে পাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

৪২. প্রতিবর্ত পথ (Reflex Arc) বলতে কী বোঝো? এর উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর: যে নির্দিষ্ট পথ ধরে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার বার্তা আবর্তিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বলে। এর উপাদানগুলি হলো—গ্রাহক, অন্তর্বাহী স্নায়ু, স্নায়ুকেন্দ্র, বহির্বাহী স্নায়ু ও কারক অঙ্গ।

৪৩. জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্ম থেকেই স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে (যেমন—স্তন্যপান), কিন্তু অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মসূত্রে প্রাপ্ত নয়, বরং জীবনদশায় অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে হয় (যেমন—সাইকেল চালানো)।

৪৪. চোখের উপযোজন (Accommodation) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করে কাছের বা দূরের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।

৪৫. মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়ার প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: মায়োপিয়ায় দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায় না (সংশোধনের জন্য অবতল লেন্স লাগে), আর হাইপারমেট্রোপিয়ায় কাছের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায় না (সংশোধনের জন্য উত্তল লেন্স লাগে)।

৪৬. অন্ধবিন্দু (Blind Spot) কাকে বলে?

উত্তর: রেটিনা ও অপটিক স্নায়ুর সংযোগস্থলে কোনো রড বা কোন কোশ থাকে না, ফলে এখানে আলো সংবেদনশীলতা থাকে না এবং কোনো প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না, একে অন্ধবিন্দু বলে।

৪৭. রড কোশ ও কোন কোশের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: রড কোশ মৃদু আলোতে দেখতে ও রোডপসিন তৈরিতে সাহায্য করে, আর কোন কোশ উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ চিনতে (আয়োডপসিন রঞ্জক সহকারে) সাহায্য করে।

৪৮. মাছের গমনে পটকার ভূমিকা কী?

উত্তর: পটকা মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে জলের বিভিন্ন গভীরে সহজে ভেসে থাকতে বা নিচে ডুবতে সাহায্য করে।

৪৯. পায়রার উড্ডয়নে এয়ারস্যাক বা বায়ুথলির কাজ কী?

উত্তর: বায়ুথলিগুলি পায়রার দেহকে হালকা রাখতে সাহায্য করে এবং ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।

৫০. চলন ও গমনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য লেখো।

উত্তর: চলন ও গমন উভয় ক্ষেত্রেই জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালিত হয় এবং উভয় প্রক্রিয়াই জীবের বেঁচে থাকা ও খাদ্য সন্ধানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 



মান-৩ এর প্রশ্ন


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির প্রথম অধ্যায় "জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৩০টি তিন নম্বরের (3 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও সাড়া প্রদান এবং বিভিন্ন প্রকার চলন

১. ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

১. নিয়ন্ত্রণ: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের উৎসের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. বৃদ্ধির ভূমিকা: ট্রপিক চলন উদ্ভিদের বৃদ্ধিজনিত গতি (অঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে বাঁকে), অপরদিকে অধিকাংশ ন্যাস্টিক চলন রসস্ফীতিজনিত বা গতিজনিত চলন।

৩. প্রকৃতি: ট্রপিক চলন একমুখী (যেমন আলোর দিকে কাণ্ডের বৃদ্ধি), আর ন্যাস্টিক চলন ব্যাপ্ত বা চারিদিকে সমানভাবে প্রসারিত হতে পারে (যেমন লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যাওয়া)।

২. ট্যাকটিক, ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের একটি তুলনামূলক পার্থক্য ছকের আকারে বা পয়েন্ট আকারে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর:

১. ট্যাকটিক চলন: এটি উদ্দীপকের প্রভাবে সমগ্র উদ্ভিদ বা কোষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থান পরিবর্তন বা গমন।

২. ট্রপিক চলন: এটি উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ অনুসারে উদ্ভিদের নির্দিষ্ট অঙ্গের বক্রবৃদ্ধি (স্থান পরিবর্তন হয় না)।

৩. ন্যাস্টিক চলন: এটি উদ্দীপকের উৎসের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদের অঙ্গের বক্রচলন বা রসস্ফীতিজনিত নড়চড়া।

৩. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ফটোট্রপিক চলন কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় (অক্সিনের ভূমিকা সহ)?

উত্তর: উদ্ভিদের কাণ্ডের আলোকবর্তিতা বা ফটোট্রপিক চলন অক্সিন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গাছের কাণ্ডের যে দিকে আলো পড়ে, তার বিপরীত পার্শ্বে অক্সিনের ঘনত্ব বেশি হয়। অক্সিন বেশি থাকার কারণে বিপরীত পার্শ্বের কোষগুলি দ্রুত দীর্ঘ হয়, ফলে কাণ্ডের আলোকিত দিকটি কম বৃদ্ধি পায় এবং অন্ধকার দিকটি বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাণ্ড আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।

৪. ক্যাকটাস বা শুষ্ক অঞ্চলের উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অভিকর্ষজ ও জলবর্তী চলনের গুরুত্ব কী?

উত্তর: ক্যাকটাস বা মরুভূমির উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জিওট্রপিক (অভিকর্ষজ) ও হাইড্রোট্রপিক (জলবর্তী) চলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুকূল জিওট্রপিক চলনের মাধ্যমে মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে গাছকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে এবং হাইড্রোট্রপিক চলনের প্রভাবে মূল জলের সন্ধানে দূরদূরান্তে প্রসারিত হয়, যা শুষ্ক মাটিতে জলের অভাব মেটাতে সাহায্য করে।

৫. উদ্ভিদ হরমোন এবং প্রাণী হরমোনের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

১. উৎপত্তি: উদ্ভিদ হরমোন সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থিহীন ভাজক কলা থেকে ক্ষরিত হয়, অন্যদিকে প্রাণী হরমোন বিশেষ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা কোশগুচ্ছ থেকে ক্ষরিত হয়।

২. পরিবহন: উদ্ভিদ হরমোন জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বা ব্যাপরণ প্রক্রিয়ায় বাহিত হয়, আর প্রাণী হরমোন প্রধানত রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।

৩. কার্যকারিতা: উদ্ভিদ হরমোন মূলত বৃদ্ধি, বিকাশ ও চলনকে নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে প্রাণী হরমোন বিপাকহার, অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষা এবং অঙ্গের কার্যাবলী সমন্বিত করে।

উদ্ভিদ হরমোন (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন)

৬. উদ্ভিদ বৃদ্ধিতে অক্সিনের তিনটি প্রধান ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর:

১. কৈাষ দীর্ঘীকরণ: এটি কোষ প্রাচীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং কোষের আকার বা দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২. অগ্রমুকুলের প্রাধান্য: এটি অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ঘটিয়ে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

৩. মূল গঠন ও পার্থেনোকার্পি: শাখা কলমে মূল উৎপাদনে সাহায্য করে এবং কৃত্রিমভাবে নিষেক ছাড়াই বীজহীন ফল (পার্থেনোকার্পি) উৎপাদনে সাহায্য করে।

৭. জিব্বেরেলিনের উৎস ও উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এর তিনটি কাজ লেখো।

উত্তর:

উৎস: পরিপক্ক বীজ, অঙ্কুরিত চারাগাছ এবং বকানে রোগ সৃষ্টকারী ছত্রাক (Gibberella fujikuroi)।

কাজ:

১. উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে খর্বাকৃতির উদ্ভিদের কাণ্ড লম্বা করে (বোল্টিং ঘটায়)।

২. বীজের সুপ্তদশা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করে।

৩. উদ্ভিদের লিঙ্গ পরিবর্তনে সাহায্য করে।

৮. সাইটোকাইনিন হরমোনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

১. কোষ বিভাজন: এটি সাইটোকাইনসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজনকে সরাসরি উদ্দীপিত করে এবং সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়।

২. জরা বিলম্বিত করা: পাতায় ক্লোরোফিল নষ্ট হতে বাধা দেয় এবং উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা প্রক্রিয়া মন্থর করে (Richmond-Lang effect)।

৩. পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি: অগ্রমুকুলের প্রাধান্য ভেঙে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৯. কৃত্রিম হরমোনের গুরুত্ব বা ব্যবহার তিনটি পয়েন্টে লেখো।

উত্তর:

১. শাখা কলম থেকে চারা তৈরি: NAA বা IBA-এর মতো কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করে উদ্ভিদের কাণ্ডের কাটা অংশে দ্রুত মূল উৎপাদন করা হয়।

২. ফল ঝরে পড়া রোধ: কৃত্রিম হরমোন ফুল ও কচি ফল ঝরে পড়া রোধ করতে সাহায্য করে।

৩. আগাছা দমন: 2,4-D এর মতো কৃত্রিম অক্সিন ব্যবহার করে কৃষিজমিতে অবাঞ্ছিত ও ক্ষতিকারক আগাছা নির্মূল করা হয়।

১০. গ্রোথ ইনহিবিটর বা বৃদ্ধি রোধকারী হরমোন হিসেবে অ্যাববসাইসিক অ্যাসিডের (ABA) ভূমিকা কী?

- উত্তর: অ্যাববসাইসিক অ্যাসিড (ABA) উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিপাক ক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এর প্রধান ভূমিকাগুলি হলো—

১. উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও কোষ বিভাজনকে প্রতিহত করে।

২. বীজ ও মুকুলের সুপ্তদশা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৩. প্রতিকূল শুষ্ক পরিবেশে পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে অতিরিক্ত জলক্ষয় রোধ করে এবং পাতা ও ফল ঝরে পড়তে (অ্যাবসিশন) সাহায্য করে।

প্রাণী হরমোন ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি

১১. পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

- উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে একাধিক ট্রপিক হরমোন (যেমন—TSH, ACTH, GTH ইত্যাদি) ক্ষরিত হয়, যেগুলি শরীরের অন্যান্য প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিগুলির (যেমন—থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, গোনাড বা জননাঙ্গ) ক্ষরণ এবং কার্যাবলীকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। যেহেতু এটি অন্যান্য গ্রন্থির উপর প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে, তাই পিটুইটারিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয়।

১২. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের কার্যাবলী পরস্পরের বিপরীতমুখী—ব্যাখ্যা করো।

- উত্তর: অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিপরীতভাবে কাজ করে:

১. ইনসুলিন: এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হলে তাকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত হতে সাহায্য করে (গ্লাইকোজেনেসিস), ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়।

২. গ্লুকাগন: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে এটি সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে সরবরাহ করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস), ফলে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

১৩. অ্যাড্রেনালিন হরমোনকে 'আপৎকালীন হরমোন' বা 'ফাইট অর ফ্লাই' হরমোন বলা হয় কেন?

- উত্তর: ভয়, রাগ, উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা বা বিপদের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে এই হরমোন দ্রুত ক্ষরিত হয়। এই হরমোন হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও শ্বাসকার্য বাড়িয়ে দেয়, পেশিতে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং দেহকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য বা দ্রুত পালিয়ে বাঁচার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এই কারণে অ্যাড্রেনালিনকে আপৎকালীন বা 'ফাইট অর ফ্লাই' হরমোন বলা হয়।

১৪. থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণে শিশুদের ও প্রাপ্তবয়স্কদের কী কী সমস্যা বা রোগ দেখা যায়?

- উত্তর:

১. শিশুদের ক্ষেত্রে: থাইরক্সিনের স্বল্পক্ষরণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় এবং তারা বামনাকৃতি ও কম বুদ্ধিসম্পন্ন বা বোকা হয়, এই অবস্থাকে ক্রেটিনিজম বলে।

২. প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হরমোন কমলে বিপাক হার কমে যায়, শরীর ভারী হয় এবং ত্বক শুষ্ক ও পুরু হয়ে যায়, যাকে মিক্সিডিমা বলে।

১৫. ডায়াবেটিস মেলিটাস ও ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস রোগের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর:

১. কারণ: ডায়াবেটিস মেলিটাস হয় ইনসুলিন হরমোনের অভাবে, আর ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস হয় ADH (ভ্যাসোপ্রেসিন) হরমোনের অভাবে।

২. রক্তে শর্করা: ডায়াবেটিস মেলিটাসে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও মূত্রে শর্করার উপস্থিতি দেখা যায়, আর ডায়াবেটিস ইনসিপিটাসে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

৩. মূত্রের পরিমাণ: মেলিটাসে অতিরিক্ত মূত্রত্যাগের সাথে শর্করা নির্গত হয়, আর ইনসিপিটাসে ঘন ঘন ও অতিরিক্ত পরিমাণে জলবৎ পাতলা মূত্রত্যাগ ঘটে।

স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুকোষ (নিউরন)

১৬. একটি আদর্শ নিউরনের চিহ্নিত চিত্রের প্রধান তিনটি অংশের বিবরণ দাও।

- উত্তর: আদর্শ নিউরনের প্রধান তিনটি অংশ হলো—

১. কোষদেহ (Cell Body বা Cyton): এটি নিউরনের প্রধান স্ফীত অংশ, যার মধ্যে নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম এবং নিজল দানা থাকে। এটি বিপাকীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

২. ডেনড্রন ও ডেনড্রাইট: কোষদেহ থেকে উৎপন্ন ক্ষুদ্র ও শাখা-প্রশাখা যুক্ত প্রবর্ধকগুলি যা অন্য নিউরন থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে কোষদেহের দিকে নিয়ে আসে।

৩. অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন দীর্ঘ একক প্রবর্ধক, যার ওপর মায়োলিন আবরণী থাকে। এটি স্নায়ুস্পন্দনকে কোষদেহ থেকে দূরে অন্য নিউরন বা কারক অঙ্গে বহন করে।

১৭. অ্যাক্সন ও ডেনড্রনের মধ্যে তিনটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লেখো।

- উত্তর:

১. সংখ্যা: একটি নিউরণে অ্যাক্সন সাধারণত সংখ্যায় একটি থাকে, কিন্তু ডেনড্রন সংখ্যায় একাধিক হতে পারে।

২. দৈর্ঘ্য: অ্যাক্সন সাধারণত দীর্ঘ প্রকৃতির হয়, অন্যদিকে ডেনড্রন ও ডেনড্রাইটগুলি তুলনামূলকভাবে খাটো ও শাখা-প্রশাখা যুক্ত হয়।

৩. পরিবহন দিক: অ্যাক্সন স্নায়ুস্পন্দনকে কোষদেহ থেকে পরিবাহক বা কারক অঙ্গের দিকে নিয়ে যায়, আর ডেনড্রন উদ্দীপনাকে গ্রাহক থেকে কোষদেহের দিকে নিয়ে আসে।

১৮. সাইন্যাপস কী এবং এর কাজ কী? স্নায়ুস্পন্দন কীভাবে সাইন্যাপস পার হয়?

- উত্তর: দুটি পরপর নিউরনের সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে।

কাজ: সাইন্যাপস এক নিউরন থেকে অন্য নিউরণে স্নায়ুবার্তা প্রেরণ করে।

পদ্ধতি: যখন স্নায়ুস্পন্দন অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে পৌঁছায়, তখন সেখান থেকে নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক পদার্থ (যেমন—অ্যাসিটাইল কোলিন) সাইন্যাপটিক ফাঁদে মুক্ত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের গ্রাহককে উদ্দীপিত করে এবং এভাবে স্নায়ুস্পন্দন পরবর্তী নিউরণে স্থানান্তরিত হয়।

১৯. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বলতে কী বোঝো? মস্তিষ্ক ও সুষুষ্ণাকাণ্ডের প্রধান কাজগুলি সংক্ষেপে লেখো।

- উত্তর: মানব দেহের মস্তিষ্ক এবং সুষুষ্ণাকাণ্ড (Spinal Cord) নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।

কাজ:

১. মস্তিষ্ক: চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, ইচ্ছা, সংবেদনশীলতা গ্রহণ এবং দেহের বিভিন্ন ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।

২. সুষুষ্ণাকাণ্ড: এটি মস্তিষ্ক ও দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে এবং সমস্ত সুষুষ্ণাকীয় প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

২০. মেনিনজেস ও সেরিব্রস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF)-এর অবস্থান ও কাজ লেখো।

- উত্তর:

মেনিনজেস: এটি মস্তিষ্ক ও সুষুষ্ণাকাণ্ডকে ঘিরে থাকা তিনটি সুরক্ষামূলক ঝিল্লি বা পর্দা (ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড ও পিয়ামেটার)। এর কাজ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আঘাত ও যান্ত্রিক ধকল থেকে রক্ষা করা।

সেরিব্রস্পাইনাল ফ্লুইড (CSF): এটি মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল এবং মেনিনজেসের সাব-অ্যারাকনয়েড ফাঁকে থাকে। এর কাজ মস্তিষ্ককে পুষ্টি সরবরাহ করা এবং জলের কুশনের মতো কাজ করে আঘাত থেকে রক্ষা করা।

প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও স্নায়ুতন্ত্রের অন্যান্য বিভাগ

২১. প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথের মধ্যে সম্পর্ক কী? প্রতিবর্ত পথের ধাপগুলি ক্রমানুসারে লেখো।

- উত্তর: প্রতিবর্ত ক্রিয়া হলো উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়ার একটি অনৈচ্ছিক স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, আর যে নির্দিষ্ট পথ ধরে এই ক্রিয়ার স্নায়ুবার্তা প্রবাহিত হয় তাকে প্রতিবর্ত পথ বলে। প্রতিবর্ত পথের ধাপ বা উপাদানগুলি হলো:

১. গ্রাহক অঙ্গ (Receptor)

২. অন্তর্বাহী স্নায়ু (Sensory Nerve)

৩. স্নায়ুকেন্দ্র (CNS / Spinal Cord)

৪. বহির্বাহী স্নায়ু (Motor Nerve)

৫. কারক অঙ্গ (Effector)

২২. জন্মগত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে তিনটি পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।

- উত্তর:

১. উৎস: জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্ম থেকেই স্বাভাবিকভাবে প্রাপ্ত হয়, কিন্তু অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মসূত্রে থাকে না, বরং জীবনদশায় বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হয়।

২. অভিজ্ঞতা: জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না, আর অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অনুশীলন বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

৩. উদাহরণ: জন্মগত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ হলো—চোখে তীব্র আলো পড়লে পাতা বন্ধ হওয়া বা সদ্যজাতের স্তন্যপান। অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদাহরণ হলো—সাইকেল চালানো বা পিয়ানো বাজানো শেখা।

২৩. মানব মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশের নাম লেখো এবং গুরুমস্তিষ্কের দুটি কাজ উল্লেখ করো।

- উত্তর: মানব মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ হলো—

১. গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিভ্রাম

২. লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম

৩. কাণ্ড বা ব্রেনটেম (মেডালা অবলংগাটা ইত্যাদি)

গুরুমস্তিষ্কের কাজ:

১. চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচারশক্তি ও চেতনা নিয়ন্ত্রণ করা।

২. শরীরের সমস্ত ঐচ্ছিক পেশির সঞ্চালন ও জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলির কাজ নিয়ন্ত্রণ করা।

২৪. লঘুমস্তিষ্ক ও মেডালা অবলংগাটার একটি করে প্রধান কাজ লেখো।

- উত্তর:

লঘুমস্তিষ্ক: এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ঐচ্ছিক পেশির কাজগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বা সামঞ্জস্য বজায় রাখে।

মেডালা অবলংগাটা: এটি দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনৈচ্ছিক কাজগুলি যেমন—হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, রক্তচাপ ও গিলে ফেলা নিয়ন্ত্রণ করে।

২৫. সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যাবলী পরস্পরের বিপরীত—উভয়ের একটি করে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

- উত্তর: স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের এই দুটি অংশ শরীরের অনৈচ্ছিক অঙ্গগুলির ওপর বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলে:

১. সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: এটি আপৎকালীন সময়ে হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং পিউপিল প্রসারিত করে (যেমন ভয় বা উত্তেজনার সময়)।

২. প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: এটি স্বাভাবিক ও বিশ্রামরত অবস্থায় হৃদস্পন্দন কমিয়ে দেয় এবং পিউপিলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

চোখের গঠন, দৃষ্টি ত্রুটি ও প্রাণীদের গমন

২৬. চোখের উপযোজন বলতে কী বোঝো? কাছের বস্তু দেখার সময় চোখের লেন্স ও সিলিয়ারি পেশির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?

- উত্তর: সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করে কাছের বা দূরের বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় প্রতিবিম্বিত করার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।

কাছের বস্তু দেখার সময়: সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয়, ফলে সাসপেনসারি লিগামেন্ট ঢিলা হয়ে যায়। এর ফলে লেন্স তার স্থিতিস্থাপকতার জন্য বেশি উত্তল বা গোল হয় এবং ফোকাস দূরত্ব কমে যায়।

২৭. মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া ত্রুটি কেন ঘটে এবং এগুলি সংশোধনের উপায় কী?

- উত্তর:

১. মায়োপিয়া (নিকটদৃষ্টি): নেত্রগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ হলে বা কর্নিয়া ও লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বাড়লে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়। এটি সংশোধনের জন্য অবতল লেন্স (Concave lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়।

২. হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরদৃষ্টি): নেত্রগোলকের আকার ছোট হয়ে গেলে বা লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা কমলে কাছের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে গঠিত হয়। এটি সংশোধনের জন্য উত্তল লেন্স (Convex lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়।

২৮. রড কোশ ও কোন কোশের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর:

১. রঞ্জক পদার্থ: রড কোশে রোডপসিন (Rhodopsin) নামক রঞ্জক থাকে, অন্যদিকে কোন কোশে আয়োডপসিন (Iodopsin) নামক রঞ্জক থাকে।

২. আলোর সংবেদনশীলতা: রড কোশ অত্যন্ত মৃদু বা কম আলোতে দেখতে সাহায্য করে, আর কোন কোশ উজ্জ্বল আলো ও বর্ণ বা রঙ চিনতে সাহায্য করে।

৩. আকৃতি ও প্রাচুর্য: রড কোশগুলি রডের মতো লম্বা ও সংখ্যায় রেটিনায় অনেক বেশি থাকে, আর কোন কোশগুলি কোন বা শঙ্কু আকৃতির ও সংখ্যায় তুলনামূলক কম হয়।

২৯. রুই মাছের গমনে পটকার ভূমিকা কী?

- উত্তর: রুই মাছের জলীয় উদরগহ্বরে পটকা অবস্থিত, যার সম্মুখ ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে গ্যাস উৎপাদিত বা শোষিত হয়। মাছ যখন জলের গভীরে যেতে চায়, তখন পটকা গ্যাস শোষণ করে তার আপেক্ষিক গুরুত্ব বাড়িয়ে ভারী হয় এবং সহজে নিচে নামে। আবার মাছ জলের উপরে ভেসে উঠতে চাইলে পটকা গ্যাস উৎপাদন করে আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে হালকা হয় এবং সহজে ভেসে থাকে। এইভাবে পটকা মাছের গভীরতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৩০. চলন ও গমনের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য ছক বা পয়েন্ট আকারে লেখো।

- উত্তর:

১. স্থান পরিবর্তন: চলনে জীব একই স্থানে স্থির থেকে শুধুমাত্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে, কিন্তু গমনে জীব সমগ্র শরীরকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করে।

২. স্থানান্তর আবশ্যকতা: চলনের জন্য সমগ্র দেহের স্থান পরিবর্তন আবশ্যক নয়, কিন্তু গমনের ক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন বাধ্যতামূলক।

৩. উদ্দেশ্য: চলন মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাক বা সুরক্ষার জন্য ঘটে (যেমন গাছের পাতা নড়া), আর গমন প্রধানত খাদ্য অন্বেষণ, আশ্রয় লাভ বা প্রতিকূল পরিবেশ এড়ানোর জন্য ঘটে।


মান - ৫ 


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির প্রথম অধ্যায় "জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ২০টি পাঁচ নম্বরের (5 Marks) প্রশ্ন ও নিচে তাদের আদর্শ মানানসই উত্তর বা কাঠামোগত পয়েন্টগুলি দেওয়া হলো:

১. উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা আলোচনা করো।

ভূমিকা: উদ্ভিদের আলোকবর্তিতা (ফটোট্রপিক) এবং অভিকর্ষবর্তিতা (জিওট্রপিক) চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন (IAA) হরমোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আলোকবর্তিতায় (Phototropism) অক্সিনের ভূমিকা:

১. উদ্ভিদের কাণ্ডের অগ্রভাগে অক্সিন সংশ্লেষিত হয়।

২. উদ্ভিদের কাণ্ডে যখন একপাশ থেকে আলো পড়ে, তখন আলোর বিপরীত পার্শ্বে বা ছায়াযুক্ত অংশে অক্সিনের ঘনত্ব বেশি পরিমাণে জমা হয়।

৩. অক্সিনের প্রভাবে আলোর বিপরীত দিকের কোষগুলি দ্রুত দীর্ঘ হয়, ফলে কাণ্ডের আলোকিত দিকটি কম বৃদ্ধি পায় এবং অন্ধকার দিকটি বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাণ্ড আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।

অভিকর্ষবর্তিতায় (Geotropism) অক্সিনের ভূমিকা:

১. উদ্ভিদের মূলে অভিকর্ষের প্রভাবে অক্সিন নিচের দিকে বেশি মাত্রায় সংগৃহীত হয়।

২. মূলে অক্সিনের উচ্চ ঘনত্ব কোষের দীর্ঘীকরণকে ত্বরান্বিত না করে বরং বাধা দেয়। ফলে মূলের উপরের দিকের কোষগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মূল অভিকর্ষের অনুকূলে নিচের দিকে বেঁকে যায়।

২. উদ্ভিদ হরমোনের (অক্সিন, জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন) তিনটি প্রধান কাজ উদাহরণসহ লেখো।

অক্সিনের কাজ:

১. কোষ দীর্ঘীকরণ: এটি কোষপ্রাচীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে কোষের আকার ও দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২. অগ্রমুকুলের প্রাধান্য: এটি অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি ঘটিয়ে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

৩. পার্থেনোকার্পি: কৃত্রিম উপায়ে নিষেক ছাড়াই বীজহীন ফল (যেমন আঙুর, লেবু) উৎপাদনে সাহায্য করে।

জিব্বেরেলিনের কাজ:

১. পর্বমধ্যের দীর্ঘতা বৃদ্ধি: এটি উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য দ্রুত বৃদ্ধি ঘটিয়ে খর্বাকৃতির উদ্ভিদের কাণ্ড লম্বা করে (বোল্টিং ঘটায়)।

২. সুপ্তদশা ভঙ্গ: বীজ ও মুকুলের সুপ্তদশা ভেঙে অঙ্কুরোদগম ত্বরান্বিত করে।

৩. ফল গঠন: ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

সাইটোকাইনিনের কাজ:

১. কোষ বিভাজন: এটি সাইটোকাইনসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজনকে সরাসরি উদ্দীপিত করে।

২. জরা বিলম্বিত করা: পাতায় ক্লোরোফিল দীর্ঘস্থায়ী করে উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা প্রক্রিয়া মন্থর করে (রিচমন্ড-ল্যাং এফেক্ট)।

৩. পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি: অগ্রমুকুলের প্রাধান্য দূর করে পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩. ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের পারস্পরিক বিপরীতমুখী কাজ কীভাবে মানবদেহে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, তা ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকা: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বিটা কোশ থেকে ইনসুলিন এবং আলফা কোশ থেকে গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরিত হয়। এই দুটি হরমোন রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বিপরীতভাবে কাজ করে সামঞ্জস্য বজায় রাখে।

ইনসুলিনের ভূমিকা (শর্করা হ্রাসকারী):

১. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে (যেমন খাবারের পর) ইনসুলিন ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়।

২. এটি অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ ও পেশিকোষে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত হতে সাহায্য করে (গ্লাইকোজেনেসিস)।

৩. এটি কোষ কর্তৃক গ্লুকোজের গ্রহণে ও জারণে সাহায্য করে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়।

গ্লুকাগনের ভূমিকা (শর্করা বৃদ্ধকারী):

১. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে (যেমন উপবাসের সময়) গ্লুকাগন ক্ষরিত হয়।

২. এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে রক্তে সরবরাহ করে (গ্লাইকোজেনোলাইসিস)।

৩. এভাবে ইনসুলিন ও গ্লুকাগনের যৌথ ও বিপরীতমুখী ক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা সর্বদা স্বাভাবিক (প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম/১০০ মিলি রক্ত) থাকে।

৪. পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বা প্রধান গ্রন্থি বলা হয় কেন? এর প্রধান অংশগুলি থেকে ক্ষরিত হরমোনগুলির নাম লেখো।

মাস্টার গ্ল্যান্ড বলার কারণ: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে একাধিক ট্রপিক হরমোন ক্ষরিত হয়, যেগুলি শরীরের অন্যান্য প্রধান অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন—থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, গোনাড বা জননাঙ্গ) ক্ষরণ এবং কার্যাবলীকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। যেহেতু এটি অন্যান্য গ্রন্থির উপর প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে, তাই পিটুইটারিকে 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' বলা হয়।

পিটুইটারি গ্রন্থির প্রধান অংশ ও হরমোনসমূহ:

১. অ্যান্টেরিওর পিটুইটারি বা অগ্রপ্রকোষ্ঠ: এখান থেকে সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH বা গ্রোথ হরমোন), থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH), গোনাডোট্রপিক হরমোন (FSH ও LH) এবং প্রোল্যাকটিন (LTH) ক্ষরিত হয়।

২. পোস্টেরিওর পিটুইটারি বা পশ্চাৎপ্রকোষ্ঠ: এটি মূলত হাইপোথ্যালামাসের উৎপাদিত অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন (ADH বা ভ্যাসোপ্রেসিন) এবং অক্সিটোসিন হরমোন সঞ্চয় ও মুক্ত করে।

৫. মানব চোখের লেন্সের উপযোজন প্রক্রিয়াটি চিত্রসহ বা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো।

উপযোজনের সংজ্ঞা: সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করে কাছের বা দূরের বস্তুকে স্পষ্টভাবে রেটিনায় প্রতিবিম্বিত করার ক্ষমতাকে উপযোজন বলে।

দূরের বস্তু দেখার সময় উপযোজন:

১. যখন অনেক দূরের বস্তু দেখা হয়, তখন সিলিয়ারি পেশি শিথিল বা প্রসারিত হয়।

২. এর ফলে সাসপেনসারি লিগামেন্টগুলিতে টানটান ভাব বা সংকোচন ঘটে।

৩. এর টানে লেন্স পাতলা বা চ্যাপ্টা হয়ে যায়, ফলে ফোকাস দূরত্ব বৃদ্ধি পায় এবং দূরের বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় গঠিত হয়।

কাছের বস্তু দেখার সময় উপযোজন:

১. যখন কাছের বস্তু দেখা হয়, তখন সিলিয়ারি পেশি সংকুচিত হয়।

২. এর ফলে সাসপেনসারি লিগামেন্টগুলি ঢিলা হয়ে যায় এবং লেন্সের ওপর থেকে টান কমে যায়।

৩. লেন্স তার নিজস্ব স্থিতিস্থাপকতার গুণের জন্য বেশি উত্তল বা গোল আকার ধারণ করে, ফলে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং কাছের বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় গঠিত হয়।

৬. একটি আদর্শ নিউরনের গঠন বর্ণনা করো এবং এর প্রধান অংশগুলির কাজ লেখো।

গঠন: একটি আদর্শ নিউরন বা স্নায়ুকোষ প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত— কোষদেহ এবং প্রবর্ধিত অংশ (অ্যাক্সন ও ডেনড্রন)।

প্রধান অংশ ও তাদের কাজ:

১. কোষদেহ (Cyton): এটি নিউরনের প্রধান স্ফীত অংশ, যার ভেতরে নিউক্লিয়াস, সাইটোপ্লাজম ও নিজল দানা থাকে। এটি বিপাকীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং কোষের পুষ্টি জোগায়।

২. ডেনড্রন ও ডেনড্রাইট: কোষদেহ থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখা যুক্ত ক্ষুদ্র প্রবর্ধকগুলি সংকেত গ্রহণ করে কোষদেহের দিকে নিয়ে আসে।

৩. অ্যাক্সন (Axon): এটি কোষদেহ থেকে উৎপন্ন দীর্ঘ একক প্রবর্ধক, যার বাইরে মায়োলিন আবরণী থাকে। এটি স্নায়ুস্পন্দনকে কোষদেহ থেকে দূরে অন্য নিউরন বা কারক অঙ্গে বহন করে নিয়ে যায়।

৭. প্রতিবর্ত পথ (Reflex Arc) কাকে বলে? একটি চিত্র বা ধাপের মাধ্যমে প্রতিবর্ত পথের বিবরণ দাও।

সংজ্ঞা: যে নির্দিষ্ট পথ ধরে কোনো প্রতিবর্ত ক্রিয়ার উদ্দীপনা গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ুকেন্দ্রে এবং সেখান থেকে কারক অঙ্গে পরিবাহিত হয়, তাকে প্রতিবর্ত পথ বলে।

প্রতিবর্ত পথের ধাপসমূহ:

১. গ্রাহক অঙ্গ (Receptor): ত্বকের বা ইন্দ্রিয়ের যে অংশ পরিবেশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে (যেমন—হাতে হঠাৎ গরম সুচ ফুটলে ত্বকের রিসেপ্টর)।

২. অন্তর্বাহী স্নায়ু (Sensory Nerve): এই স্নায়ুতন্তু সংকেত বা উদ্দীপনাকে গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (সুষুষ্ণাকাণ্ডে) পৌঁছে দেয়।

৩. স্নায়ুকেন্দ্র (Integration Center / Spinal Cord): সুষুষ্ণাকাণ্ডের ধূসর পদার্থের মধ্যবর্তী অংশ এই সংকেত বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত নির্দেশ তৈরি করে।

৪. বহির্বাহী স্নায়ু (Motor Nerve): এই স্নায়ুতন্তু সুষুষ্ণাকাণ্ডের নির্দেশ বা সাড়া বহন করে কারক অঙ্গের দিকে নিয়ে যায়।

৫. কারক অঙ্গ (Effector): পেশি বা গ্রন্থি এই নির্দেশ পেয়ে সাড়া দেয় (যেমন—হাত সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে নেওয়া)।

৮. ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের মধ্যে ৫টি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর ছক বা পয়েন্ট আকারে:

১. নিয়ন্ত্রণ: ট্রপিক চলন উদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কিন্তু ন্যাস্টিক চলন উদ্দীপকের উৎসের তীব্রতা বা স্থায়িত্ব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২. বৃদ্ধির ভূমিকা: ট্রপিক চলন উদ্ভিদের বৃদ্ধিজনিত গতি (অঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে বাঁকে), অপরদিকে অধিকাংশ ন্যাস্টিক চলন রসস্ফীতিজনিত বা গতিজনিত চলন।

৩. দিক পরিবর্তন: ট্রপিক চলন একমুখী ও নির্দিষ্ট অভিমুখে হয় (যেমন আলোর দিকে কাণ্ডের বৃদ্ধি), আর ন্যাস্টিক চলন ব্যাপ্ত বা চারিদিকে সমানভাবে প্রসারিত হতে পারে (যেমন লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যাওয়া)।

৪. উদ্দীপকের প্রকৃতি: ট্রপিক চলনে আলো, অভিকর্ষ বা জলের মতো নির্দিষ্ট দিকমুখী উদ্দীপক কাজ করে, আর ন্যাস্টিক চলনে স্পর্শ, তাপমাত্রা বা তীব্র আলোর মতো তীব্রতাভিত্তিক উদ্দীপক কাজ করে।

৫. উদাহরণ: ট্রপিক চলনের উদাহরণ হলো উদ্ভিদের ফটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন, এবং ন্যাস্টিক চলনের উদাহরণ হলো লজ্জাবতীর সিসমোন্যাস্টিক ও পদ্ম ফুলের ফোটোন্যাস্টিক চলন।

৯. হরম ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজের মধ্যে ৫টি প্রধান পার্থক্য আলোচনা করো।

উত্তর পয়েন্ট আকারে:

১. প্রকৃতি: স্নায়ুতন্ত্র মূলত তড়িৎ-রাসায়নিক বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে কাজ করে, আর হরমোন রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে।

২. গতিবেগ: স্নায়ুর মাধ্যমে স্নায়ুস্পন্দন খুব দ্রুত বা মুহূর্তের মধ্যে পরিবাহিত হয়, অন্যদিকে হরমোনের পরিবহন ও কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হয়।

৩. স্থায়িত্ব: স্নায়ুর কাজের প্রভাব খুব ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু হরমোনের কাজের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৪. পরিবহন পথ: স্নায়ুবার্তা স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পথে পরিবাহিত হয়, আর হরমোন রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

৫. নিয়ন্ত্রণ: স্নায়ুতন্ত্র তাৎক্ষণিক ও দ্রুত প্রতিক্রিয়শীল কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন প্রতিবর্ত ক্রিয়া), আর হরমোন দীর্ঘমেয়াদী বিপাক, বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে।

১০. মানব মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশের নাম লেখো এবং প্রতিটির একটি করে প্রধান কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

প্রধান তিনটি অংশ:

১. গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিভ্রাম

২. লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম

৩. কাণ্ড বা ব্রেনটেম (যেমন মেডালা অবলংগাটা ও পনস)

অংশগুলির প্রধান কাজ:

১. গুরুমস্তিষ্ক: এটি চিন্তা, বুদ্ধি, স্মৃতি, বিচারশক্তি, চেতনা এবং শরীরের সমস্ত ঐচ্ছিক পেশির সঞ্চালন ও জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে।

২. লঘুমস্তিষ্ক: এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ঐচ্ছিক পেশির কাজগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বা সামঞ্জস্য বজায় রাখে।

৩. মেডালা অবলংগাটা (মস্তিষ্ক কাণ্ড): এটি দেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনৈচ্ছিক কাজগুলি যেমন—হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, রক্তচাপ ও গিলে ফেলা নিয়ন্ত্রণ করে।

১১. মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া দৃষ্টি ত্রুটি কেন ঘটে? উপযুক্ত চিত্র বা লেন্সের সাহায্যে এগুলি কীভাবে সংশোধন করা যায় তা ব্যাখ্যা করো।

মায়োপিয়া (নিকটদৃষ্টি ত্রুটি):

কারণ: নেত্রগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ হলে বা কর্নিয়া ও লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে গেলে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার সামনে গঠিত হয়, ফলে দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা যায় না।

সংশোধন: এটি সংশোধনের জন্য উপযুক্ত ক্ষমতার অবতল লেন্স (Concave lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়, যা আলোকরশ্মিকে অপসৃত করে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে।

হাইপারমেট্রোপিয়া (দূরদৃষ্টি ত্রুটি):

কারণ: নেত্রগোলকের আকার ছোট হয়ে গেলে বা লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা কমে গেলে কাছের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার পেছনে গঠিত হয়, ফলে কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

সংশোধন: এটি সংশোধনের জন্য উপযুক্ত ক্ষমতার উত্তল লেন্স (Convex lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়, যা আলোকরশ্মিকে অভিসারী করে সঠিক রেটিনায় প্রতিবিম্ব ফেলতে সাহায্য করে।

১২. মাছের গমনে পটকার ভূমিকা সবিস্তারে আলোচনা করো।

ভূমিকা: রুই ও অন্যান্য অস্থিযুক্ত মাছের জলীয় উদরগহ্বরে খাদ্যনালীর পৃষ্ঠদেশে পটকা অবস্থিত। পটকা মাছের প্রধানত উদরীয় ভারসাম্য রক্ষা ও গভীরতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

গঠনগত কাজ: পটকা দুটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত—সম্মুখ প্রকোষ্ঠ এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ। এর ভেতরে রেড গ্রন্থি (গ্যাস উৎপাদনকারী) এবং ওভাল (গ্যাস শোষণকারী) অংশ থাকে।

গভীতার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া:

১. জলের নিচে নামা: মাছ যখন জলের গভীরে ডুবতে চায়, তখন রেড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায় এবং ওভাল উন্মুক্ত হয়ে গ্যাস শোষিত হয়। এর ফলে মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং মাছ ভারী হয়ে সহজে জলের গভীরে নেমে যায়।

২. জলের ওপরে ওঠা: মাছ যখন জলের উপরিভাগে উঠতে চায়, তখন রেড গ্রন্থি থেকে গ্যাস উৎপাদিত হয়ে পটকার প্রকোষ্ঠে গ্যাস পূর্ণ হয়। এর ফলে মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস পায় এবং মাছ হালকা হয়ে সহজে জলের ওপরে ভেসে ওঠে।

১৩. উদ্ভিদ হরমোন ও প্রাণী হরমোনের মধ্যে ৫টি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর পয়েন্ট আকারে:

১. উৎপত্তি: উদ্ভিদ হরমোন সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থিহীন ভাজক কলা বা কচি অংশ থেকে ক্ষরিত হয়, অন্যদিকে প্রাণী হরমোন বিশেষ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা কোশগুচ্ছ থেকে ক্ষরিত হয়।

২. পরিবহন: উদ্ভিদ হরমোন জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বা ব্যাপরণ প্রক্রিয়ায় বাহিত হয়, আর প্রাণী হরমোন প্রধানত রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।

৩. নির্দিষ্টতা: উদ্ভিদ হরমোনের কার্যকারিতা কিছুটা কম নির্দিষ্ট, কিন্তু প্রাণী হরমোনগুলির কাজ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যঅঙ্গভিত্তিক।

৪. রাসায়নিক প্রকৃতি: উদ্ভিদ হরমোনগুলি সাধারণত সরল জৈব যৌগ (যেমন ইন্ডোল বর্গ বা টারপিনয়েড), আর প্রাণী হরমোনগুলি প্রোটিনধর্মী, পেপটাইড বা স্টেরয়েড প্রকৃতির হতে পারে।

৫. নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: উদ্ভিদ হরমোনের ক্ষরণ সরাসরি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, কিন্তু অধিকাংশ প্রাণী হরমোনের ক্ষরণ স্নায়ুতন্ত্র ও পিটুইটারির যৌথ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

১৪. ডায়াবেটিস মেলিটাস (Madhumeha) এবং ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস রোগের কারণ ও লক্ষণগুলি আলোচনা করো।

ডায়াবেটিস মেলিটাস:

কারণ: অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্সের বিটা কোশ থেকে ইনসুলিন হরমোনের অপর্যাপ্ত ক্ষরণ বা ব্যর্থতার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

ল লক্ষণ: রক্ত ও মূত্রে গ্লুকোজের উপস্থিতি, ঘন ঘন ও অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ (পলিউরিয়া), অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ক্ষুধা পাওয়া এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।

ডায়াবেটিস ইনসিপিটাস:

কারণ: পিটুইটারির পশ্চাৎপ্রকোষ্ঠ বা হাইপোথ্যালামাস থেকে ক্ষরিত ADH (অ্যান্টিডাইউরেটিক হরমোন বা ভ্যাসোপ্রেসিন) এর অভাবে এই রোগ হয়।

লক্ষণ: রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু বৃক্কে জলের পুনঃশোষণ ব্যাহত হওয়ার ফলে অত্যন্ত পাতলা ও জলবৎ প্রচুর পরিমাণে মূত্রত্যাগ ঘটে এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা পায়।

১৫. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (Autonomic Nervous System) বলতে কী বোঝো? এর দুটি বিভাগের বিপরীতমুখী কাজ আলোচনা করো।

সংজ্ঞা: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে যে পরিধিগত স্নায়ুতন্ত্র মানবদেহের সমস্ত অনৈচ্ছিক অঙ্গগুলির (যেমন হৃৎপিণ্ড, পাকস্থলী, রক্তনালী) কার্যাবলী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। এটি সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

দুটি বিভাগের বিপরীতমুখী কাজ:

১. সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: এটি আপৎকালীন বা উত্তেজনার সময়ে সক্রিয় হয়। এটি হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, শ্বাসনালী প্রসারিত করে, পিউপিল বড় করে এবং দেহকে বিপদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে।

২. প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: এটি শান্ত ও বিশ্রামরত অবস্থায় সক্রিয় হয়। এটি সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর ঠিক উল্টো কাজ করে—হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমিয়ে দেয়, পাচনতন্ত্রের ক্ষরণ বাড়ায় এবং শক্তি সংরক্ষণ করে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

১৬. উদ্ভিদের ফটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন পরীক্ষার সাহায্যে বা সুনির্দিষ্ট উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দাও।

ফটোট্রপিক চলন (আলোকবর্তিতা):

পরীক্ষা/ব্যাখ্যা: একটি টবে লাগানো চারাগাছকে যদি ঘরের জানালার ধারে রেখে বাইরে থেকে এক দিক থেকে আলো প্রবেশ করানো হয়, তবে দেখা যাবে গাছটির কাণ্ড ধীরে ধীরে আলোর উৎসের দিকে বেঁকে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাণ্ডের এই আলোকমুখী বক্রবৃদ্ধিকে ফটোট্রপিক চলন বলে, যা অক্সিনের অসম বণ্টনের কারণে ঘটে।

জিওট্রপিক চলন (অভিকর্ষজ চলন):

পরীক্ষা/ব্যাখ্যা: একটি চারাগাছকে অনুভূমিকভাবে (শুয়ে) মাটিতে রেখে দিলে কিছুদিন পর দেখা যাবে গাছটির মূল অভিকর্ষের টানে নিচের দিকে (অনুকূল জিওট্রপিক) বেঁকে গেছে এবং কাণ্ড অভিকর্ষের বিরুদ্ধে ওপরের দিকে (প্রতিকূল জিওট্রপিক) সোজা হয়ে বাড়ছে। এটি উদ্ভিদের জিওট্রপিক চলনের স্পষ্ট প্রমাণ।

১৭. পায়রার উড্ডয়নে ডানার পেশি এবং বায়ুথলির (Air Sac) ভূমিকা আলোচনা করো।

ডানার পেশিগুলির ভূমিকা:

১. পেক্টোর্যালিস মেজর পেশি: এটি অত্যন্ত শক্তিশালী পেশি, যা ওড়ার সময় পায়রার ডানাকে নিচের দিকে শক্তিশালী ধাক্কা দিতে সাহায্য করে (ডানাকে নামায়)।

২. পেক্টোর্যালিস মাইনর পেশি: এটি ডানাকে ওপরের দিকে তুলতে সাহায্য করে। এই দুই পেশির ছন্দোবদ্ধ সংকোচনের মাধ্যমেই পায়রা আকাশে ওড়ে।

বায়ুথলি বা এয়ারস্যাকের ভূমিকা:

১. পায়রার ফুসফুসের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত বায়ুথলিগুলি দেহকে অত্যন্ত হালকা রাখতে সাহায্য করে, যা সহজে ওড়ার জন্য উপযোগী।

২. ওড়ার সময় যখন অক্সিজেনের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়, তখন বায়ুথলিগুলি অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং দেহকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে রক্ষা করে।

১৮. মানুষের দ্বিপদ গমন (Bipedal Locomotion) কীভাবে সম্পন্ন হয়? এতে কোন কোন পেশি ও অঙ্গের ভূমিকা আছে?

ভূমিকা: মানুষ তার দুটি পদের বা পায়ের সাহায্যে সোজা হয়ে যে গমন সম্পন্ন করে তাকে দ্বিপদ গমন বলে। এটি অত্যন্ত জটিল এবং সুসংহত স্নায়বিক ও পেশিগত সমন্বয়ের ফল।

গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও পেশির ভূমিকা:

১. মেরুদণ্ড ও শ্রোণীচক্র: মেরুদণ্ডের বিশেষ বক্রতা এবং চওড়া শ্রোণীচক্র দেহকে সোজাভাবে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।

২. পেশিসমূহ: পা ও উরুর পেশিগুলি (যেমন—গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস, হ্যামস্ট্রিং, কোয়াড্রিসেপস) সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে পা কে সামনের দিকে এগিয়ে দেয় এবং শরীরের ভর বহন করে।

৩. মস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক: লঘুমস্তিষ্ক ও অন্তকর্ণের ভেস্টিবুলার অঙ্গ দেহের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে হাঁটার সময় মানুষ পেছনের দিকে বা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে না।

১৯. সাইন্যাপস কী? সাইন্যাপসের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক উপায়ে স্নায়ুস্পন্দন কীভাবে পরিবাহিত হয় তার বর্ণনা দাও।

সাইন্যাপস: দুটি পরপর নিউরনের অ্যাক্সন প্রান্ত ও পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলকে সাইন্যাপস বলে।

স্নায়ুস্পন্দন পরিবহনের পদ্ধতি:

১. যখন স্নায়ুস্পন্দন অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে বা সাইন্যাপটিক নব-এ এসে পৌঁছায়, তখন সেখানে থাকা ভেসিকলগুলি থেকে নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক পদার্থ (যেমন—অ্যাসিটাইল কোলিন) সাইন্যাপটিক ফাঁদের মধ্যে মুক্ত হয়।

২. এই রাসায়নিক বার্তাবাহক পদার্থটি দ্রুত সাইন্যাপটিক ফাঁদ পার হয়ে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের পর্দার ওপর থাকা নির্দিষ্ট গ্রাহক স্থানে বা রিসেপ্টরে এসে আবদ্ধ হয়।

৩. এর ফলে পরবর্তী নিউরনের পর্দার ভেতরের তড়িৎ-রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে এবং সেখানে নতুন স্নায়ুস্পন্দনের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী নিউরনের দিকে পরিবাহিত হতে থাকে।

২০. থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত থাইরক্সিন হরমোনের কাজগুলি আলোচনা করো এবং এর কম বা বেশি ক্ষরণে কী কী রোগ হয় তা লেখো।

থাইরক্সিনের প্রধান কাজ:

১. বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ: এটি কোষের অক্সিজেন গ্রহণ ও বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) নিয়ন্ত্রণ করে।

২. শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি: এটি মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র ও অস্থি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. সমন্বয় সাধন: এটি অন্যান্য হরমোনের সাথে মিলে দেহের শক্তির উৎপাদন ও বিপাক পরিচালনা করে।

অস্বাভাবিক ক্ষরণজনিত রোগ:

১. স্বল্পক্ষরণ (Hyposecretion): শিশুদের থাইরক্সিনের কম ক্ষরণে ক্রেটিনিজম (শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মিক্সিডিমা (ত্বক শুষ্ক ও বিপাক মন্থর হয়) রোগ হয়। খাদ্যে আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড বা গয়টার হয়।

২. অতিক্ষরণ (Hypersecretion): থাইরক্সিনের অতিরিক্ত ক্ষরণে বিপাক হার খুব বেড়ে যায়, শরীর রোগা হতে থাকে, হৃদস্পন্দন বাড়ে এবং চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চায়, যাকে এক্সপথ্যালমিক গয়টার বা গ্রেভস ডিজিজ বলে।


    মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় "জীবনের প্রবাহমানতা" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

কোষচক্র ও কোষ বিভাজন (১ - ২৫)

১. কোষ চক্রের কোন দশায় DNA সংশ্লেষ ঘটে?

উত্তর: (খ) S দশা

২. ক্রোমোজোমের বেম তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে কোন অংশের মাধ্যমে?

উত্তর: (ক) সেন্ট্রোমিয়ার

৩. মানুষের দেহকোষে অটোজোমের সংখ্যা কত?

উত্তর: (গ) ৪৪টি

৪. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি ‘V’, ‘L’, ‘J’ বা ‘I’ আকৃতির হয়?

উত্তর: (ঘ) অ্যানাফেস

৫. উদ্ভিদের গৌণ বৃদ্ধি বা ক্ষত নিরাময়ে কোন কোষ বিভাজন সাহায্য করে?

উত্তর: (ক) মাইটোসিস

৬. মিয়োসিস কোষ বিভাজনে একটি ডিপ্লয়েড (2n) কোষ থেকে কয়টি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি হয়?

উত্তর: (গ) ৪টি

৭. ক্রসিংওভার কোন দশায় ঘটে?

উত্তর: (খ) প্যাচাইজিন (প্রোফেজ-১)

৮. ইন্টারফেজ দশার কোন উপ-দশায় প্রোটিন ও RNA সংশ্লেিত হয়?

উত্তর: (ক) G1 দশা

৯. কোশচক্রের কোন বিন্দুতে ত্রুটি দেখা দিলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

উত্তর: (ঘ) চেকপয়েন্ট (Checkpoints)

১০. সেন্ট্রিজোমের বিভাজন ঘটে মাইটোসিসের কোন দশায়?

- উত্তর: (গ) অ্যানাফেস

১১. কোন কোষ বিভাজনকে 'সমবিভাজন' বলা হয়?

- উত্তর: (ক) মাইটোসিস

১২. উদ্ভিদ কোষে বেম তন্তু গঠন করে কে?

- উত্তর: (খ) মাইক্রোটিউবিউলস

১৩. প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিস ঘটে কোন পদ্ধতিতে?

- উত্তর: (ঘ) ক্লিভেজ ফরো (Cleavage furrow)

৪. উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস ঘটে কীভাবে?

- উত্তর: (গ) সেল প্লেট বা কোষ্পাট গঠনের মাধ্যমে

১৫. ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তের অংশকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (ক) টেলোমর

১৬. নিউক্লিওপর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে কোন দশায়?

- উত্তর: (ঘ) টেলোফেজ

১৭. ক্রোমোজোম প্রধানত কী দ্বারা গঠিত?

- উত্তর: (খ) DNA এবং হিসটোন প্রোটিন

১৮. প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে কোন বিভাজন সাহায্য করে?

- উত্তর: (গ) মিয়োসিস

১৯. অপত্য ক্রোমোজোম গঠিত হয় অ্যানাফেস দশায়, এদের কী বলে?

- উত্তর: (ক) সিস্টার ক্রোমাটিড

২০. বেম তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের কোন অংশ যুক্ত থাকে?

- উত্তর: (ঘ) কাইনেটোচোর

২১. কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি সবচেয়ে স্পষ্ট ও মোটা দেখায়?

- উত্তর: (খ) মেটাফেজ

২২. মানবদেহে যৌন ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: (গ) ২ টি (১ জোড়া)

২৩. জিন কোথায় অবস্থিত?

- উত্তর: (ক) ক্রোমোজোমে

২৪. কোষচক্রের সঠিক ক্রম কোনটি?

- উত্তর: (ঘ) G1 → S → G2 → M

২৫. DNA-এর পুরো নাম কী?

- উত্তর: (খ) ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড

অযৌন ও যৌন জনন (২৬ - ৫০)

২৬. অযৌন জননের একক কোনটি?

- উত্তর: (গ) রেণু বা স্পোর

২৭. ইস্টে কোন পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন হয়?

- উত্তর: (ক) মুকুলোদগম বা বাট্টিং

২৮. অ্যামিবার অযৌন জননের পদ্ধতি কোনটি?

- উত্তর: (ঘ) দ্বিবিভাজন

২৯. স্পাইরোগাইরাতে কোন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন হয়?

- উত্তর: (খ) খণ্ডীভবন

৩০. পিনওয়ার্ম বা প্ল্যানেরিয়াতে কোন প্রক্রিয়ায় জনন ঘটে?

- উত্তর: (গ) পুনরুৎপাদন বা রিেনারেশন

৩১. কোন উদ্ভিদে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন পাতার মাধ্যমে ঘটে?

- উত্তর: (ক) পাথরকুচি

৩২. জোড় কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে যে গাছের মূলসহ অংশটি নেওয়া হয়, তাকে কী বলে?

- উত্তর: (ঘ) স্টক

৩৩. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের একটি পদ্ধতি হলো—

- উত্তর: (খ) কাটিং ও গ্রাফটিং

৩৪. রসুনের স্ফীত কন্দ বা বাল্বের অংশকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (গ) লবঙ্গ বা স্কেল লিফ

৩৫. আদার মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে, আদা হলো একটি—

- উত্তর: (ক) রাইজোম বা গ্রন্থিল কাণ্ড

৩৬. গ্লাডিওলাস বা কচুরিপানায় কোন অঙ্গের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন ঘটে?

- উত্তর: (ঘ) কন্দ বা রানার

৩৭. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেধের পর ডিম্বকমূল কিসে পরিণত হয়?

- উত্তর: (খ) বীজে

৩৮. ডিম্বাশয় পরিণত হয় কিসে?

- উত্তর: (গ) ফলে

৩৯. পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনকে কী বলে?

- উত্তর: (ক) সিগম্যামি বা নিষেধ

৪০. দ্বিনিষেক প্রক্রিয়া কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

- উত্তর: (ঘ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ

৪১. মিয়োসিস ছাড়া অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টিকে কী বলে?

- উত্তর: (খ) অ্যাপোমিক্সিস

৪২. ফার্নের জনুক্রমে কোন দশাটি রেণুধর (Sporophyte)?

- উত্তর: (গ) প্রধান উদ্ভিদ দেহ

৪৩. অযৌন জননের প্রধান সুবিধা কী?

- উত্তর: (ক) কম সময়ে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে

৪৪. যৌন জননে কয়টি জনক জীবের প্রয়োজন হয়?

- উত্তর: (ঘ) দুটি (সাধারণত পুং ও স্ত্রী)

৪৫. রেনুর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে কোন উদ্ভিদ?

- উত্তর: (খ) মিউকর বা রাইলোপাস

৪৬. আলু গাছের মাটির নিচের স্ফীত কাণ্ডকে কী বলে?

- উত্তর: (গ) স্ফীতকন্দ বা টিউবার

৪৭. বুলবিল বা মুকুল কোন গাছে অঙ্গজ জননে সাহায্য করে?

- উত্তর: (ক) গাছ আলু

৪৮. কচুরিপানার খর্বধাবককে ইংরেজিতে কী বলে?

- উত্তর: (ঘ) অফসেট

৪৯. ব্রায়োফাইলাম বা পাথরকুচির পাতার কিনারায় কী জন্মে?

- উত্তর: (খ) পত্রজ মুকুল

৫০. উদ্ভিদের কোন অংশে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের গুটি কলম করা হয়?

- উত্তর: (গ) শাখায়

বংশগতি ও জিনগত বৈশিষ্ট্য (৫১ - ৭৫)

৫১. মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রে প্রথম সূত্রটি কোন নামে পরিচিত?

- উত্তর: (ক) পৃথকীকরণের সূত্র

৫২. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত?

- উত্তর: (ঘ) স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র

৫৩. একসংকর জননে ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: (খ) ৩ : ১

৫৪. একসংকর জননে জিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: (গ) ১ : ২ : ১

৫৫. দ্বিসংকর জননে ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: (ক) ৯ : ৩ : ৩ : ১

৫৬. মানুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারণ করে কোন হরমোন বা ক্রোমোজোম?

- উত্তর: (ঘ) শুক্রাণুতে উপস্থিত X বা Y ক্রোমোজোম

৫৭. হিমোফিলিয়া রোগের ক্ষেত্রে রক্ত তঞ্চনের অভাব ঘটে, এটি কোন ক্রোমোজোম ঘটিত রোগ?

- উত্তর: (খ) X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ

৫৮. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) কোন প্রকৃতির রোগ?

- উত্তর: (গ) লাল-সবুজ বর্ণ চিনতে না পারা

৫৯. থ্যালাসেমিয়া কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: (ক) অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ

৬০. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য তখনই প্রকাশ পায় যখন—

- উত্তর: (ঘ) হোমোজাইগাস অবস্থায় থাকে

৬১. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটরগাছে ফিনোটাইপ কী হবে?

- উত্তর: (খ) দীর্ঘ

৬২. বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) গাছের ক্রসে F1 জনুতে কী উৎপন্ন হবে?

- উত্তর: (গ) সব সংকর দীর্ঘ (Tt) গাছ

৬৩. অ্যালিল (Allele) বা অ্যালিলোমর্ফ কী?

- উত্তর: (ক) সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত জিনের বিপরীত রূপ

৬৪. জিনোটাইপ বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (ঘ) জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন

৬৫. ফিনোটাইপ বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (খ) জীবের বাহ্যিক প্রকাশ বা বৈশিষ্ট্য

৬৬. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?

- উত্তর: (গ) অজ্ঞাত জিনোটাইপ নির্ধারণের জন্য

৬৭. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?

- উত্তর: (ক) F1 জনুর সাথে প্রচ্ছন্ন বা প্রমুদ্ধ জনকের ক্রস

৬৮. মানুষের দেহকোষে মোট ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: (ঘ) ৪৬টি (২৩ জোড়া)

৬৯. মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পুং গ্যামেটে কয়টি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে?

- উত্তর: (খ) ১টি (X বা Y)

৭০. কন্যা সন্তানের জন্ম নির্ভর করে কার ওপর?

- উত্তর: (গ) পিতার শুক্রাণুর ক্রোমোজোমের ওপর

৭১. থ্যালাসেমিয়া রোগে কোন উপাদান ত্রুটিপূর্ণ হয়?

- উত্তর: (ক) হিমোগ্লোবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়

৭২. হিমোফিলিয়াকে আর কী বলা হয়?

- উত্তর: (ঘ) রাজরোগ (Royal Disease)

৭৩. মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য কয়টি বিপরীত বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়েছিলেন?

- উত্তর: (খ) ৭ জোড়া (১৪টি)

৭৪. মটর গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম কী?

- উত্তর: (গ) Pisum sativum

৭৫. মেন্ডেল তার বংশগতির পরীক্ষার জন্য কোন গাছ বেছে নিয়েছিলেন?

- উত্তর: (ক) মটর গাছ

বৈচিত্র্য, বিবর্তন ও অন্যান্য (৭৬ - ১০০)

৭৬. দুটি অপত্য কোষে জিনগতভাবে সদৃশ হলে তাদের কী বলে?

- উত্তর: (ঘ) ক্লোন

৭৭. ক্রসিংওভারের ফলে কী ঘটে?

- উত্তর: (খ) জিনের বিনিময় ও নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব

৭৮. কোষ বিভাজনের কোন দশায় বেম তন্তু অদৃশ্য হয়?

- উত্তর: (গ) টেলোফেজ

৭৯. ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স মডেলের প্রবক্তা কে?

- উত্তর: (ক) ওয়াটসন ও ক্রিক

৮০. নিউক্লিওটাইড কী নিয়ে গঠিত?

- উত্তর: (ঘ) নাইট্রোজেন বেস, পেন্টোজ শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ

৮১. RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে কোন নাইট্রোজেন বেস থাকে?

- উত্তর: (খ) ইউরাসিল (Uracil)

৮২. ক্রোমোজোম শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?

- উত্তর: (গ) ডব্লিউ ওয়ালডিয়ার (W. Waldeyer)

৮৩. বংশগতির জনক কাকে বলা হয়?

- উত্তর: (ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল

৮৪. জিন তত্ত্বের ওপর প্রথম গবেষণা প্রকাশ করেন কে?

- উত্তর: (ঘ) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল (১৮৬৬ সালে)

৮৫. অটোজোম সংক্রান্ত ত্রুটির ফলে মানবদেহে কোন সিন্ড্রোম দেখা দিতে পারে?

- উত্তর: (খ) ডাউন সিন্ড্রোম

৮৬. মানুষের কোন ক্রোমোজোম নিষ্ক্রিয় থাকলে টার্নার সিন্ড্রোম হয়?

- উত্তর: (গ) XO (একটি X ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতি)

৮৭. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ হয়?

- উত্তর: (ক) XXY

৮৮. থ্যালাসেমিয়া রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে কিসের ধ্বংসলীলা বাড়ে?

- উত্তর: (ঘ) লোহিত রক্তকণিকা (RBC)

৮৯. আলফা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: (খ) ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে

৯০. বিটা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: (গ) ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে

৯১. সেক্স-লিংকড বা লিঙ্গ-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন রোগের একটি উদাহরণ হলো—

- উত্তর: (ক) বর্ণান্ধতা

৯২. ক্রসিংওভারের চৌরাস্তা বা আকৃতিকে কী বলে?

- উত্তর: (ঘ) কায়াজমা (Chiasmata)

৯৩. মিয়োসিসের কোন উপ-দশায় কায়াজমা দৃশ্যমান হয়?

- উত্তর: (খ) ডিপ্লোটিন

৯৪. মানুষের হিমোফিলিয়া রোগের জিন বহন করে কে?

- উত্তর: (গ) বাহক মাতা

৯৫. একটি বিশুদ্ধ লম্বা ও একটি বিশুদ্ধ খর্ব গাছের সংকরায়ণে প্রাপ্ত অপত্যদের ফিনোটাইপ কী হবে?

- উত্তর: (ক) সকলেই লম্বা

৯৬. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে একসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাত কত হয়?

- উত্তর: (ঘ) ১ : ২ : ১ (যেমন সন্ধ্যা মালতী গাছে)

৯৭. মিয়োসিস কোষ বিভাজন কোথায় ঘটে?

- উত্তর: (খ) জনন মাতৃকোষে

৯৮. মাইটোসিস কোষ বিভাজন কোথায় ঘটে না?

- উত্তর: (গ) পরিণত স্নায়ুকোষে

৯৯. ক্রোমোজোমের গৌণ খাঁজে কী গঠিত হয়?

- উত্তর: (ক) নিউক্লিওলাস

১০০. মানুষের শরীরের স্বাভাবিক কোষে ক্রোমোজোম ও অটোজোমের অনুপাত কত?

- উত্তর: (ঘ) ৪৪টি অটোজোম ও ২টি সেক্স ক্রোমোজোম


মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় "জীবনের প্রবাহমানতা" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৮০টি SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর) নিচে দেওয়া হলো:

কোষচক্র ও কোষ বিভাজন (১ - ২৫)

১. কোষচক্র (Cell Cycle) কাকে বলে?

উত্তর: যে চক্রাকার আবর্তনের মাধ্যমে একটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের বৃদ্ধি ঘটে এবং পরিশেষে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়, তাকে কোষচক্র বলে।

২. ইন্টারফেজ দশাকে ‘বিশ্রাম দশা’ বলা হয় কেন?

উত্তর: এই দশায় কোষের বাহ্যিক কোনো বিভাজন বা দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে না এবং কোষটি পরবর্তী বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয় ও পুষ্টি সঞ্চয় করে বলে একে বিশ্রাম দশা বলা হয়।

৩. কোষচক্রের চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক বিন্দুগুলির কাজ কী?

উত্তর: কোষচক্রের বিভিন্ন ধাপের ত্রুটি সংশোধন করা এবং চক্রের গতিপ্রকৃতি সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

৪. ডিএনএ (DNA) প্রতিলিপিকরণ কোষচক্রের কোন দশায় ঘটে?

উত্তর: ইন্টারফেজের সংশ্লেষ দশা বা S দশায়।

৫. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে?

উত্তর: প্রোফেজ দশায়।

৬. অ্যানাফেস দশার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ারের দ্বিধাবিভক্ত হওয়া এবং সিস্টার ক্রোমাটিডগুলির বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হওয়া।

৭. সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে?

উত্তর: ক্যারিওকাইনেসিস বা নিউক্লিয়াসের বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

৮. উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে?

উত্তর: সেল প্লেট বা কোষ্পাট গঠনের মাধ্যমে।

৯. প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে?

উত্তর: ক্লিভেজ ফরো (Cleavage furrow) বা পরিধি থেকে ভেতরের দিকে খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে।

১০. মায়োসিস কোষ বিভাজনকে 'হ্রাস বিভাজন' বলা হয় কেন?

- উত্তর: এই বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক বা হ্যাপ্লয়েড (n) হয় বলে একে হ্রাস বিভাজন বলে।

১১. ক্রসিংওভার (Crossing Over) কোন দশায় ঘটে?

- উত্তর: মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায়।

১২. কায়াজমা (Chiasmata) কী?

- উত্তর: ক্রসিংওভারের সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের অ-সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি যেখানে ক্রস বা ইংরেজি 'X' আকৃতির যুক্ত থাকে, সেই স্থানকে কায়াজমা বলে।

১৩. টেলোমর (Telomere) কী?

- উত্তর: ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তের বিশেষ অঞ্চলকে টেলোমর বলে, যা ক্রোমোজোমকে সুরক্ষা দেয়।

১৪. সেন্ট্রোমিয়ার এবং কাইনেটোচোরের কাজ কী?

- উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে যুক্ত রাখে এবং কাইনেটোচোর বেম তন্তুকে ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।

১৫. অপত্য ক্রোমোজোম কাকে বলে?

- উত্তর: অ্যানাফেস দশায় সেন্ট্রোমিয়ার ভেঙে যাওয়ার পর পৃথক হওয়া প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে।

১৬. কোন কোষে মাইটোসিস বিভাজন ঘটে না?

- উত্তর: পরিণত স্নায়ুকোষ ও স্তন্যপায়ীর লোহিত রক্তকণিকায়।

১৭. অমরত্ব (Immortality) কোন জীবে দেখা যায়?

- উত্তর: অ্যামিবা, হাইড্রা বা ব্যাকটেরিয়ার মতো এককোষী বা সরল জীবে।

১৮. বেম তন্তু (Spindle Fiber) কী দিয়ে গঠিত?

- উত্তর: মাইক্রোটিউবিউলস প্রোটিন ও টিউবুলিন দিয়ে গঠিত।

১৯. G1 দশার প্রধান কাজ কী?

- উত্তর: RNA ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষ এবং কোষের আয়তন বৃদ্ধি।

২০. G2 দশার প্রধান কাজ কী?

- উত্তর: কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) ও সেন্ট্রিজোমের দ্বিমুখীকরণ সম্পন্ন করা।

২১. কোন্ কোষ বিভাজনে সমবিভাজন ঘটে?

- উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনে।

২২. জনন মাতৃকোষে কোন ধরনের বিভাজন ঘটে?

- উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজন।

২৩. প্রাণীকোষে বেম তন্তু গঠনে কে সাহায্য করে?

- উত্তর: সেন্ট্রিজোম থেকে নিক্ষিপ্ত অ্যাস্টার রশ্মি।

২৪. উদ্ভিদ কোষে সেন্ট্রিজোম না থাকায় কে বেম তন্তু গঠন করে?

- উত্তর: সাইটোপ্লাজমের মাইক্রোটিউবিউলস।

২৫. কোষচক্রের সঠিক পর্যায়ক্রমটি লেখো।

- উত্তর: G1 → S → G2 → M (প্রোফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেস → টেলোফেজ)।

অযৌন ও যৌন জনন (২৬ - ৫০)

২৬. অযৌন জনন কাকে বলে?

- উত্তর: যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট সৃষ্টি ছাড়াই একক জনকের দেহ থেকে অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে।

২৭. ইস্টে কোন পদ্ধতিতে অযৌন জনন ঘটে?

- উত্তর: মুকুলোদগম বা বাট্টিং (Budding) পদ্ধতিতে।

২৮. দ্বিবিভাজন (Binary Fission) কোন জীবে দেখা যায়?

- উত্তর: অ্যামিবা ও প্যারামেডিয়ামে।

২৯. পুনরুৎপাদন বা রিেনারেশন (Regeneration) কোন প্রাণীতে দেখা যায়?

- উত্তর: প্ল্যানেরিয়া বা হাইড্রাতে।

৩০. স্পোর বা রেণু কী?

- উত্তর: অযৌন জননের একক যা অনুকূল পরিবেশে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে (যেমন—মিউকর)।

৩১. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতির নাম লেখো।

- উত্তর: কাটিং (Cutting) ও গ্রাফটিং (Grafting)।

৩২. স্টক (Stock) ও সিয়ন (Scion) কী?

- উত্তর: জোড় কলমের সময় যে গাছটির মূলসহ অংশটি নিচে থাকে তাকে স্টক এবং যে কাটার অংশটি ওপরে জোড়া হয় তাকে সিয়ন বলে।

৩৩. প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন পাতার মাধ্যমে ঘটে এমন একটি উদ্ভিদের নাম লেখো।

- উত্তর: পাথরকুচি (Bryophyllum)।

৩৪. রাইজোম (Rhizome) বা গ্রন্থিল কাণ্ডের একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: আদা বা হলুদ।

৩৫. বাল্ব বা কন্দ কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

- উত্তর: পেঁয়াজ বা রসুন।

৩৬. খর্বধাবক বা রানার (Runner) কোন উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন চালায়?

- উত্তর: কচুরিপানা বা পুদিনা।

৩৭. বুলবিল (Bulbil) কোন গাছে থাকে?

- উত্তর: গাছ আলু।

৩৮. যৌন জনন ও অযৌন জননের মধ্যে একটি মূলগত পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: যৌন জননে গ্যামেটের মিলন ঘটে ও বৈচিত্র্য আসে, কিন্তু অযৌন জননে গ্যামেট লাগে না ও অপত্যরা মাতৃকোষের হুবহু সদৃশ হয়।

৩৯. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেধের পর ডিম্বক কিসে পরিণত হয়?

- উত্তর: বীজে।

৪০. নিষেক বা সিগম্যামি (Syngamy) কাকে বলে?

- উত্তর: পুং গ্যামেট (n) ও স্ত্রী গ্যামেটের (n) পূর্ণ ও স্থায়ী মিলনকে নিষেধ বলে।

৪১. দ্বিনিষেক (Double Fertilization) কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?

- উত্তর: আবৃতবীজী উদ্ভিদে।

৪২. ক্লোন (Clone) বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: জিনগতভাবে হুবহু একরকম দেখতে অপত্য জীবদের ক্লোন বলে।

৪৩. মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation) কী?

- উত্তর: উদ্ভিদের কলার কর্ষণ বা টিস্যুকালচার পদ্ধতির মাধ্যমে কম সময়ে প্রচুর চারা উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি।

৪৪. ট্টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে ব্যবহৃত উদ্ভিদের অংশটিকে কী বলে?

- উত্তর: এক্সপ্লান্ট (Explant)।

৪৫. ক্যালাস (Callus) কী?

- উত্তর: টিস্যুকালচার বা কলার্ষণে এক্সপ্লান্ট থেকে উৎপন্ন অবিন্যস্ত কোষের পুঞ্জকে ক্যালাস বলে।

৪৬. রেণু মাতৃকোষ কী প্রকৃতির হয়?

- উত্তর: ডিপ্লয়েড (2n)।

৪৭. ফার্নের প্রধান উদ্ভিদ দেহটি কী প্রকৃতির?

- উত্তর: রেণুধর বা স্পোরোফাইটিক (2n)।

৪৮. মস উদ্ভিদের প্রধান উদ্ভিদ দেহটি কী?

- উত্তর: গেমটোফাইটিক বা হ্যাপ্লয়েড (n)।

৪৯. অযৌন জননের একটি প্রধান সুবিধা লেখো।

- উত্তর: খুব কম সময়ে ও এককভাবে বংশবিস্তার করা যায়।

৫০. রেনুর সাহায্যে বংশবিস্তার করে এমন একটি ছত্রাকের নাম লেখো।

- উত্তর: মিউকর বা রাইলোপাস।

বংশগতি ও জিনগত রোগ (৫১ - ৮০)

৫১. বংশগতি বা হেরিডিটি (Heredity) কাকে বলে?

- উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।

৫২. জিন (Gene) কাকে বলে?

- উত্তর: ডিএনএ-এর ওপর অবস্থিত নির্দিষ্ট ক্ষারক বিন্যাসযুক্ত অংশ যা বংশগতির একক এবং চরিত্র নিয়ন্ত্রণ করে।

৫৩. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ (Allele) কী?

- উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে অ্যালিল বলে।

৫৪. ফিনোটাইপ (Phenotype) কী?

- উত্তর: জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা প্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে।

৫৫. জিনোটাইপ (Genotype) কী?

- উত্তর: জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠনকে জিনোটাইপ বলে।

৫৬. হোমোজাইগাস (Homozygous) বা প্রসম কী?

- উত্তর: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের অ্যালিলযুক্ত জীবকে (যেমন TT বা tt) হোমোজাইগাস বলে।

৫৭. হেটারোজাইগাস (Heterozygous) বা সংকর কী?

- উত্তর: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য বিপরীতধর্মী অ্যালিলযুক্ত জীবকে (যেমন Tt) হেটারোজাইগাস বলে।

৫৮. প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Trait) কাকে বলে?

- উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।

৫৯. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive Trait) কাকে বলে?

- উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন বা অপ্রকাশিত থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।

৬০. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি কী নামে পরিচিত?

- উত্তর: পৃথকীকরণের সূত্র (Law of Segregation)।

৬১. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটির নাম কী?

- উত্তর: স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র (Law of Independent Assortment)।

৬২. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?

- উত্তর: কোনো জীবের অজানা জিনোটাইপ নির্ধারণ করার জন্য।

৬৩. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?

- উত্তর: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে তার যেকোনো জনকের ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।

৬৪. একসংকর জনন (Monohybrid Cross) কাকে বলে?

- উত্তর: একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর জনন বলে।

৬৫. দ্বিসংকর জনন (Dihybrid Cross) কী?

- উত্তর: দু'জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে দ্বিসংকর জনন বলে।

৬৬. একসংকর জননের ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: ফিনোটাইপ ৩:১ এবং জিনোটাইপ ১:২:১।

৬৭. দ্বিসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: ৯:৩:৩:১।

৬৮. মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য কোন গাছ বেছে নিয়েছিলেন?

- উত্তর: মিষ্টি মটর গাছ (Pisum sativum)।

৬৯. লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম দায়ী?

- উত্তর: সেক্স ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোম (পুরুষের ক্ষেত্রে Y ক্রোমোজোম)।

৭০. হিমোফিলিয়াকে 'রাজরোগ' বলা হয় কেন?

- উত্তর: ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে এই রোগ দেখা গিয়েছিল বলে একে রাজরোগ বলে।

৭১. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) কী ধরনের ত্রুটি?

- উত্তর: এটি লাল ও সবুজ রঙ চিনতে না পারার একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত ত্রুটি।

৭২. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ।

৭৩. আলফা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: ১৬ নম্বর ক্রোমোজोমে।

৭৪. বিটা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে।

৭৫. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) কেন হয়?

- উত্তর: ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের ট্রাইসোমির (অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোম যুক্ত হওয়ার) ফলে।

৭৬. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: XXY (৪৭টি ক্রোমোজোম)।

৭৭. টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: XO (৪৫টি ক্রোমোজোম)।

৭৮. মানুষের দেহকোষে অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: ৪৪টি (২২ জোড়া) অটোজোম এবং ২টি (১ জোড়া) সেক্স ক্রোমোজোম।

৭৯. লিঙ্গ-সংযুক্ত বা সেক্স-লিংকড জিনের একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: বর্ণান্ধতা বা হিমোফিলিয়ার জিন।

৮০. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটর গাছে ফিনোটাইপ কী হবে?

- উত্তর: গাছটি লম্বাই হবে।


মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় "জীবনের প্রবাহমানতা" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৫০টি দুই নম্বরের (2 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

কোষচক্র ও কোষ বিভাজন

১. কোষচক্র (Cell Cycle) কাকে বলে?

উত্তর: যে চক্রাকার আবর্তনের মাধ্যমে একটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের বৃদ্ধি ঘটে এবং পরিশেষে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়, তাকে কোষচক্র বলে।

২. ইন্টারফেজ দশাকে ‘বিশ্রাম দশা’ বলা হয় কেন?

উত্তর: এই দশায় কোষের বাহ্যিক কোনো বিভাজন বা দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে না এবং কোষটি পরবর্তী বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয় ও পুষ্টি সঞ্চয় করে বলে একে বিশ্রাম দশা বলা হয়।

৩. কোষচক্রের চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক বিন্দুগুলির কাজ কী?

উত্তর: কোষচক্রের বিভিন্ন ধাপের ত্রুটি সংশোধন করা এবং চক্রের গতিপ্রকৃতি সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

৪. ডিএনএ (DNA) প্রতিলিপিকরণ কোষচক্রের কোন দশায় ঘটে?

উত্তর: ইন্টারফেজের সংশ্লেষ দশা বা S দশায়।

৫. মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দুটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর: ১. মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে (সমবিভাজন); মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে ঘটে এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয় (হ্রাস বিভাজন)।

২. মাইটোসিসে ক্রসিংওভার ঘটে না, কিন্তু মিয়োসিসের প্রোফেজ-১ দশায় ক্রসিংওভার ঘটে।

৬. ক্রসিংওভার (Crossing Over) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়ের অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের আদানপ্রদানকে ক্রসিংওভার বলে। এর ফলে জীবে জিনগত বৈচিত্র্য ও নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়।

৭. ক্যান্সার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোষচক্রের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে কোষগুলি যদি অবিরাম ও দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে এবং টিউমার সৃষ্টি করে, তবে তাকে ক্যান্সার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন বলে।

৮. টেলোমর (Telomere) কী? এর কাজ কী?

উত্তর: ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তের বিশেষ ডিএনএ অঞ্চলকে টেলোমর বলে। এটি ক্রোমোজোমের প্রান্তদেশকে রক্ষা করে এবং কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমের জোড় লাগা প্রতিরোধ করে।

৯. সেন্ট্রোমিয়ার ও কাইনেটোচোরের একটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার হলো ক্রোমোজোমের মুখ্য খাঁজ যা দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে যুক্ত রাখে, আর কাইনেটোচোর হলো সেন্ট্রোমিয়ারের দুপাশে অবস্থিত প্রোটিন নির্মিত প্লেট যা বেম তন্তুকে যুক্ত করে।

১০. কায়াজমা (Chiasmata) কাকে বলে?

- উত্তর: ক্রসিংওভারের সময় সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয় যেখানে ইংরেজি 'X' আকৃতির বা চৌরাস্তার মতো যুক্ত থাকে, সেই স্থানকে কায়াজমা বলে।

১১. উদ্ভিদ কোষে ও প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিসের প্রধান পার্থক্য কী?

- উত্তর: উদ্ভিদ কোষে সেল প্লেট বা কোষ্পাট গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস ঘটে, অন্যদিকে প্রাণীকোষে ক্লিভেজ ফরো (Cleavage furrow) বা পরিধি থেকে খাঁজ সৃষ্টির মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস ঘটে।

১২. অপত্য ক্রোমোজোম কাকে বলে?

- উত্তর: অ্যানাফেস দশায় সেন্ট্রোমিয়ারের দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার ফলে পৃথক হওয়া প্রতিটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলা হয়।

১৩. কোন কোষে মাইটোসিস বিভাজন ঘটে না?

- উত্তর: মানুষের পরিণত স্নায়ুকোষ এবং স্তন্যপায়ীর পরিপক্ক লোহিত রক্তকণিকায় মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে না।

১৪. বেম তন্তু বা স্পিন্ডল ফাইবার কী দিয়ে গঠিত?

- উত্তর: এটি প্রধানত টিউবুলিন নামক প্রোটিন ও মাইক্রোটিউবিউলস নিয়ে গঠিত।

১৫. G1 ও G2 দশার একটি পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: G1 দশায় কোষের আয়তন বৃদ্ধি ও RNA-প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে, আর G2 দশায় কোষ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) ও বিভিন্ন অঙ্গাণু উৎপাদিত হয়।

অযৌন ও যৌন জনন

১৬. অযৌন জনন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট সৃষ্টি ছাড়াই একক জনকের দেহ থেকে অপত্য জীবের সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে। যেমন—ইস্টে মুকুলোদগম।

১৭. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতির নাম লেখো।

- উত্তর: কাটিং (Cutting) বা শাখা কলম এবং গ্রাফটিং (Grafting) বা জোড় কলম।

১৮. স্টক (Stock) ও সিয়ন (Scion) কী?

- উত্তর: জোড় কলমের সময় যে গাছটির মূলসহ অংশটি নিচে থাকে তাকে স্টক এবং যে কাটার অংশটি ওপরে জোড়া হয় তাকে সিয়ন বলে।

১৯. পুনরুৎপাদন বা রিেনারেশন (Regeneration) কোন প্রাণীতে দেখা যায়?

- উত্তর: প্ল্যানেরিয়া বা হাইড্রাতে পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়া দেখা যায়।

২০. ক্লোন (Clone) বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: অযৌন জনন বা টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উৎপন্ন জিনগতভাবে হুবহু সদৃশ অপত্য জীবদের ক্লোন বলা হয়।

২১. টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে ব্যবহৃত এক্সপ্লান্ট (Explant) কী?

- উত্তর: টিস্যুকালচার বা কলার্ষণ পদ্ধতিতে উদ্ভিদের যে নির্দিষ্ট ভাজক কলাযুক্ত অংশ পরীক্ষাগারে বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে এক্সপ্লান্ট বলে।

২২. ক্যালাস (Callus) কাকে বলে?

- উত্তর: টিস্যুকালচার পদ্ধতিতে এক্সপ্লান্ট থেকে বিভাজিত হয়ে সৃষ্ট অবিন্যস্ত ও অসংশোধিত কোষের পুঞ্জকে ক্যালাস বলে।

২৩. মাইক্রোপ্রোপাগেশন (Micropropagation) পদ্ধতির একটি প্রধান সুবিধা লেখো।

- উত্তর: এই পদ্ধতিতে খুব কম সময়ে এবং অল্প জায়গা ব্যবহার করে প্রচুর রোগমুক্ত উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা যায়।

২৪. অযৌন জনন ও যৌন জননের একটি মূলগত পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: অযৌন জননে কোনো গ্যামেট বা জননকোষ সৃষ্টি হয় না এবং একক জনকের প্রয়োজন হয়, কিন্তু যৌন জননে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন আবশ্যক।

২৫. দ্বিনিষেক (Double Fertilization) কী?

- উত্তর: আবৃতবীজী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে একটি পুং গ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে এবং অপর পুং গ্যামেট নির্ণীত নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হওয়ার ঘটনাকে দ্বিনিষেক বলে।

২৬. স্পোর বা রেণু কী? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: রেণু হলো অযৌন জননের একক যা অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন জীব সৃষ্টি করে। যেমন—মিউকর ছত্রাকের রেণু।

২৭. খর্বধাবক বা রানার (Runner) কোন উদ্ভিদে অঙ্গজ জনন চালায়?

- উত্তর: কচুরিপানা বা পুদিনা গাছে খর্বধাবকের মাধ্যমে অঙ্গজ জনন ঘটে।

২৮. বুলবিল (Bulbil) কোন উদ্ভিদে দেখা যায়? এর কাজ কী?

- উত্তর: গাছ আলু গাছে বুলবিল দেখা যায়। এটি গাছের খাদ্য সঞ্চয় করে মুকুলের মতো অবস্থান করে এবং মাটিতে পড়ে নতুন গাছ সৃষ্টি করে।

২৯. রাইজোম (Rhizome) বা গ্রন্থিল কাণ্ডের একটি উদাহরণ দাও।

- উত্তর: আদা বা হলুদ হলো গ্রন্থিল কাণ্ড বা রাইজোমের উদাহরণ।

৩০. নিষেক বা সিগম্যামি (Syngamy) কাকে বলে?

- উত্তর: পুং গ্যামেট (n) ও স্ত্রী গ্যামেটের (n) পূর্ণ ও স্থায়ী মিলনকে নিষেধ বা সিগম্যামি বলে।

বংশগতি ও জিনগত রোগ

৩১. বংশগতি বা হেরিডিটি (Heredity) কাকে বলে?

- উত্তর: যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পিতামাতার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।

৩২. জিন (Gene) কাকে বলে?

- উত্তর: ডিএনএ-এর ওপর অবস্থিত নির্দিষ্ট ক্ষারক বিন্যাসযুক্ত অংশ যা বংশগতির একক এবং জীবের নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ন্ত্রণ করে।

৩৩. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ (Allele) কী?

- উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে।

৩৪. ফিনোটাইপ (Phenotype) ও জিনোটাইপের (Genotype) মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: ফিনোটাইপ হলো জীবের বাহ্যিক প্রকাশ বা বৈশিষ্ট্য, আর জিনোটাইপ হলো জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন।

৩৫. হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস জীবের একটি পার্থক্য লেখো।

- উত্তর: হোমোজাইগাস জীবে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের অ্যালিল থাকে (যেমন TT বা tt), আর হেটারোজাইগাস জীবে বিপরীতধর্মী অ্যালিল থাকে (যেমন Tt)।

৩৬. প্রকট বৈশিষ্ট্য ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

- উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় তা প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং যা অপ্রকাশিত বা ঢাকা থাকে তা প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।

৩৭. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি কী নামে পরিচিত?

- উত্তর: মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি পৃথকীকরণের সূত্র (Law of Segregation) নামে পরিচিত।

৩৮. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?

- উত্তর: কোনো অপত্য বা সংকর জীবের জিনোটাইপ বিশুদ্ধ না সংকর তা নির্ধারণ করার জন্য টেস্ট ক্রস করা হয়।

৩৯. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?

- উত্তর: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে তার যেকোনো একটি জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে।

৪০. একসংকর জনন (Monohybrid Cross) কাকে বলে?

- উত্তর: একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর জনন বলে।

৪১. দ্বিসংকর জনন (Dihybrid Cross) বলতে কী বোঝো?

- উত্তর: দু'জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে দ্বিসংকর জনন বলে।

৪২. লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা নেয়?

- উত্তর: মানুষের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোম (বিশেষ করে পুরুষদের Y ক্রোমোজোম) লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা নেয়।

৪৩. হিমোফিলিয়াকে 'রাজরোগ' বলা হয় কেন?

- উত্তর: ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে এই রোগ প্রথম দেখা গিয়েছিল এবং রাজপরিবারের অনেকের এই রোগ হয়েছিল বলে একে রাজরোগ বলে।

৪৪. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) কী ধরনের ত্রুটি?

- উত্তর: এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত ত্রুটি, যার ফলে রোগীরা লাল ও সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না।

৪৫. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্তাল্পতা রোগ, যাতে ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন তৈরির ফলে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়।

৪৬. আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: আলফা থ্যালাসেমিয়ার জিন ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে এবং বিটা থ্যালাসেমিয়ার জিন ১১ নম্বর ক্রোমোজोমে থাকে।

৪৭. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) কেন ঘটে?

- উত্তর: অটোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের ট্রাইসোমি (দুটির পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোম থাকা)-র ফলে এই সিন্ড্রোম হয়।

৪৮. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস হলো XXY (৪৭টি ক্রোমোজোম)।

৪৯. টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস হলো XO (৪৫টি ক্রোমোজোম)।

৫০. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটর গাছে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কী হবে?

- উত্তর: এর ফিনোটাইপ হবে 'লম্বা' এবং জিনোটাইপ হবে 'সংকর লম্বা' (Tt)।


মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় "জীবনের প্রবাহমানতা" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৩০টি তিন নম্বরের (3 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

কোষচক্র ও কোষ বিভাজন

১. কোষচক্রের বিভিন্ন দশাগুলি (G1, S, G2, M) সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর: কোষচক্র প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত—ইন্টারফেজ ও এম-দশা।

১. G1 দশা (Gap 1): RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষ ঘটে এবং কোষের আয়তন বৃদ্ধি পায়।

২. S দশা (Synthesis): DNA-এর প্রতিলিপিকরণ ঘটে এবং সমপরিমাণ DNA দ্বিগুণ হয়।

৩. G2 দশা (Gap 2): বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) ও বিভিন্ন অঙ্গাণু উৎপাদিত হয়।

৪. M দশা (Mitotic Phase): নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে অপত্য কোষ গঠিত হয়।

২. মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

১. অবস্থান: মাইটোসিস দেহকোষে ঘটে এবং মিয়োসিস প্রধানত জনন মাতৃকোষে ঘটে।

২. ক্রোমোজোম সংখ্যা: মাইটোসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে (সমবিভাজন), আর মিয়োসিসে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় (হ্রাস বিভাজন)।

৩. ক্রসিংওভার: মাইটোসিসে ক্রসিংওভার ঘটে না, কিন্তু মিয়োসিসের প্রোফেজ-১ দশায় ক্রসিংওভার ঘটে।

৩. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর:

১. বৃদ্ধি ও বিকাশ: বহুকোষী জীবের জাইগোট থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ দেহ গঠনে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মাইটোসিস অপরিহার্য।

২. ক্ষয়পূরণ ও ক্ষত নিরাময়: দেহের কেটে যাওয়া স্থান বা ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ সৃষ্টি করে ক্ষত নিরাময় করে।

৩. বংশবৃদ্ধি: এককোষী জীবে মাইটোসিসের মাধ্যমেই অযौन প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সম্পন্ন হয়।

৪. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব সবিস্তারে আলোচনা করো।

উত্তর:

১. ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবক তা রক্ষা: মিয়োসিস জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন করে, ফলে নিষেকের পর প্রজাতিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।

২. প্রকরণ ও বৈচিত্র্য সৃষ্টি: ক্রসিংওভারের মাধ্যমে জিনের বিনিময় ঘটে, যা অপত্য জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা প্রকরণের জন্ম দেয়।

৩. বিবর্তনের পথ সুগম করা: মিয়োসিসজনিত জিনগত বৈচিত্র্যই জৈব বিবর্তনের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।

৫. ক্রসিংওভার (Crossing Over) কী? এটি কোথায় এবং কখন ঘটে? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের আদানপ্রদানকে ক্রসিংওভার বলে।

কোথায় ও কখন: মিয়োসিস-১ কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায় এটি ঘটে।

গুরুত্ব: এর ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং অপত্য জীবে নতুন চরিত্রের বা বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।

৬. ক্যান্সার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন কীভাবে ঘটে?

উত্তর: স্বাভাবিক কোষে কোষচক্রের চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক জিনগুলির মিউটেশন বা ত্রুটি ঘটলে কোষ বিভাজনের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে কোষগুলি অবিরাম, দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হতে থাকে এবং গুচ্ছাকারে টিউমার বা ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

৭. টেলোমর ও টেলোমিটারেজ এনজাইমের ভূমিকা কী?

উত্তর: টেলোমর হলো ক্রোমোজোমের প্রান্তদেশ, যা ক্রোমোজোমকে সুরক্ষা দেয়। প্রতিবার কোষ বিভাজনের সময় টেলোমর কিছুটা করে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। টেলোমিটারেজ নামক এনজাইমটি টেলোমরের দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কোষের বার্ধক্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

৮. উদ্ভিদ কোষে ও প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিসের প্রক্রিয়াটির তুলনা করো।

উত্তর: উদ্ভিদ কোষে কোষের মাঝখানে গল্গি বডি থেকে vesicles জমা হয়ে সেল প্লেট বা কোষ্পাট গঠিত হয় এবং তা কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে বিস্তার লাভ করে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন করে। অন্যদিকে, প্রাণীকোষে কোষপর্দা পরিধি থেকে ভেতরের দিকে খাঁজ বা ক্লিভেজ ফরো (Cleavage furrow) সৃষ্টির মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন করে।

৯. ইন্টারফেজ দশাকে কেন কোষের 'প্রস্তুতি পর্ব' বলা হয়?

উত্তর: এই দশায় কোষ বাহ্যিকভাবে বিভাজিত না হলেও পরবর্তী বিভাজনের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে। এই সময়ে কোষে প্রচুর পরিমাণে শক্তি (ATP) সঞ্চিত হয়, প্রোটিন ও RNA তৈরি হয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে S দশায় DNA-এর প্রতিলিপিকরণ বা দ্বিগুণকরণ ঘটে।

১০. অপত্য ক্রোমোজোম ও সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে পার্থক্য কী?

- উত্তর: একটি ক্রোমোজোমের দুটি লম্বালম্বি অংশকে সিস্টার ক্রোমাটিড বলে যা সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত থাকে। কিন্তু অ্যানাফেস দশায় সেন্ট্রোমিয়ার ভেঙে যাওয়ার পর যখন এই ক্রোমাটিডগুলি পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হয়, তখন তাদের পৃথক অপত্য ক্রোমোজোম বলা হয়।

অযৌন ও যৌন জনন

১১. অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর:

১. গ্যামেট সৃষ্টি: অযৌন জননে কোনো গ্যামেট বা জননকোষ সৃষ্টি হয় না, কিন্তু যৌন জননে পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন ঘটে।

২. জনক জীবের সংখ্যা: অযৌন জননে একক জনকের প্রয়োজন হয়, কিন্তু যৌন জননে সাধারণত দুটি বিপরীত লিঙ্গের জীবের প্রয়োজন হয়।

৩. বৈচিত্র্য: অযৌন জননে অপত্য জীবরা অবিকল মাতৃকোষের সদৃশ হয় (ক্লোন), কিন্তু যৌন জননে জিনগত বৈচিত্র্য দেখা যায়।

১২. টিস্যুকালচার (Tissue Culture) বা মাইক্রোপ্রোপাগেশনের ধাপগুলি সংক্ষেপে লেখো।

- উত্তর: মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যুকালচার পদ্ধতির প্রধান ধাপগুলি হলো:

১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: উদ্ভিদের রোগমুক্ত কচি ভাজক কলাযুক্ত অংশ নির্বাচন করা।

২. পুষ্টি মাধ্যম তৈরি: হরমোন, ভিটামিন ও খনিজযুক্ত কালচার মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট স্থাপন করে ক্যালাস বা কোষপুঞ্জ তৈরি করা।

৩. এমব্রয়য়েড সৃষ্টি ও চারা উৎপাদন: ক্যালাস থেকে হরমোনের অনুপাতে মূল ও কাণ্ডযুক্ত ক্ষুদ্র চারা বা প্লান্টলেট তৈরি করা এবং তা মাটিতে প্রতিস্থাপন করা।

১৩. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের দুটি প্রধান পদ্ধতি (কাটিং ও গ্রাফটিং) সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

- উত্তর:

১. কাটিং (Cutting): উদ্ভিদের কোনো শাখা বা কাণ্ডের অংশ কেটে মাটিতে রোপণ করলে তা থেকে মূল বেরিয়ে নতুন গাছ সৃষ্টি হয় (যেমন—গোলাপ)।

২. গ্রাফটিং (Grafting): দুটি ভিন্ন কিন্তু সম্পর্কিত গাছের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়, যেখানে নিচে মূলসহ অংশকে 'স্টক' এবং অন্য গাছের ভালো কাটার অংশকে 'সিয়ন' বলা হয় (যেমন—আম গাছ)।

১৪. প্রাকৃতিক অঙ্গজ জননের বিভিন্ন মাধ্যমগুলি উদাহরণসহ লেখো।

- উত্তর: প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে হতে পারে:

১. মূলের মাধ্যমে: পটল বা রাঙা আলু।

২. কাণ্ডের মাধ্যমে: আদার রাইজোম, আলুর টিউবার, কচুরিপানার রানার।

৩. পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি পাতার কিনারের মুকুল।

১৫. মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতির সুবিধাগুলি কী কী?

- উত্তর:

১. খুব কম সময়ে এবং অল্প জায়গা ব্যবহার করে হাজার হাজার রোগমুক্ত চারা উৎপাদন করা যায়। G

২. ঋতু নিরপেক্ষভাবে সারা বছরই এই পদ্ধতিতে চারা তৈরি করা সম্ভব।

৩. বিলুপ্তপ্রায় বা দুর্লভ উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ এই পদ্ধতিতে খুব সহজে করা যায়।

১৬. নিষেক ও দ্বিনিষেকের মধ্যে পার্থক্য কী?

- উত্তর: সাধারণ নিষেকে একটি পুং গ্যামেট একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। কিন্তু আবৃতবীজী উদ্ভিদের দ্বিনিষেকের ক্ষেত্রে দুটি পুং গ্যামেটের প্রয়োজন হয়—একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (ভ্রूण) গঠন করে এবং দ্বিতীয় পুং গ্যামেটটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে।

১৭. অযৌন জননের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি সংক্ষেপে লেখো।

- উত্তর:

সুবিধা: এতে একক জনকের প্রয়োজন হয় এবং খুব কম সময়ে দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে।

অসুবিধা: এতে কোনো নতুন বৈশিষ্ট্যের বা জিনগত বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় না, ফলে পরিবেশ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কম থাকে।

১৮. স্পোরুলেশন বা রেণু উৎপাদন প্রক্রিয়াটি বুঝিয়ে লিখুন।

- উত্তর: এটি অযৌন জননের একটি বিশেষ পদ্ধতি যেখানে অনুকূল পরিবেশে স্পোরাঞ্জিয়াম বা রেণুথলির মধ্যে অসংখ্য রেণু বা স্পোর উৎপাদিত হয়। রেণুথলি ফেটে গেলে রেণুগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে অংকুরিত হয়ে নতুন জীব সৃষ্টি করে (যেমন—মিউকর)।

১৯. ক্লোন (Clone) কাকে বলে? ক্লোন তৈরির একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখো।

- উত্তর: অযৌন জনন বা টিস্যুকালচার পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদিত জিনগত ও শারীরিকভাবে হুবহু সদৃশ অপত্য জীব বা কোষগুলিকে ক্লোন বলে। এর প্রয়োগ হলো বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সংরক্ষণ এবং উন্নত মানের ফসলের চারা দ্রুত উৎপাদন।

২০. পুনরুৎপাদন বা রিেনারেশন (Regeneration) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

- উত্তর: কোনো জীবের দেহের কোনো অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা নষ্ট হলে, যদি সেই অংশটি পুনরায় সৃষ্টি হয়ে সম্পূর্ণ নতুন জীব বা অঙ্গ গঠন করে, তবে তাকে পুনরুৎপাদন বলে। যেমন—প্ল্যানেরিয়া বা হাইড্রা।

বংশগতি ও জিনগত রোগ

২১. মেন্ডেলের পৃথকীকরণের সূত্রটি (প্রথম সূত্র) বিবৃত করো এবং উদাহরণ দাও।

- উত্তর: সূত্রটি হলো—"সংকর জীবের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত বা সংমিশ্রিত না হয়ে গ্যামেট গঠনকালে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।" উদাহরণস্বরূপ, সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছে টি (T) ও টি (t) জিন দুটি একসাথে থাকলেও গ্যামেট তৈরির সময় পৃথক হয়ে আলাদা শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে।

২২. মেন্ডেলের স্বাধীন বিন্যাসের সূত্রটি (দ্বিতীয় সূত্র) বিবৃত করো।

- উত্তর: সূত্রটি হলো—"দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোনো জীবের সংকরায়ণ ঘটালে, গ্যামেট উৎপাদনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের সাথে কেবল একে অপরের থেকে পৃথকই হয় না, বরং স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ায় বা বিন্যাসে মিশ্রিত হয়।"

২৩. টেস্ট ক্রস ও ব্যাক ক্রসের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।

- উত্তর:

১. সংজ্ঞা: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে প্রচ্ছন্ন জনকের ক্রসকে টেস্ট ক্রস বলে, আর F1 জনুর সংকর জীবের সাথে যেকোনো জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) ক্রসকে ব্যাক ক্রস বলে।

২. উদ্দেশ্য: টেস্ট ক্রস করা হয় অজানা জিনোটাইপ নির্ধারণের জন্য, আর ব্যাক ক্রস করা হয় জনকের বৈশিষ্ট্য অপত্যে ফিরিয়ে আনার জন্য। অর্থাৎ, সব টেস্ট ক্রসই ব্যাক ক্রস, কিন্তু সব ব্যাক ক্রস টেস্ট ক্রস নয়।

২৪. থ্যালাসেমিয়া রোগটিকে 'অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ' বলা হয় কেন?

- উত্তর: থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণকারী ত্রুটিপূর্ণ জিনটি সেক্স ক্রোমোজমে না থেকে অটোজোমে (১৬ বা ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে) অবস্থান করে। এই রোগ প্রকাশের জন্য দুটি ত্রুটিপূর্ণ প্রচ্ছন্ন জিনই একসাথে থাকতে হয় (হোমোজাইগাস অবস্থা), তাই একে অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ বলে।

২৫. হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতা রোগের ক্ষেত্রে বাহক মাতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

- উত্তর: হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতা হলো X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। মা যদি হেটারোজাইগাস বা বাহক হন (অর্থাৎ তাঁর একটি X ক্রোমোজমে রোগ জিন থাকে), তবে তিনি নিজে সুস্থ থাকেন কারণ অপর সুস্থ X জিনটি তা ঢেকে রাখে। কিন্তু ওই বাহক মাতার কাছ থেকে রোগ জিনটি পুত্রসন্তানে গেলেই পুত্ররা রোগাক্রান্ত হয়।

২৬. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) বলতে কী বোঝো? এর জিনগত কারণ কী?

- উত্তর: যে ত্রুটির কারণে মানুষের চোখ লাল ও সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তাকে বর্ণান্ধতা বলে। এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। পুরুষের একটিমাত্র X ক্রোমোজমে এই প্রচ্ছন্ন জিন থাকলেই তারা বর্ণান্ধ হয়, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে দুটি X ক্রোমোজমেই এই জিন থাকতে হয়।

২৭. সংকরয়ন পরীক্ষায় মেন্ডেলের সফলতার তিনটি কারণ সংক্ষেপে লেখো।

- উত্তর:

১. মেন্ডেল একসাথে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা না করে প্রথমে একজোড়া (একসংকর) এবং পরে দু'জোড়া (দ্বিসংকর) বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন।

২. তিনি মটর গাছের পরিষ্কার ও বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন লম্বা-খর্ব, হলুদ-সবুজ) নির্বাচন করেছিলেন।

৩. তিনি তার পরীক্ষার সমস্ত ফলাফল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিসংখ্যানগত ও গণিতীয় পদ্ধতিতে হিসাব ও নথিভুক্ত করেছিলেন।

২৮. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর প্রধান শারীরিক সমস্যাগুলি কী কী?

- উত্তর:

১. ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন তৈরির ফলে বারবার লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, যার ফলে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।

২. ঘন ঘন রক্ত পরিবর্তন (Blood transfusion) করতে হয় বলে দেহে অতিরিক্ত লোহা বা আয়রন জমে যকৃৎ, প্লীহা ও হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৩. অস্থি মজ্জা ফুলে ওঠে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

২৯. অটোসোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।

- উত্তর:

১. কাজ: অটোজোম দেহের সাধারণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আর সেক্স ক্রোমোজোম প্রধানত লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

২. সংখ্যা: মানুষের দেহকোষে অটোজোম থাকে ৪৪টি (২২ জোড়া) এবং সেক্স ক্রোমোজোম থাকে ২টি (১ জোড়া)।

৩. বণ্টন: স্ত্রী ও পুং উভয়ের দেহেই অটোজোম বিন্যাস হুবহু একরকম হয়, কিন্তু সেক্স ক্রোমোজোম পুরুষে XY এবং স্ত্রীতে XX প্রকৃতির হয়।

৩০. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়?

- উত্তর: মানুষের দেহকোষে ২২ জোড়া অটোজোম এবং ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম (পুরুষে XY, স্ত্রীতে XX) থাকে। স্ত্রীরা কেবল X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণু তৈরি করে। অন্যদিকে পুরুষেরা X ও Y ক্রোমোজোমযুক্ত দু'ধরনের শুক্রাণু তৈরি করে। ডিম্বাণুর সাথে X-যুক্ত শুক্রাণু মিলিত হলে কন্যাসন্তান (XX) এবং Y-যুক্ত শুক্রাণু মিলিত হলে পুত্রসন্তান (XY) জন্মায়। সুতরাং, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে পিতার শুক্রাণুর ওপর নির্ভর করে।


মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির দ্বিতীয় অধ্যায় "জীবনের প্রবাহমানতা" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ২০টি পাঁচ নম্বরের (5 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রোমেটাফেজ ও মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্য সবিস্তারে আলোচনা করো।

প্রোফেজ দশা (Prophase):

১. এটি মাইটোসিসের দীর্ঘতম দশা। এই দশায় ক্রোমোজোমগুলি থেকে জল বেরিয়ে গিয়ে সেগুলি ধীরে ধীরে সংকুচিত, খাটো ও মোটা হতে শুরু করে।

২. নিউক্লিওপর্দা ও নিউক্লিওলাস ধীরে ধীরে অদৃশ্য হতে শুরু করে।

৩. প্রাণীকোষে সেন্ট্রিজোমের দুটি সেন্ট্রিওল পরস্পরের বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায় এবং তাদের মাঝখান থেকে বেম তন্তু বা স্পিন্ডল ফাইবার গঠিত হতে শুরু করে।

মেটাফেজ দশা (Metaphase):

১. এই দশায় নিউক্লিওপর্দা ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

২. ক্রোমোজোমগুলি কোষের ঠিক মাঝখানে বা বিষুব অঞ্চলে (Equator) বিন্যস্ত হয়।

৩. এই দশায় ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বেম তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে এবং ক্রোমোজোমগুলি আকার ও আকৃতিতে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট ও মোটা দেখায়, ফলে এই দশাতেই ক্রোমোজোম গণনা করা সবচেয়ে সহজ হয়।

২. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাৎপর্য বা গুরুত্ব সবিস্তারে আলোচনা করো।

ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবকতা রক্ষা: মিয়োসিস জনন মাতৃকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে হ্যাপ্লয়েড (n) গ্যামেট উৎপন্ন করে। এর ফলে যৌন জননের সময় পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে (নিষেকে) আবার ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থা ফিরে আসে এবং প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট ও ধ্রুবক থাকে।

ক্রসিংওভার ও প্রকরণ সৃষ্টি: প্রোফেজ-১ দশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে ক্রসিংওভারের ফলে জিনের বিনিময় ঘটে, যা অপত্য জীবের মধ্যে নতুন চরিত্রের বা প্রকরণের (Variation) জন্ম দেয়।

বিবর্তনের পথ সুগম করা: মিয়োসিসজনিত জিনগত বৈচিত্র্যই জৈব বিবর্তনের (Evolution) প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে, যা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে।

৩. মেন্ডেলের পৃথকীকরণের সূত্রটি (প্রথম সূত্র) বিবৃত করো এবং একটি উদাহরণের সাহায্যে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করো।

সূত্র: সংকর জীবের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত বা সংমিশ্রিত না হয়ে গ্যামেট গঠনকালে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা (চেকার বোর্ড):

একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর গাছের সাথে বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ ঘটালে F1 জনুতে সমস্ত গাছই সংকর লম্বা (Tt) হয়। এখন F1 জনুর উদ্ভিদগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত ৩:১ (৩টি লম্বা ও ১টি খর্ব) এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১:২:১ (১টি TT, ২টি Tt, ১টি tt) পাওয়া যায়। চেকার বোর্ডে টি (T) এবং টি (t) গ্যামেটগুলি স্বাধীনভাবে পৃথক হয়ে এই অনুপাত প্রকাশ করে।

৪. মেন্ডেলের স্বাধীন বিন্যাসের সূত্রটি (দ্বিতীয় সূত্র) বিবৃত করো এবং দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার মাধ্যমে এটি বুঝিয়ে দাও।

সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোনো জীবের সংকরায়ণ ঘটালে, গ্যামেট উৎপাদনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের সাথে কেবল একে অপরের থেকে পৃথকই হয় না, বরং স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ায় বা বিন্যাসে মিশ্রিত হয়।

ব্যাখ্যা: মেন্ডেল হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YYRR) এবং সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত (yyrr) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন। F1 জনুতে সব উদ্ভিদ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YyRr) হয়। কিন্তু F2 জনুতে গ্যামেটগুলির স্বাধীন বিন্যাসের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ সহ ৯:৩:৩:১ অনুপাতে চার ধরনের ফিনোটাইপ (হলুদ-গোল, হলুদ-কুঞ্চিত, সবুজ-গোল, সবুজ-কুঞ্চিত) প্রকাশিত হয়।

৫. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যুকালচার পদ্ধতির ধাপগুলি সবিস্তারে আলোচনা করো।

সংজ্ঞা: উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট ভাজক কলাযুক্ত অংশ পরীক্ষাগারে কৃত্রিম পুষ্টিমাধ্যমে কম সময়ে প্রচুর রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতিকে টিস্যুকালচার বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।

প্রধান ধাপসমূহ:

১. এক্সপ্লান্ট নির্বাচন: উদ্ভিদের রোগমুক্ত কচি অংশ বা অগ্রমুকুল (এক্সপ্লান্ট) সংগ্রহ করে তা জীবাণুমুক্ত করা হয়।

২. পুষ্টি মাধ্যম তৈরি: হরমোন (অক্সিন, সাইটোকাইনিন), ভিটামিন, খনিজ লবণ ও সুক্রোজযুক্ত কালচার মিডিয়ামে এক্সপ্লান্ট স্থাপন করা হয়।

৩. ক্যালাস সৃষ্টি: পুষ্টি মাধ্যমে কোষগুলি দ্রুত বিভাজিত হয়ে অবিন্যস্ত কোষের পুঞ্জ বা ক্যালাস তৈরি করে।

৪. ভ্রূণগঠন ও প্লান্টলেট সৃষ্টি: হরমোনের অনুপাত পরিবর্তন করে ক্যালাস থেকে অঙ্গোদগম ঘটিয়ে ক্ষুদ্র চারা বা প্লান্টলেট তৈরি করা হয়।

৫. মাটিতে প্রতিস্থাপন: উৎপাদিত চারাগুলি ল্যাবরেটরি থেকে এনে প্রথমে টবে এবং পরে মাটিতে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।

৬. থ্যালাসেমিয়া রোগটি কেন হয়? এর লক্ষণগুলি ও আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়ার পার্থক্য আলোচনা করো।

কারণ: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায় এবং তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়।

লক্ষণ: তীব্র অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা, বারবার রক্ত পরিবর্তন করার বাধ্যবাধকতা, যকৃৎ ও প্লীহা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।

আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়া:

আলফা থ্যালাসেমিয়া: এর জন্য দায়ী জিনটি ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

বিটা থ্যালাসেমিয়া: এর জন্য দায়ী জিনটি ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে অবস্থিত।

৭. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার উপ-দশাগুলি চিত্রসহ বা বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা করো।

মিয়োসিসের দীর্ঘতম প্রোফেজ-১ দশাকে পাঁচটি উপ-দশায় ভাগ করা হয়:

১. লেপ্টোটিন (Leptotene): ক্রোমোজোমগুলি লম্বা সুতোর মতো দেখায় এবং ঘনীভূত হতে শুরু করে।

২. জাইগোটিন (Zygotene): সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলি জোড়ায় জোড়ায় বা সমসংস্থভাবে কাছাকাছি এসে যুক্ত হয়, যাকে সিন্যাপসিস বলে। জোড়বদ্ধ ক্রোমোজোমকে বাইভ্যালেন্ট বলে।

৩. প্যাচাইজিন (Pachyntene): বাইভ্যালেন্টের দুটি সিস্টার ও অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের বিনিময় বা ক্রসিংওভার ঘটে।

৪. ডিপ্লোটিন (Diplotene): ক্রোমোজোমগুলি পরস্পর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে এবং কায়াজমা (Chiasmata) বা চৌরাস্তা দৃশ্যমান হয়।

৫. ডায়াকিনেসিস (Diakinesis): কায়াজমা ক্রোমোজোমের প্রান্তের দিকে সরে যায় (টার্মিনালাইজেশন) এবং নিউক্লিওপর্দা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়।

৮. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়? চেকার বোর্ডের সাহায্যে তা ব্যাখ্যা করো।

ব্যাখ্যা: মানুষের দেহকোষে ৪৪টি অটোজোম এবং ২টি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে। নারীদের সেক্স ক্রোমোজোম সর্বদা XX এবং পুরুষদের XY হয়। নারী দেহ থেকে কেবলমাত্র X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়, কিন্তু পুরুষ দেহ থেকে সমান অনুপাতে X এবং Y ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।

চেকার বোর্ড বিশ্লেষণ:

যদি পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে অপত্য জাইগোট XX হয় এবং কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। অন্যদিকে, পিতার Y-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে জাইগোট XY হয় এবং পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সুতরাং, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করছে তার ওপর।

৯. অযৌন জনন ও যৌন জননের সুবিধা ও অসুবিধাগুলির একটি তুলনামূলক আলোচনা করো।

অযৌন জনন:

সুবিধা: একক জনকের মাধ্যমেই দ্রুত বংশবিস্তার ঘটে এবং এর জন্য অন্য কোনো জীবের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

অসুবিধা: এতে কোনো জিনগত বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় না, ফলে পরিবেশের হুট করে পরিবর্তন ঘটলে পুরো প্রজাতি বিপন্ন হতে পারে।

যৌন জনন:

সুবিধা: পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনের ফলে ক্রসিংওভার ও জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য আনে এবং বিবর্তনে সাহায্য করে।

অসুবিধা: এটি একটি অপেক্ষাকৃত ধীর প্রক্রিয়া, যার জন্য দুটি বিপরীত লিঙ্গের জীবের উপস্থিতি এবং বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।

১০. কোষচক্রের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কী ঘটে? ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ ও প্রকৃতি সংক্ষেপে লেখো।

অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন: স্বাভাবিক অবস্থায় কোষচক্রের বিভিন্ন চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক জিন (যেমন প্রোটোটোঙ্কোজিন ও টিউমার সাপ্রেসর জিন) কোষ বিভাজনের গতিবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে এই জিনগুলির মিউটেশন ঘটলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে যায়।

ক্যান্সার সৃষ্টি: নিয়ন্ত্রনহীন কোষগুলি অবিরাম, দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হতে শুরু করে এবং গুচ্ছাকারে জমা হয়ে টিউমার বা ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এই টিউমারগুলি আশেপাশের সুস্থ টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে (মেটাস্টেসিস) এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাক ও অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

১১. কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজনন বা গ্রাফটিং (Grafting) পদ্ধতিটি উদাহরণসহ সবিস্তারে বর্ণনা করো।

সংজ্ঞা: কৃত্রিম উপায়ে দুটি ভিন্ন কিন্তু সমগোত্রীয় গাছের অংশ জোড়া লাগিয়ে একটি নতুন গাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে গ্রাফটিং বা জোড় কলম বলে।

পদ্ধতি ও অংশসমূহ:

১. স্টক (Stock): ভালো মূলযুক্ত যে গাছটিকে মাটিতে রাখা হয় তাকে স্টক বলে।

২. সিয়ন (Scion): কাঙ্ক্ষিত গুণসম্পন্ন যে ভালো গাছের ডাল বা অংশ স্টকের ওপর স্থাপন করা হয় তাকে সিয়ন বলে।

কার্যপদ্ধতি: স্টক গাছের কাণ্ড কেটে তার ওপর সিয়নটিকে এমনভাবে বসানো হয় যাতে দুটি গাছের ক্যাম্বিয়াম স্তর পরস্পর ভালোভাবে মিলে যায়। এরপর সেই স্থানটি সুতো বা মোম দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিলে কিছুদিন পর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অংশ একসাথে জোড়া লেগে যায় এবং স্টক ও সিয়নের মিলিত পুষ্টিতে উন্নত মানের ফল বা ফুল উৎপাদিত হয় (যেমন—আম বা লেবু গাছ)।

১২. মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষার ফলাফল থেকে প্রাপ্ত 'পৃথকীকরণের সূত্রটি' গাণিতিক বা চেকার বোর্ডের মাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।

পরীক্ষা: মেন্ডেল একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর গাছের সাথে একটি বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন।

বিশ্লেষণ: F1 জনুতে সমস্ত গাছ সংকর লম্বা (Tt) উৎপন্ন হয়। F1 জনুর মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে লম্বা ও খর্ব গাছের অনুপাত ৩:১ এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১:২:১ (TT : Tt : tt) হয়। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে সংকর জীবে প্রচ্ছন্ন জিনটি (t) সুপ্ত থাকলেও তা নষ্ট হয় না, বরং গ্যামেট তৈরির সময় প্রকট ও প্রচ্ছন্ন অ্যালিল দুটি সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে আলাদা গ্যামেটে প্রবেশ করে।

১৩. ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)-এর গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য ৫টি পয়েন্টে আলোচনা করো।

১. শর্করা: ডিএনএ-তে ডিঅক্সিরাইজ শর্করা থাকে, আর আরএনএ-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।

২. নাইট্রোজেন বেস: ডিএনএ-তে থাইমিন (T) থাকে, কিন্তু আরএনএ-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে (উভয়েই A, G, C কমন)।

৩. স্ট্র্যান্ড সংখ্যা: ডিএনএ সাধারণত দ্বিসূত্রক (Double stranded) বা ডাবল হেলিক্স প্রকৃতির হয়, আর আরএনএ সাধারণত একসূত্রক (Single stranded) হয়।

৪. কার্যকারিতা: ডিএনএ বংশগত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং তা পরবর্তী প্রজন্মে বহন করে, আর আরএনএ প্রধানত ডিএনএর নির্দেশমতো প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।

৫. স্থায়িত্ব: ডিএনএ অত্যন্ত স্থায়ী জৈব অণু, আর আরএনএ তুলনামূলকভাবে কম স্থায়ী ও দ্রুত পরিবর্তনশীল।

১৪. উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ জননের বিভিন্ন পদ্ধতি উদাহরণসহ আলোচনা করো।

১. মূলের মাধ্যমে: কিছু উদ্ভিদের অস্থানিক মূলে খাদ্য সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয় এবং তা থেকে নতুন মুকুল ও গাছ জন্মায় (যেমন—পটল, রাঙা আলু)।

২. কাণ্ডের মাধ্যমে:

রাইজোম বা গ্রন্থিল কাণ্ড: মাটির নিচে সমান্তরালভাবে বেড়ে ওঠা স্ফীত কাণ্ড (যেমন—আদা, হলুদ)।

টিউবার বা স্ফীতকন্দ: মাটির নিচের কাণ্ডের স্ফীত অংশ বা চোখ (যেমন—আলু)।

খর্বধাবক বা রানার: কচুরিপানা বা পুদিনার শাখা জলের বা মাটির ওপর সমান্তরালভাবে ছড়িয়ে নতুন চারা জন্মায়।

৩. পাতার মাধ্যমে: পাতার কিনারে অস্থানিক মুকুল সৃষ্টির মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটে (যেমন—পাথরকুচি)।

১৫. বর্ণান্ধতা এবং হিমোফিলিয়া রোগের বংশগতি কীভাবে সঞ্চারিত হয় তা ক্রস বা উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।

বর্ণান্ধতা বা হিমোফিলিয়ার জিনগত প্রকৃতি: এগুলি হলো X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। নারীর দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় একটিতে রোগ জিন থাকলে অপর সুস্থ X জিনটি রোগ প্রকাশ পেতে দেয় না, ফলে নারীরা সাধারণত 'বাহক' হয়। কিন্তু পুরুষের একটিমাত্র X ক্রোমোজোমে রোগ জিন থাকলেই তারা সরাসরি রোগাক্রান্ত হয়।

ক্রস উদাহরণ: একজন সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষ যদি কোনো বাহক মাতাকে (XX^c) বিয়ে করেন, তবে তাঁদের কন্যা সন্তানদের মধ্যে ৫০% সম্ভাবনা থাকে বাহক হওয়ার এবং পুত্রসন্তানদের মধ্যে ৫০% সম্ভাবনা থাকে রোগাক্রান্ত (X^c Y) হওয়ার।

১৬. মিয়োসিস কোষ বিভাজনের তাৎপর্য কেন জীবের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? সবিস্তারে লেখো।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবের বংশ ধারাবাহিকতা এবং বিবর্তনের চাবিকাঠি। প্রথমত, এটি জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করে প্রজাতিতে ক্রোমোজোম সংখ্যার ধ্রুবকতা রক্ষা করে, যা না ঘটলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে কোষের স্বাভাবিকতা নষ্ট হতো। দ্বিতীয়ত, ক্রসিংওভারের মাধ্যমে জিনের নতুন বিন্যাস বা প্রকরণ সৃষ্টি করে যা পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, মিয়োসিসের ফলেই জীবদেহে যৌন জনন সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

১৭. কোষচক্রের চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক বিন্দুগুলির ভূমিকা এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকা: কোষচক্রের সুশৃঙ্খল গতিপ্রকৃতি নিশ্চিত করার জন্য প্রধানত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্ট বা নিয়ন্ত্রক বিন্দু থাকে—G1 চেকপয়েন্ট, G2 চেকপয়েন্ট এবং M চেকপয়েন্ট বা স্পিন্ডল চেকপয়েন্ট।

গুরুত্ব: এই বিন্দুগুলিতে কোষের DNA-এর সঠিক প্রতিলিপিকরণ হয়েছে কি না, কোষের আকার ঠিক আছে কি না এবং কোনো ত্রুটি বা মিউটেশন রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে কোষচক্র সাময়িকভাবে থেমে যায় এবং ত্রুটি সংশোধিত হয়। যদি ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হয়, তবে কোষটি অ্যাপোপটোসিস বা স্বতঃমৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। এই চেকপয়েন্টগুলি অকার্যকর হলেই কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজিত হয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

১৮. যৌন জননের একক এবং এর কার্যপদ্ধতি সবিস্তারে আলোচনা করো।

একক: যৌন জননের মূল একক হলো গ্যামেট (পুং গ্যামেট বা শুক্রাণু এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু)।

কার্যপদ্ধতি: যৌন জনন প্রক্রিয়ায় প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়—গ্যামেটোজেনেসিস (মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি) এবং সিগম্যামি বা নিষেধ (পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের স্থায়ী মিলন)। এই মিলনের ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে বারবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ভ্রূণ ও অপত্য জীবে বিকশিত হয়।

১৯. ট্রিটমেন্ট বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যুকালচার প্রযুক্তির আধুনিক প্রয়োগ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

প্রয়োগ ও গুরুত্ব:

১. রোগমুক্ত চারা উৎপাদন: ভাইরাসমুক্ত কন্দাল ফসল (যেমন আলু, কলা) উৎপাদনে টিস্যুকালচার বিপ্লব ঘটিয়েছে।

২. বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি সংরক্ষণ: যে সমস্ত উদ্ভিদ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে, তাদের ল্যাবরেটরিতে সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

৩. বাণিজ্যিক লাভ: অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে উচ্চফলনশীল ঔষধি উদ্ভিদ ও ফুলের চারা (যেমন অর্কিড) উৎপাদন করে কৃষিক্ষেত্র ও উদ্যানবিদ্যায় ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়েছে।

২০. ডাউন সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার এবং টার্নার সিন্ড্রোমের কারণ ও ক্রোমোজোমগত ত্রুটিগুলি ব্যাখ্যা করো।

এগুলি সবই ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট জিনগত সিন্ড্রোম:

১. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome): অটোজোমের ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম যুক্ত হওয়ার ফলে (ট্রাইসোমি বা ৪৭টি ক্রোমোজোম) এই রোগ হয়, যার ফলে শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিগত বিকাশ ব্যাহত হয়।

২. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম (Klinefelter's Syndrome): এটি পুরুষদের একটি সেক্স ক্রোমোজোমগত ত্রুটি যেখানে ক্রোমোজোম বিন্যাস XXY হয় (মোট ৪৭টি ক্রোমোজোম), ফলে পুরুষদের মধ্যে কিছু স্ত্রীর লক্ষণ প্রকাশ পায় ও তারা বন্ধ্যা হয়।

৩. টার্নার সিন্ড্রোম (Turner's Syndrome): এটি নারীদের ক্ষেত্রে একটি X ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতির ফলে ঘটে (XO বিন্যাস, মোট ৪৫টি ক্রোমোজোম), ফলে নারীদের শারীরিক গঠন খর্বাকৃতি ও প্রজনন অঙ্গ অনুন্নত থাকে।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির তৃতীয় অধ্যায় "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

মেন্ডেলের সূত্র ও একসংকর ও দ্বিসংকর জনন (১ - ২৫)

১. বংশগতির জনক কাকে বলা হয়?

উত্তর: (ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল

২. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য কোন উদ্ভিদ নির্বাচন করেছিলেন?

উত্তর: (খ) মটর গাছ (Pisum sativum)

৩. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য কত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়েছিলেন?

উত্তর: (গ) ৭ জোড়া

৪. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি কী নামে পরিচিত?

উত্তর: (ঘ) পৃথকীকরণের সূত্র

৫. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত?

উত্তর: (ক) স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র

৬. একসংকর জননে F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

উত্তর: (খ) ৩ : ১

৭. একসংকর জননে F2 জনুতে জিনোটাইপ অনুপাত কত?

উত্তর: (গ) ১ : ২ : ১

৮. দ্বিসংকর জননে F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

উত্তর: (ঘ) ৯ : ৩ : ৩ : ১

৯. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটর গাছের ফিনোটাইপ কী হবে?

উত্তর: (ক) লম্বা

১০. বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) গাছের সংকরায়ণে F1 জনুতে কী উৎপন্ন হবে?

- উত্তর: (খ) সব সংকর দীর্ঘ (Tt) গাছ

১১. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ কী?

- উত্তর: (গ) সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত জিনের বিপরীত রূপ

১২. ফিনোটাইপ বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (ঘ) জীবের বাহ্যিক প্রকাশ বা বৈশিষ্ট্য

১৩. জিনোটাইপ বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (ক) জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন

১৪. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?

- উত্তর: (খ) অজ্ঞাত জিনোটাইপ নির্ধারণের জন্য

১৫. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?

- উত্তর: (গ) F1 জনুর সংকর জীবের সাথে জনকের ক্রস

১৬. হোমোজাইগাস বা প্রসম জীব বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (ঘ) একই ধরনের অ্যালিলযুক্ত জীব (যেমন TT বা tt)

৭. হেটারোজাইগাস বা সংকর জীব বলতে কী বোঝায়?

- উত্তর: (ক) বিপরীতধর্মী অ্যালিলযুক্ত জীব (যেমন Tt)

১৮. প্রকট বৈশিষ্ট্য কখন প্রকাশিত হয়?

- উত্তর: (খ) হোমোজাইগাস বা হেটারোজাইগাস উভয় অবস্থাতেই

১৯. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কখন প্রকাশিত হয়?

- উত্তর: (গ) শুধুমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থাতেই

২০. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে একসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাত কত হয়?

- উত্তর: (ঘ) ১ : ২ : ১ (যেমন সন্ধ্যা মালতী গাছে)

২১. মটর গাছের সবুজ রঙের বীজ কোন বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ?

- উত্তর: (ক) প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য

২২. মটর গাছের হলুদ রঙের বীজ কোন বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ?

- উত্তর: (খ) প্রকট বৈশিষ্ট্য

২৩. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জননে গ্যামেটের প্রকারভেদ কয়টি ছিল?

- উত্তর: (গ) ৪ প্রকার

২৪. মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: (ঘ) ৪৬টি (২৩ জোড়া)

২৫. মানুষের গ্যামেটে (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?

- উত্তর: (ক) ২৩টি

লিঙ্গ নির্ধারণ ও ক্রোমোজোম তত্ত্ব (২৬ - ৫০)

২৬. মানুষের দেহকোষে অটোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: (খ) ৪৪টি (২২ জোড়া)

২৭. মানুষের দেহকোষে সেক্স ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোমের সংখ্যা কত?

- উত্তর: (গ) ২টি (১ জোড়া)

২৮. পুরুষ মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: (ঘ) XY

২৯. নারী মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?

- উত্তর: (ক) XX

৩০. সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী কে?

- উত্তর: (খ) পিতার শুক্রাণু (X বা Y ক্রোমোজোম)

৩১. পতঙ্গের ক্ষেত্রে (যেমন ফড়িঙে) লিঙ্গ নির্ধারণের পদ্ধতি কী?

- উত্তর: (গ) XO-XX পদ্ধতি

৩২. পাখিদের ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি কীরূপ?

- উত্তর: (ঘ) ZW-ZZ পদ্ধতি

৩৩. মানুষের ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কে?

- উত্তর: (ক) ওয়ালডিয়ার

৩৪. ক্রোমোজোম শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?

- উত্তর: (খ) ডব্লিউ ওয়ালডিয়ার

৩৫. মানুষের কোন্ ক্রোমোজোমে লিঙ্গ নির্ধারণকারী প্রধান জিন থাকে?

- উত্তর: (গ) Y ক্রোমোজোমে (SRY জিন)

৩৬. জিন কোথায় অবস্থান করে?

- উত্তর: (ঘ) ক্রোমোজোমের ডিএনএ-তে

৩৭. বংশগতির মূল একক কী?

- উত্তর: (ক) জিন

৩৮. মিউটেশন (Mutation) বা প্রমাবর্তন তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

- উত্তর: (খ) হুগো দ্য ভ্রিস

৩৯. ক্রসিংওভার কোন প্রক্রিয়ায় ঘটে?

- উত্তর: (গ) মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ এ

৪০. ক্রসিংওভারের ফলে কী ঘটে?

- উত্তর: (ঘ) জিনের বিনিময় ও নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব

৪১. ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কী কী?

- উত্তর: (ক) DNA ও হিস্টোন প্রোটিন

৪২. ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স বা দ্বি-সূত্রক মডেল কে আবিষ্কার করেন?

- উত্তর: (খ) ওয়াটসন ও ক্রিক

৪৩. ডিএনএ-তে উপস্থিত শর্করাটির নাম কী?

- উত্তর: (গ) ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা

৪৪. আরএনএ-তে থাইমিনের পরিবর্তে কোন নাইট্রোজেন বেস থাকে?

- উত্তর: (ঘ) ইউরাসিল (Uracil)

৪৫. নিউক্লিওটাইড কী নিয়ে গঠিত?

- উত্তর: (ক) নাইট্রোজেন বেস, পেন্টোজ শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ

৪৬. মানুষের কোন্ কোষে সেক্স ক্রোমোজোম থাকে না?

- উত্তর: (খ) স্তন্যপায়ীর পরিপক্ক লোহিত রক্তকণিকায় (নিউক্লিয়াসহীন কোষে)

৪৭. লিঙ্গ-সংযুক্ত বা সেক্স-লিংকড জিন কোথায় থাকে?

- উত্তর: (গ) সেক্স ক্রোমোজোমের (প্রধানত X বা Y) অসংযুক্ত অংশে

৪৮. দুটি অপত্য কোষে জিনগতভাবে সদৃশ হলে তাদের কী বলে?

- উত্তর: (ঘ) ক্লোন

৪৯. মিয়োসিস কোষ বিভাজন কোথায় ঘটে?

- উত্তর: (ক) জনন মাতৃকোষে

৫০. মানুষের ক্রোমোজোমের স্বাভাবিক বিন্যাস বা ক্যারিওটাইপ কী?

- উত্তর: (খ) 44+XX বা 44+XY

জিনগত রোগ ও ত্রুটি (৫১ - ৭৫)


৫১. হিমোফিলিয়া রোগের অপর নাম কী?

- উত্তর: (গ) রাজরোগ (Royal Disease)

৫২. হিমোফিলিয়া কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: (ঘ) X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ

৫৩. হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কী বিঘ্ন ঘটে?

- উত্তর: (ক) রক্ত তঞ্চন ব্যাহত হয় (রক্ত জমাট বাঁধে না)

৫৪. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) রোগে রোগী কোন রঙ চিনতে পারে না?

- উত্তর: (খ) লাল ও সবুজ রঙ

৫৫. বর্ণান্ধতা কোন প্রকৃতির জিনগত রোগ?

- উত্তর: (গ) X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ

৫৬. থ্যালাসেমিয়া কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: (ঘ) অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগ

৫৭. থ্যালাসেমিয়া রোগে শরীরের কোন রক্তকণিকা দ্রুত ধ্বংস হয়?

- উত্তর: (ক) লোহিত রক্তকণিকা (RBC)

৫৮. আলফা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: (খ) ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে

৫৯. বিটা থ্যালাসেমিয়ার জন্য দায়ী জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?

- উত্তর: (গ) ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে

৬০. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) কোন ক্রোমোজোমের ত্রুটির কারণে হয়?

- উত্তর: (ঘ) ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের ট্রাইসোমি

৬১. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ হয়?

- উত্তর: (ক) XXY (৪৭টি ক্রোমোজোম)

৬২. টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ হয়?

- উত্তর: (খ) XO (৪৫টি ক্রোমোজোম)

৬৩. হিমোফিলিয়ার বাহক কে হতে পারে?

- উত্তর: (গ) সুস্থ স্বাভাবিক জিনযুক্ত মাতা (হেটারোজাইগাস)

৬৪. বর্ণান্ধতার বাহক মাতা স্বাভাবিক পুরুষের সাথে বিবাহ করলে পুত্রসন্তানদের রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত?

- উত্তর: (ঘ) ৫০% সম্ভাবনা

৬৫. থ্যালাসেমিয়া রোগীর দেহে অতিরিক্ত কী জমে অঙ্গহানি ঘটে?

- উত্তর: (ক) লোহা বা আয়রন (আয়রন ওভারলোড)

৬৬. সিকল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle cell anaemia) কী ধরনের রোগ?

- উত্তর: (খ) অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ

৬৭. জিনগত রোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা পদ্ধতির আধুনিক রূপ হলো—

- উত্তর: (গ) জিন থেরাপি (Gene Therapy)

৬৮. জেনেটিক কাউন্সেলিং (Genetic Counselling) কেন করা হয়?

- উত্তর: (ঘ) বংশগত রোগের ঝুঁকি ও প্রতিকার সম্পর্কে পরামর্শের জন্য

৬৯. মানুষের লালাগ্রন্থি বা সাধারণ দেহকোষে মোট কত জোড়া ক্রোমোজোম থাকে?

- উত্তর: (ক) ২৩ জোড়া (৪৬টি)

৭০. নিচের কোনটি সেক্স-লিংকড রোগের উদাহরণ নয়?

- উত্তর: (খ) থ্যালাসেমিয়া

৭১. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত কী করতে হয়?

- উত্তর: (গ) রক্ত পরিবর্তন বা ব্লাড ট্রান্সফিউশন

৭২. নিচের কোনটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগের উদাহরণ?

- উত্তর: (ঘ) থ্যালাসেমিয়া ও অ্যালবিনিজম

৭৩. হিমোফিলিয়া-এ (Haemophilia A) রোগের জন্য কোন ফ্যাক্টর দায়ী?

- উত্তর: (ক) ফ্যাক্টর VIII (অষ্টম)

৭৪. হিমোফিলিয়া-বি (Haemophilia B) বা ক্রিসমাস ডিজিজের জন্য কোন ফ্যাক্টর দায়ী?

- উত্তর: (খ) ফ্যাক্টর IX (নবম)

৭৫. লিঙ্গ-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন রোগ পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি প্রকাশ পায় কেন?

- উত্তর: (গ) পুরুষদের একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকায়

বিবিধ ও অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (৭৬ - ১০০)

৭৬. মেন্ডেল তাঁর বংশগতির পরীক্ষার ফলাফল কত সালে প্রকাশ করেন?

- উত্তর: (ঘ) ১৮৬৬ সালে

৭৭. মেন্ডেলবাদের পুনরাবিষ্কারক তিন বিজ্ঞানীর নাম কী?

- উত্তর: (ক) ডি ভ্রিস, করেন্স ও শেরমাক

৭৮. দুটি ভিন্ন প্রজাতির সংকরায়ণকে কী বলে?

- উত্তর: (খ) ইন্টারস্পেসিফিক হাইব্রিডাইজেশন

৭৯. একই প্রজাতির দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যের জীবের সংকরায়ণকে কী বলে?

- উত্তর: (গ) ইন্ট্রাসপেসিফিক সংকরায়ণ

৮০. সংকর দীঘ (Tt) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) গাছের ব্যাক ক্রসের ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

- উত্তর: (ঘ) ১ : ১

৮১. কোন বিজ্ঞানী প্রথম 'জেনোটাইপ' ও 'ফিনোটাইপ' শব্দ দুটি প্রবর্তন করেন?

- উত্তর: (ক) ভিলহেল্ম জোহানসেন

৮২. কোন বিজ্ঞানী প্রথম 'জিন' (Gene) শব্দটি প্রবর্তন করেন?

- উত্তর: (খ) ভিলহেল্ম জোহানসেন (১৯০৯ সালে)

৮৩. ইঁদুরের পশমের রঙের ক্ষেত্রে কোন প্রকটতা দেখা যায়?

- উত্তর: (গ) সমপ্রকটতা বা কো-ডমিন্যান্স

৮৪. এবিও (ABO) রক্তগ্রুপ আবিষ্কার করেন কে?

- উত্তর: (ঘ) কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার

৮৫. মানুষের রক্তে আইসোঅ্যাগ্লুটিনিন বা অ্যান্টিবডি কোথায় থাকে?

- উত্তর: (ক) রক্তরসে বা প্লাজমায়

৮৬. মানুষের রক্তে অ্যান্টিজেন কোথায় থাকে?

- উত্তর: (খ) লোহিত রক্তকণিকার (RBC) প্লাজমা membrane-এ

৮৭. সর্বজনগ্রাহী (Universal Recipient) রক্তগ্রুপ কোনটি?

- উত্তর: (গ) AB গ্রুপ

৮৮. সর্বজনদাতা (Universal Donor) রক্তগ্রুপ কোনটি?

- উত্তর: (ঘ) O গ্রুপ

৮৯. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের মূল ভিত্তি কী?

- উত্তর: (ক) স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হওয়া

৯০. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম কোনটি?

- উত্তর: (খ) অসম্পূর্ণ প্রকটতা ও সমপ্রকটতা

৯১. সংকর দীর্ঘ (Tt) উদ্ভিদে পুং গ্যামেটের কত শতাংশে T জিন থাকে?

- উত্তর: (গ) ৫০%

৯২. ক্রসিংওভারের ফলে জিনের কী ঘটে?

- উত্তর: (ঘ) পুনর্বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন

৯৩. থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Thalassemia minor) কী?

- উত্তর: (ক) হেটারোজাইগাস বাহক অবস্থা (লক্ষণ মৃদু)

৯৪. থ্যালাসেমিয়া মেজর (Thalassemia major) কী?

- উত্তর: (খ) হোমোজাইগাস মারাত্মক রোগাক্রান্ত অবস্থা

৯৫. হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত রক্তে কোনটি অনুপস্থিত থাকে?

- উত্তর: (গ) থ্রম্বোপ্লাস্টিন বা তঞ্চন ফ্যাক্টর

৯৬. মানুষের বর্ণান্ধতা পরীক্ষার জন্য কোন চার্ট ব্যবহার করা হয়?

- উত্তর: (ঘ) ইশিহারা চার্ট (Ishihara chart)

৯৭. ক্রোমোজোমের গায়ে জিনগুলির সরলরৈখিক বিন্যাসকে কী বলে?

- উত্তর: (ক) লিনিয়ার জিন ম্যাপ

৯৮. একটি সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছের সাথে একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) গাছের ক্রস করা হলে অপত্যে লম্বা গাছের শতকরা হার কত হবে?

- উত্তর: (খ) ১০০% লম্বা

৯৯. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম অপরিহার্য?

- উত্তর: (গ) Y ক্রোমোজোম (পুরুষের ক্ষেত্রে)

১০০. জিনের গঠনগত পরিবর্তনকে কী বলা হয়?

- উত্তর: (ঘ) মিউটেশন বা প্রমাবর্তন

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির তৃতীয় অধ্যায় "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৮০টি SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর) নিচে দেওয়া হলো:
মেন্ডেলের সূত্র ও একসংকর ও দ্বিসংকর জনন (১ - ২৫)
১. বংশগতি বা হেরিডিটি (Heredity) কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পিতামাতার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
২. জিন (Gene) কাকে বলে?
উত্তর: ডিএনএ-এর ওপর অবস্থিত নির্দিষ্ট ক্ষারক বিন্যাসযুক্ত অংশ যা বংশগতির একক এবং জীবের নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ (Allele) কী?
উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে।
৪. ফিনোটাইপ (Phenotype) কী?
উত্তর: জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা প্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে।
৫. জিনোটাইপ (Genotype) কী?
উত্তর: জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠনকে জিনোটাইপ বলে।
৬. হোমোজাইগাস বা প্রসম জীব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের অ্যালিলযুক্ত জীবকে (যেমন TT বা tt) হোমোজাইগাস বলে।
৭. হেটারোজাইগাস বা সংকর জীব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য বিপরীতধর্মী অ্যালিলযুক্ত জীবকে (যেমন Tt) হেটারোজাইগাস বলে।
৮. প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Trait) কাকে বলে?
উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
৯. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive Trait) কাকে বলে?
উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন বা অপ্রকাশিত থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।
১০. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি কী নামে পরিচিত?
- উত্তর: মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি পৃথকীকরণের সূত্র (Law of Segregation) নামে পরিচিত।
১১. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি কী নামে পরিচিত?
- উত্তর: মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র (Law of Independent Assortment) নামে পরিচিত।
১২. একসংকর জনন (Monohybrid Cross) কাকে বলে?
- উত্তর: একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর জনন বলে।
১৩. দ্বিসংকর জনন (Dihybrid Cross) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: দু'জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে দ্বিসংকর জনন বলে।
১৪. একসংকর জননের ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত কত?
- উত্তর: ফিনোটাইপ অনুপাত ৩:১ এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১:২:১।
১৫. দ্বিসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাত কত?
- উত্তর: দ্বিসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাত ৯:৩:৩:১।
১৬. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?
- উত্তর: কোনো অপত্য বা সংকর জীবের জিনোটাইপ বিশুদ্ধ না সংকর তা নির্ধারণ করার জন্য টেস্ট ক্রস করা হয়।
১৭. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?
- উত্তর: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে তার যেকোনো একটি জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে।
১৮. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য কোন উদ্ভিদ নির্বাচন করেছিলেন?
- উত্তর: মিষ্টি মটর গাছ (Pisum sativum)।
১৯. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য কত জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়েছিলেন?
- উত্তর: ৭ জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়েছিলেন।
২০. অসম্পূর্ণ প্রকটতার (Incomplete Dominance) একটি উদাহরণ দাও।
- উত্তর: সন্ধ্যা মালতী (Mirabilis jalapa) গাছে অসম্পূর্ণ প্রকটতা দেখা যায়।
২১. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটর গাছে ফিনোটাইপ কী হবে?
- উত্তর: গাছটি লম্বাই হবে।
২২. বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) গাছের সংকরায়ণে F1 জনুতে কী উৎপন্ন হবে?
- উত্তর: সমস্ত উদ্ভিদ সংকর লম্বা (Tt) হবে।
২৩. মেন্ডেলবাদ কত সালে পুনরাবিষ্কৃত হয়?
- উত্তর: ১৯০০ সালে (হুগো দ্য ভ্রিস, কার্ল করেন্স ও এরিক ফন শেরমাক কর্তৃক)।
২৪. জিন তত্ত্বের জনক কাকে বলা হয়?
- উত্তর: গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে।
২৫. ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ শব্দের প্রবক্তা কে?
- উত্তর: বিজ্ঞানী ভিলহেল্ম জোহানসেন।
লিঙ্গ নির্ধারণ ও ক্রোমোজোম তত্ত্ব (২৬ - ৫০)
২৬. লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা নেয়?
- উত্তর: মানুষের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোম (বিশেষ করে পুরুষদের Y ক্রোমোজোম)।
২৭. মানুষের দেহকোষে অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?
- উত্তর: ৪৪টি (২২ জোড়া) অটোজোম এবং ২টি (১ জোড়া) সেক্স ক্রোমোজোম।
২৮. পুরুষ মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: XY প্রকৃতির।
২৯. নারী মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: XX প্রকৃতির।
৩০. সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ভূমিকা মুখ্য?
- উত্তর: পিতার শুক্রাণুর (X বা Y ক্রোমোজোম বহনকারী) ভূমিকা মুখ্য।
৩১. পতঙ্গের ক্ষেত্রে (যেমন ফড়িঙে) লিঙ্গ নির্ধারণের পদ্ধতি কী?
- উত্তর: XO-XX পদ্ধতি।
৩২. পাখি ও প্রজাপতির ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি কীরূপ?
- উত্তর: ZW-ZZ পদ্ধতি।
৩৩. ক্রোমোজোম শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: বিজ্ঞানী ডব্লিউ ওয়ালডিয়ার।
৩৪. মানুষের কোন্ ক্রোমোজোমে লিঙ্গ নির্ধারণকারী প্রধান জিন (SRY) থাকে?
- উত্তর: Y ক্রোমোজোমে।
৩৫. ডিএনএ (DNA)-এর পুরো নাম কী?
- উত্তর: ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড।
৩৬. আরএনএ (RNA)-তে থাইমিনের পরিবর্তে কোন নাইট্রোজেন বেস থাকে?
- উত্তর: ইউরাসিল (Uracil)।
৩৭. নিউক্লিওটাইড কী নিয়ে গঠিত?
- উত্তর: নাইট্রোজেন বেস, পেন্টোজ শর্করা ও ফসফেট গ্রুপ নিয়ে নিউক্লিওটাইড গঠিত।
৩৮. ডিএনএ-এর ডাবল হেলিক্স বা দ্বি-সূত্রক মডেল কে আবিষ্কার করেন?
- উত্তর: ওয়াটসন ও ক্রিক (১৯৫৩ সালে)।
৩৯. ক্রসিংওভার কোন প্রক্রিয়ায় ঘটে?
- উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায়।
৪০. ক্রসিংওভারের ফলে জীবের কী লাভ হয়?
- উত্তর: জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের বা বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।
৪১. ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কী কী?
- উত্তর: ডিএনএ (DNA) এবং হিস্টোন প্রোটিন।
৪২. মিউটেশন (Mutation) বা প্রমাবর্তন তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- উত্তর: হুগো দ্য ভ্রিস।
৪৩. ক্লোন (Clone) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: জিনগতভাবে হুবহু সদৃশ অপত্য জীব বা কোষগুলিকে ক্লোন বলে।
৪৪. লিঙ্গ-সংযুক্ত বা সেক্স-লিংকড জিন কোথায় থাকে?
- উত্তর: সেক্স ক্রোমোজোমের (প্রধানত X ক্রোমোজোমের অসংযুক্ত অংশে) অবস্থান করে।
৪৫. মানুষের কোন্ কোষে সেক্স ক্রোমোজোম থাকে না?
- উত্তর: স্তন্যপায়ীর পরিপক্ক লোহিত রক্তকণিকায় (নিউক্লিয়াস না থাকায়)।
৪৬. ক্যারিওটাইপ (Karyotype) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: কোনো প্রজাতির কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকৃতি ও গঠনের সামগ্রিক বিন্যাসকে ক্যারিওটাইপ বলে।
৪৭. মানুষের কোষে অটোজোমের প্রধান কাজ কী?
- উত্তর: দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠন নিয়ন্ত্রণ করা।
৪৮. হেটেরোজোম কাকে বলে?
- উত্তর: যে ক্রোমোজোমগুলি লিঙ্গ নির্ধারণ করে তাদের হেটেরোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
৪৯. পুরুষের উৎপাদিত গ্যামেট বা শুক্রাণু কয় প্রকারের হয়?
- উত্তর: দুই প্রকারের (X-যুক্ত এবং Y-যুক্ত)।
৫০. স্ত্রীর উৎপাদিত গ্যামেট বা ডিম্বাণু কয় প্রকারের হয়?
- উত্তর: এক প্রকারের (শুধুমাত্র X-যুক্ত)।
জিনগত রোগ ও ত্রুটি (৫১ - ৮০)
৫১. হিমোফিলিয়াকে 'রাজরোগ' বলা হয় কেন?
- উত্তর: ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে এই রোগ প্রথম দেখা গিয়েছিল এবং রাজপরিবারের অনেকের এই রোগ হয়েছিল বলে একে রাজরোগ বলে।
৫২. হিমোফিলিয়া কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্ত তঞ্চন ত্রুটিপূর্ণ রোগ।
৫৩. হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কী সমস্যা হয়?
- উত্তর: রক্ত তঞ্চনকারী ফ্যাক্টরের অভাবে সামান্য আঘাতেও অবিরাম রক্তপাত হতে থাকে।
৫৪. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: যে ত্রুটির কারণে মানুষের চোখ লাল ও সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তাকে বর্ণান্ধতা বলে।
৫৫. বর্ণান্ধতা কোন প্রকৃতির জিনগত রোগ?
- উত্তর: এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ।
৫৬. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ।
৫৭. থ্যালাসেমিয়া রোগে শরীরের কোন রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
- উত্তর: ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন তৈরির ফলে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) দ্রুত ভেঙে যায়।
৫৮. আলফা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?
- উত্তর: ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে।
৫৯. বিটা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?
- উত্তর: ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে।
৬০. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) কেন হয়?
- উত্তর: অটোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে ট্রাইসোমি (দুটির পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোম থাকা)-র ফলে এই সিন্ড্রোম হয়।
৬১. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: XXY (৪৭টি ক্রোমোজোম)।
৬২. টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: XO (৪৫টি ক্রোমোজোম)।
৬৩. হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে বাহক মাতা সুস্থ থাকেন কেন?
- উত্তর: কারণ রোগ জিনটি প্রচ্ছন্ন হওয়ায় অপর সুস্থ X জিনটি তার প্রভাব ঢেকে রাখে (হেটারোজাইগাস অবস্থা)।
৬৪. থ্যালাসেমিয়া রোগীর দেহে অতিরিক্ত কী জমে মারাত্মক ক্ষতি হয়?
- উত্তর: বারবার রক্ত পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত লোহা বা আয়রন জমে (আয়রন ওভারলোড)।
৬৫. জেনেটিক কাউন্সেলিং (Genetic Counselling) কেন করা হয়?
- উত্তর: পরিবারে বংশগত রোগের ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করতে এবং দম্পতিদের সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য।
৬৬. জিন থেরাপি (Gene Therapy) কী?
- উত্তর: ত্রুটিপূর্ণ জিনের স্থানে সুস্থ বা স্বাভাবিক জিন প্রতিস্থাপন করে জিনগত রোগ নিরাময়ের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।
৬৭. থ্যালাসেমিয়া মাইনর ও থ্যালাসেমিয়া মেজরের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
- উত্তর: থ্যালাসেমিয়া মাইনর হলো বাহক অবস্থা (লক্ষণ মৃদু), আর থ্যালাসেমিয়া মেজর হলো মারাত্মক রোগাক্রান্ত হোমোজাইগাস অবস্থা।
৬৮. হিমোফিলিয়া-এ রোগের জন্য কোন ফ্যাক্টর অনুপস্থিত থাকে?
- উত্তর: ফ্যাক্টর VIII (অষ্টম ফ্যাক্টর)।
৬৯. হিমোফিলিয়া-বি বা ক্রিসমাস ডিজিজের জন্য কোন ফ্যাক্টর দায়ী?
- উত্তর: ফ্যাক্টর IX (নবম ফ্যাক্টর)।
৭০. মানুষের বর্ণান্ধতা পরীক্ষার জন্য কোন চার্ট ব্যবহার করা হয়?
- উত্তর: ইশিহারা চার্ট (Ishihara chart)।
৭১. অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
- উত্তর: এই রোগ প্রকাশের জন্য দুটি প্রচ্ছন্ন জিনই একসাথে (হোমোজাইগাস অবস্থায়) থাকতে হয়।
৭২. পিতা স্বাভাবিক ও মাতা বর্ণান্ধ হলে পুত্রসন্তানদের রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত?
- উত্তর: ১০০% পুত্রসন্তান বর্ণান্ধ হবে।
৭৩. সিকল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle cell anaemia) কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ যেখানে লোহিত রক্তকণিকা কাস্তে আকৃতির হয়ে যায়।
৭৪. লিঙ্গ-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন রোগ পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি প্রকাশ পায় কেন?
- উত্তর: পুরুষদের একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকায় সেই জিনের প্রচ্ছন্নতা ঢাকবার মতো আর কোনো X ক্রোমোজোম থাকে না।
৭৫. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত কী করতে হয়?
- উত্তর: নিয়মিত রক্ত পরিবর্তন (Blood transfusion) করতে হয়।
৭৬. সর্বজনগ্রাহী (Universal Recipient) রক্তগ্রুপ কোনটি?
- উত্তর: AB গ্রুপ।
৭৭. সর্বজনদাতা (Universal Donor) রক্তগ্রুপ কোনটি?
- উত্তর: O গ্রুপ।
৭৮. এবিও (ABO) রক্তগ্রুপ কে আবিষ্কার করেন?
- উত্তর: বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।
৭৯. সংকর দীঘ (Tt) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) গাছের ব্যাক ক্রসের ফিনোটাইপ অনুপাত কত?
- উত্তর: ১ : ১ (৫০% লম্বা ও ৫০% খর্ব)।
৮০. জিনের গঠনগত আকস্মিক পরিবর্তনকে কী বলা হয়?
- উত্তর: মিউটেশন বা প্রমাবর্তন।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির তৃতীয় অধ্যায় "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৫০টি দুই নম্বরের (2 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
মেন্ডেলের সূত্র ও একসংকর ও দ্বিসংকর জনন
১. বংশগতি বা হেরিডিটি (Heredity) কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পিতামাতার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
২. জিন (Gene) কাকে বলে?
উত্তর: ডিএনএ-এর ওপর অবস্থিত নির্দিষ্ট ক্ষারক বিন্যাসযুক্ত অংশ যা বংশগতির একক এবং জীবের নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ (Allele) কী?
উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট লোজাসে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ বলে।
৪. ফিনোটাইপ (Phenotype) ও জিনোটাইপের (Genotype) মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ফিনোটাইপ হলো জীবের বাহ্যিক প্রকাশ বা বৈশিষ্ট্য, আর জিনোটাইপ হলো জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন।
৫. হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস জীবের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: হোমোজাইগাস জীবে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের অ্যালিল থাকে (যেমন TT বা tt), আর হেটারোজাইগাস জীবে বিপরীতধর্মী অ্যালিল থাকে (যেমন Tt)।
৬. প্রকট বৈশিষ্ট্য ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় তা প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং যা অপ্রকাশিত বা ঢাকা থাকে তা প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
৭. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি (পৃথকীকরণের সূত্র) বিবৃত করো।
উত্তর: সংকর জীবের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত বা সংমিশ্রিত না হয়ে গ্যামেট গঠনকালে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।
৮. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি (স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র) বিবৃত করো।
উত্তর: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোনো জীবের সংকরায়ণ ঘтаলে, গ্যামেট উৎপাদনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের সাথে স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ায় বা বিন্যাসে মিশ্রিত হয়।
৯. টেস্ট ক্রস (Test Cross) কেন করা হয়?
উত্তর: কোনো অপত্য বা সংকর জীবের জিনোটাইপ বিশুদ্ধ না সংকর তা নির্ধারণ করার জন্য টেস্ট ক্রস করা হয়।
১০. ব্যাক ক্রস (Back Cross) কী?
- উত্তর: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে তার যেকোনো একটি জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে।
১১. অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যখন দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জীবের সংকরায়ণে কোনো প্রকট বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে উভয়ের মাঝমাঝি বা সংকর একটি নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। যেমন—সন্ধ্যা মালতী গাছের লাল ও সাদা ফুলের ক্রসে গোলাপি ফুল হওয়া।
১২. একসংকর জনন (Monohybrid Cross) কাকে বলে?
- উত্তর: একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে একসংকর জনন বলে।
১৩. দ্বিসংকর জনন (Dihybrid Cross) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: দু'জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণকে দ্বিসংকর জনন বলে।
১৪. সংকর দীর্ঘ (Tt) মটর গাছে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কী হবে?
- উত্তর: এর ফিনোটাইপ হবে 'লম্বা' এবং জিনোটাইপ হবে 'সংকর লম্বা' (Tt)।
১৫. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মিষ্টি মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন কেন?
- উত্তর: মটর গাছ সহজে চাষ করা যায়, এটি স্বপরাগী হওয়ায় বিশুদ্ধ বংশ পাওয়া সহজ এবং এতে বিপরীতধর্মী স্পষ্ট অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য (যেমন লম্বা-খর্ব) থাকে।
লিঙ্গ নির্ধারণ ও ক্রোমোজোম তত্ত্ব
১৬. লিঙ্গ নির্ধারণে কোন ক্রোমোজোম প্রধান ভূমিকা নেয়?
- উত্তর: মানুষের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোম বা হেটেরোজোম (বিশেষ করে পুরুষদের Y ক্রোমোজোম) লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা নেয়।
১৭. মানুষের দেহকোষে অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?
- উত্তর: ৪৪টি (২২ জোড়া) অটোজোম এবং ২টি (১ জোড়া) সেক্স ক্রোমোজোম।
১৮. পুরুষ ও নারীর সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম বিন্যাস XY এবং নারীর ক্ষেত্রে XX প্রকৃতির হয়।
১৯. সন্তانের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়?
- উত্তর: পুরুষদের দেহ থেকে X ও Y উভয় প্রকার শুক্রাণু উৎপন্ন হয়, আর নারীদের থেকে শুধুমাত্র X-যুক্ত ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। Y-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলেই পুত্রসন্তান জন্মায়, তাই লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা মুখ্য।
২০. হেটেরোজোম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে ক্রোমোজোমগুলি জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে তাদের হেটেরোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম বলে। যেমন—মানুষের X ও Y ক্রোমোজোম।
২১. অটোজোমের একটি প্রধান কাজ লেখো।
- উত্তর: অটোজোম জীবের দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য, গঠন ও বিপাকীয় কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
২২. ক্রসিংওভার (Crossing Over) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের আদানপ্রদানকে ক্রসিংওভার বলে।
২৩. ক্যারিওটাইপ (Karyotype) কাকে বলে?
- উত্তর: কোনো প্রজাতির কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকার ও কাঠামোগত সামগ্রিক বিন্যাসকে ক্যারিওটাইপ বলে।
২৪. ক্লোন (Clone) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: জিনগতভাবে এবং শারীরিকভাবে হুবহু সদৃশ অপত্য জীব বা কোষগুলিকে ক্লোন বলা হয়।
২৫. মিউটেশন বা প্রমাবর্তন কাকে বলে?
- উত্তর: জিনের গঠনগত বা ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে।
২৬. লিঙ্গ-সংযুক্ত জিন (Sex-linked Gene) কাকে বলে?
- উত্তর: যে সমস্ত জিন সেক্স ক্রোমোজোমের (প্রধানত X ক্রোমোজোমে) অসংযুক্ত অংশে অবস্থান করে এবং বংশগত চরিত্র বহন করে, তাদের লিঙ্গ-সংযুক্ত জিন বলে।
২৭. ডব্লিউ ওয়ালডিয়ার কী আবিষ্কার করেছিলেন?
- উত্তর: তিনি ১৮৮৮ সালে 'ক্রোমোজোম' শব্দটি প্রথম প্রবর্তন করেন।
২৮. ওয়াটসন ও ক্রিক কী আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: তাঁরা ১৯৫৩ সালে ডিএনএ (DNA)-এর ডাবল হেলিক্স বা দ্বি-সূত্রক মডেল আবিষ্কার করেন।
২৯. নিউক্লিওটাইড কী নিয়ে গঠিত?
- উত্তর: একটি নাইট্রোজেন বেস, একটি পেন্টোজ শর্করা এবং একটি ফসফেট গ্রুপ নিয়ে নিউক্লিওটাইড গঠিত।
৩০. আরএনএ (RNA)-তে থাইমিনের পরিবর্তে কী থাকে?
- উত্তর: আরএনএ-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (Uracil) নামক নাইট্রোজেন বেস থাকে।
জিনগত রোগ ও ত্রুটি
৩১. হিমোফিলিয়াকে 'রাজরোগ' বলা হয় কেন?
- উত্তর: ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার পরিবারে এই রোগ প্রথম দেখা গিয়েছিল এবং রাজপরিবারের বহু সদস্য এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে একে রাজরোগ বলে।
৩২. হিমোফিলিয়া কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্ত তঞ্চন ত্রুটিপূর্ণ রোগ।
৩৩. হিমোফিলিয়া রোগের ফলে শরীরে কী সমস্যা হয়?
- উত্তর: রক্ত তঞ্চনের প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টরের অভাবে সামান্য আঘাতেও শরীর থেকে অবিরাম রক্তপাত হতে থাকে।
৩৪. বর্ণান্ধতা (Color Blindness) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: যে ত্রুটির কারণে মানুষের চোখ লাল ও সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তাকে বর্ণান্ধতা বলে।
৩৫. বর্ণান্ধতা কোন প্রকৃতির জিনগত রোগ?
- উত্তর: এটি একটি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ।
৩৬. থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রক্তাল্পতা রোগ, যাতে ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন তৈরির ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায়।
৩৭. আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রক জিন কোন কোন ক্রোমোজোমে থাকে?
- উত্তর: আলফা থ্যালাসেমিয়ার জিন ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে এবং বিটা থ্যালাসেমিয়ার জিন ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে থাকে।
৩৮. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome) কেন হয়?
- উত্তর: অটোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে ট্রাইসোমি (দুটির পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোম থাকা)-র ফলে এই সিন্ড্রোম হয়।
৩৯. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস হলো XXY (৪৭টি ক্রোমোজোম)।
৪০. টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস কীরূপ?
- উত্তর: টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোম বিন্যাস হলো XO (৪৫টি ক্রোমোজোম)।
৪১. হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে বাহক মাতা সুস্থ থাকেন কেন?
- উত্তর: কারণ রোগ জিনটি প্রচ্ছন্ন হওয়ায় অপর সুস্থ X জিনটি তার রোগ লক্ষণ ঢেকে রাখে (হেটারোজাইগাস অবস্থা)।
৪২. থ্যালাসেমিয়া রোগীর দেহে অতিরিক্ত কী জমে মারাত্মক ক্ষতি হয়?
- উত্তর: বারবার রক্ত পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত লোহা বা আয়রন (আয়রন ওভারলোড) জমে যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪৩. জেনেটিক কাউন্সেলিং (Genetic Counselling) কেন করা হয়?
- উত্তর: পরিবারে বংশগত রোগের ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করতে এবং দম্পতিদের সঠিক চিকিৎসা ও আগাম সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়ার জন্য।
৪৪. জিন থেরাপি (Gene Therapy) কী?
- উত্তর: ত্রুটিপূর্ণ জিনের স্থানে সুস্থ বা স্বাভাবিক জিন প্রতিস্থাপন করে জিনগত রোগ নিরাময়ের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।
৪৫. থ্যালাসেমিয়া মাইনর ও থ্যালাসেমিয়া মেজরের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
- উত্তর: থ্যালাসেমিয়া মাইনর হলো বাহক অবস্থা (লক্ষণ মৃদু), আর থ্যালাসেমিয়া মেজর হলো মারাত্মক রোগাক্রান্ত হোমোজাইগাস অবস্থা।
৪৬. হিমোফিলিয়া-এ রোগের জন্য কোন ফ্যাক্টর অনুপস্থিত থাকে?
- উত্তর: ফ্যাক্টর VIII (অষ্টম ফ্যাক্টর)।
৪৭. মানুষের বর্ণান্ধতা পরীক্ষার জন্য কোন চার্ট ব্যবহার করা হয়?
- উত্তর: ইশিহারা চার্ট (Ishihara chart)।
৪৮. সিকল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle cell anaemia) কী ধরনের রোগ?
- উত্তর: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ যেখানে লোহিত রক্তকণিকা কাস্তে আকৃতির হয়ে যায়।
৪৯. লিঙ্গ-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন রোগ পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি প্রকাশ পায় কেন?
- উত্তর: পুরুষদের একটিমাত্র X ক্রোমোজোম থাকায় সেই জিনের প্রচ্ছন্নতা ঢাকবার মতো আর কোনো অতিরিক্ত X ক্রোমোজোম থাকে না।
৫০. সর্বজনগ্রাহী ও সর্বজনদাতা রক্তগ্রুপ কোনটি?
- উত্তর: সর্বজনগ্রাহী রক্তগ্রুপ হলো AB গ্রুপ এবং সর্বজনদাতা রক্তগ্রুপ হলো O গ্রুপ।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির তৃতীয় অধ্যায় "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৩০টি তিন নম্বরের (3 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
মেন্ডেলের সূত্র ও একসংকর ও দ্বিসংকর জনন
১. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি (পৃথকীকরণের সূত্র) বিবৃত করো এবং একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সূত্রটি হলো—"সংকর জীবের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত বা সংমিশ্রিত না হয়ে গ্যামেট গঠনকালে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।" উদাহরণস্বরূপ, সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছে টি (T) ও টি (t) জিন দুটি একসাথে থাকলেও গ্যামেট তৈরির সময় পৃথক হয়ে আলাদা শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে।
২. মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি (স্বাধীন বিন্যাসের সূত্র) সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সূত্রটি হলো—"দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোনো জীবের সংকরায়ণ ঘটালে, গ্যামেট উৎপাদনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের সাথে কেবল একে অপরের থেকে পৃথকই হয় না, বরং স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ায় বা বিন্যাসে মিশ্রিত হয়।" এর প্রধান ভিত্তি হলো দ্বিসংকর জননের ৯:৩:৩:১ ফিনোটাইপ অনুপাত।
৩. টেস্ট ক্রস ও ব্যাক ক্রসের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি লেখো।
উত্তর:
১. সংজ্ঞা: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে প্রচ্ছন্ন জনকের ক্রসকে টেস্ট ক্রস বলে, আর F1 জনুর সংকর জীবের সাথে যেকোনো জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে।
২. উদ্দেশ্য: টেস্ট ক্রস করা হয় অজ্ঞাত জিনোটাইপ নির্ধারণের জন্য, আর ব্যাক ক্রস করা হয় জনকের বৈশিষ্ট্য অপত্যে ফিরিয়ে আনার জন্য। অর্থাৎ, সব টেস্ট ক্রসই ব্যাক ক্রস, কিন্তু সব ব্যাক ক্রস টেস্ট ক্রস নয়।
৪. অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলতে কী বোঝো? সন্ধ্যা মালতী গাছের উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যখন দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জীবের সংকরায়ণে কোনো প্রকট বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে উভয়ের মাঝমাঝি বা সংকর একটি নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। যেমন—সন্ধ্যা মালতী গাছের বিশুদ্ধ লাল ফুল (RR) ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলের (rr) ক্রসে F1 জনুতে কোনোটিই প্রকাশ না পেয়ে গোলাপি ফুল (Rr) উৎপন্ন হয়।
৫. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার গাণিতিক বা চেকার বোর্ড ভিত্তিক মূল ফলাফলটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মেন্ডেল হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YYRR) এবং সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত (yyrr) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন। F1 জনুতে সব উদ্ভিদ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YyRr) হয়। কিন্তু F2 জনুতে গ্যামেটের স্বাধীন বিন্যাসের ফলে ৯:৩:৩:১ অনুপাতে চার ধরনের ফিনোটাইপ (হলুদ-গোল, হলুদ-কুঞ্চিত, সবুজ-গোল, সবুজ-কুঞ্চিত) প্রকাশিত হয়।
৬. সংকরয়ন পরীক্ষায় মেন্ডেলের সফলতার তিনটি প্রধান কারণ সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
১. মেন্ডেল একসাথে অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা না করে প্রথমে একজোড়া (একসংকর) এবং পরে দু'জোড়া (দ্বিসংকর) বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন।
২. তিনি মটর গাছের পরিষ্কার ও বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন লম্বা-খর্ব, হলুদ-সবুজ) নির্বাচন করেছিলেন।
৩. তিনি তার পরীক্ষার সমস্ত ফলাফল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিসংখ্যানগত ও গণিতীয় পদ্ধতিতে হিসাব ও নথিভুক্ত করেছিলেন।
৭. ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের মধ্যে তিনটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. সংজ্ঞা: ফিনোটাইপ হলো জীবের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা প্রকাশ, আর জিনোটাইপ হলো জীবের অভ্যন্তরীণ জিনগত গঠন।
২. নির্ভরতা: ফিনোটাইপ জিনোটাইপ ও পরিবেশ উভয়ের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু জিনোটাইপ সম্পূর্ণভাবে জিনের বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে।
৩. পরিবর্তন: বাহ্যিক পরিবেশের প্রভাবে ফিনোটাইপ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু জিনোটাইপ সহজে পরিবর্তিত হয় না।
৮. হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস জীবের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. অ্যালিলের প্রকৃতি: হোমোজাইগাস জীবে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের অ্যালিল থাকে (যেমন TT বা tt), আর হেটারোজাইগাস জীবে বিপরীতধর্মী অ্যালিল থাকে (যেমন Tt)।
২. বিশুদ্ধতা: হোমোজাইগাস জীব সর্বদা বিশুদ্ধ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে, কিন্তু হেটারোজাইগাস জীব সংকর প্রকৃতির হয়।
৩. গ্যামেট উৎপাদন: হোমোজাইগাস জীব থেকে একই ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়, আর হেটারোজাইগাস জীব থেকে ভিন্ন ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
৯. প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. প্রকাশ: সংকর জীবে যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় তা প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং যা অপ্রকাশিত বা ঢাকা থাকে তা প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
২. অবস্থা: প্রকট বৈশিষ্ট্য হোমোজাইগাস বা হেটারোজাইগাস উভয় অবস্থাতেই প্রকাশ পায়, কিন্তু প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র হোমোজাইগাস অবস্থাতেই প্রকাশিত হতে পারে।
৩. প্রতীক: প্রকট বৈশিষ্ট্যকে সাধারণত ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর (যেমন T) এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যকে ছোট হাতের অক্ষর (যেমন t) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
১০. মেন্ডেলের সূত্র অনুযায়ী একসংকর জননের F2 জনুর জিনোটাইপ অনুপাতটি চেকার বোর্ডের তাৎপর্যসহ ব্যাখ্যা করো।
- উত্তর: একসংকর জননে F1 জনুর সংকর লম্বা (Tt) গাছের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে জিনোটাইপ অনুপাত ১:২:১ হয় (অর্থাৎ ২৫% বিশুদ্ধ লম্বা বা TT, ৫০% সংকর লম্বা বা Tt, এবং ২৫% বিশুদ্ধ খর্ব বা tt)। এটি প্রমাণ করে যে গ্যামেট তৈরির সময় অ্যালিলগুলি একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যায়।
লিঙ্গ নির্ধারণ ও ক্রোমোজোম তত্ত্ব
১১. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়? সবিস্তারে ব্যাখ্যা করো।
- উত্তর: মানুষের দেহকোষে ৪৪টি অটোজোম এবং ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম (পুরুষে XY, স্ত্রীতে XX) থাকে। স্ত্রীরা কেবল X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণু তৈরি করে। অন্যদিকে পুরুষেরা X ও Y ক্রোমোজোমযুক্ত দু'ধরনের শুক্রাণু তৈরি করে। ডিম্বাণুর সাথে X-যুক্ত শুক্রাণু মিলিত হলে কন্যাসন্তান (XX) এবং Y-যুক্ত শুক্রাণু মিলিত হলে পুত্রসন্তান (XY) জন্মায়। সুতরাং, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে পিতার শুক্রাণুর ওপর নির্ভর করে।
১২. অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
- উত্তর:
১. কাজ: অটোজোম দেহের সাধারণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, আর সেক্স ক্রোমোজোম প্রধানত লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
২. সংখ্যা: মানুষের দেহকোষে অটোজোম থাকে ৪৪টি (২২ জোড়া) এবং সেক্স ক্রোমোজোম থাকে ২টি (১ জোড়া)।
৩. বণ্টন: স্ত্রী ও পুং উভয়ের দেহেই অটোজোম বিন্যাস হুবহু একরকম হয়, কিন্তু সেক্স ক্রোমোজোম পুরুষে XY এবং স্ত্রীতে XX প্রকৃতির হয়।
১৩. ক্রসিংওভার (Crossing Over) কী? এটি কোথায় এবং কখন ঘটে?
- উত্তর: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের আদানপ্রদানকে ক্রসিংওভার বলে। এটি মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায় ঘটে। এর ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়।
১৪. ডাউন সিন্ড্রোমের কারণ ও লক্ষণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
- উত্তর:
কারণ: অটোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে ট্রাইসোমি (দুটির পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোম থাকা)-র ফলে এই সিন্ড্রোম হয়।
লক্ষণ: শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, মাথার খুলি ছোট হয়, চোখ চওড়া ও কোণাকৃতির হয় এবং মানসিক বিকাশ অত্যন্ত মন্থর বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়।
১৫. ক্লাইনফেল্টার ও টার্নার সিন্ড্রোমের ক্রোমোজোমগত পার্থক্য কী?
- উত্তর:
১. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম: এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোমের ত্রুটি যেখানে ক্রোমোজোম বিন্যাস XXY (মোট ৪৭টি ক্রোমোজোম) হয়, ফলে পুরুষদের শারীরিক গঠন কিছুটা স্ত্রীসুলভ হয় ও তারা বন্ধ্যা হয়।
২. টার্নার সিন্ড্রোম: এটি নারীদের ক্ষেত্রে একটি X ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতির ফলে ঘটে (XO বিন্যাস, মোট ৪৫টি ক্রোমোজোম), ফলে নারীদের শারীরিক গঠন খর্বাকৃতি ও প্রজনন অঙ্গ অনুন্নত থাকে।
১৬. ক্যারিওটাইপ (Karyotype) বলতে কী বোঝো? এর গুরুত্ব কী?
- উত্তর: কোনো প্রজাতির কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা, আকার ও কাঠামোগত সামগ্রিক বিন্যাসকে ক্যারিওটাইপ বলে। এর মাধ্যমে ক্রোমোজোমগত ত্রুটি, জিনগত রোগ এবং বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে পারস্পরিক বিবর্তনীয় সম্পর্ক সহজে নির্ধারণ করা যায়।
১৭. ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)-এর গঠনগত তিনটি পার্থক্য লেখো।
- উত্তর:
১. শর্করা: ডিএনএ-তে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে, আর আরএনএ-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
২. নাইট্রোজেন বেস: ডিএনএ-তে থাইমিন (T) থাকে, কিন্তু আরএনএ-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে (উভয়েই A, G, C কমন)।
৩. সূত্রক সংখ্যা: ডিএনএ সাধারণত দ্বিসূত্রক (Double stranded), আর আরএনএ সাধারণত একসূত্রক (Single stranded) হয়।
১৮. মিউটেশন বা প্রমাবর্তন কাকে বলে? এর একটি প্রধান কারণ লেখো।
- উত্তর: জিনের ক্ষারক বিন্যাসের বা ক্রোমোজোমের গঠন ও সংখ্যার আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। এর প্রধান কারণ হলো এক্স-রে, গামা রশ্মির মতো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কিংবা ডিএনএ প্রতিলিপিকরণের সময় ভুল বা রাসায়নিক mutagen-এর প্রভাব।
১৯. লিঙ্গ-সংযুক্ত জিন (Sex-linked Gene) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত জিন সেক্স ক্রোমোজোমের (প্রধানত X ক্রোমোজোমের অসংযুক্ত অংশে) অবস্থান করে এবং বংশগত চরিত্র বহন করে, তাদের লিঙ্গ-সংযুক্ত জিন বলে। যেমন—হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার জিন।
২০. পাখি ও পতঙ্গের ক্ষেত্রে লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি mammals থেকে আলাদা কেন?
- উত্তর: স্তন্যপায়ী প্রাণীতে পুরুষরা Heterogametic (XY) এবং স্ত্রীরা Homogametic (XX) হয়। কিন্তু পাখি ও প্রজাপতির ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো পদ্ধতি (ZW-ZZ পদ্ধতি) দেখা যায়, যেখানে স্ত্রী পাখিরা ZW এবং পুরুষ পাখিরা ZZ সেক্স ক্রোমোজোম বহন করে।
জিনগত রোগ ও ত্রুটি
২১. হিমোফিলিয়া রোগটিকে 'X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- উত্তর: হিমোফিলিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণকারী ত্রুটিপূর্ণ প্রচ্ছন্ন জিনটি X ক্রোমোজোমে অবস্থান করে। নারীর দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় একটিতে রোগ জিন থাকলে অপর সুস্থ X জিনটি তা ঢেকে রাখে (বাহক হয়)। কিন্তু পুরুষের একটিমাত্র X ক্রোমোজমে ওই জিন থাকলেই তা প্রকাশিত হয়, তাই একে X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন রোগ বলে।
২২. থ্যালাসেমিয়া রোগটিকে 'অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ' বলা হয় কেন?
- উত্তর: থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণকারী ত্রুটিপূর্ণ জিনটি সেক্স ক্রোমোজমে না থেকে অটোজोমে (১৬ বা ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে) অবস্থান করে। এই রোগ প্রকাশের জন্য দুটি ত্রুটিপূর্ণ প্রচ্ছন্ন জিনই একসাথে থাকতে হয় (হোমোজাইগাস অবস্থা), তাই একে অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ বলে।
২৩. হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার ক্ষেত্রে বাহক মাতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- উত্তর: মা যদি হেটারোজাইগাস বা বাহক হন (অর্থাৎ তাঁর একটি X ক্রোমোজমে রোগ জিন থাকে), তবে তিনি নিজে সুস্থ থাকেন কারণ অপর সুস্থ X জিনটি তা ঢেকে রাখে। কিন্তু ওই বাহক মাতার কাছ থেকে রোগ জিনটি পুত্রসন্তানে গেলেই পুত্ররা রোগাক্রান্ত হয়, কারণ তাদের ক্ষেত্রে তা প্রতিহত করার মতো আর কোনো X ক্রোমোজোম থাকে না।
২৪. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর প্রধান শারীরিক সমস্যাগুলি কী কী?
- উত্তর:
১. ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন তৈরির ফলে বারবার লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, যার ফলে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
২. ঘন ঘন রক্ত পরিবর্তন (Blood transfusion) করতে হয় বলে দেহে অতিরিক্ত লোহা বা আয়রন জমে যকৃৎ, প্লীহা ও হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. অস্থি মজ্জা ফুলে ওঠে এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২৫. জেনেটিক কাউন্সেলিং (Genetic Counselling) বা জিনগত পরামর্শদান কেন প্রয়োজন?
- উত্তর: পরিবারে যদি থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়ার মতো মারাত্মক বংশগত রোগের ইতিহাস থাকে, তবে বিবাহ বা সন্তান গ্রহণের আগে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষা করে অনাগত সন্তানের মধ্যে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতখানি তা জানা যায় এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
২৬. জিন থেরাপি (Gene Therapy) কী? এটি কীভাবে কাজ করে?
- উত্তর: জিন থেরাপি হলো এমন একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে কোনো জিনগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য রোগীর কোষে সুস্থ বা স্বাভাবিক জিন প্রবেশ করানো হয়। এই সুস্থ জিনটি ত্রুটিপূর্ণ জিনের স্থান দখল করে বা তার কার্যকারিতা প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে।
২০. থ্যালাসেমিয়া মাইনর ও থ্যালাসেমিয়া মেজরের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
- উত্তর:
১. জিনগত অবস্থা: থ্যালাসেমিয়া মাইনর হলো হেটারোজাইগাস বাহক অবস্থা, আর থ্যালাসেমিয়া মেজর হলো হোমোজাইগাস মারাত্মক রোগাক্রান্ত অবস্থা।
২. তীব্রতা: মাইনর অবস্থায় লক্ষণগুলি খুব মৃদু বা থাকে না বললেই চলে, কিন্তু মেজর অবস্থায় তীব্র রক্তাল্পতা ও শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
৩. চিকিৎসা: মাইনর রোগীর সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু মেজর রোগীর নিয়মিত রক্ত পরিবর্তন ও বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
২৮. হিমোফিলিয়া-এ এবং হিমোফিলিয়া-বি এর মধ্যে পার্থক্য কী?
- উত্তর:
১. হিমোফিলিয়া-এ: রক্ত তঞ্চনের অষ্টম ফ্যাক্টর (Factor VIII)-এর ঘাটতির ফলে এই রোগ হয়। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
২. হিমোফিলিয়া-বি: রক্ত তঞ্চনের নবম ফ্যাক্টর (Factor IX)-এর ঘাটতির ফলে এই রোগ হয়, যা ক্রিসমাস ডিজিজ নামেও পরিচিত।
২৯. বর্ণান্ধতা রোগগ্রস্ত ব্যক্তিরা সমাজে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন?
- উত্তর: বর্ণান্ধ ব্যক্তিরা লাল ও সবুজ রঙের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন না। এর ফলে তাঁরা সিগন্যাল লাইট চিনতে সমস্যায় পড়েন, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বাধা পান এবং কিছু নির্দিষ্ট পেশা (যেমন ট্রেন চালক বা বৈমানিক) নির্বাচনে অক্ষম হন।
৩০. অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগের বংশগতির একটি সাধারণ চার্ট বা প্যাটার্ন সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো।
- উত্তর: অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগের ক্ষেত্রে (যেমন থ্যালাসেমিয়া) পিতা ও মাতা উভয়কেই বাহক (Heterozygous) হতে হয়। বাহক পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানরা যদি দুটি প্রচ্ছন্ন জিন একসাথে পায় তবেই সন্তান রোগাক্রান্ত হয়। এই ক্ষেত্রে প্রতি গর্ভে সন্তান রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%, বাহক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ২৫% থাকে।
দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির তৃতীয় অধ্যায় "বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ২০টি পাঁচ নম্বরের (5 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. মেন্ডেলের পৃথকীকরণের সূত্রটি (প্রথম সূত্র) বিবৃত করো এবং একটি উদাহরণের সাহায্যে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করো।
সূত্র: সংকর জীবের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত বা সংমিশ্রিত না হয়ে গ্যামেট গঠনকালে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা (চেকার বোর্ড):
মেন্ডেল একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর গাছের সাথে বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন। F1 জনুতে সমস্ত গাছ সংকর লম্বা (Tt) হয়। এখন F1 জনুর উদ্ভিদগুলির মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে ফিনোটাইপ অনুপাত ৩:১ (৩টি লম্বা ও ১টি খর্ব) এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১:২:১ (১টি TT, ২টি Tt, ১টি tt) পাওয়া যায়। চেকার বোর্ডে টি (T) এবং টি (t) গ্যামেটগুলি স্বাধীনভাবে পৃথক হয়ে এই অনুপাত প্রকাশ করে, যা প্রথম সূত্রের সত্যতা প্রমাণ করে।
২. মেন্ডেলের স্বাধীন বিন্যাসের সূত্রটি (দ্বিতীয় সূত্র) বিবৃত করো এবং দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দাও।
সূত্র: দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কোনো জীবের সংকরায়ণ ঘটালে, গ্যামেট উৎপাদনের সময় একজোড়া বৈশিষ্ট্য অন্য জোড়া বৈশিষ্ট্যের সাথে কেবল একে অপরের থেকে পৃথকই হয় না, বরং স্বাধীনভাবে যেকোনো জোড়ায় বা বিন্যাসে মিশ্রিত হয়।
ব্যাখ্যা: মেন্ডেল হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YYRR) এবং সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত (yyrr) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন। F1 জনুতে সব উদ্ভিদ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YyRr) হয়। কিন্তু F2 জনুতে গ্যামেটগুলির স্বাধীন বিন্যাসের ফলে ৯:৩:৩:১ অনুপাতে চার ধরনের ফিনোটাইপ (হলুদ-গোল, হলুদ-কুঞ্চিত, সবুজ-গোল, সবুজ-কুঞ্চিত) প্রকাশিত হয়, যা দ্বিতীয় সূত্রের প্রকাশ।
৩. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়? চেকার বোর্ডের সাহায্যে তা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকা: মানুষের দেহকোষে ৪৪টি অটোজোম এবং ১ জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে। নারীদের সেক্স ক্রোমোজোম সর্বদা XX এবং পুরুষদের XY হয়। নারী দেহ থেকে কেবলমাত্র X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়, কিন্তু পুরুষ দেহ থেকে সমান অনুপাতে X এবং Y ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।
চেকার বোর্ড ও ব্যাখ্যা:
যদি পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে অপত্য জাইগোট XX হয় এবং কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
অন্যদিকে, পিতার Y-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে জাইগোট XY হয় এবং পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
সুতরাং, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করছে তার ওপর, অর্থাৎ এক্ষেত্রে পিতার ভূমিকাই মুখ্য।
৪. থ্যালাসেমিয়া রোগটি কেন হয়? এর লক্ষণগুলি ও আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়ার পার্থক্য আলোচনা করো।
কারণ: এটি একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যায় এবং তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
লক্ষণ: তীব্র অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা, বারবার রক্ত পরিবর্তন করার বাধ্যবাধকতা, যকৃৎ ও প্লীহা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়া, অস্থি দুর্বল হওয়া এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া।
আলফা ও বিটা থ্যালাসেমিয়া:
আলফা থ্যালাসেমিয়া: এর জন্য দায়ী জিনটি ১৬ নম্বর ক্রোমোজোমে অবস্থিত।
বিটা থ্যালাসেমিয়া: এর জন্য দায়ী জিনটি ১১ নম্বর ক্রোমোজোমে অবস্থিত।
৫. হিমোফিলিয়া বা বর্ণান্ধতার মতো X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনগত রোগের বংশগতি কীভাবে সঞ্চারিত হয় তা ক্রস বা উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
ব্যাখ্যা: এগুলি X-সংযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। নারীর দুটি X ক্রোমোজোম থাকায় একটিতে রোগ জিন থাকলে অপর সুস্থ X জিনটি রোগ প্রকাশ পেতে দেয় না, ফলে নারীরা সাধারণত 'বাহক' হয়। কিন্তু পুরুষের একটিমাত্র X ক্রোমোজোমে রোগ জিন থাকলেই তারা সরাসরি রোগাক্রান্ত হয়।
ক্রস উদাহরণ: একজন সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষ যদি কোনো বাহক মাতাকে (XX^c) বিয়ে করেন, তবে—
১. পুত্রসন্তানদের মধ্যে ৫০% রোগাক্রান্ত (X^c Y) এবং ৫০% সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. কন্যাসন্তানদের মধ্যে ৫০% বাহক এবং ৫০% সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৬. মেন্ডেলের একসংকর জনন ও দ্বিসংকর জননের ফিনোটাইপ অনুপাতের তুলনামূলক আলোচনা করো।
একসংকর জনন:
এটি একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
এর F2 জনুর ফিনোটাইপ অনুপাত হলো ৩:১ (প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের অনুপাত)।
দ্বিসংকর জনন:
এটি দু'জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
এর F2 জনুর ফিনোটাইপ অনুপাত হলো ৯:৩:৩:১ (যা দুটি পৃথক ৩:১ অনুপাতের গুণের ফল)।
মূল পার্থক্য: একসংকর জননে একক বৈশিষ্ট্যের বংশগতি স্পষ্ট হয়, আর দ্বিসংকর জননে জিনের স্বাধীন বিন্যাস ও নতুন বৈশিষ্ট্যের সংযুক্তি প্রকাশ পায়।
৭. জিনগত রোগ প্রতিরোধে 'জেনেটিক কাউন্সেলিং' বা জিনগত পরামর্শদান এবং 'জিন থেরাপি'-র ভূমিকা আলোচনা করো।
জেনেটিক কাউন্সেলিং: পরিবারে থ্যালাসেমিয়া বা হিমোফিলিয়ার মতো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলে, বিবাহ বা সন্তান গ্রহণের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা ও বংশগতি বিশ্লেষণ করে অনাগত সন্তানের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নির্ধারণ করা এবং দম্পতিদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হলো জেনেটিক কাউন্সেলিং। এটি মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
জিন থেরাপি: এটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির একটি রূপ যেখানে রোগীর কোষে ত্রুটিপূর্ণ জিনের স্থানে সুস্থ বা স্বাভাবিক জিন প্রবেশ করিয়ে ত্রুটি সংশোধন করা হয়, যা জিনগত রোগ নিরাময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
৮. অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) বলতে কী বোঝো? সন্ধ্যা মালতী গাছের উদাহরণের সাহায্যে চেকার বোর্ডের মাধ্যমে এটি ব্যাখ্যা করো।
সংজ্ঞা: যখন দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জীবের সংকরায়ণে কোনো প্রকট বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে উভয়ের মাঝমাঝি বা সংকর একটি নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
ব্যাখ্যা: সন্ধ্যা মালতী গাছের বিশুদ্ধ লাল ফুল (RR) ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলের (rr) ক্রসে F1 জনুতে কোনোটিই সম্পূর্ণ প্রকাশ না পেয়ে গোলাপি ফুল (Rr) উৎপন্ন হয়। F1 জনুর উদ্ভিদের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটালে F2 জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত উভয়ই ১:২:১ (১ অংশ লাল, ২ অংশ গোলাপি, ১ অংশ সাদা) হয়, যা মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম।
৯. ডাউন সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার এবং টার্নার সিন্ড্রোমের কারণ ও ক্রোমোজোমগত ত্রুটিগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।
এগুলি সবই ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট জিনগত সিন্ড্রোম:
১. ডাউন সিন্ড্রোম (Down's Syndrome): অটোজোমের ত্রুটির কারণে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম যুক্ত হওয়ার ফলে (ট্রাইসোমি বা ৪৭টি ক্রোমোজোম) এই রোগ হয়, যার ফলে শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিগত বিকাশ গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়।
২. ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম (Klinefelter's Syndrome): এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোমের ত্রুটি যেখানে ক্রোমোজোম বিন্যাস XXY হয় (মোট ৪৭টি ক্রোমোজোম), ফলে পুরুষদের মধ্যে কিছু স্ত্রীর লক্ষণ প্রকাশ পায় ও তারা বন্ধ্যা হয়।
৩. টার্নার সিন্ড্রোম (Turner's Syndrome): এটি নারীদের ক্ষেত্রে একটি X ক্রোমোজোমের অনুপস্থিতির ফলে ঘটে (XO বিন্যাস, মোট ৪৫টি ক্রোমোজোম), ফলে নারীদের শারীরিক গঠন খর্বাকৃতি ও প্রজনন অঙ্গ অনুন্নত থাকে।
১০. ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)-এর গঠনগত ও কার্যগত পার্থক্য ৫টি পয়েন্টে আলোচনা করো।
১. শর্করা: ডিএনএ-তে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে, আর আরএনএ-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।
২. নাইট্রোজেন বেস: ডিএনএ-তে থাইমিন (T) থাকে, কিন্তু আরএনএ-তে থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল (U) থাকে (উভয়েই A, G, C কমন)।
৩. সূত্রক সংখ্যা: ডিএনএ সাধারণত দ্বিসূত্রক (Double stranded) ডাবল হেলিক্স প্রকৃতির হয়, আর আরএনএ সাধারণত একসূত্রক (Single stranded) হয়।
৪. কার্যকারিতা: ডিএনএ বংশগত বৈশিষ্ট্য ধারণ ও সংরক্ষণ করে, আর আরএনএ প্রধানত ডিএনএর নির্দেশমতো প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে।
৫. স্থায়িত্ব: ডিএনএ অত্যন্ত স্থায়ী জৈব অণু, আর আরএনএ তুলনামূলকভাবে কম স্থায়ী ও দ্রুত পরিবর্তনশীল।
১১. ক্রসিংওভার (Crossing Over) কী? এটি জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে কীভাবে সাহায্য করে সবিস্তারে লেখো।
সংজ্ঞা: মিয়োসিস কোষ বিভাজনের প্রোফেজ-১ দশার প্যাচাইজিন উপ-দশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের অ-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের আদানপ্রদানকে ক্রসিংওভার বলে।
বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে ভূমিকা: ক্রসিংওভারের সময় জিনের পারস্পরিক বিনিময় বা রিকম্বিনেশন ঘটে। এর ফলে পিতামাতার জিনের সংমিশ্রণ ভেঙে অপত্য জীবে নতুন চরিত্রের বা বৈশিষ্ট্যের জিন বিন্যাস তৈরি হয়। এই জিনগত বৈচিত্র্যই জীবকে পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং বিবর্তনের পথ সুগম করতে সাহায্য করে।
১২. থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় কী কী সমস্যা দেখা যায় এবং এর প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?
চিকিৎসার সমস্যা: থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত রোগীর বারবার লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ায় নিয়মিত রক্ত পরিবর্তন (Blood transfusion) করতে হয়। এর ফলে দেহে অতিরিক্ত লোহা বা আয়রন (Iron overload) জমে যকৃৎ, প্লীহা ও হৃৎপিণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অতিরিক্ত আয়রন অপসারণের জন্য ব্যয়বহুল 'চিলেশন থেরাপি' (Chelation therapy) প্রয়োজন হয়।
প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ:
১. বিবাহের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা এবং থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার বা বাহকদের মধ্যে বিবাহ এড়ানো।
২. গর্ভকালীন সময়ে প্রি-নেটাল স্ক্রিনিং (Prenatal screening) বা জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে ভ্রূণের রোগাক্রান্ত অবস্থা পরীক্ষা করা।
৩. জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
১৩. মিউটেশন বা প্রমাবর্তন কাকে বলে? এটি জীবের বিবর্তনে কী ভূমিকা পালন করে?
সংজ্ঞা: জিনের ক্ষারক বিন্যাসের বা ক্রোমোজোমের গঠন ও সংখ্যার আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনকে মিউটেশন বা প্রমাবর্তন বলে।
বিবর্তনে ভূমিকা: মিউটেশন হলো জৈব বিবর্তনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। আকস্মিক মিউটেশনের ফলে জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে। যে সমস্ত নতুন বৈশিষ্ট্য পরিবেশের প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে, প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই বৈশিষ্ট্যগুলিকে টিকিয়ে রাখে। এভাবে ধাপে ধাপে মিউটেশনের মাধ্যমেই নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
১৪. রক্তগ্রুপ নির্ণয়ে 'এবিও' (ABO) সিস্টেম এবং অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
এবিও সিস্টেম: বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার মানুষের রক্তে লোহিত রক্তকণিকায় উপস্থিত অ্যান্টিজেন (অ্যাগ্লুটিনোজেন) এবং রক্তরসে উপস্থিত অ্যান্টিবডি (অ্যাগ্লুটিনিন)-এর ওপর ভিত্তি করে রক্তকে A, B, AB এবং O—এই চার ভাগে ভাগ করেছেন।
ভূমিকা:
A গ্রুপের রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি থাকে।
B গ্রুপের রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি থাকে।
AB গ্রুপের রক্তে উভয় অ্যান্টিজেন থাকে কিন্তু কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না (তাই সর্বজনগ্রাহী)।
O গ্রুপের রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু উভয় অ্যান্টিবডি থাকে (তাই সর্বজনদাতা)। রক্ত transfusion-এর সময় অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির বিক্রিয়া এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
১৫. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার চেকার বোর্ডের সাহায্যে F2 জনুর জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ অনুপাত ব্যাখ্যা করো।
ব্যাখ্যা: মেন্ডেল হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YYRR) এবং সবুজ ও কুঞ্চিত বীজযুক্ত (yyrr) মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটিয়েছিলেন। F1 জনুতে সব উদ্ভিদ হলুদ ও গোল বীজযুক্ত (YyRr) হয়। F2 জনুতে গ্যামেটের স্বাধীন বিন্যাসের ফলে মোট ১৬টি খোপযুক্ত চেকার বোর্ডে ৪ ধরনের ফিনোটাইপ এবং ৯ ধরনের জিনোটাইপ প্রকাশিত হয়।
ফাইনাল অনুপাত: এর ফিনোটাইপ অনুপাত হলো ৯:৩:৩:১ (৯ অংশ হলুদ-গোল, ৩ অংশ হলুদ-কুঞ্চিত, ৩ অংশ সবুজ-গোল, ১ অংশ সবুজ-কুঞ্চিত)।
১৬. সেক্স-লিংকড বা লিঙ্গ-সংযুক্ত রোগগুলির ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার তারতম্য কেন ঘটে? সবিস্তারে ব্যাখ্যা করো।
কারণ: লিঙ্গ-সংযুক্ত রোগগুলির (যেমন হিমোফিলিয়া বা বর্ণান্ধতা) নিয়ন্ত্রক প্রচ্ছন্ন জিনগুলি X ক্রোমোজোমে অবস্থান করে।
নারীর ক্ষেত্রে: নারীদের দুটি X ক্রোমোজোম (XX) থাকে। একটি X ক্রোমোজমে রোগ জিন থাকলেও অপর X ক্রোমোজোমের সুস্থ ও সবল প্রচ্ছন্নবিরোধী জিনটি তার প্রভাব ঢেকে দিতে পারে, ফলে তারা কেবল বাহক হয়। রোগ প্রকাশের জন্য দুটি X ক্রোমোজোমেই রোগ জিন থাকতে হয়, যা অত্যন্ত বিরল।
পুরুষের ক্ষেত্রে: পুরুষদের একটিমাত্র X ক্রোমোজোম এবং একটি Y ক্রোমোজোম (XY) থাকে। ফলে X ক্রোমোজমে রোগ জিন থাকলেই তা প্রতিহত করার মতো আর কোনো অতিরিক্ত X ক্রোমোজোম থাকে না। এই কারণেই নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এই সমস্ত রোগে অনেক বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হয়।
১৭. হোমোজাইগাস ও হেটারোজাইগাস জীবের মধ্যে পার্থক্য এবং বংশগতিতে এদের গুরুত্ব আলোচনা করো।
পার্থক্য:
১. অ্যালিল বিন্যাস: হোমোজাইগাস জীবে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য একই ধরনের সমপ্রকৃতির অ্যালিল থাকে (যেমন TT বা tt), পক্ষান্তরে হেটারোজাইগাস জীবে বিপরীতধর্মী বা ভিন্ন প্রকৃতির অ্যালিল থাকে (যেমন Tt)।
২. বিশুদ্ধতা: হোমোজাইগাস জীব সর্বদা বিশুদ্ধ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে এবং বংশপরম্পরায় একই বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে, কিন্তু হেটারোজাইগাস জীব সংকর প্রকৃতির হয়।
৩. গ্যামেট: হোমোজাইগাস জীব থেকে শুধুমাত্র এক ধরনের গ্যামেট তৈরি হয়, আর হেটারোজাইগাস জীব থেকে দুই বা ততোধিক ধরনের গ্যামেট তৈরি হয়।
গুরুত্ব: বংশগতি বিশ্লেষণে হোমোজাইগাস জীব 'বিশুদ্ধ লাইন' তৈরিতে এবং হেটারোজাইগাস জীব নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ও প্রকটতা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৮. জিন থেরাপি ও জেনেটিক কাউন্সেলিং বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
তাৎপর্য: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিন থেরাপি এবং জেনেটিক কাউন্সেলিং অত্যন্ত বিপ্লবাত্মক ভূমিকা পালন করছে। জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বংশগত রোগের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলি সঠিক সময়ে সতর্ক হতে পারে এবং থ্যালাসেমিয়া বা হিমোফিলিয়ার মতো মারাত্মক রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, জিন থেরাপির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ জিনকে নির্মূল করে রোগাক্রান্ত মানুষকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার গবেষণা চলছে, যা ভবিষ্যতে জিনগত রোগ নিরাময়ের একমাত্র আশার আলো।
১৯. ব্যাক ক্রস ও টেস্ট ক্রসের সংজ্ঞা দাও এবং বংশগতি গবেষণায় এদের ব্যবহারিক প্রয়োগ বুঝিয়ে লেখো।
ব্যাক ক্রস: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে তার যেকোনো একটি জনকের (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে ব্যাক ক্রস বলে।
টেস্ট ক্রস: F1 জনুর সংকর জীবের সাথে শুধুমাত্র প্রচ্ছন্ন জনকের সংকরায়ণকে টেস্ট ক্রস বলে।
ব্যবহারিক প্রয়োগ: টেস্ট ক্রসের মাধ্যমে কোনো জীবের বাহ্যিক ফিনোটাইপ দেখে তার ভেতরের জিনোটাইপ বিশুদ্ধ না সংকর (যেমন লম্বা গাছটি TT নাকি Tt) তা খুব সহজে নির্ণয় করা যায়। কৃষিবিদ ও উদ্যানবিদ্যায় উন্নত প্রজাতির বিশুদ্ধ লাইন তৈরি করতে এই ক্রসগুলি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
২০. মানুষের ক্রোমোজোম কাঠামোর অস্বাভাবিকতা ও তার ফলশ্রুতি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
ব্যাখ্যা: মানুষের দেহকোষে স্বাভাবিক ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬টি (২৩ জোড়া)। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় নন-ডিসজাংশন (Non-disjunction) বা ক্রোমোজোমের সঠিক পৃথকীকরণ না ঘটার ফলে ক্রোমোজোমের সংখ্যায় বা গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
ফলশ্রুতি: ক্রোমোজোমের এই সংখ্যাগত ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সিন্ড্রোম বা মারাত্মক ত্রুটি দেখা দেয়। যেমন—অটোজোমের ত্রুটিতে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের ট্রাইসোমির ফলে ডাউন সিন্ড্রোম এবং সেক্স ক্রোমোজোমের ত্রুটিতে টার্নার সিন্ড্রোম (XO) বা ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম (XXY) সৃষ্টি হয়, যার ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির চতুর্থ অধ্যায় "অভিব্যক্তি ও অভিযোজন" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
জীবনের উৎপত্তি ও জৈব বিবর্তন (১ - ২৫)
১. পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল আনুমানিক কত বছর পূর্বে?
উত্তর: (ক) প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন থেকে ৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে
২. জীবনের প্রথম উৎপত্তি ঘটেছিল কোথায়?
উত্তর: (খ) সমুদ্রে
৩. মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত গ্যাসগুলির সঠিক অনুপাত কী ছিল?
উত্তর: (গ) মিথেন : অ্যামোনিয়া : হাইড্রোজেন (২ : ২ : ১)
৪. মিলার ও উরের পরীক্ষায় কোন অ্যামিনো অ্যাসিডটি সবচেয়ে প্রথমে তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: (ঘ) গ্লাইসিন ও অ্যালানিন
৫. রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি তত্ত্বের প্রবক্তা কারা?
উত্তর: (ক) ওপারিন ও হ্যালডেন
৬. হট ডিলুউইশ স্যুপ (Hot dilute soup) কথাটি কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: (খ) জে. বি. এস. হ্যালডেন
৭. কোয়াসারভেট (Coacervate) তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: (গ) আলেকজান্ডার ওপারিন
৮. মাইক্রোস্ফিয়ার (Microsphere) তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: (ঘ) সিডনি ফক্স
৯. জীবনের আদি উৎপত্তির সময় বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসটি অনুপস্থিত ছিল?
উত্তর: (ক) মুক্ত অক্সিজেন (O2)
১০. প্রোটোবায়োন্ট বা আদি কোষের প্রথম রূপ হিসেবে কাকে ধরা হয়?
- উত্তর: (খ) কোয়াসারভেট বা মাইক্রোস্ফিয়ার
১১. জৈব বিবর্তনের (Organic Evolution) সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় কোথা থেকে?
- উত্তর: (গ) জীবাশ্ম (Fossil) থেকে
১২. জীবন্ত জীবাশ্মের (Living Fossil) একটি উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (ঘ) লিমুলাস (রাজকাঁকড়া) ও গিংকো বাইলোবা
১৩. ঘোড়ার বিবর্তনের সঠিক ও প্রাচীনতম জীবাশ্মের নাম কী?
- উত্তর: (ক) ইয়োহিপ্পাস (Eohippus)
১৪. আধুনিক ঘোড়ার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
- উত্তর: (খ) Equus
১৫. ঘোড়ার বিবর্তনে খুরের সংখ্যা একটিতে এসে ঠেকেছে কোন দশায়?
- উত্তর: (গ) ইকুয়াস (Equus)
১৬. সমসংস্থ অঙ্গের (Homologous organs) মূল বৈশিষ্ট্য কী?
- উত্তর: (ঘ) উৎপত্তি ও গঠনগত দিক থেকে এক কিন্তু কাজ আলাদা
১৭. মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার ও পাখির ডানা কিসের উদাহরণ?
- উত্তর: (ক) সমসংস্থ অঙ্গ
১৮. সমসংস্থ অঙ্গ কোন ধরনের বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: (খ) অপসারী বিবর্তন (Divergent evolution)
১৯. সমসংস্থ অঙ্গের বিপরীত হলো সমবৃত্তীয় অঙ্গ, এর একটি উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (গ) প্রজাপতি ও পাখির ডানা
২০. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কোন ধরনের বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: (ঘ) অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)
২১. মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স কী ধরনের অঙ্গের উদাহরণ?
- উত্তর: (ক) নিষ্ক্রিয় বা অবশেষ অঙ্গ (Vestigial organ)
২২. মানবদেহের একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম—
- উত্তর: (খ) কক্সিস বা নিষ্ক্রিয় পিন্না পেশী
২৩. ভন বেয়ারের বায়োজেনেটিক সূত্রের মূল বক্তব্য কী?
- উত্তর: (গ) ভ্রূণতত্ত্ব phylogeny-র পুনরাবৃত্তি ঘটায় (Ontogeny repeats phylogeny)
২৪. ঘোড়ার বিবর্তনের ধারায় সঠিক ক্রম কোনটি?
- উত্তর: (ঘ) ইয়োহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিখিপ্পাস → প্লায়োহিপ্পাস → ইকুয়াস
২৫. মাছের হৃৎপিণ্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
- উত্তর: (ক) দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (একটি অরিকল ও একটি ভেন্ট্রিকল)
ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদ (২৬ - ৫০)
২৬. 'ফিলোসফি জুলোজিট্ৰিক' (Philosophie Zoologique) গ্রন্থটি কার লেখা?
- উত্তর: (খ) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক
২৭. 'অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিজ' (On the Origin of Species) বইটি কবে প্রকাশিত হয়?
- উত্তর: (গ) ১৮৫৯ সালে
২৮. চার্লস ডারউইন কোন জাহাজে চড়ে বিশদ সমুদ্রযাত্রা করেছিলেন?
- উত্তর: (ঘ) এইচ. এম. এস. বিগল (HMS Beagle)
২৯. ডারউইন তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ উপস্থাপনের জন্য কোন দ্বীপুঞ্জে গবেষণা করেছিলেন?
- উত্তর: (ক) গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ
৩০. ল্যামার্কবাদের মূল প্রবক্তা কে?
- উত্তর: (খ) জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক
৩১. ল্যামার্কবাদের প্রধান দুটি সূত্র কী কী?
- উত্তর: (গ) অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র এবং অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার
৩২. জিরাফের লম্বা গলা ও পা সম্পর্কে ল্যামার্কের মতবাদটি কী ছিল?
- উত্তর: (ঘ) উচ্চ গাছের পাতা খাবার জন্য গলা ও পা লম্বা করা এবং তা বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হওয়া
৩৩. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের মূল ভিত্তি কী?
- উত্তর: (ক) অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, সংগ্রাম ও যোগ্যতমের উদ্ভব
৩৪. "অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশানুসরণ ঘটে না"—এই সূত্রটি কে প্রমাণ করেছিলেন?
- উত্তর: (খ) অগাস্ট ওয়েইসম্যান (তাঁর ইঁদুরের লেজ কাটার পরীক্ষার মাধ্যমে)
৩৫. ওয়েইসম্যানের প্রবর্তিত তত্ত্বটির নাম কী?
- উত্তর: (গ) জার্মপ্লাজম তত্ত্ব (Germplasm theory)
৩৬. ডারউইনবাদের প্রধান ত্রুটি বা সমালোচনা কী ছিল?
- উত্তর: (ঘ) প্রকরণের উৎপত্তি বা পরিব্যক্তির উৎস ডারউইন ব্যাখ্যা করতে পারেননি
৩৭. প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের অপর প্রবক্তা বা সহ-আবিষ্কারক কে ছিলেন?
- উত্তর: (ক) আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস
৩৮. ডারউইনবাদের প্রবক্তা কোন দেশের বিজ্ঞানী ছিলেন?
- উত্তর: (খ) ইংল্যান্ড
৩৯. উটের রক্তে লোহিত কণিকার বিশেষত্ব কী, যা তাকে মরুভূমিতে বাঁচতে সাহায্য করে?
- উত্তর: (গ) ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা (যা জলের অভাবেও রক্তকে ঘন হতে দেয় না)
৪০. প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ অনুসারে যোগ্যতমের উদ্বর্তন ঘটে কীভাবে?
- উত্তর: (ঘ) সংগ্রামের মাধ্যমে সেরা জীব বেঁচে থাকে ও বংশবৃদ্ধি করে
৪১. জীবসংখ্যার জ্যামিতিক বৃদ্ধি ও খাদ্যপ্রাণের অঙ্কগত বৃদ্ধির কথা কে বলেছিলেন?
- উত্তর: (ক) টমাস ম্যালথাস
৪২. ল্যামার্কবাদের একটি প্রধান সমালোচনা হলো—
- উত্তর: (খ) অর্জিত বৈশিষ্ট্য স্থায়ী হয় না এবং পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় না
৪৩. মিউটেশন বা পরিব্যক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- উত্তর: (গ) হুগো দ্য ভ্রিস
৪৪. আধুনিক সংশ্লেষবাদী তত্ত্বের (Modern Synthetic Theory) প্রবক্তা কারা?
- উত্তর: (ঘ) ডবঝানস্কি, মায়ার, সিম্পসন প্রমুখ
৪৫. জিন পুল (Gene pool) কী?
- উত্তর: (ক) একটি জনিসমষ্টির সমস্ত জিনের মোট ভাণ্ডার
৪৬. শিল্পায়ন ও মথ পাখির বর্ণ পরিবর্তনের ঘটনাটি কিসের উদাহরণ?
- উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক নির্বাচন বা প্রাকৃতিক বর্ণচয়
৪৭. পেপারড মথ (Biston betularia) এর ক্ষেত্রে কালো মথের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কী?
- উত্তর: (গ) শিল্পজাত ধোঁয়ায় গাছের ছাল কালো হয়ে যাওয়ায় ডারউইনীয় প্রাকৃতিক নির্বাচন
৪৮. ডারউইনের মতে জীবদেহে প্রকরণ সৃষ্টির কারণ কী?
- উত্তর: (ঘ) পরিবেশের প্রভাব ও অজানা কারণ
৪৯. ল্যামার্কের মতে নতুন অঙ্গের সৃষ্টির মূল কারণ কী?
- উত্তর: (ক) জীবের সচেষ্ট ইচ্ছা ও প্রয়োজন
৫০. কোন বিজ্ঞানী প্রথম অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন?
- উত্তর: (খ) অগাস্ট ওয়েইসম্যান
মরু ও লবনাক্ত উদ্ভিদের অভিযোজন (৫১ - ৭৫)
৫১. ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের পাতা কিসে রূপান্তরিত হয়েছে?
- উত্তর: (গ) কাঁটায় (জলক্ষয় রোধ করার জন্য)
৫২. ফণীমনসা গাছের পাতার কাঁটায় রূপান্তর ঘটার কারণ কী?
- উত্তর: (ঘ) প্রস্বেদনের হার হ্রাস করা
৫৩. ক্যাকটাসের পাতার পরিবর্তে সালোকসং্লেষ চালনা করে কে?
- উত্তর: (ক) ফাইলোক্ল্যাড বা চ্যাপ্টা সবুজ কাণ্ড
৫৪. ক্যাকটাস উদ্ভিদের মূলের বিশেষত্ব কী?
- উত্তর: (খ) মাটির অনেক গভীরে ও চারিদিকে বিস্তৃত হয়ে জল শোষণ করা
৫৫. সুন্দরী উদ্ভিদের শ্বাসমূল বা পিনামেটোফোর (Pneumatophore) কোথায় দেখা যায়?
- উত্তর: (গ) লবণাক্ত ও কর্ম্দাক্ত মাটিতে (ম্যাংগ্রোভ অরণ্যে)
৫৬. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূলে কী থাকে?
- উত্তর: (ঘ) অসংখ্য শ্বাসরন্ধ্র বা নিউমাটোথোড (Pneumathode)
৫৭. সুন্দরী উদ্ভিদের মূলে অভিকর্ষের বিপরীতে ও ওপরের দিকে বৃদ্ধি পাওয়ার চলন দেখা যায়, এটি হলো—
- উত্তর: (ক) প্রতিকূল জিওট্রপিক চলন
৫৮. হ্যালোফাইটে বা লবণাম্বু উদ্ভিদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—
- উত্তর: (খ) জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Vivipary)
৫৯. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) কোন উদ্ভিদে দেখা যায়?
- উত্তর: (গ) গর্জন বা রাইজোফোরা (লোনা বনের উদ্ভিদে)
৬০. লবনাক্ত পরিবেশে বাঁচার জন্য উদ্ভিদের কোষে কোন অস্মোরেগুলেটর থাকে?
- উত্তর: (ঘ) প্রোলিন বা লবন গ্রন্থি
৬১. রুই মাছের পটকার কোন প্রকোষ্ঠ থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয়?
- উত্তর: (ক) রেড গ্রন্থিযুক্ত সম্মুখ প্রকোষ্ঠ
৬২. রুই মাছের পটকার কোন প্রকোষ্ঠ থেকে গ্যাস শোষিত হয়?
- উত্তর: (খ) ওভাল বা পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ
৬৩. পায়রার দেহে অতিরিক্ত বায়ুথলি বা এয়ারস্যাকের সংখ্যা কয়টি?
- উত্তর: (গ) ৯টি
৬৪. পায়রার উড্ডয়নে সাহায্যকারী হালকা হাড়কে কী বলে?
- উত্তর: (ঘ) নিউম্যাটিক বোন (Pneumatic bone)
৬৫. পায়রার চাক্ষুষ অভিযোজনে কোন পর্দা চোখকে রক্ষা করে?
- উত্তর: (ক) নিক্টিট্রেটিং পর্দা
৬৬. উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে কে?
- উত্তর: (খ) কুঁজে সঞ্চিত চর্বি ও ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা
৬৭. উটের কুঁজে কী সঞ্চিত থাকে?
- উত্তর: (গ) ফ্যাট বা চর্বি (যা বিপাক হয়ে জল উৎপন্ন করে)
৬৮. উটের অতিরিক্ত জল সংরক্ষণের জন্য তার বৃক্ক কী করে?
- উত্তর: (ঘ) মূত্রকে অত্যন্ত গাঢ় করে এবং মল থেকে জল শুষে নেয়
৬৯. ফণীমনসার বাসস্থানের উপযোগী মূল বৈশিষ্ট্য কী?
- উত্তর: (ক) কান্ডে জল সঞ্চয় ও মোমের আস্তরণ
৭০. সুন্দরী উদ্ভিদের লবণ সহনশীলতার প্রধান অঙ্গ কোনটি?
- উত্তর: (খ) লবণ গ্রন্থি (Salt gland)
৭১. লবনাগম উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের সুবিধা কী?
- উত্তর: (গ) ফল থেকে মুক্ত হয়ে চারাগাছ সরাসরি কাদায় গেঁথে বংশবৃদ্ধি করতে পারে
৭২. রুই মাছের পটকার гидроস্টাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করার প্রধান ভিত্তি কী?
- উত্তর: (ঘ) মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করা
৭৩. পায়রার চোখে পেকটিন (Pecten) থাকার কাজ কী?
- উত্তর: (ক) দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ করা ও অক্ষিগোলকের পুষ্টি জোগানো
৭৪. উটের লোহিত কণিকার বিশেষ আকার কেমন?
- উত্তর: (খ) ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত
৭৫. উটের নাসাছ্র কীভাবে বন্ধ রাখা যায়?
- উত্তর: (গ) পেশি দ্বারা কপাটিকা বন্ধ রেখে বালুঝড় আটকানো যায়
পরিবেশ, দূষণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (৭৬ - ১০০)
৭৬. বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট একটি প্রধান ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ হলো—
- উত্তর: (ঘ) ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা (দাঁপ)
৭৭. জলদূষণের ফলে আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (ক) ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease)
৭৮. পারদ (Mercury) দূষণে মানবদেহে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (খ) মিনামাটা রোগ (Minamata disease)
৭৯. ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দূষণে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (গ) ইতাই ইতাই রোগ (Itai-itai disease)
৮০. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) ঘটার প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: (ঘ) জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস যুক্ত ডিটারজেন্ট ও সারের আধিক্য
৮১. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global warming) ঘটে?
- উত্তর: (ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও মিথেন
৮২. অম্লবৃষ্টি বা অ্যাসিড রেইন (Acid rain)-এর জন্য মূলত দায়ী গ্যাসগুলি হলো—
- উত্তর: (খ) সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx)
৮৩. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: (গ) ওয়াল্টার রোজেন (Walter Rosen)
৮৪. হটস্পট (Hotspot) ধারণাটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: (ঘ) নরম্যান মেয়ার্স (Norman Myers)
৮৫. ভারতের একটি প্রধান জীববৈচিত্র্য হটস্পটের নাম—
- উত্তর: (ক) হিমালয় অঞ্চল ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা
৮৬. এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ conservation) এর একটি উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (খ) বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা
৮৭. ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ conservation) এর একটি উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (গ) জাতীয় উদ্যান (National Park) ও অভয়ারণ্য
৮৮. সুন্দরবনের একটি বিপদগ্রস্ত স্থানীয় বা এন্ডেমিক (Endemic) প্রজাতি হলো—
- উত্তর: (ঘ) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
৮৯. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের কয়টি অংশ থাকে?
- উত্তর: তিনটি (কোর জোন, বাফার জোন ও ট্রানজিশন জোন)
৯০. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
- উত্তর: (ক) IUCN
৯১. এসটিনস প্রজাতি বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলির তালিকা কোন বইয়ে প্রকাশিত হয়?
- উত্তর: (খ) রেড ডাটা বুক (Red Data Book)
৯২. ভারতে ব্যাঘ্র প্রকল্প বা প্রজেক্ট টাইগার কবে চালু হয়?
- উত্তর: (গ) ১৯৭৩ সালে
৯৩. গির অরণ্য (Gir forest) কোন প্রাণীর সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: (ঘ) এশীয় সিংহ (Asiatic Lion)
৯৪. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান কোন রাজ্যে অবস্থিত এবং কিসের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: (ক) আসামে, একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য
৯৫. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: (খ) বাসস্থান ধ্বংস ও মানুষের অতি শোষণ
৯৬. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত কোন গ্যাস দায়ী?
- উত্তর: (গ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC
৯৭. ভারতে কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প (Crocodile Conservation Project) কবে চালু হয়?
- উত্তর: (ঘ) ১৯৭৫ সালে
৯৮. জলদাপাড়া অভয়ারণ্য কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: (ক) একশৃঙ্গ গণ্ডার
৯৯. কর্বাট ন্যাশনাল পার্ক (Jim Corbett National Park) কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: (খ) উত্তরাখণ্ডে
১০০. জৈব বিবর্ধন বা বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) বলতে কী বোঝায়?
- উত্তর: (গ) খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিষাক্ত অজৈব পদার্থ (যেমন ডিডিটি বা পারদ) জীবদেহে ক্রমান্বয়ে জমা হয়ে ঘনীভূত হওয়া

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির চতুর্থ অধ্যায় "অভিব্যক্তি ও অভিযোজন" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৮০টি SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর) নিচে দেওয়া হলো:
জীবনের উৎপত্তি ও জৈব বিবর্তন (১ - ২৫)
১. বায়োজেনেসিস (Biogenesis) ও অ্যাবায়োজেনেসিস (Abiogenesis) এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: বায়োজেনেসিস অনুসারে জীবন কেবল পূর্ববর্তী জীব থেকেই সৃষ্টি হতে পারে, আর অ্যাবায়োজেনেসিস বা স্বতস্ফূর্ত জনমত অনুসারে নির্জীব পদার্থ থেকে জীবনের উৎপত্তি ঘটেছিল।
২. রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি তত্ত্বের প্রবক্তা কারা?
উত্তর: বিজ্ঞানী ওপারিন ও হ্যালডেন।
৩. মিলার ও উরের পরীক্ষায় কোন কোন গ্যাসীয় অনুপাত ব্যবহার করা হয়েছিল?
উত্তর: মিথেন (CH_4), অ্যামোনিয়া (NH_3) এবং হাইড্রোজেন (H_2)-এর অনুপাত ছিল ২ : ২ : ১।
৪. হট ডিলিউচ স্যুপ (Hot dilute soup) কী?
উত্তর: আদি পৃথিবীর সমুদ্রের জলে অজৈব যৌগ থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন জটিল জৈব যৌগের উত্তপ্ত ও লঘু দ্রবণকে হ্যালডেন 'হট ডিলিউচ স্যুপ' বলে অভিহিত করেছেন।
৫. কোয়াসারভেট (Coacervate) কী?
উত্তর: ওপারিনের মতে প্রোটিনের জটিল কোলয়েডীয় ফোঁটা যা আদি পৃথিবীর সমুদ্রে প্রথম প্রোটোবায়োন্ট বা আদি কোষের রূপ নিয়েছিল।
৬. মাইক্রোস্ফিয়ার (Microsphere) তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স।
৭. প্রোটোবায়োন্ট বা আদি কোষ কাকে বলে?
উত্তর: জৈব যৌগ থেকে সৃষ্ট জীবনহীন কিন্তু কোশীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী আদিমতম কণাগুলিকে প্রোটোবায়োন্ট বলে।
৮. জীবনের উৎপত্তির সময় আদি বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসটি ছিল না?
উত্তর: মুক্ত অক্সিজেন (O_2) গ্যাস উপস্থিত ছিল না।
৯. জীবাশ্ম (Fossil) কাকে বলে?
উত্তর: বহু প্রাচীনকালের কোনো মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীর সম্পূর্ণ বা আংশিক দেহাবশেষ পাললিক শিলায় সংরক্ষিত হয়ে পাথরে পরিণত হলে তাকে জীবাশ্ম বলে।
১০. সংযোজক বা মিসিং লিংক (Missing Link) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত জীব দুটি ভিন্ন শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং তাদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সংযোজক বলে। যেমন—আর্কিওপটেরিক্স (সরীসৃপ ও পাখির সংযোজক)।
১১. জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত প্রাচীন জীব কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে অপরিবর্তিত অবস্থায় বেঁচে আছে তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন—লিমুলাস (রাজকাঁকড়া) বা গিংকো বাইলোবা।
১২. ঘোড়ার বিবর্তনের প্রাচীনতম আদি পুরুষের নাম কী?
- উত্তর: ইয়োহিপ্পাস (Eohippus)।
১৩. আধুনিক ঘোড়ার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
- উত্তর: Equus (ইকুয়াস)।
১৪. ঘোড়ার বিবর্তনের ধারার সঠিক ক্রমটি লেখো।
- উত্তর: ইয়োহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিখিপ্পাস → প্লায়োহিপ্পাস → ইকুয়াস।
১৫. সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন—মানুষের হাত ও তিমির ফ্লিপার।
১৬. সমসংস্থ অঙ্গ কোন বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: অপসারী বিবর্তন (Divergent evolution)।
১৭. সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organs) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত অঙ্গের গঠন ও উৎপত্তি আলাদা কিন্তু কাজ এক, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। যেমন—পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা।
১৮. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কোন বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)।
১৯. নিষ্ক্রিয় বা অবশেষ অঙ্গ (Vestigial organ) কাকে বলে?
- উত্তর: বিবর্তনের ধারায় যে সমস্ত অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং শরীরের অবশেষ হিসেবে রয়ে গেছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।
২০. মানবদেহের দুটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গের নাম লেখো।
- উত্তর: অ্যাপেন্ডিক্স এবং কক্সিস।
২১. ভন বেয়ারের বায়োজেনেটিক সূত্রের মূল বক্তব্য কী?
- উত্তর: "ভ্রূণতত্ত্ব ফাইলোজেনি বা বংশগতির পুনরাবৃত্তি ঘটায়" (Ontogeny repeats phylogeny)।
২২. হেকেলের বায়োজেনেটিক সূত্রটি কী?
- উত্তর: ভ্রূণগঠনের সময় যে কোনো জীবের ভূণীয় বিকাশ তার পূর্বপুরুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস বা রূপকে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করে।
২৩. সংযোজক কলার একটি চমৎকার উদাহরণ যা বিবর্তনের প্রমাণ দেয়—
- উত্তর: আর্কিওপটেরিক্স (সরীসৃপ ও পাখির বৈশিষ্ট্যযুক্ত)।
২৪. কোয়াসারভেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
- উত্তর: এটি ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে এবং পরিবেশ থেকে উপাদান শোষণ করতে পারে।
২৫. রাসায়নিক বিবর্তনের পরীক্ষামূলক প্রমাণ কে দিয়েছিলেন?
- উত্তর: বিজ্ঞানী স্ট্যানলে মিলার ও হ্যারল্ড উরে (১৯৫৩ সালে)।
ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদ (২৬ - ৫০)
২৬. ল্যামার্কের প্রবর্তিত বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
- উত্তর: Philosophie Zoologique (১৮০৯ সালে প্রকাশিত)।
২৭. ল্যামার্কবাদের মূল সূত্র দুটি কী কী?
- উত্তর: ১. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র এবং ২. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র।
২৮. ল্যামার্কবাদের প্রধান ত্রুটি বা সমালোচনা কী ছিল?
- উত্তর: অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় না—এটি ল্যামার্ক প্রমাণ করতে পারেননি।
২৯. চার্লস ডারউইনের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?
- উত্তর: On the Origin of Species by means of Natural Selection (১৮৫৯ সালে প্রকাশিত)।
৩০. ডারউইনের সমুদ্রযাত্রার ব্যবহৃত জাহাজের নাম কী ছিল?
- উত্তর: এইচ. এম. এস. বিগল (HMS Beagle)।
৩১. ডারউইন কোন দ্বীপপুঞ্জে তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের মূল উপাদান খুঁজে পেয়েছিলেন?
- উত্তর: গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে।
৩২. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের মূল বক্তব্য কী?
- উত্তর: অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, প্রকরণ ও যোগ্যতমের উদ্ভব এবং পরিশেষে প্রাকৃতিক নির্বাচন।
৩৩. ওয়েইসম্যানের 'জার্মপ্লাজম তত্ত্ব' (Germplasm theory) কী প্রমাণ করেছিল?
- উত্তর: এটি প্রমাণ করে যে দেহকোষের (সোমাটোপ্লাজম) অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশানুসরণে পরবর্তী প্রজন্মে যায় না, শুধুমাত্র জননকোষের (জার্মপ্লাজম) পরিবর্তনই বংশে সঞ্চারিত হয়।
৩৪. অগাস্ট ওয়েইসম্যান কীভাবে ল্যামার্কবাদকে খণ্ডন করেছিলেন?
- উত্তর: তিনি ইঁদুরের লেজ কেটে পরীক্ষামূলকভাবে দেখিয়েছিলেন যে পরপর বহু প্রজন্ম ধরে লেজ কাটা সত্ত্বেও পরবর্তী অপত্য ইঁদুরগুলি লেজসহ জন্মগ্রহণ করে।
৩৫. প্রাকৃতিক নির্বাচন বা ন্যাচারাল সিলেকশন তত্ত্বের অপর প্রবক্তা কে ছিলেন?
- উত্তর: আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace)।
৩৬. 'যোগ্যতমের উদ্বর্তন' (Survival of the fittest) কথাটি কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: হার্বার্ট স্পেন্সার (Herbert Spencer)।
৩৭. ডারউইনবাদের একটি প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করো।
- উত্তর: ডারউইন প্রকরণের উৎপত্তির আসল উৎস বা কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
৩৮. মিউটেশন বা পরিব্যক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- উত্তর: ওলন্দাজ উদ্ভিদবিদ হুগো দ্য ভ্রিস (Hugo de Vries)।
৩৯. আধুনিক সংশ্লেষবাদী তত্ত্ব (Modern Synthetic Theory) কী?
- উত্তর: ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং আধুনিক জিনতত্ত্ব, মিউটেশন ও বাস্তুবিদ্যার সমন্বয়ে গঠিত বিবর্তনের আধুনিক গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব।
৪০. জিন পুল (Gene pool) কাকে বলে?
- উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টির সমস্ত জীবের জিনগুলির মোট ভাণ্ডারকে জিন পুল বলে।
৪১. পেপারড মথ (Biston betularia) এর বর্ণ পরিবর্তনের ঘটনাটি কীসের প্রমাণ?
- উত্তর: এটি প্রাকৃতিক নির্বাচন বা প্রাকৃতিক বর্ণচয়ের একটি বাস্তব প্রমাণ।
৪২. শিল্পায়নের পূর্বে সাদা মথের সংখ্যা বেশি থাকার কারণ কী ছিল?
- উত্তর: গাছের ছাল লাইকেনমুক্ত সাদা থাকায় সাদা মথগুলি সহজে আত্মরক্ষা করতে পারত এবং কালো মথগুলি শিকার হতো।
৪৩. ল্যামার্কের মতে জিরাফের গলা লম্বা হলো কেন?
- উত্তর: উঁচ গাছের পাতা খাবার জন্য জিরাফরা ক্রমাগত গলা ও সামনের পা প্রসারিত করেছিল, যার ফলে প্রজন্ম ধরে তা লম্বা হয়েছে।
৪৪. টমাস ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বটি ডারউইনের ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল?
- উত্তর: ম্যালথাসের তত্ত্ব থেকে ডারউইন বুঝতে পেরেছিলেন যে জীবসংখ্যার জ্যামিতিক বৃদ্ধি ঘটলেও খাদ্য ও বাসস্থানের অঙ্কগত বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতার কারণে তীব্র 'অস্তিত্বের সংগ্রাম' ঘটে।
৪৫. ল্যামার্কবাদের অপর নাম কী?
- উত্তর: অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকারবাদ।
৪৬. ডারউইনবাদের অপর নাম কী?
- উত্তর: প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ বা ন্যাচারাল সিলেকশন থিওরি।
৪৭. মিউটেশনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
- উত্তর: এটি আকস্মিক, বংশগতভাবে সঞ্চারণযোগ্য এবং জিনের স্থায়ী পরিবর্তন।
৪৮. প্রকরণ (Variation) কাকে বলে?
- উত্তর: একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে কাঠামোগত বা জিনগত যে পার্থক্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ বলে।
৪৯. আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Interspecific struggle) কী?
- উত্তর: ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে খাদ্য, বাসস্থান ও জীবনরক্ষার জন্য যে সংগ্রাম ঘটে।

৫০. অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Intraspecific struggle) কী?
- উত্তর: একই প্রজাতির জীবের মধ্যে খাবার, সঙ্গী ও আশ্রয়ের জন্য যে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়।
মরু ও লবনাক্ত উদ্ভিদের অভিযোজন (৫১ - ৭৫)
৫১. মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইটের (Xerophyte) প্রধান সমস্যা কী?
- উত্তর: তীব্র উষ্ণতা ও জলের চরম অভাব।
৫২. ফণীমনসা গাছের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কেন?
- উত্তর: প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহের জলক্ষয় বা অপচয় রোধ করার জন্য।
৫৩. ফাইলোক্ল্যাড (Phylloclade) বা পর্ণকাণ্ড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: মরু উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ার পর গাছের কান্ড যখন সবুজ, চ্যাপ্টা ও মাংসল হয়ে সালোকসংশ্লেষের দায়িত্ব নেয়, তখন তাকে ফাইলোক্ল্যাড বলে। যেমন—ফণীমনসা।
৫৪. ক্যাকটাসের মূলে কী বিশেষত্ব থাকে?
- উত্তর: ক্যাকটাসের মূল মাটির অনেক গভীরে ও চারিদিকে বহু দূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে জল শোষণ করতে সাহায্য করে।
৫৬. ম্যাংগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদের (Halophyte) প্রধান সমস্যা কী?
- উত্তর: অতিরিক্ত লবণাক্ত ও কর্ম্দাক্ত কর্দমাক্ত মাটি যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম।
৫৭. শ্বাসমূল বা পিনামেটোফোর (Pneumatophore) কোন উদ্ভিদে দেখা যায়? এর কাজ কী?
- উত্তর: সুন্দরী উদ্ভিদে দেখা যায়। এর প্রধান কাজ হলো বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন শোষণ করা।
৫৮. শ্বাসমূলের গায়ে অবস্থিত ক্ষুদ্র রন্ধ্রগুলির নাম কী?
- উত্তর: নিউমাটোথোড (Pneumathode)।
৫৯. সুন্দরী উদ্ভিদের মূল অভিকর্ষের বিপরীতে বৃদ্ধি পায়, একে কী বলে?
- উত্তর: প্রতিকূল জিওট্রপিক চলন (Negative geotropism)।
৬০. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় ফল গাছে লেগে থাকা অবস্থাতেই ফলের মধ্যে থাকা বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে, তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। যেমন—রাইজোফোরা (গর্জন)।
৬১. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের সুবিধা কী?
- উত্তর: বীজ সরাসরি নিচে কর্ম্দাক্ত মাটিতে পড়ে গাছকে দ্রুত স্থাপন করতে সাহায্য করে, ফলে লবণাক্ত জলে ভেসে নষ্ট হয় না।
৬২. লবণাম্বু উদ্ভিদের কোষে অতিরিক্ত লবণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কী থাকে?
- উত্তর: লবণ গ্রন্থি (Salt gland) এবং সাইটোপ্লাজমে প্রোলিনের মতো অসমোরেগুলেটর।
৬৩. রুই মাছের পটকার প্রধান কাজ কী?
- উত্তর: পটকা মাছের হাইড্রোস্টেটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে জলের বিভিন্ন গভীরে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।
৬৪. রুই মাছের পটকার কোন প্রকোষ্ঠ থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং কোন প্রকোষ্ঠ থেকে গ্যাস শোষিত হয়?
- উত্তর: সম্মুখ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেড গ্রন্থি থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত ওভাল নামক অংশ থেকে গ্যাস শোষিত হয়।
৬৫. পায়রার উড্ডয়নে সাহায্যকারী হালকা হাড়কে কী বলে?
- উত্তর: নিউম্যাটিক বোন (Pneumatic bone) বা বায়ুময় অস্থি।
৬৬. পায়রার দেহে অতিরিক্ত বায়ুথলি বা এয়ারস্যাকের সংখ্যা কয়টি?
- উত্তর: ৯টি বায়ুথলি থাকে।
৬৭. পায়রার চোখে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করার জন্য কী বিশেষ অঙ্গ থাকে?
- উত্তর: পেকটিন (Pecten)।
৬৮. উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় রোধ করতে তার কুঁজের ভূমিকা কী?
- উত্তর: কুঁজে সঞ্চিত চর্বি বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে জারিত হয়ে জল ও শক্তি উৎপন্ন করে, যা উটকে জলের অভাবের দিনে বাঁচায়।
৬৯. উটের ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকার বিশেষত্ব কী?
- উত্তর: এটি জলের তীব্র অভাবেও রক্তকে ঘন হতে বাধা দেয় এবং স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখে।
৭০. উটের নাসাছ্র কীভাবে বালুঝড় থেকে রক্ষা পায়?
- উত্তর: উট তার নাসাছ্রগুলির পেশি সংকুচিত করে কপাটিকার মতো বন্ধ রাখতে পারে।
৭২. ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদের মূল মাটির ওপরে উঠে আসে কেন?
- উত্তর: কর্ম্দাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় শ্বাসকার্য চালানোর জন্য মূল ওপরে উঠে আসে।
৭৩. জেরোফাইটিক উদ্ভিদের পাতার উপরে কিসের আস্তরণ থাকে?
- উত্তর: কিউটিকল (Cuticle)-এর পুরু মোমের আস্তরণ।
৭৪. উটের কুঁজে কি জল সঞ্চিত থাকে?
- উত্তর: না, কুঁজে জল নয় বরং মেদ বা ফ্যাট সঞ্চিত থাকে।
৭৫. পায়রার লেজের পাখনার মতো কাজ করে কোনটি?
- উত্তর: রেট্রিক্স (Rectrices) নামক পালকগুলি, যা দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।


পরিবেশ, দূষণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (৭৬ - ১০০)
৭৬. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি (Biodiversity) শব্দটির প্রবক্তা কে?
- উত্তর: বিজ্ঞানী ওয়াল্টার রোজেন (Walter Rosen)।
৭৭. হটস্পট (Hotspot) ধারণাটি কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: পরিবেশবিদ নরম্যান মেয়ার্স (Norman Myers)।
৮০. ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ conservation) কাকে বলে?
- উত্তর: প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক বাসস্থানে রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন—জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য)।
৮১. এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ conservation) কাকে বলে?
- উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে বিপন্ন জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন—বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা)।
৮২. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের কয়টি জোন বা অঞ্চল থাকে?
- উত্তর: ৩টি জোন (কোর জোন, বাফার জোন ও ট্রানজিশন জোন)।
৮৩. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
- উত্তর: IUCN (International Union for Conservation of Nature)।
৮৪. রেড ডাটা বুকে কোন ধরনের প্রজাতিদের তালিকা থাকে?
- উত্তর: বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল প্রজাতিদের তালিকা।
৮৫. ভারতে কতগুলি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ আছে?
- উত্তর: ১৮টি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ রয়েছে।
৮৬. ভারতে 'প্রজেক্ট টাইগার' (Project Tiger) কবে চালু হয়?
- উত্তর: ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল।
৮৭. এশীয় সিংহের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভারতের কোন অরণ্য?
- উত্তর: গুজরাটের গির অরণ্য (Gir Forest)।
৮৮. একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত ভারতের একটি জাতীয় উদ্যানের নাম লেখো।
- উত্তর: আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্য।
৮৯. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
- উত্তর: জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস যুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে শ্যাওলার প্রাচুর্য ঘটে এবং জলের অক্সিজেন কমে যাওয়াকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৯০. বায়োম্যাগনিফিকেশন বা জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) কী?
- উত্তর: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অবিনাশী বিষাক্ত পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) উচ্চ স্তরের খাদকদের দেহে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে।
৯১. মিনামাটা রোগ কোন ধাতু দূষণের ফলে হয়?
- উত্তর: পারদ (Hg) দূষণের ফলে।
৯২. ইতাই ইতাই রোগ কোন ধাতু দূষণের ফলে হয়?
- উত্তর: ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষণের ফলে।
৯৩. ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease) কী কারণে হয়?
- উত্তর: জলে আর্সেনিক (As) বিষক্রিয়ার ফলে।
৯৪. অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান দুটি গ্যাসের নাম লেখো।
- উত্তর: সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO_x)।
৯৫. ওজোন গহ্বর সৃষ্টির জন্য প্রধান দায়ী রাসায়নিকটি কী?
- উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC।
৯৬. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে?
- উত্তর: যে সমস্ত জীব বা উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অন্য কোথাও দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে (যেমন সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার)।
৯৭. ভারতের একটি হটস্পটের নাম লেখো।
- উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা পূর্ব হিমালয় অঞ্চল।
৯৮. সংরক্ষণ বায়োলজি বা কনজারভেশন বায়োলজির মূল লক্ষ্য কী?
- উত্তর: পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং প্রজাতির অবলুপ্তি রোধ করা।
৯৯. কর্বাট ন্যাশনাল পার্ক (Jim Corbett National Park) কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: উত্তরাখণ্ডে।
১০০. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যানের নাম কী?
- উত্তর: জিম করবেট জাতীয় উদ্যান (প্রতিষ্ঠা ১৯৩৬ সালে)।

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির চতুর্থ অধ্যায় "অভিব্যক্তি ও অভিযোজন" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৫০টি দুই নম্বরের (2 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
জীবনের উৎপত্তি ও জৈব বিবর্তন
১. অ্যাবায়োজেনেসিস ও বায়োজেনেসিসের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: অ্যাবায়োজেনেসিস অনুসারে নির্জীব বা অজৈব পদার্থ থেকে প্রথম জীবনের উৎপত্তি ঘটেছিল, কিন্তু বায়োজেনেসিস অনুসারে জীবন কেবল পূর্ববর্তী জীব থেকেই সৃষ্টি হতে পারে।
২. রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি তত্ত্বের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: আদি পৃথিবীর সমুদ্রের জলে অজৈব যৌগগুলির মধ্যে ধারাবাহিক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে জটিল জৈব যৌগ এবং সেখান থেকেই প্রথম প্রাণের উৎপত্তি ঘটেছিল।
৩. মিলার ও উরের পরীক্ষায় কোন কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল?
উত্তর: স্ট্যানলে মিলার ও হ্যারল্ড উরের পরীক্ষায় মিথেন (CH_4), অ্যামোনিয়া (NH_3) এবং হাইড্রোজেন (H_2)-এর মিশ্রণ (২ : ২ : ১ অনুপাতে) এবং জলীয় বাষ্প ব্যবহার করা হয়েছিল।
৪. হট ডিলিউচ স্যুপ (Hot dilute soup) কাকে বলে?
উত্তর: আদি পৃথিবীর উত্তপ্ত সমুদ্রে অজৈব যৌগ থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন জটিল জৈব যৌগের লঘু ও উত্তপ্ত দ্রবণকে বিজ্ঞানী হ্যালডেন 'হট ডিলিউচ স্যুপ' বলেছেন।
৫. কোয়াসারভেট ও মাইক্রোস্ফিয়ারের মধ্যে একটি সাদৃশ্য লেখো।
উত্তর: কোয়াসারভেট ও মাইক্রোস্ফিয়ার উভয়েই দ্বিস্তরীয় ঝিল্লি দ্বারা আবৃত এবং এরা পরিবেশ থেকে বস্তু শোষণ করতে ও প্রোটোবায়োন্ট বা আদি কোষ হিসেবে আচরণ করতে সক্ষম ছিল।
৬. জীবাশ্ম (Fossil) কাকে বলে? বিবর্তনে এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: বহু প্রাচীনকালের কোনো মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীর সম্পূর্ণ বা আংশিক দেহাবশেষ পাললিক শিলায় সংরক্ষিত হয়ে পাথরে পরিণত হলে তাকে জীবাশ্ম বলে। এটি বিবর্তনের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।
৭. সংযোজক বা মিসিং লিংক (Missing Link) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সমস্ত জীব দুটি ভিন্ন শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং তাদের মধ্যবর্তী বিবর্তনীয় সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের সংযোজক বলে। যেমন—আর্কিওপটেরিক্স (সরীসৃপ ও পাখির সংযোজক)।
৮. জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সমস্ত প্রাচীন জীব কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে অপরিবর্তিত অবস্থায় বেঁচে আছে তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। যেমন—লিমুলাস (রাজকাঁকড়া) বা গিংকো বাইলোবা।
৯. ঘোড়ার বিবর্তনের দুটি প্রধান মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন উল্লেখ করো।
উত্তর: ১. দেহের আকার ও উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. পায়ের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস পেয়ে শেষ পর্যন্ত কেবল তৃতীয় আঙুলটি একক খুরে পরিণত হয়েছে।
১০. সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন—মানুষের হাত ও তিমির ফ্লিপার।
১১. সমসংস্থ অঙ্গ কোন বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গ হলো অপসারী বিবর্তন (Divergent evolution)-এর ফল।
১২. সমবৃত্তীয় অঙ্গ (Analogous organs) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত অঙ্গের গঠন ও উৎপত্তি আলাদা কিন্তু কাজ এক, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে। যেমন—পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা।
১৩. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কোন বিবর্তনের ফল?
- উত্তর: সমবৃত্তীয় অঙ্গ হলো অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution)-এর ফল।
১৪. নিষ্ক্রিয় বা অবশেষ অঙ্গ (Vestigial organ) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: বিবর্তনের ধারায় যে সমস্ত অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং শরীরের অবশেষ হিসেবে রয়ে গেছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন—মানবদেহের অ্যাপেন্ডিক্স।
১৫. ভন বেয়ারের বায়োজেনেটিক সূত্রের মূল বক্তব্য কী?
- উত্তর: ভ্রূণতত্ত্বের বিবর্তন অনুসারে, যে কোনো উচ্চশ্রেণীর জীবের ভ্রূণীয় বিকাশের সময় তার পূর্বপুরুষের প্রাপ্তবয়স্ক বা ভ্রূণীয় অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটে ("Ontogeny repeats phylogeny")।
ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদ
১৬. ল্যামার্কবাদের মূল সূত্র দুটি কী কী?
- উত্তর: ১. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র এবং ২. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র।
৭. ল্যামার্কের 'অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্রটি' সংক্ষেপে লেখো।
- উত্তর: ল্যামার্কের মতে, জীব জীবনের প্রয়োজনে যে অঙ্গগুলির বেশি ব্যবহার করে সেগুলি অধিক পুষ্ট ও শক্তিশালী হয়, এবং যে অঙ্গগুলির ব্যবহার করে না সেগুলি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত বা বিলুপ্ত হয়।
১৮. ল্যামার্কবাদ কেন বর্তমানে গৃহিত হয় না?
- উত্তর: কারণ ল্যামার্কের এই মতবাদ অনুযায়ী জীবজীবদ্দশায় যা অর্জন করে তা পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়, যা অগাস্ট ওয়েইসম্যানের 'জার্মপ্লাজম তত্ত্ব' দ্বারা পরীক্ষামূলকভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
১৯. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের মূল ভিত্তি কী?
- উত্তর: অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি, অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম, প্রকরণ বা ভেদ এবং পরিশেষে যোগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন।
২০. 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' (Struggle for existence) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: খাদ্যের সীমাবদ্ধতা এবং বাসস্থানের অভাবের কারণে জীবন বাঁচানোর জন্য জীবকে যে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয় তাকে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে (এটি তিন প্রকার—স্বপ্রজাতি, ভিন্ন প্রজাতি ও পরিবেশের সাথে সংগ্রাম)।
২১. যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest) কাকে বলে?
- উত্তর: অস্তিত্বের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে সমস্ত জীব পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী অনুকূল প্রকরণ বা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, কেবল তারাই প্রকৃতিতে বেঁচে থাকে ও বংশবৃদ্ধি করে—একে যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে।
২২. ওয়েইসম্যানের জার্মপ্লাজম তত্ত্বটি কী?
- উত্তর: এই তত্ত্ব অনুযায়ী জীবদেহের দেহকোষ বা সোমাটোপ্লাজমের অর্জিত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে যায় না, কেবলমাত্র জননকোষ বা জার্মপ্লাজমের পরিবর্তনই বংশানুসরণে সঞ্চারিত হয়।
২৩. মিউটেশন বা পরিব্যক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা কে? এর মূল বক্তব্য কী?
- উত্তর: প্রবক্তা হলেন হুগো দ্য ভ্রিস। তাঁর মতে, জিনের আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনের (মিউটেশন) মাধ্যমেই নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটে।
২৪. জিন পুল (Gene pool) কাকে বলে?
- উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টির সমস্ত জীবের জিনগুলির মোট ভাণ্ডারকে জিন পুল বলে।
২৫. পেপারড মথের বর্ণ পরিবর্তনের ঘটনাটি কীসের বাস্তব প্রমাণ?
- উত্তর: এটি ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন বা প্রাকৃতিক বর্ণচয়ের একটি অত্যন্ত সফল বাস্তব প্রমাণ (শিল্পায়নের ফলে ধোঁয়ায় গাছের ছাল কালো হওয়ায় কালো মথেরা প্রাকৃতিক নির্বাচন লাভ করে)।
মরু ও লবনাক্ত উদ্ভিদের অভিযোজন
২৬. মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইটের (Xerophyte) দুটি প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
- উত্তর: ১. পাতার আকার ছোট হয়ে কাঁটায় রূপান্তরিত হয় বা পাতা ঝরে যায়।
- ২. কাণ্ড মাংসল ও সবুজ হয় এবং এর গায়ে কিউটিকলের পুরু মোমের আস্তরণ থাকে।
২৭. ফণীমনসা গাছের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় কেন?
- উত্তর: প্রস্বেদনের হার কমিয়ে মরুভূমির তীব্র উষ্ণতায় দেহের জলক্ষয় ও অপচয় রোধ করার জন্য ফণীমনসার পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
২৮. ফাইলোক্ল্যাড বা পর্ণকাণ্ড কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: মরু উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ার পর গাছের কান্ড যখন সবুজ, চ্যাপ্টা ও মাংসল হয়ে সালোকসংশ্লেষের দায়িত্ব নেয়, তখন তাকে ফাইলোক্ল্যাড বলে। যেমন—ফণীমনসা।
২৯. ম্যাংগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদের (Halophyte) মূলের প্রধান সমস্যা কী?
- উত্তর: লবণাক্ত ও কর্ম্দাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় এই উদ্ভিদের মূলের শ্বাসকার্য চালাতে মারাত্মক সমস্যা হয়।
৩০. শ্বাসমূল বা পিনামেটোফোর (Pneumatophore) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: লবণাক্ত মাটিতে বায়ুর অভাব দূর করার জন্য সুন্দরীর মতো ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদের মূল মাটি ভেদ করে লম্বালম্বিভাবে ওপরে উঠে আসে, তাদের শ্বাসমূল বলে। যেমন—সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল।
৩১. শ্বাসমূলের গায়ে কী থাকে এবং এর কাজ কী?
- উত্তর: শ্বাসমূলের গায়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র রন্ধ্র বা নিউমাটোথোড থাকে, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন শোষণ করে।
৩২. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় ফল গাছে লেগে থাকা অবস্থাতেই ফলের মধ্যে থাকা বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে এবং চারাগাছ তৈরি হয়, তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। যেমন—রাইজোফোরা (গর্জন)।
৩৩. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের প্রধান সুবিধা কী?
- উত্তর: বীজ সরাসরি নিচে কর্ম্দাক্ত মাটিতে পড়ে দ্রুত গাছ স্থাপন করতে সাহায্য করে, ফলে লবণাক্ত জলে বীজ ভেসে নষ্ট হয় না।
৩৪. রুই মাছের পটকার প্রধান কাজ কী?
- উত্তর: পটকা মাছের হাইড্রোস্টেটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে জলের বিভিন্ন গভীরে সহজে ভেসে থাকতে বা নিচে ডুবতে সাহায্য করে।
৩৫. রুই মাছের পটকার সম্মুখ ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের কাজ লেখো।
- উত্তর: সম্মুখ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত রেড গ্রন্থি থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থিত ওভাল নামক অংশ থেকে গ্যাস শোষিত হয়।
প্রাণীদের বিশেষ অভিযোজন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
৩৬. পায়রার উড্ডয়নে সাহায্যকারী দুটি বিশেষ কাঠামোগত অভিযোজন লেখো।
- উত্তর: ১. পায়রার ভারী হাড়গুলি বায়ুপূর্ণ ও হালকা হয়, যাকে নিউম্যাটিক বোন বলে।
- ২. ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত ৯টি বায়ুথলি বা এয়ারস্যাক যুক্ত থাকে যা দেহকে হালকা করে ও অতিরিক্ত অক্সিজেন জোগায়।
৩৭. পায়রার চোখে পেকটিন (Pecten) থাকার কাজ কী?
- উত্তর: পেকটিন অক্ষিগোলকের পুষ্টি জোগায় এবং বায়ুতে দ্রুত ওড়ার সময় দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
৩৮. উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় রোধ করতে কুঁজের ভূমিকা কী?
- উত্তর: কুঁজে সঞ্চিত চর্বি বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে জারিত হয়ে জল ও শক্তি উৎপন্ন করে, যা উটকে জলের চরম অভাবেও বাঁচিয়ে রাখে।
৩৯. উটের ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকার বিশেষত্ব কী?
- উত্তর: উটের লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত, যা জলের তীব্র অভাবেও রক্তকে ঘন হতে দেয় না এবং সুষম প্রবাহ বজায় রাখে।
৪০. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি (Biodiversity) কাকে বলে?
- উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা সমগ্র পৃথিবীতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের সমস্ত প্রজাতির বৈচিত্র্যকে জীববৈচিত্র্য বলে।
৪১. হটস্পট (Hotspot) কাকে বলে? এর দুটি শর্ত লেখো।
- উত্তর: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি তীব্রভাবে ধ্বংসের মুখে রয়েছে, তাদের হটস্পট বলে। শর্ত: ন্যূনতম ১৫০০টি স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতি থাকতে হবে এবং মূল বাসস্থানের অন্তত ৭০% ধ্বংস হতে হবে।
৪২. ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ conservation) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক বাসস্থানে রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য।
৪৩. এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ conservation) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা।
৪৪. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের কয়টি জোন বা অঞ্চল থাকে?
- উত্তর: ৩টি জোন থাকে—কোর জোন, বাফার জোন এবং ট্রানজিশন জোন।
৪৫. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী? এটি কে প্রকাশ করে?
- উত্তর: যে বইয়ে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলির তালিকা প্রকাশিত হয় তাকে রেড ডাটা বুক বলে। এটি IUCN নামক সংস্থা প্রকাশ করে।
৪৬. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
- উত্তর: জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস যুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে প্রচুর শ্যাওলার প্রাচুর্য ঘটে এবং জলের অক্সিজেন কমে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটার ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৪৭. বায়োম্যাগনিফিকেশন বা জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) কী?
- উত্তর: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অবিনাশী বিষাক্ত অজৈব পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) উৎপাদক থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের দেহে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে।
৪৮. মিনামাটা ও ইতাই ইতাই রোগ কী কারণে হয়?
- উত্তর: পারদ (Hg) দূষণের ফলে মিনামাটা রোগ এবং ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষণের ফলে ইতাই ইতাই রোগ হয়।
৪৯. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত জীব বা উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে। যেমন—সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
৫০. ভারতের একটি প্রধান হটস্পটের নাম লেখো এবং প্রজেক্ট টাইগার কবে চালু হয়?
- উত্তর: ভারতের একটি প্রধান হটস্পট হলো পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা পূর্ব হিমালয় অঞ্চল। আর ভারতে 'প্রজেক্ট টাইগার' ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল চালু হয়েছিল।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির চতুর্থ অধ্যায় "অভিব্যক্তি ও অভিযোজন" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৩০টি তিন নম্বরের (3 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
জীবনের উৎপত্তি ও জৈব বিবর্তন
১. মিলার ও উরের পরীক্ষাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো এবং এর গুরুত্ব কী?
উত্তর: বিজ্ঞানী স্ট্যানলে মিলার ও হ্যারল্ড উরে একটি পরীক্ষাগারে মিথেন (CH_4), অ্যামোনিয়া (NH_3), হাইড্রোজেন (H_2) এবং জলীয় বাষ্পের মিশ্রণে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ ঘটিয়ে আদি পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। ফলস্বরূপ, কয়েকদিন পর সেই মিশ্রণ থেকে গ্লাইসিন ও অ্যালানিনের মতো সরল অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদিত হয়।
গুরুত্ব: এই পরীক্ষাটি ওপারিন ও হ্যালডেনের রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি তত্ত্বের পরীক্ষামূলক সত্যতা প্রমাণ করে যে নির্জীব অজৈব যৌগ থেকেই জীবনের প্রথম জৈব যৌগ সৃষ্টি হয়েছিল।
২. ল্যামার্ক ও ডারউইনের মতবাদের মূল পার্থক্যের জায়গাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
১. পরিবেশের ভূমিকা: ল্যামার্কের মতে জীবের সচেষ্ট ইচ্ছা ও পরিবেশের পরিবর্তনের তাগিদে নতুন অঙ্গের সৃষ্টি হয়, কিন্তু ডারউইনের মতে পরিবেশ কেবল অনুকূল বৈশিষ্ট্যগুলিকে নির্বাচিত করে।
২. প্রকরণের উৎপত্তি: ল্যামার্ক বিশ্বাস করতেন জীব জীবনের অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মে পাঠায়, অন্যদিকে ডারউইন মনে করতেন জীবের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন প্রকরণ বা ভেদ ঘটে।
৩. যোগ্যতমের উদ্বর্তন: ল্যামার্কবাদে তীব্র সংগ্রামের কোনো স্থান ছিল না, কিন্তু ডারউইনবাদের মূল ভিত্তি হলো 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' ও 'যোগ্যতমের উদ্বর্তন'।
৩. অপসারী বিবর্তন (Divergent evolution) ও অভিসারী বিবর্তন (Convergent evolution) বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।
উত্তর:
১. অপসারী বিবর্তন: যে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত অঙ্গগুলি বিভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজে রূপান্তরিত হয় (যেমন সমসংস্থ অঙ্গ বা মানুষের হাত ও তিমির ফ্লিপার), তাকে অপসারী বিবর্তন বলে।
২. অভিসারী বিবর্তন: যে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে আসা বিভিন্ন জীবের অঙ্গগুলি একই কাজ করার জন্য একই ধরনের রূপ নেয় (যেমন সমবৃত্তীয় অঙ্গ বা পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা), তাকে অভিসারী বিবর্তন বলে।
৪. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. উৎপত্তি ও গঠন: সমসংস্থ অঙ্গগুলির উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন একই প্রকৃতির হয়, কিন্তু সমবৃত্তীয় অঙ্গগুলির উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
২. কার্যকারিতা: সমসংস্থ অঙ্গগুলির কাজ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সমবৃত্তীয় অঙ্গগুলির কাজ সর্বদা একই হয়।
৩. বিবর্তনীয় সম্পর্ক: সমসংস্থ অঙ্গ অপসারী বিবর্তনের ফল এবং একই পূর্বপুরুষ নির্দেশ করে, আর সমবৃত্তীয় অঙ্গ অভিসারী বিবর্তনের ফল এবং ভিন্ন পূর্বপুরুষ নির্দেশ করে।
৫. জীবাশ্ম কীভাবে জৈব বিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে?
উত্তর: জীবাশ্ম হলো বহু প্রাচীনকালের মৃত জীবদেহের সংরক্ষিত অবশেষ বা ছাপ। পাললিক শিলার বিভিন্ন স্তরে প্রাচীন থেকে আধুনিকতম জীবের জীবাশ্ম যেভাবে সাজানো থাকে, তা থেকে প্রজাতিগুলির ক্রমবিকাশ বা বিবর্তনীয় ধারা পরিষ্কার বোঝা যায়। যেমন—ঘোড়ার বিবর্তনের জীবাশ্ম প্রমাণ করে যে আদিম ইয়োহিপ্পাস থেকে বর্তমানের ইকুয়াস কীভাবে ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে।
৬. সংযোজক বা মিসিং লিংক (Missing Link) কী? আর্কিওপটেরিক্সকে কেন মিসিং লিংক বলা হয়?
উত্তর: যে জীব দুটি ভিন্ন শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য বহন করে এবং তাদের মধ্যবর্তী বিবর্তনীয় সম্পর্ক বা সেতু স্থাপন করে তাদের সংযোজক বলে। আর্কিওপটেরিক্স-এর দেহে সরীসৃপের মতো লেজ, চোয়ালে দাঁত ও নখরযুক্ত ডানা ছিল এবং পাখির মতো ডানা ও পালক ছিল। যেহেতু এটি সরীসৃপ ও পাখি এই দুই শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য একই সাথে প্রদর্শন করে, তাই একে সরীসৃপ ও পাখির সংযোজক বা মিসিং লিংক বলা হয়।
৭. ওয়েইসম্যানের 'জার্মপ্লাজম তত্ত্ব' (Germplasm theory) কীভাবে ল্যামার্কবাদকে খণ্ডন করেছিল?
উত্তর: ল্যামার্কের মতে জীবনের অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। কিন্তু বিজ্ঞানী অগাস্ট ওয়েইসম্যান তাঁর ইঁদুরের লেজ কাটার পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে জীবের দেহকোষ বা সোমাটোপ্লাজমের অর্জিত পরিবর্তন (যেমন লেজ কাটা) জননকোষে বা জার্মপ্লাজমে কোনো প্রভাব ফেলে না। ফলে পরবর্তী প্রজন্ম সর্বদা স্বাভাবিক লেজসহ জন্মায়, যা ল্যামার্কের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকারবাদকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে।
৮. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর:
১. ডারউইন জীবের দেহে প্রকরণ সৃষ্টির আসল উৎস বা কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
২. তিনি জিন বা মিউটেশন সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিতে পারেননি।
৩. কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গের সামান্য বা অপূর্ণ বিকাশ কেন ঘটে (যেমন মাছের চোখের প্রাথমিক রূপ বা ডানা গজানোর আগের অবস্থা) তা ডারউইনের তত্ত্বে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
৯. আধুনিক সংশ্লেষবাদী তত্ত্ব (Modern Synthetic Theory) অনুসারে বিবর্তনের মূল কারণগুলি কী কী?
উত্তর: আধুনিক সংশ্লেষবাদী তত্ত্ব বা নিউ-ডারউইনবাদ অনুসারে বিবর্তনের মূল কারণগুলি হলো:
১. জিন মিউটেশন বা জিনের আকস্মিক পরিবর্তন।
২. ক্রসিংওভার ও যৌন জননের সময় জিনের পুনর্বিন্যাস (Genetic recombination)।
৩. ক্রোমোজোমের সংখ্যা বা গঠনে আকস্মিক পরিবর্তন।
৪. প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection) যা অনুকূল জিনকে টিকিয়ে রাখে।
১০. ঘোড়ার বিবর্তনের প্রধান ধারা বা রূপান্তরের ধাপগুলি সংক্ষেপে লেখো।
- উত্তর: ঘোড়ার বিবর্তন প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে ইকোসিন যুগ থেকে শুরু হয়েছে। এর প্রধান ধাপগুলি হলো:
১. ইয়োহিপ্পাস: আদিমতম ঘোড়া, আকার ছোট ও পায়ে ৪টি আঙুল ছিল।
২. মেসোহিপ্পাস: কিছুটা বড় ও পায়ে ৩টি আঙুল ছিল (মেঝ আঙুল প্রধান)।
৩. মেরিখিপ্পাস: উচ্চতা বেড়েছে এবং প্রধান আঙুল মাটিতে ভর দিয়ে চলতে শুরু করে।
৪. প্লায়োহিপ্পাস: একক খুরের দিকে অগ্রবর্তী রূপ।
৫. ইকুয়াস: আধুনিক ঘোড়া, যার পায়ে মাত্র একটি শক্তিশালী একক খুর রয়েছে।
মরু ও লবনাক্ত উদ্ভিদের অভিযোজন
১১. মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইটের (Xerophyte) পাতার প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
- উত্তর: মরুভূমিতে তীব্র উষ্ণতা ও জলের তীব্র ঘাটতি মোকাবিলার জন্য জেরোফাইটিক উদ্ভিদের পাতায় বিশেষ অভিযোজন দেখা যায়:
১. পাতার ক্ষেত্রফল কমে যায় এবং অনেক উদ্ভিদে পাতা সম্পূর্ণভাবে কাঁটায় রূপান্তরিত হয় (যেমন ফণীমনসা)।
২. পাতার উপরিভাগে কিউটিকলের (Cuticle) পুরু মোমের আস্তরণ থাকে যা প্রস্বেদন রোধ করে।
৩. পত্ররন্ধ্রগুলি পাতার গভীরে নিমজ্জিত থাকে যাতে জল কম বাষ্পীভূত হয়।
১২. ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদের শ্বাসমূল বা পিনামেটোফোর (Pneumatophore) কীভাবে তাদের বাঁচতে সাহায্য করে?
- উত্তর: ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদ বা লবণাম্বু উদ্ভিদগুলি (যেমন সুন্দরী) কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত মাটিতে জন্মায় যেখানে মাটিতে অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের মূলগুলি অভিকর্ষের বিপরীতে মাটি ভেদ করে সোজা ওপরে উঠে আসে, যাদের শ্বাসমূল বলে। এই শ্বাসমূলের গায়ে অসংখ্য 'নিউমাটোথোড' রন্ধ্র থাকে যার মাধ্যমে উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন শোষণ করে শ্বাসকার্য চালায়।
১৩. লবণাম্বু উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম (Viviparous germination) কেন এবং কীভাবে ঘটে?
- উত্তর: লোনা জলের কর্ম্দাক্ত মাটিতে বীজ সরাসরি পড়ে গেলে তার অঙ্কুরোদগম ব্যাহত হতে পারে বা বীজ ভেসে যেতে পারে। এই কারণে ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদ যেমন রাইজোফোরাতে 'জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম' দেখা যায়—যেখানে ফলটি গাছে লেগে থাকা অবস্থাতেই ফলের ভেতরে থাকা বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে এবং লম্বা চারা তৈরি হয়। পরে সেই চারাটি গাছ থেকে সরাসরি নিচের কর্ম্দাক্ত মাটিতে শক্তভাবে গেঁথে যায়।
১৪. রুই মাছের পটকার গঠন ও হাইড্রোস্টেটিক অঙ্গ হিসেবে এর কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করো।
- উত্তর: রুই মাছের উদরগহ্বরে খাদ্যনালীর পৃষ্ঠদেশে একটি দীর্ঘ ও দ্বিপ্রকোষ্ঠযুক্ত গ্যাসপূর্ণ থলি থাকে যা পটকা নামে পরিচিত। এর সম্মুখ প্রকোষ্ঠে রেড গ্রন্থি গ্যাস উৎপাদন করে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে ওভাল নামক অংশ গ্যাস শোষণ করে। মাছ যখন জলের গভীরে ডুবতে চায় তখন গ্যাস শোষণ করে পটকাকে ছোট ও ভারী করে, আবার ওপরে উঠতে চাইলে গ্যাস উৎপাদন করে পটকাকে ফুলিয়ে হালকা করে। এইভাবে এটি হাইড্রোস্টেটিক অঙ্গ বা ভারসাম্য রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে।
১৫. পায়রার উড্ডয়নে সাহায্যকারী বায়ুথলি বা এয়ারস্যাকের (Air sac) ভূমিকা কী?
- উত্তর: পায়রার ফুসফুসের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত ৯টি বায়ুথলি বা এয়ারস্যাক ওড়ার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. এগুলি পায়রার দেহকে হালকা রাখতে 'গ্যাস বেলুন'-এর মতো কাজ করে।
২. ওড়ার সময় যখন অক্সিজেনের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়, তখন বায়ুথলিগুলি অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে।
৩. ডানার গতি ও ওড়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া অতিরিক্ত দেহ তাপ বা উষ্ণতা বাইরে বের করে দিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
১৬. উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় রোধ করতে রক্ত ও কুঁজের অভিযোজনগত ভূমিকা লেখো।
- উত্তর:
১. কুঁজের ভূমিকা: উটের কুঁজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট বা মেদ সঞ্চিত থাকে। জলের অভাবে যখন খাবার মেলে না, তখন এই ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে জারিত হয়ে শক্তি ও প্রচুর জল উৎপন্ন করে।
২. লোহিত রক্তকণিকা: উটের লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত, যা জলের তীব্র অভাবেও রক্তকে ঘন হতে দেয় না এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া উট প্রয়োজনে দেহের জলের পরিমাণ ৩০% হ্রাস পেলেও বেঁচে থাকতে পারে।
১৭. মরুভূমির চরম জলবায়ুতে জেরোফাইটিক উদ্ভিদের কাণ্ডের অভিযোজন বর্ণনা করো।
- উত্তর: মরুভূমির জেরোফাইটিক উদ্ভিদের (যেমন ফণীমনসা বা ক্যাকটাস) পাতা যখন কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, তখন তাদের কান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়:
১. কাণ্ডটি সবুজ, মাংসল ও চ্যাপ্টা হয়ে সালোকসংশ্লেষের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়, যাকে ফাইলোক্ল্যাড বলে।
২. কাণ্ডের কোষে মিউসিলেজ বা জল সঞ্চয়ী কলা থাকে যা জলের অভাবের দিনে উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে।
৩. কাণ্ডের বাইরে কিউটিকলের পুরু আস্তরণ থাকে যা বাষ্পমোচন রোধ করে।
১৮. ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদের লবণ সহনশীলতা বা অস্মোরেগুলেশন প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে লেখো।
- উত্তর: ম্যাংগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ লবণাক্ত মাটিতে জন্মালেও কোষে অতিরিক্ত লবণ প্রবেশ করলে কোষের জলীয় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এই কারণে এই উদ্ভিদগুলি বিশেষ অভিযোজন গড়ে তুলেছে:
১. কিছু উদ্ভিদের পাতায় বিশেষ 'লবণ গ্রন্থি' থাকে যার মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ বাইরে ঘামের মতো নির্গত হয়।
২. কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রোলিন বা অন্যান্য অসমোরেগুলেটর উৎপাদন করে তারা কোষরসের অভিস্রবণ চাপ মাটির জলের চেয়ে বেশি রাখে, যাতে মূল সহজে মাটি থেকে জল শোষণ করতে পারে।
১৯. পায়রার চোখে 'পেকটিন' (Pecten) এবং চোখের পাতার অভিযোজন কী উদ্দেশ্যে ঘটে?
- উত্তর:
১. পেকটিন: পায়রার চোখের রেটিনা সংলগ্ন রক্তবহুল ও চিরুনি আকৃতির 'পেকটিন' নামক অঙ্গ থাকে, যা বায়ুতে দ্রুত ওড়ার সময় দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে এবং অক্ষিগোলকের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।
২. চোখের পাতা ও নিক্টিট্রেটিং পর্দা: ওড়ার সময় তীব্র বাতাস ও ধূলিকণা থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য পায়রার স্বচ্ছ নিক্টিট্রেটিং পর্দা চোখকে ঢেকে রাখে।
২০. মরুভূমির বালুঝড় ও তাপ থেকে উট কীভাবে নিজেদের রক্ষা করে?
- উত্তর:
১. উটের চোখ রক্ষা করার জন্য দীর্ঘ ও ঘন দু'পলক বিশিষ্ট পাতা থাকে।
২. বালুঝড়ের সময় নাসাছ্রগুলিতে বিশেষ পেশি থাকে যার সাহায্যে তারা নাসাছ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে পারে যাতে নাকের ভেতরে বালি প্রবেশ করতে না পারে।
৩. তাদের লম্বা পা শরীরকে গরম বালির সংস্পর্শ থেকে অনেক উঁচুতে রাখে।
পরিবেশ, দূষণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
২১. ইন-সিটু (In-situ) ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
- উত্তর:
১. সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে বিপন্ন জীবকে তার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণ করা হয় তাকে ইন-সিটু বলে, আর প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু বলে।
২. উদাহরণ: ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হলো জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হলো বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা ও জিন ব্যাঙ্ক।
৩. সুবিধা: ইন-সিটু সংরক্ষণে জীব তার স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিকভাবে বিবর্তনের সুযোগ পায়, যা এক্স-সিটু সংরক্ষণে কিছুটা সীমিত থাকে।
২২. জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে? এর দুটি প্রধান শর্ত লেখো।
- উত্তর: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি মানুষের অতি শোষণ ও ধ্বংসের মুখে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাদের জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে।
দুটি শর্ত:
১. ঐ অঞ্চলে অন্তত ১৫০০ প্রজাতির স্থানীয় বা এন্ডেমিক উদ্ভিদ থাকতে হবে।
২. ঐ অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদের মূল বাসস্থানের অন্তত ৭০% ইতিমধ্যেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে হবে।
২৩. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কী এবং এর ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্রে কী প্রভাব পড়ে?
- উত্তর: কৃষি জমির রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট ধুয়ে জলে মিশলে যখন নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তখন জলের ওপর বিপুল পরিমাণে শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে, যাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
প্রভাব: শ্যাওলার প্রাচুর্যের কারণে জলের নিচে সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না এবং জলের সমস্ত অক্সিজেন শ্যাওলা ও ব্যাকটেরিয়া শুষে নেয়। ফলে জলে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় (BOD বৃদ্ধি পায়) এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা যায়।
২৪. বায়োম্যাগনিফিকেশন বা জৈব বিবর্ধন (Biomagnification) বলতে কী বোঝো? একটি উদাহরণ দাও।
- উত্তর: পরিবেশের অবিনাশী ও বিষাক্ত অজৈব রাসায়নিক পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্ন স্তর (উৎপাদক) থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের (যেমন মাছ বা পাখি) দিকে ধাবিত হওয়ার সময় প্রতিটি ধাপে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও তীব্রতর মাত্রায় জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে। যেমন—জলে সামান্য ডিডিটি থাকার ফলে ছোট মাছে তা জমা হয়, এবং সেই মাছ খেয়ে চিল বা মাছরাঙার মতো শীর্ষ খাদকদের শরীরে ডিডিটির মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে পাখির ডিমের খোসা পাতলা হয়ে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২৫. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী এবং এর উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব কী?
- উত্তর: IUCN (International Union for Conservation of Nature) নামক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত যে পুস্তকে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাকে রেড ডাটা বুক বলে।
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব: এর মাধ্যমে প্রজাতিগুলির বর্তমান জনসংখ্যা ও বিপদের মাত্রা সম্পর্কে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা সচেতন হন এবং সেই অনুযায়ী জরুরি সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
২৬. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর হ্রাসের প্রধান কারণ কী এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি লেখো।
- উত্তর: রেফ্রিজারেটর, এসি এবং অ্যারোসল স্প্রে থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য প্রধানত দায়ী।
ক্ষতিকর প্রভাব: ওজোন স্তর ধ্বংস হওয়ার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) সরাসরি পৃথিবীতে নেমে আসে। এর ফলে মানবদেহে ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের হার মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
২৭. ভারতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে 'প্রজেক্ট টাইগার' (Project Tiger) এর ভূমিকা ও সাফল্য আলোচনা করো।
- উত্তর: ভারতে বাঘের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল 'প্রজেক্ট টাইগার' বা ব্যাঘ্র প্রকল্প চালু করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং চোরাশিকার রোধ করা। এই প্রকল্পের সফলতার কারণে বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে (যেমন জিম করবেট বা সুন্দরবন) বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৮. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের প্রধান তিনটি অঞ্চল বা জোনের বিবরণ দাও।
- উত্তর: একটি আদর্শ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ প্রধানত তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত থাকে:
১. কোর জোন (Core Zone): এটি সবচেয়ে সুরক্ষিত অভ্যন্তরীণ অঞ্চল যেখানে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি সম্পূর্ণ প্রকৃতির নিয়মে সংরক্ষিত থাকে।
২. বাফার জোন (Buffer Zone): এটি কোর জোনকে ঘিরে থাকা মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে গবেষণামূলক কাজ ও শিক্ষা সংক্রান্ত সীমিত কার্যক্রম চালানো যায়।
৩. ট্রানজিশন জোন (Transition Zone): এটি বাইরের সবচেয়ে পরিধিগত অংশ যেখানে জনবসতি, কৃষি কাজ এবং পর্যটনের মতো টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়।
২৯. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কী? সুন্দরবনের একটি এন্ডেমিক প্রজাতির উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত উদ্ভিদ বা প্রাণী প্রজাতি পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা অঞ্চলের বাইরে অন্য কোথাও প্রাকৃতিকভাবে আর দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক বা স্থানীয় প্রজাতি বলে। সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত এন্ডেমিক প্রজাতি হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris) বা সুন্দরীর মতো কিছু ম্যাংগ্রোভ উদ্ভিদ।
৩০. জলদূষণ কীভাবে মানবস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে? আর্সেনিক ও পারদ দূষণের একটি করে উদাহরণ দাও।
- উত্তর: দূষিত জল পান করলে বা সেই জল দিয়ে উৎপাদিত খাদ্য গ্রহণ করলে মানবদেহে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ:
১. আর্সেনিক দূষণ: ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার ফলে মানবদেহে হাত-পায়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ ও ক্ষত সৃষ্টি হয়, যাকে 'ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ' বলে।
২. পারদ দূষণ: শিল্পকারখানার বর্জ্য থেকে পারদ জলে মিশলে সেই মাছ খাওয়ার ফলে মানুষের দেহে 'মিনামাটা রোগ' হয়, যার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির চতুর্থ অধ্যায় "অভিব্যক্তি ও অভিযোজন" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ২০টি পাঁচ নম্বরের (5 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. মিলার ও উরের পরীক্ষাটি সবিস্তারে বর্ণনা করো এবং জৈব বিবর্তনে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
পরীক্ষার বিবরণ: বিজ্ঞানী স্ট্যানলে মিলার ও হ্যারল্ড উরে (১৯৫৩ সালে) একটি পরীক্ষাগারে কাচের নল ও ফ্লাস্কের মাধ্যমে আদি পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তাঁরা একটি ফ্লাস্কে মিথেন (CH_4), অ্যামোনিয়া (NH_3) এবং হাইড্রোজেন (H_2)-এর মিশ্রণ (২:২:১ অনুপাতে) এবং অন্য ফ্লাস্কে জল ফুটিয়ে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করান। সেই গ্যাসীয় মিশ্রণের মধ্যে টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ (সাপ্তাহিক বজ্রপাতের বিকল্প হিসেবে) ঘটিয়ে একটি কন্ডেন্সার বা ঘনীভবন যন্ত্রের মাধ্যমে জল ঠান্ডা করে সংগ্রাহক নলে তা জমা করেন।
ফলাফল ও গুরুত্ব: কয়েকদিন পর ওই তরল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তাতে গ্লাইসিন, অ্যালানিন ও অ্যাসপার্টিক অ্যাসিডের মতো বেশ কয়েকটি সরল অ্যামিনো অ্যাসিড উৎপাদিত হয়েছে। এই বিখ্যাত পরীক্ষাটি ওপারিন ও হ্যালডেনের রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি তত্ত্বকে পরীক্ষামূলকভাবে সত্য প্রমাণ করে যে, আদি পৃথিবীর নির্জীব অজৈব রাসায়নিক পদার্থ থেকেই প্রথম জীবনের জৈব যৌগ সৃষ্টি হয়েছিল।
২. ল্যামার্কবাদের মূল বক্তব্যগুলি আলোচনা করো এবং এই মতবাদ খণ্ডিত হলো কেন তা সংক্ষেপে লেখো।
ল্যামার্কবাদের মূল বক্তব্য: ফরাসি বিজ্ঞানী জঁ ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক ১৮০৯ সালে তাঁর Philosophie Zoologique গ্রন্থে বিবর্তনের যে মতবাদ প্রকাশ করেন তার ভিত্তি ছিল দুটি প্রধান সূত্র:
১. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার সূত্র: জীবের সচেষ্ট ইচ্ছা ও পরিবেশের পরিবর্তনের তাগিদে যে অঙ্গগুলির বেশি ব্যবহার হয় সেগুলি পুষ্ট ও শক্তিশালী হয়, এবং অব্যবহৃত অঙ্গগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত বা বিলুপ্ত হয়।
২. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র: জীব জীবনের দীর্ঘকালীন জীবনে যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য বা অঙ্গ অর্জন করে, তা পরবর্তী প্রজন্মে বংশানুসরে সঞ্চারিত হয় (যেমন জিরাফের গলা লম্বা হওয়া)।
মতবাদ খণ্ডিত হওয়ার কারণ: পরবর্তীকালে বিজ্ঞানী অগাস্ট ওয়েইসম্যান তাঁর 'জার্মপ্লাজম তত্ত্ব'-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেন যে, জীবের দেহকোষের (সোমাটোপ্লাজম) অর্জিত পরিবর্তন জননকোষে (জার্মপ্লাজম) কোনো প্রভাব ফেলে না, ফলে অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি কখনোই পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় না। এই কারণেই ল্যামার্কবাদ বিজ্ঞানমহলে অগ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়।
৩. ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের মূল সূত্র বা তত্ত্বগুলি সবিস্তারে আলোচনা করো।
বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে তাঁর অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিজ গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ (Natural Selection Theory) প্রকাশ করেন। এর মূল ভিত্তিগুলি হলো:
১. অতিরিক্ত বংশবৃদ্ধি: জীবের বংশবৃদ্ধির হার অত্যাধিক বেশি (যেমন একটি স্যামন মাছ বছরে কোটি ডিম পাড়ে), কিন্তু খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত।
২. অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: সীমিত সম্পদের জন্য জীবের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা তিন প্রকার—স্বপ্রজাতি, ভিন্ন প্রজাতি এবং প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সংগ্রাম।
৩. প্রকরণ বা ভেদ: সমপ্রজাতির জীবদের মধ্যেও সামান্য পার্থক্য বা প্রকরণ দেখা যায়, যা বংশগতিতে সঞ্চারিত হয়।
৪. যোগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন: সংগ্রামের মধ্যে যে সমস্ত জীব অনুকূল প্রকরণ বা বৈশিষ্ট্য ধারণ করে কেবল তারাই টিকে থাকে (যোগ্যতমের উদ্বর্তন), এবং প্রকৃতি কেবল এই উপযোগী জীবদেরই নির্বাচন করে।
৫. নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে অনুকূল বৈশিষ্ট্যগুলি জমা হয়ে আদি প্রজাতি থেকে নতুন প্রজাতির উদ্ভব ঘটে।
৪. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো এবং এগুলি বিবর্তনের পক্ষে কী প্রমাণ দেয় তা ব্যাখ্যা করো।
পার্থক্য:
১. সমসংস্থ অঙ্গ: উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা (যেমন মানুষের হাত ও তিমির ফ্লিপার)।
২. সমবৃত্তীয় অঙ্গ: উৎপত্তি ও গঠন আলাদা কিন্তু কাজ এক (যেমন পাখির ডানা ও প্রজাপতির ডানা)।
বিবর্তনের সপক্ষে প্রমাণ:
১. সমসংস্থ অঙ্গ 'অপসারী বিবর্তন' (Divergent evolution) প্রমাণ করে যে এদের উৎস বা পূর্বপুরুষ একই ছিল কিন্তু পরিবেশের চাহিদায় তারা ভিন্ন কাজ গ্রহণ করেছে।
২. সমবৃত্তীয় অঙ্গ 'অভিসারী বিবর্তন' (Convergent evolution) প্রমাণ করে যে ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে আসা জীবরাও একই পরিবেশে বাঁচার জন্য একই ধরনের অভিযোজন বা কাজ বেছে নিতে পারে।
৫. ঘোড়ার বিবর্তনের প্রধান জীবাশ্ম প্রমাণগুলি ক্রমানুসারে সবিস্তারে আলোচনা করো।
ঘোড়ার বিবর্তন প্রায় ৫ কোটি বছর ধরে ইকোসিন যুগ থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে, যার জীবাশ্ম প্রমাণ অত্যন্ত স্পষ্ট:
১. ইয়োহিপ্পাস (Eohippus): আদিমতম ঘোড়ার জীবাশ্ম (উচ্চতা প্রায় ১১ ইঞ্চি), যার সামনের পায়ে ৪টি এবং পেছনের পায়ে ৩টি আঙুল ছিল।
২. মেসোহিপ্পাস (Mesohippus): এর আকার কিছুটা বড় হয় এবং সামনের ও পেছনের উভয় পায়েই ৩টি করে আঙুল ছিল (মাঝের আঙুলটি প্রধান)।
৩. মেরিখিপ্পাস (Merychippus): এদের উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পায় এবং এদের দাঁতে পেষণ করার ক্ষমতা বাড়ে। আঙুল তিনটি থাকলেও কেবল মাঝের শক্তিশালী আঙুলটি মাটিতে ভর দিয়ে চলত।
৪. প্লায়োহিপ্পাস (Pliohippus): এরা আধুনিক ঘোড়ার ঠিক আগের রূপ, যাদের পায়ের পার্শ্বীয় আঙুলগুলি ছোট হয়ে খুরের রূপ ধারণ করেছে।
৫. ইকুয়াস (Equus): আধুনিক ঘোড়া, যাদের উচ্চতা সর্বাধিক এবং পায়ের সমস্ত আঙুল বিলুপ্ত হয়ে কেবল একটি মাত্র শক্তিশালী একক খুর অবশিষ্ট রয়েছে।
৬. মরু উদ্ভিদ বা জেরোফাইটের (Xerophyte) মরূদ্যান বা জলক্ষয় রোধকারী অভিযোজনগুলি সবিস্তারে লেখো।
মরুভূমির তীব্র উষ্ণতা ও জলের চরম ঘাটতি মোকাবিলার জন্য জেরোফাইটিক উদ্ভিদগুলি (যেমন ফণীমনসা বা ক্যাকটাস) বিশেষ শারীরিক অভিযোজন গড়ে তুলেছে:
১. পাতার রূপান্তর: প্রস্বেদনের হার সম্পূর্ণ কমানোর জন্য পাতাগুলি ছোট হয়ে কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
২. ফাইলোক্ল্যাড বা পর্ণকাণ্ড: পাতার অভাবে গাছের সবুজ, মাংসল ও চ্যাপ্টা কাণ্ড সালোকসংশ্লেষের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
৩. কিউটিকলের আস্তরণ: কান্ডের বাইরে কিউটিকলের পুরু মোমের আস্তরণ থাকে যা বাষ্পমোচন রোধ করে।
৪. গভীর মূল: জল সংগ্রহের জন্য মূলগুলি মাটির অনেক গভীরে ও চারিদিকে বহু দূর পর্যন্ত প্রসারিত থাকে।
৫. জল সঞ্চয়ী কলা: কান্ডের কোষে মিউসিলেজ বা জল সঞ্চয়ী কলা থাকে যা শুষ্ক ঋতুতে উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে।
৭. ম্যাংগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদের (Halophyte) লবণাক্ত ও কর্ম্দাক্ত মাটিতে বেঁচে থাকার অভিযোজনগত কৌশলগুলি আলোচনা করো।
লবণাম্বু উদ্ভিদগুলি (যেমন সুন্দরী বা রাইজোফোরা) লোনা জলের কর্ম্দাক্ত মাটিতে জন্মারোর কারণে যে বিশেষ সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয় এবং তার সমাধান করে তা হলো:
১. শ্বাসমূল বা পিনামেটোফোর: মাটিতে অক্সিজেনের অভাব থাকায় মূলগুলি অভিকর্ষের বিপরীতে মাটি ভেদ করে সোজা ওপরে উঠে আসে, যার গায়ে 'নিউমাটোথোড' রন্ধ্র থাকে এবং এর মাধ্যমে তারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন শোষণ করে।
২. জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম: লোনা জলে বীজ ভেসে নষ্ট না হওয়ার জন্য ফল গাছে লেগে থাকা অবস্থাতেই ফলের ভেতর বীজের অঙ্কুরোদগম ঘটে এবং চারা তৈরি হয়ে সরাসরি নিচে কর্ম্দাক্ত মাটিতে গেঁথে যায়।
৩. লবণ গ্রন্থি ও অসমোরেগুলেশন: অতিরিক্ত লবণ বাইরে বের করার জন্য পাতায় লবণ গ্রন্থি থাকে এবং সাইটোপ্লাজমে প্রোলিন নামক অসমোরেগুলেটর উৎপন্ন করে তারা কোষে জলের শোষণ নিশ্চিত করে।
৮. উটের মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও জলশূন্যতা মোকাবেলার শারীরিক অভিযোজনগুলি বর্ণনা করো।
উট মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য অসাধারণ কিছু অভিযোজন প্রদর্শন করে:
১. কুঁজের ফ্যাট সঞ্চয়: কুঁজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট বা মেদ সঞ্চিত থাকে, যা জলের অভাবে জারিত হয়ে জল ও শক্তি উৎপন্ন করে।
২. ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা: উটের লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত, যা জলের তীব্র অভাবেও রক্তকে ঘন হতে দেয় না এবং সুষম প্রবাহ বজায় রাখে।
৩. জলের সহনশীলতা: উট প্রয়োজনে দেহের মোট জলের ৩০% হারিয়ে ফেললেও বেঁচে থাকতে পারে এবং জলের উৎস পেলে একবারেই প্রচুর জল পান করে ঘাটতি মিটিয়ে নেয়।
৪. নাসাছ্র ও চোখের সুরক্ষা: বালুঝড়ের সময় নাসাছ্র পেশি দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যায় এবং দীর্ঘ দু'পলক বিশিষ্ট পাতা চোখকে বালি থেকে রক্ষা করে।
৯. পায়রার উড্ডয়ন পেশি এবং বায়ুথলির অভিযোজনগত ভূমিকা সবিস্তারে আলোচনা করো।
উড্ডয়ন পেশি: পায়রার বক্ষদেশে ডানার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী পেশি থাকে:
পেক্টোর্যালিস মেজর পেশি: এটি অত্যন্ত শক্তিশালী পেশি, যা ওড়ার সময় ডানাকে নিচের দিকে জোরালো ধাক্কা দিতে সাহায্য করে।
পেক্টোর্যালিস মাইনর পেশি: এটি ডানাকে ওপরের দিকে তুলতে সাহায্য করে। এই দুই পেশির ছন্দোবদ্ধ সংকোচনেই পায়রা আকাশে ওড়ে।
বায়ুথলি বা এয়ারস্যাক: ফুসফুসের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত ৯টি বায়ুথলি পায়রার উড্ডয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
এগুলি দেহকে হালকা রাখতে 'গ্যাস বেলুন'-এর মতো কাজ করে।
ওড়ার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।
ওড়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া অতিরিক্ত দেহ তাপ বাইরে বের করে দিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখে।
১০. জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কার্যাবলীর কারণে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
বর্তমান যুগে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
১. বাসস্থান ধ্বংস ও খণ্ডিতকরণ: মানুষের নগরায়ণ, জঙ্গল কাটা, এবং কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে জীবদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
২. অতিরিক্ত শোষণ ও চোরাশিকার: বাণিজ্যিক লাভ বা শখের বশে বন্যপ্রাণী শিকার এবং গাছপালা অতিরিক্ত কাটার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
৩. বিদেশী প্রজাতির আক্রমণ: বাইরে থেকে আসা বহিরাগত প্রজাতি (যেমন কচুরিপানা বা তিলেিলা মাছ) স্থানীয় প্রজাতিগুলির খাদ্য ও বাসস্থান দখল করে তাদের ধ্বংস করে।
৪. দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন: শিল্পায়ন ও যানবাহনের কারণে বায়ু, জল ও মৃত্তিকা দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলছে ও সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে।
১১. ইন-সিটু (In-situ) এবং এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের পার্থক্য লেখো এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
পার্থক্য:
১. ইন-সিটু সংরক্ষণ: প্রাকৃতিকভাবে বিপন্ন জীবকে তার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতি (যেমন জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য)।
২. এক্স-সিটু সংরক্ষণ: প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতি (যেমন বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা)।
গুরুত্ব:
ইন-সিটু সংরক্ষণ জীবকে তার নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিকভাবে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ দেয়, যা সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। অন্যদিকে, এক্স-সিটু সংরক্ষণ প্রাকৃতিকভাবে চরম বিপন্ন প্রজাতিগুলিকে তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটাতে জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করে।
১২. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) ও বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) প্রক্রিয়া দুটি সবিস্তারে বুঝিয়ে লেখো।
ইউট্রোফিকেশন: কৃষি জমির রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট ধুয়ে জলে মিশলে যখন নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তখন জলের ওপর বিপুল পরিমাণে শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে। শ্যাওলার প্রাচুর্যের কারণে জলের নিচে সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না এবং জলের সমস্ত অক্সিজেন শ্যাওলা ও ব্যাকটেরিয়া শুষে নেয়। ফলে জলের অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা যায়।
বায়োম্যাগনিফিকেশন (জৈব বিবর্ধন): পরিবেশের অবিনাশী ও বিষাক্ত অজৈব রাসায়নিক পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্ন স্তর (উৎপাদক) থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের (যেমন মাছ বা পাখি) দিকে ধাবিত হওয়ার সময় প্রতিটি ধাপে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও তীব্রতর মাত্রায় জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে। যেমন—জলে সামান্য ডিডিটি মাছের দেহে জমা হয়, এবং সেই মাছ খেয়ে চিল বা মাছরাঙার মতো শীর্ষ খাদকদের শরীরে ডিডিটির মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত করে।
১৩. বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণ এবং এর প্রভাবে জীবকুলে সৃষ্ট মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
ক্ষয়ের কারণ: রেফ্রিজারেটর, এসি, অ্যারোসল স্প্রে এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে ওজোন (O_3) অণুকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে, ফলে ওজোন স্তরে গহ্বর বা ক্ষয় সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিকর প্রভাব:
১. সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) সরাসরি পৃথিবীতে নেমে আসে।
২. মানবদেহে ত্বকের ক্যানসার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং চোখের ছানি পড়ার মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়।
৩. উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের হার কমে যায় এবং ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
৪. সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উৎপাদক ফাইটোপ্লাংকটন ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে।
১৪. ভারতের জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) বলতে কী বোঝো? ভারতের প্রধান হটস্পটগুলির বিবরণ দাও।
সংজ্ঞা: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি মানুষের অতি শোষণ ও ধ্বংসের মুখে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাদের জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে (নরম্যান মেয়ার্স প্রবর্তিত)।
ভারতের প্রধান হটস্পটসমূহ:
১. পূর্ব হিমালয় অঞ্চল (Eastern Himalayas): সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যেখানে হাজার হাজার দুর্লভ উদ্ভিদ, অর্কিড ও রেড পান্ডার মতো প্রাণী দেখা যায়।
২. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা (Western Ghats): ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত এই অঞ্চলে প্রচুর স্থানীয় উভচর, সরীসৃপ ও উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে। ৩. ইন্দো-বার্মা অঞ্চল এবং ৪. সুন্দরল্যান্ড অঞ্চল ভারতের অন্য দুটি স্বীকৃত হটস্পট।
১৫. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী? বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে IUCN-এর ভূমিকা সবিস্তারে লেখো।
রেড ডাটা বুক: IUCN নামক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত যে পুস্তকে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা প্রকাশিত হয়, তাকে রেড ডাটা বুক বলে।
IUCN-এর ভূমিকা: International Union for Conservation of Nature (স্থাপিত ১৯৪৮) বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। প্রজাতিগুলিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে (যেমন—বিলুপ্ত বা Extinct, বিপন্ন বা Endangered, সংবেদনশীল বা Vulnerable)। এই সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, জাতীয় উদ্যান স্থাপন এবং জরুরি সংরক্ষণমূলক প্রকল্প (যেমন ভারতে প্রজেক্ট টাইগার) গ্রহণ করে থাকে।
১৬. আধুনিক সংশ্লেষবাদী বিবর্তন তত্ত্ব (Modern Synthetic Theory) অনুসারে বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তিগুলি আলোচনা করো।
আধুনিক সংশ্লেষবাদী তত্ত্ব বা নিউ-ডারউইনবাদ ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব এবং আধুনিক জিনতত্ত্ব, মিউটেশন ও বাস্তুবিদ্যার সমন্বয়ে গঠিত। এর মূল চালিকাশক্তিগুলি হলো:
১. জিন মিউটেশন বা পরিব্যক্তি: জিনের ক্ষারক বিন্যাসের আকস্মিক পরিবর্তন যা নতুন বৈশিষ্ট্যের জন্ম দেয়।
২. জিন রিকম্বিনেশন বা পুনর্বিন্যাস: মিয়োসিস ও যৌন জননের সময় ক্রসিংওভারের ফলে জিনের নতুন বিন্যাস তৈরি হয়।
৩. জিন প্রবাহ (Gene Flow): এক জনসমষ্টি থেকে অন্য জনসমষ্টিতে জিনের স্থানান্তর।
৪. প্রাকৃতিক নির্বাচন: পরিবেশের সাথে মানিয়ে চলার জন্য অনুকূল জিনগুলিকে প্রকৃতি কর্তৃক নির্বাচন করা।
৫. জেনেটিক ড্রিফট: হঠাৎ কোনো বিপর্যয়ের কারণে জিনের ঘনত্বে আকস্মিক পরিবর্তন।
১৭. হেকেলের বায়োজেনেটিক সূত্রটি ব্যাখ্যা করো এবং ভ্রূণতত্ত্ব কীভাবে জৈব বিবর্তনের সপক্ষে প্রমাণ জোগায় তা লেখো।
সূত্র: জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল প্রবর্তিত বায়োজেনেটিক সূত্রটি হলো—"অন্টোজেনি রিপিটস ফাইলোজেনি" (Ontogeny repeats phylogeny), অর্থাৎ যেকোনো জীবের ভ্রূণীয় বিকাশ (অন্টোজেনি) তার পূর্বপুরুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস বা রূপকে (ফাইলোজেনি) সংক্ষিপ্তভাবে পুনরাবৃত্তি করে।
বিবর্তনের সপক্ষে প্রমাণ: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (যেমন মাছ, উভচর, পাখি ও স্তন্যপায়ী) প্রাথমিক ভ্রূণগুলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তাদের ফুলকা ছিদ্র, লেজ এবং প্রাথমিক গঠন প্রায় হুবহু একরকম। এটি পরিষ্কার প্রমাণ করে যে এই সমস্ত ভিন্ন শ্রেণীর মেরুদণ্ডী প্রাণীরা অতীতকালে কোনো অভিন্ন বা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে ধape ধাপে পৃথক হয়েছে।
১৮. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) কাকে বলে? এর কারণ এবং পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
সংজ্ঞা: শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO_x) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির জলের সাথে পৃথিবীতে নেমে আসে, একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
কারণ: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামজাত জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত দহন।
ক্ষতিকর প্রভাব:
১. মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং বনভূমি ধ্বংস হয়।
২. নদীর ও হ্রদের জলের pH কমে যাওয়ায় জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয় এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা যায়।
৩. তাজমহলের মতো মার্বেল পাথরের ঐতিহাসিক স্মারকগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে (মার্বেল ক্যানসার)।
১৯. ভারতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে 'প্রজেক্ট টাইগার' এবং কুমির সংরক্ষণ প্রকল্পের অবদান সবিস্তারে লেখো।
প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger): ভারতে বাঘের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ায় তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে 'প্রজেক্ট টাইগার' চালু করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং চোরাশিকার রোধ করা। জিম করবেট ও সুন্দরবনের মতো বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প (Crocodile Conservation Project): ভারতে বিলুপ্তপ্রায় তিন প্রজাতির কুমির (নোনা জলের কুমির, মুগার ও ঘড়িয়াল) সংরক্ষণের জন্য ১৯৭৫ সালে এই প্রকল্প চালু করা হয়। উড়িষ্যার ভিতরকণিকা এবং পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে কৃত্রিম প্রজনন ও অভয়াংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কুমিরগুলির সংখ্যা সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
২০. সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র এবং তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সবিস্তারে আলোচনা করো।
সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র: সুন্দরবন হলো পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যাংগ্রোভ অরণ্য, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বদ্বীপ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এখানকার মাটি অত্যন্ত লবণাক্ত, কর্ম্দাক্ত ও জোয়ার-ভাটাযুক্ত। সুন্দরী, গেওয়া, গরান ও কেওড়ার মতো লবনসহনশীল উদ্ভিদ এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লবনাক্ত জলের কুমির, চিত্রা হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও জলজ প্রাণীর এক অনন্য সমাহার এই বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।
সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা:
১. এই অরণ্য উপকূলবর্তী অঞ্চলকে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে প্রাকৃতিক ঢালের মতো রক্ষা করে।
২. এটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো বিশ্বখ্যাত এবং বহু স্থানীয় (এন্ডেমিক) প্রজীববৈচিত্র্যের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
৩. সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে, তাই এর ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির পঞ্চম অধ্যায় "পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ১০০টি MCQ (বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন) ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
পরিবেশ ও জনবসতি, নাইট্রোজেন চক্র ও দূষণ (১ - ২৫)
১. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের শতকরা পরিমাণ কত?
উত্তর: (ক) প্রায় ৭৮.০৯%
২. সিম্বোত্রিক বা মিথোজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
উত্তর: (খ) Rhizobium
৩. মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী একটি ব্যাকটেরিয়া হলো—
উত্তর: (গ) Azotobacter
৪. বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে সরাসরি মাটিতে নাইট্রেট লবণে পরিণত করতে সাহায্য করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
উত্তর: (ঘ) Azotobacter ও Rhizobium
৫. অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট এবং নাইট্রেট উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
উত্তর: (ক) nitrification বা নাইট্রিফিকেশন
৬. নাইট্রিফিকেশনে সাহায্যকারী একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম—
উত্তর: (খ) Nitrosomonas ও Nitrobacter
৭. মাটিস্থ নাইট্রেটকে ভেঙে মুক্ত নাইট্রোজেন বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
উত্তর: (গ) ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification)
৮. ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার একটি উদাহরণ হলো—
উত্তর: (ঘ) Pseudomonas
৯. নাইট্রোজেন চক্রের সঠিক ক্রম কোনটি?
উত্তর: (ক) নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ → অ্যামোনিফিকেশন → নাইট্রিফিকেশন → ডিনাইট্রিফিকেশন
১০. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) ঘটার প্রধান কারণ হলো—
- উত্তর: (খ) জলে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ও ফসফরাস প্রবেশ করা
১১. মানবদেহে অতিরিক্ত নাইট্রেট পানের ফলে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (গ) মেথিমোগ্লোবিনেমিয়া বা ব্লু বেবি সিন্ড্রোম
১২. বায়ুমণ্ডলের কোন গ্যাসটি গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?
- উত্তর: (ঘ) অক্সিজেন (O_2)
১৩. বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী গ্যাস কোনটি?
- উত্তর: (ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2)
১৪. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল কী হচ্ছে?
- উত্তর: (খ) বৃদ্ধি পাচ্ছে
১৫. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর কোনটি?
- উত্তর: (গ) মেসোস্ফিয়ার
১৬. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন (O3) স্তর দেখা যায়?
- উত্তর: (ঘ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ওজোনোস্ফিয়ার)
১৭. ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক কী?
- উত্তর: (ক) ডবসন একক (Dobson Unit)
১৮. ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধান দায়ী রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
- উত্তর: (খ) ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)
১৯. উদ্ভিদের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া বা ক্লোরোসিস ঘটার প্রধান বায়ুদূষক গ্যাস কোনটি?
- উত্তর: (গ) সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2)
২০. ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগের প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: (ঘ) বায়ুদূষণ
২১. ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানবদেহে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (ক) ইতাই ইতাই (Itai-itai) রোগ
২২. পারদ দূষণের ফলে মানবদেহে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (খ) মিনামাটা (Minamata) রোগ
২৩. জলে আর্সেনিক দূষণের ফলে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (গ) ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease)
২৪. বায়ুমণ্ডলে কার্বন মনোক্সাইডের (CO) ক্ষতিকর প্রভাব কী?
- উত্তর: (ঘ) হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
২৫. এস্পেস্টস ধূলিকণা শ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে ফুসফুসে কোন রোগ হয়?
- উত্তর: (ক) এস্পেস্টোসিস বা ফাইব্রোসিস
জৈববৈচিত্র্য ও তার ক্ষতি (২৬ - ৫০)
২৬. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি শব্দটি প্রথম কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: (খ) ওয়াল্টার রোজেন (১৯৮৫ সালে)
২৭. জীববৈচিত্র্যের কয়টি প্রধান স্তর রয়েছে?
- উত্তর: (গ) তিনটি (জিনগত, প্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য)
২৮. একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমিত প্রজাতিকে কী বলে?
- উত্তর: (ঘ) এন্ডেমিক বা স্থানীয় প্রজাতি
২৯. সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত এন্ডেমিক প্রাণী হলো—
- উত্তর: (ক) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
৩০. জীববৈচিত্র্যের হটস্পট (Hotspot) ধারণাটি কে দেন?
- উত্তর: (খ) নরম্যান মেয়ার্স
৩১. ভারতে বর্তমানে স্বীকৃত জীববৈচিত্র্য হটস্পটের সংখ্যা কয়টি?
- উত্তর: (গ) ৪টি
৩২. ভারতের একটি প্রধান হটস্পটের নাম—
- উত্তর: (ঘ) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও পূর্ব হিমালয়
৩৩. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: (ক) মানুষের যথেচ্ছ বাসস্থান ধ্বংস ও অতি শোষণ
৩৪. বিলুপ্ত প্রজাতি (Extinct species) বলতে কী বোঝায়?
- উত্তর: (খ) যে প্রজাতিগুলি পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে
৩৫. ডোডো (Dodo) পাখিটি কী ধরনের প্রজাতি?
- উত্তর: (গ) বিলুপ্ত প্রজাতি
৩৬. চিতাবাঘ বা এশীয় চিতা ভারতে কী ধরনের প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে?
- উত্তর: (ঘ) বিলুপ্ত প্রজাতি
৩৭. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
- উত্তর: (ক) IUCN
৩৮. IUCN-এর সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: (খ) সুইজারল্যান্ডের গ্লান্ডে
৩৯. বিপন্ন প্রজাতিগুলির তালিকা কোন বইয়ে প্রকাশিত হয়?
- উত্তর: (গ) রেড ডাটা বুক
৪০. গ্রিন ডাটা বুক (Green Data Book)-এ কাদের তালিকা থাকে?
- উত্তর: (ঘ) যে প্রজাতিগুলি নিরাপদ বা বিপদমুক্ত অবস্থায় আছে
৪১. ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (Wildlife Protection Act) কবে পাস হয়?
- উত্তর: (ক) ১৯৭২ সালে
৪২. ভারতের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কবে পাস হয়?
- উত্তর: (খ) ১৯৮৬ সালে
৪৩. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের কয়টি জোন থাকে?
- উত্তর: (গ) ৩টি জোন
৪৪. ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কোনটি?
- উত্তর: (ঘ) নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
৪৫. সুন্দরবন কবে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট (UNESCO World Heritage Site) হিসেবে ঘোষিত হয়?
- উত্তর: (ক) ১৯৮৭ সালে
৪৬. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
- উত্তর: (খ) আসাম
৪৭. গির অরণ্য (Gir National Park) কী সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: (গ) এশীয় সিংহ (Asiatic Lion)
৪৮. জলদাপাড়া অভয়ারণ্য কোন প্রাণীর জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: (ঘ) একশৃঙ্গ গণ্ডার
৪৯. করবেট জাতীয় উদ্যান (Jim Corbett National Park) কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: (ক) উত্তরাখণ্ডে
৫০. ভারতে 'প্রজেক্ট টাইগার' কবে চালু হয়?
- উত্তর: (খ) ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল
সংরক্ষণ ও পরিবেশ আন্দোলন (৫১ - ৭৫)
৫১. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (গ) জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য
৫২. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের একটি উদাহরণ হলো—
- উত্তর: (ঘ) বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা
৫৩. ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) পদ্ধতিতে শুক্রাণু বা ভ্রূণ কত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়?
- উত্তর: (ক) তরল নাইট্রোজেনে -১৯৬° সে তাপমাত্রায়
৫৪. জিন ব্যাঙ্ক (Gene Bank) কিসের উদাহরণ?
- উত্তর: (খ) এক্স-সিটু সংরক্ষণ
৫৫. সর্পগন্ধা উদ্ভিদ কিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
- উত্তর: (গ) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ (রেসারপিন) তৈরিতে
৫৬. কুইনাইন কোন গাছ থেকে পাওয়া যায় এবং তা কোন রোগের ওষুধ?
- উত্তর: (ঘ) সিনকোনা গাছের ছাল থেকে, ম্যালেরিয়ার ওষুধ
৫৭. ডেসপ্রিন বা অ্যাসপিরিন ওষুধ কোন উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত হয়?
- উত্তর: (ক) উইলো গাছের ছাল থেকে
৫৮. নসকাপিন কোন উদ্ভিদের উপক্ষার?
- উত্তর: (খ) পোস্ত বা আফিম গাছ
৫৯. চিপকো আন্দোলন (Chipko Movement) কোন রাজ্যে শুরু হয়েছিল?
- উত্তর: (গ) উত্তরাখণ্ডে (তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের চামোলী জেলায়)
৬০. চিপকো আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেতার নাম কী?
- উত্তর: (ঘ) সুন্দরলাল বহুগুণা ও গৌরা দেবী
৬১. অ্যাপিকো আন্দোলন (Appiko Movement) কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
- উত্তর: (ক) কর্ণাটকে
৬২. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন (Narmada Bachao Andolan)-এর সাথে যুক্ত বিশিষ্ট নেত্রীর নাম কী?
- উত্তর: (খ) মেধা পাটেকর
৬৩. ভারতের যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM - Joint Forest Management) প্রথম কোন রাজ্যে চালু হয়?
- উত্তর: (গ) পশ্চিমবঙ্গ (আড়াবাড়ি অরণ্যে)
৬৪. যৌথ বন ব্যবস্থাপনায় পশ্চিমবঙ্গের কোন অরণ্য প্রথম পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল?
- উত্তর: (ঘ) মেদিনীপুর জেলার আড়াবাড়ি অরণ্য
৬৫. পবিত্র বনভূমি বা সেভড ফরেস্ট গ্রোভ (Sacred Groves) ভারতের কোথায় বেশি দেখা যায়?
- উত্তর: (ক) মেঘালয় ও পশ্চিমঘাটে
৬৬. ভারতের জীব বৈচিত্র্য আইন (Biological Diversity Act) কবে পাস হয়?
- উত্তর: (খ) ২০০২ সালে
৬৭. যৌথ বন ব্যবস্থাপনায় কাদের অংশীদারিত্ব থাকে?
- উত্তর: (গ) বন বিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসী
৬৮. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ কী?
- উত্তর: (ঘ) জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে ফেলা ও জঙ্গল কাটা
৬৯. গঙ্গার ডলফিন সংরক্ষণের জন্য ভারত সরকার একে কী ঘোষণা করেছে?
- উত্তর: (ক) জাতীয় জলজ প্রাণী (National Aquatic Animal)
৭০. রেড পান্ডা (Red Panda) সংরক্ষণের জন্য ভারতের কোন রাজ্যে প্রকল্প চালু হয়েছে?
- উত্তর: (খ) সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে
৭১. কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প (Crocodile Conservation Project) কবে চালু হয়?
- উত্তর: (গ) ১৯৭৫ সালে
৭২. এশিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটি?
- উত্তর: (ঘ) সুন্দরবন
৭৩. সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ প্রজাতি হলো—
- উত্তর: (ক) সুন্দরী গাছ
৭৪. বায়োস্ফেয়ার রিজার্ভের মাঝের সুরক্ষিত অঞ্চলটিকে কী বলে?
- উত্তর: (খ) কোর জোন (Core zone)
৭৫. বায়োস্ফেয়ার রিজার্ভের সবচেয়ে বাইরের অঞ্চলটিকে কী বলে?
- উত্তর: (গ) ট্রানজিশন জোন (Transition zone)
অতিরিক্ত পরিবেশগত সমস্যা ও বাস্তুতন্ত্র (৭৬ - ১০০)
৭৬. নাইট্রোজেন চক্রে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রেট তৈরির মধ্যবর্তী যৌগটি কী?
- উত্তর: (ঘ) নাইট্রাইট (NO_2)
৭৭. বায়ুমণ্ডলে কার্বন চক্রের প্রধান চালিকাশক্তি কোনটি?
- উত্তর: (ক) সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসন
৭৮. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম যা ধানক্ষেত ও জলাভূমি থেকে উৎপন্ন হয়—
- উত্তর: (খ) মিথেন (CH_4)
৭৯. কোন গ্যাসটি ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে?
- উত্তর: (গ) সিএফসি (CFC)
৮০. এসিড বৃষ্টির জলের স্বাভাবিক pH কতর নিচে থাকে?
- উত্তর: (ঘ) ৫.৬ এর নিচে
৮১. জলের বিওডি (BOD - Biochemical Oxygen Demand) বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ কী?
- উত্তর: (ক) জলে দূষণের মাত্রা ও জৈব আবর্জনা বেশি
৮২. জলে সিওডি (COD - Chemical Oxygen Demand) মাপা হয় কিসের জন্য?
- উত্তর: (খ) জলের রাসায়নিক দূষণ ও অক্সিজেনের চাহিদা মাপতে
৮৩. জীবমণ্ডল বা বায়োস্ফিয়ারে শক্তির মূল উৎস কী?
- উত্তর: (গ) সূর্য
৮৪. ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য বায়োডাইভারসিটি হটস্পট হলো—
- উত্তর: (ঘ) ইন্দো-বার্মা অঞ্চল
৮৫. কোন অরণ্যকে 'পৃথিবীর ফুসফুস' (Lungs of the planet) বলা হয়?
- উত্তর: (ক) অ্যামাজন রেইনফরেস্ট
৮৬. ভারতে বাঘ সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলি কোন আইনের আওতাধীন?
- উত্তর: (খ) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (১৯৭২)
৮৭. ভারতের কোন রাজ্যে সিংহ দেখা যায়?
- উত্তর: (গ) গুজরাটের গির অরণ্যে
৮৮. কোন প্রাণীটি অতিরিক্ত শিকার ও শিংয়ের লোভে আজ চরম বিপন্ন?
- উত্তর: (ঘ) একশৃঙ্গ গণ্ডার
৮৯. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের স্থায়ী ভারসাম্য রক্ষাকারী চক্র কোনটি?
- উত্তর: (ক) নাইট্রোজেন চক্র
৯০. সায়ানোব্যাকটেরিয়া (যেমন নস্টক বা অ্যানাবিনা) কীভাবে নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে?
- উত্তর: (খ) বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে সরাসরি যৌগিক রূপ দেয়
৯১. নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণকারী একটি মুক্তজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়ার নাম—
- উত্তর: (গ) Anabaena বা Nostoc
৯২. ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানবদেহে কোন হাড়ের রোগ বা ব্যথা হয়?
- উত্তর: (ঘ) ইতাই ইতাই (হাড় ক্ষয় ও তীব্র জয়েন্ট পেইন)
৯৩. আর্সেনিক দূষণের ফলে হাতের তালু ও পায়ের তলায় যে কর্কট রোগ বা ক্ষত হয় তাকে কী বলে?
- উত্তর: (ক) ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ ও কেরাটোেসিস
৯৪. মানুষের কার্যকলাপের ফলে বাস্তুতন্ত্রে যে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটে তাকে কী বলে?
- উত্তর: (খ) নৃতাত্ত্বিক দূষণ বা অ্যানথ্রোপোজেনিক দূষণ
৯৫. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেলে কোন শহরটি প্রথম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে?
- উত্তর: (গ) সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি ও ভেনিস
৯৬. ভারতের একটি বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী যা ওড়িশার উপকূলে ডিম পাড়তে আসে—
- উত্তর: (ঘ) অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ (Olive Ridley Turtle)
৯৭. ভারতে চিপকো আন্দোলন কত সালে শুরু হয়েছিল?
- উত্তর: (ক) ১৯৭৩ সালে
৯৮. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বা JFM কবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়?
- উত্তর: (খ) ১৯৭১-১৯৭২ সালে (পশ্চিমবঙ্গের আড়াবাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে)
৯৯. পরিবেশ রক্ষায় ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার কোনটি?
- উত্তর: (গ) ইন্দিরা গান্ধী পরিবেশ পুরস্কার
১০০. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রধান ও কার্যকর মাধ্যম কোনটি?
- উত্তর: (ঘ) ইন-সিটু (প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা) সংরক্ষণ

দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির পঞ্চম অধ্যায় "পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৮০টি SAQ (সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর) নিচে দেওয়া হলো:
পরিবেশ, জনবসতি ও নাইট্রোজেন চক্র (১ - ২৫)
১. নাইট্রোজেন চক্রের প্রধান ধাপগুলি কী কী?
উত্তর: নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ, অ্যামোনিফিকেশন, নাইট্রিফিকেশন এবং ডিনাইট্রিফিকেশন।
২. নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ বা নাইট্রোজেন ফিক্সেশন কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাস বিভিন্ন উপায়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত লবণে (যেমন নাইট্রেট) পরিণত হয়, তাকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ বলে।
৩. মিথোজীবী বা সিম্বোত্রিক নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর: Rhizobium (রাইজোবিয়াম)।
৪. মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর: Azotobacter (অ্যাজোটোব্যাকটার)।
৫. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification) কাকে বলে?
উত্তর: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ এবং রেচন পদার্থ বিয়োজক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে ভেঙে অ্যামোনিয়ায় (NH_3) পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অ্যামোনিফিকেশন বলে।
৬. নাইট্রিফিকেশন (Nitrification) কোন ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ঘটে?
উত্তর: Nitrosomonas (অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে) এবং Nitrobacter (নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে রূপান্তর করে) ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ঘটে।
৭. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification) কাকে বলে? একটি ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখো।
উত্তর: মাটিস্থ নাইট্রেট লবণ বিয়োজিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে। উদাহরণ: Pseudomonas (সিউডোমোনাস)।
৮. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
উত্তর: জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত প্রবেশের ফলে প্রচুর শ্যাওলার প্রাচুর্য ঘটে এবং জলের অক্সিজেন কমে যাওয়ার ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৯. মেথিমোগ্লোবিনেমিয়া বা ব্লু বেবি সিন্ড্রোম কেন হয়?
উত্তর: জলে অতিরিক্ত নাইট্রেটের উপস্থিতি থাকলে তা পানের ফলে শিশুদের রক্তের হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং ত্বক নীলবর্ণ ধারণ করে, যাকে ব্লু বেবি সিন্ড্রোম বলে।
১০. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস কোনটি?
- উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2)।
১১. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) কাকে বলে?
- উত্তর: বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
১২. বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তরটির নাম কী?
- উত্তর: মেসোস্ফিয়ার।
১৩. ওজোন (O3) স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
- উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে (ওজোনোস্ফিয়ারে)।
১৪. ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপের একক কী?
- উত্তর: ডবসন একক (Dobson Unit)।
১৫. ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য প্রধান দায়ী গ্যাস কোনটি?
- উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC।
১৬. ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের (CFC) প্রধান উৎসগুলি কী কী?
- উত্তর: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার (AC) এবং অ্যারোসল স্প্রে।
১৭. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) মানবদেহে কী ক্ষতি করে?
- উত্তর: ত্বকের ক্যানসার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং চোখের ছানি সৃষ্টি করে।
১৮. অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান দুটি গ্যাসের নাম লেখো।
- উত্তর: সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO_x)।
১৯. ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমা রোগের প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: বায়ুদূষণ (বিশেষ করে ধূলিকণা ও ধোঁয়া)।
২০. মিনামাটা রোগ কোন ধাতু দূষণের ফলে হয়?
- উত্তর: পারদ (Hg) দূষণের ফলে।
২১. ইতাই ইতাই রোগ কোন ধাতু দূষণের ফলে হয়?
- উত্তর: ক্যাডমিয়াম (Cd) দূষণের ফলে।
২২. ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease) কী কারণে হয়?
- উত্তর: ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক (As) বিষক্রিয়ার ফলে।
২৩. বায়ুমণ্ডলে কার্বন মনোক্সাইডের (CO) ক্ষতিকর প্রভাব কী?
- উত্তর: এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহেমোগ্লোবিন তৈরি করে, ফলে রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
২৪. এস্পেস্টোসিস রোগ কেন হয়?
- উত্তর: এস্পেস্টস ধূলিকণা শ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে এই রোগ হয়।
২৫. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
- উত্তর: প্রায় ৭৮.০৯%।
জীববৈচিত্র্য ও তার ক্ষতি (২৬ - ৫০)
২৬. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি (Biodiversity) শব্দের প্রবক্তা কে?
- উত্তর: বিজ্ঞানী ওয়াল্টার রোজেন (১৯৮৫ সালে)।
২৭. জীববৈচিত্র্যের প্রধান স্তর কয়টি ও কী কী?
- উত্তর: তিনটি স্তর—জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতি বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য।
২৮. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে?
- উত্তর: যে সমস্ত জীব বা উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রাকৃতিকভাবে আর দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে।
২৯. সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রাণী কী?
- উত্তর: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
৩০. জীববৈচিত্র্যের হটস্পট (Hotspot) ধারণাটি কে প্রবর্তন করেন?
- উত্তর: পরিবেশবিদ নরম্যান মেয়ার্স।
৩১. বর্তমানে ভারতে স্বীকৃত জীববৈচিত্র্য হটস্পটের সংখ্যা কয়টি?
- উত্তর: ৪টি।
৩২. ভারতের একটি প্রধান হটস্পটের নাম লেখো।
- উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা পূর্ব হিমালয় অঞ্চল।
৩৩. বিলুপ্ত প্রজাতি (Extinct species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে প্রজাতিগুলি পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে তাদের বিলুপ্ত প্রজাতি বলে। যেমন—ডোডো পাখি বা তাসমানিয়ান টাইগার।
৩৪. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
- উত্তর: IUCN (International Union for Conservation of Nature)।
৩৫. IUCN-এর সদর দফতর কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: সুইজারল্যান্ডের গ্লান্ডে (Gland)।
৩৬. গ্রিন ডাটা বুক (Green Data Book)-এ কাদের তালিকা থাকে?
- উত্তর: যে প্রজাতিগুলি অতীতে বিপন্ন হলেও বর্তমানে নিরাপদ বা বিপদমুক্ত অবস্থায় আছে, তাদের তালিকা থাকে।
৩৭. ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (Wildlife Protection Act) কবে পাস হয়?
- উত্তর: ১৯৭২ সালে।
৩৮. ভারতের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কবে পাস হয়?
- উত্তর: ১৯৮৬ সালে।
৩৯. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের প্রধান জোন কয়টি ও কী কী?
- উত্তর: তিনটি জোন—কোর জোন, বাফার জোন এবং ট্রানজিশন জোন।
৪০. ভারতের প্রথম বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ কোনটি?
- উত্তর: নীলগিরি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ।
৪১. সুন্দরবন কবে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়?
- উত্তর: ১৯৮৭ সালে।
৪২. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান কোন রাজ্যে অবস্থিত এবং কিসের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: আসামে অবস্থিত এবং একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত।
৪৩. গির অরণ্য কী সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: এশীয় সিংহ (Asiatic Lion) সংরক্ষণের জন্য।
৪৪. জলদাপাড়া অভয়ারণ্য কোন প্রাণীর জন্য পরিচিত?
- উত্তর: একশৃঙ্গ গণ্ডার।
৪৫. ভারতে 'প্রজেক্ট টাইগার' কবে চালু হয়?
- উত্তর: ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল।
৪৬. ভারতের জীববৈচিত্র্য আইন (Biological Diversity Act) কবে পাস হয়?
- উত্তর: ২০০২ সালে।
৪৭. ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণীর নাম কী?
- উত্তর: গঙ্গার ডলফিন।
৪৮. রেড পান্ডা সংরক্ষণের জন্য ভারতের কোন রাজ্যে প্রকল্প চালু হয়েছে?
- উত্তর: সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে।
৪৯. কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প কবে চালু হয়?
- উত্তর: ১৯৭৫ সালে।

৫০. এশিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য কোনটি?
- উত্তর: সুন্দরবন।
সংরক্ষণ, আন্দোলন ও পরিবেশগত গুরুত্ব (৫১ - ৮০)
৫১. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক বাসস্থানে রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য।
৫২. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা।
৫৩. ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) কী?
- উত্তর: তরল নাইট্রোজেনে -১৯৬° সে তাপমাত্রায় শুক্রাণু, ডিম্বাণু বা ভ্রূণ দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
৫৪. জিন ব্যাঙ্ক (Gene Bank) কোন ধরনের সংরক্ষণের উদাহরণ?
- উত্তর: এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ।
৫৫. সর্পগন্ধা উদ্ভিদ কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
- উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ (রেসারপিন) তৈরিতে।
৫৬. কুইনাইন কোন গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায়? এটি কোন রোগের ওষুধ?
- উত্তর: সিনকোনা গাছের ছাল থেকে পাওয়া যায় এবং এটি ম্যালেরিয়া রোগের ওষুধ।
৫৭. অ্যাসপিরিন ওষুধ কোন উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত হয়?
- উত্তর: উইলো গাছের ছাল থেকে।
৫৮. নসকাপিন কোন উদ্ভিদের উপক্ষার?
- উত্তর: পোস্ত বা আফিম গাছের উপক্ষার।
৫৯. চিপকো আন্দোলন (Chipko Movement) কত সালে এবং কোথায় শুরু হয়েছিল?
- উত্তর: ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডে (তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের চামোলী জেলায়) শুরু হয়েছিল।
৬০. চিপকো আন্দোলনের সাথে যুক্ত দুই বিখ্যাত নেতার নাম লেখো।
- উত্তর: সুন্দরলাল বহুগুণা ও গৌরা দেবী।
৬১. অ্যাপিকো আন্দোলন (Appiko Movement) কোথায় হয়েছিল?
- উত্তর: কর্ণাটকে।
৬২. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের সাথে যুক্ত নেত্রীর নাম কী?
- উত্তর: মেধা পাটেকর।
৬৩. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM - Joint Forest Management) প্রথম কোথায় চালু হয়?
- উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার আড়াবাড়ি অরণ্যে।
৬৪. পবিত্র বনভূমি বা সেভড ফরেস্ট গ্রোভ (Sacred Groves) ভারতের কোথায় দেখা যায়?
- উত্তর: মেঘালয় ও পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অঞ্চলে।
৬৫. যৌথ বন ব্যবস্থাপনায় কাদের অংশীদারিত্ব থাকে?
- উত্তর: বন বিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসী উভয়ের।
৬৬. জলের বিওডি (BOD - Biochemical Oxygen Demand) বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ কী?
- উত্তর: জলে দূষণের মাত্রা এবং জৈব আবর্জনা খুব বেশি, ফলে অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৬৭. জলের সিওডি (COD) মাপা হয় কেন?
- উত্তর: জলের রাসায়নিক দূষণের মাত্রা ও অক্সিজেনের চাহিদা মাপার জন্য।
৬৮. কোন অরণ্যকে 'পৃথিবীর ফুসফুস' বলা হয়?
- উত্তর: অ্যামাজন রেইনফরেস্ট।
৬৯. ওড়িশার উপকূলে ডিম পাড়তে আসা একটি বিপদগ্রস্ত সামুদ্রিক কচ্ছপের নাম লেখো।
- উত্তর: অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ (Olive Ridley Turtle)।
৭০. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের স্থায়ী ভারসাম্য রক্ষাকারী চক্রটির নাম কী?
- উত্তর: নাইট্রোজেন চক্র।
৭১. মুক্তজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়ার একটি উদাহরণ দাও যা নাইট্রোজেন সংবদ্ধ করে।
- উত্তর: Nostoc বা Anabaena।
৭২. নৃতাত্ত্বিক দূষণ বা অ্যানথ্রোপোজেনিক দূষণ কাকে বলে?
- উত্তর: মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের ফলে বাস্তুতন্ত্রে যে ক্ষতিকর দূষণ ঘটে তাকে নৃতাত্ত্বিক দূষণ বলে।
৭৩. ভারতের পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার কোনটি?
- উত্তর: ইন্দিরা গান্ধী পরিবেশ পুরস্কার।
৭৪. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের মাঝের সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চলটিকে কী বলে?
- উত্তর: কোর জোন (Core zone)।
৭৫. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের সবচেয়ে বাইরের অঞ্চলটিকে কী বলে?
- উত্তর: ট্রানজিশন জোন (Transition zone)।
৭৬. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রধান ও সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম কোনটি?
- উত্তর: ইন-সিটু (প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা) সংরক্ষণ।
৭৭. কর্বাট ন্যাশনাল পার্ক (Jim Corbett National Park) কোথায় অবস্থিত?
- উত্তর: উত্তরাখণ্ডে।
৭৮. সুন্দরবনের একটি বিখ্যাত বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ প্রজাতি কী?
- উত্তর: সুন্দরী গাছ।
৭৯. অ্যাসিড বৃষ্টির জলের স্বাভাবিক pH কতর নিচে থাকে?
- উত্তর: ৫.৬ এর নিচে।
৮০. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির মূল উৎস কী?
- উত্তর: সূর্য।


দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির পঞ্চম অধ্যায় "পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৫০টি দুই নম্বরের (2 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
পরিবেশ, জনবসতি ও নাইট্রোজেন চক্র
১. নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ (Nitrogen Fixation) কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাস বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা জৈবিক উপায়ে মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত লবণে (যেমন নাইট্রেট) পরিণত হয়, তাকে নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ বলে।
২. মিথোজীবী ও মুক্তজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী ব্যাকটেরিয়ার একটি করে উদাহরণ দাও।
উত্তর: মিথোজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধকারী ব্যাকটেরিয়া হলো Rhizobium (রাইজোবিয়াম) এবং মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়া হলো Azotobacter (অ্যাজোটোব্যাকটার)।
৩. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification) কাকে বলে?
উত্তর: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ এবং রেচন পদার্থ বিয়োজক অণুজীবের প্রভাবে ভেঙে অ্যামোনিয়ায় (NH_3) পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অ্যামোনিফিকেশন বলে।
৪. নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: মাটিতে উৎপন্ন অ্যামোনিয়া প্রথমে Nitrosomonas ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রাইটে (NO_2) এবং পরে Nitrobacter ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রেটে (NO_3) পরিণত হয়, এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে নাইট্রিফিকেশন বলে।
৫. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification) কাকে বলে?
উত্তর: মাটিস্থ নাইট্রেট লবণ বিশেষ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (যেমন Pseudomonas) প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে।
৬. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
উত্তর: জলে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত প্রবেশের ফলে প্রচুর শ্যাওলার প্রাচুর্য ঘটে এবং জলের অক্সিজেন কমে যাওয়ার ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
৭. মেথিমোগ্লোবিনেমিয়া বা ব্লু বেবি সিন্ড্রোম কেন হয়?
উত্তর: পানীয় জলে অতিরিক্ত নাইট্রেটের উপস্থিতি থাকলে তা পানের ফলে শিশুদের রক্তের হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং ত্বক নীলবর্ণ ধারণ করে, যাকে ব্লু বেবি সিন্ড্রোম বলে।
৮. গ্রিনহাউস এফেক্ট বা গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির স্তর পৃথিবীর থেকে বিকিরিত তাপকে আটকে রেখে ভূ-পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ধরে রাখে, এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।
৯. বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) দুটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
উত্তর: ১. মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবর্ষণ, খরা এবং সামুদ্রিক সাইক্লোনের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১০. ওজোন গহ্বর (Ozone hole) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ও অন্যান্য দূষক গ্যাসের প্রভাবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন (O_3) স্তরের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে পাতলা হয়ে যাওয়াকে ওজোন গহ্বর বলে।
১১. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি করে?
- উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহে ত্বকের ক্যানসার ও চোখের ছানি সৃষ্টি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
১২. অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
- উত্তর: জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO_x) বায়ুমণ্ডলের জলের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টির জলের সাথে নেমে আসে।
১৩. মিনামাটা রোগ কী কারণে হয়?
- উত্তর: শিল্পকারখানার বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে পারদ (Hg) জলে মিশলে এবং সেই দূষিত মাছ খাওয়ার ফলে মানবদেহে মিনামাটা রোগ হয়।
১৪. ইতাই ইতাই রোগ কেন হয়?
- উত্তর: ক্যাডমিয়াম (Cd) ধাতু দ্বারা জল ও মৃত্তিকা দূষণের ফলে মানবদেহে হাড়ের ক্ষয়জনিত ইতাই ইতাই রোগ দেখা দেয়।
১৫. ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black foot disease) কী?
- উত্তর: ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার ফলে মানুষের হাত ও পায়ের তালুতে কালো ছোপ ও গ্যাংগ্রিন বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়, যাকে ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ বলে।
জীববৈচিত্র্য ও তার সংরক্ষণ
১৬. জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি (Biodiversity) কাকে বলে?
- উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা সমগ্র পৃথিবীতে বসবাসকারী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের প্রজাতিগত ও জিনগত সমস্ত বৈচিত্র্যকে একত্রে জীববৈচিত্র্য বলে।
১৭. জীববৈচিত্র্যের প্রধান তিনটি স্তর কী কী?
- উত্তর: ১. জিনগত বৈচিত্র্য, ২. প্রজাতি বৈচিত্র্য, এবং ৩. বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য।
১৮. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে সমস্ত জীব বা উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রাকৃতিকভাবে আর দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে। যেমন—সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
১৯. জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Hotspot) কাকে বলে?
- উত্তর: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি তীব্রভাবে ধ্বংসের মুখে রয়েছে, তাদের হটস্পট বলে।
২০. ইন-সিটু (In-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক বাসস্থানে রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য।
২১. এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে। যেমন—বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা।
২২. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের প্রধান তিনটি জোনের নাম লেখো।
- উত্তর: ১. কোর জোন, ২. বাফার জোন, এবং ৩. ট্রানজিশন জোন।
২৩. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী? এটি কে প্রকাশ করে?
- উত্তর: যে পুস্তকে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায় ও বিপদগ্রস্ত প্রজাতিগুলির তালিকা প্রকাশিত হয় তাকে রেড ডাটা বুক বলে। এটি IUCN নামক সংস্থা প্রকাশ করে।
২৪. বিলুপ্ত প্রজাতি (Extinct species) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
- উত্তর: যে প্রজাতিগুলির শেষ সদস্যটিও পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে তাদের বিলুপ্ত প্রজাতি বলে। যেমন—ডোডো পাখি।
২৫. ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) কাকে বলে?
- উত্তর: তরল নাইট্রোজেনে (-১৯৬° সে তাপমাত্রায়) শুক্রাণু, ডিম্বাণু বা ভ্রূণ দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করার আধুনিক পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
সংরক্ষণ আন্দোলন ও পরিবেশগত গুরুত্ব
২৬. চিপকো আন্দোলন (Chipko Movement) কী উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল?
- উত্তর: ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডে গাছ কাটার হাত থেকে বনভূমি রক্ষা করার জন্য স্থানীয় মানুষ গাছের সাথে জড়িয়ে ধরে যে অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাকে চিপকো আন্দোলন বলে।
২৭. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM - Joint Forest Management) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: বন বিভাগের সাথে স্থানীয় গ্রামীণ জনগণকে যৌথভাবে সম্পৃক্ত করে বনাঞ্চল রক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থাকে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বলে (প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গের আড়াবাড়িতে চালু হয়)।
২৮. সর্পগন্ধা উদ্ভিদের ঔষধি গুরুত্ব কী?
- উত্তর: সর্পগন্ধা গাছের শিকড় থেকে 'রেসারপিন' নামক উপক্ষার পাওয়া যায়, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২৯. সিনকোনা গাছের ছাল কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
- উত্তর: সিনকোনা গাছের ছাল থেকে প্রাপ্ত 'কুইনাইন' ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩০. উইলো গাছের ছালের গুরুত্ব কী?
- উত্তর: উইলো গাছের ছাল থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপাদান থেকে ব্যথানাশক অ্যাসপিরিন (Aspirin) ওষুধ তৈরি হয়।
৩১. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (Wildlife Protection Act) ভারতে কবে পাস হয়?
- উত্তর: ১৯৭২ সালে ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন পাস হয়।
৩২. ভারতের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কবে পাস হয়?
- উত্তর: ১৯৮৬ সালে ভারতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন পাস হয়।
৩৩. প্রজেক্ট টাইগার (Project Tiger) কেন চালু করা হয়েছিল?
- উত্তর: ভারতে বাঘের সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় তাদের চোরাশিকারের হাত থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১৯৭৩ সালে এই প্রকল্প চালু হয়।
৩৪. এশীয় সিংহ সংরক্ষণের জন্য ভারতের কোন অরণ্য বিখ্যাত?
- উত্তর: গুজরাটের গির অরণ্য (Gir Forest) এশীয় সিংহ সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
৩৫. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান কী সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত?
- উত্তর: আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত।
৩৬. জলের বিওডি (BOD - Biochemical Oxygen Demand) বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: এক লিটার জলে উপস্থিত জৈব দূষকগুলিকে ভেঙে ফেলার জন্য জলজ অণুজীবদের যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে BOD বলে (BOD বেশি মানে জলের দূষণ বেশি)।
৩৭. জলের সিওডি (COD) মাপা হয় কেন?
- উত্তর: জলে উপস্থিত জৈব ও অজৈব সমস্ত রাসায়নিক দূষক জারণ করার জন্য মোট যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তা মাপার জন্য COD ব্যবহার করা হয়।
৩৮. পবিত্র বনভূমি বা সেভড ফরেস্ট গ্রোভ (Sacred Groves) কী?
- উত্তর: স্থানীয় আদিবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত যে বনভূমিগুলি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় এবং সুরক্ষিত থাকে, তাদের পবিত্র বনভূমি বলে।
৩৯. ভারতের জীববৈচিত্র্য আইন (Biological Diversity Act) কবে পাস হয়?
- উত্তর: ২০০২ সালে ভারতে এই আইন পাস হয়।
৪০. ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী কোনটি?
- উত্তর: গঙ্গার ডলফিন হলো ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী।
অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ধারণা
৪১. গ্রিন ডাটা বুক (Green Data Book) কী?
- উত্তর: যে বইটিতে যে সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি অতীতে বিপন্ন হলেও বর্তমানে নিরাপদ বা বিপদমুক্ত অবস্থায় রয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয় তাকে গ্রিন ডাটা বুক বলে।
৪২. নৃতাত্ত্বিক দূষণ বা অ্যানথ্রোপোজেনিক দূষণ কাকে বলে?
- উত্তর: মানুষের বিভিন্ন অবিবেচকমূলক ক্রিয়াকলাপের (যেমন শিল্পায়ন, ডিফোরেস্টেশন, অতিরিক্ত সার ব্যবহার) ফলে প্রকৃতিতে যে দূষণ ঘটে তাকে নৃতাত্ত্বিক দূষণ বলে।
৪৩. অ্যাসিড বৃষ্টির জলের স্বাভাবিক pH কত থাকে?
- উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টির জলের pH সাধারণত ৫.৬-এর নিচে থাকে।
৪৪. বায়োম্যাগনিফিকেশন বা জৈব বিবর্ধন বলতে কী বোঝো?
- উত্তর: খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে অবিনাশী বিষাক্ত পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) উৎপাদক থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের দেহে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে।
৪৫. অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ কোথায় ডিম পাড়তে আসে?
- উত্তর: অলিভ রিডলে সামুদ্রিক কচ্ছপ প্রতি বছর ভারতের ওড়িশার সামুদ্রিক উপকূলে (যেমন গহিমাহামালা) দলবেঁধে ডিম পাড়তে আসে।
৪৬. জিন ব্যাঙ্ক (Gene Bank) কেন তৈরি করা হয়?
- উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিভিন্ন মূল্যবান জিন, বীজ বা embryos কৃত্রিম উপায়ে দীর্ঘকাল সুরক্ষিত রাখার জন্য জিন ব্যাঙ্ক তৈরি করা হয়।
৪৭. অ্যাপিকো আন্দোলন (Appiko Movement) কোথায় হয়েছিল?
- উত্তর: চিপকো আন্দোলনের আদলে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে গাছ কাটার বিরুদ্ধে অ্যাপিকো আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
৪৮. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান নেত্রী কে ছিলেন?
- উত্তর: বিশিষ্ট সমাজকর্মী মেধা পাটেকর নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
৪৯. ভারতের সর্বোচ্চ পরিবেশ পুরস্কার কোনটি?
- উত্তর: পরিবেশ রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার প্রদত্ত 'ইন্দিরা গান্ধী পরিবেশ পুরস্কার' হলো দেশের সর্বোচ্চ পরিবেশ পুরস্কার।
৫০. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী হয় কেন?
- উত্তর: বাস্তুতন্ত্রে সৌরশক্তি সবুজ উদ্ভিদের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে খাদ্যের আকারে এক পুস্তর স্তর থেকে উচ্চ স্তরে প্রবাহিত হয় এবং লিন্ডেম্যানের ১০ শতাংশ সূত্র মেনে চলার পাশাপাশি তা আর কখনোই উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে না, তাই শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী হয়।
দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির পঞ্চম অধ্যায় "পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ৩০টি তিন নম্বরের (3 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
পরিবেশ, জনবসতি ও নাইট্রোজেন চক্র
১. নাইট্রোজেন চক্রে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন কীভাবে মাটিতে সংবদ্ধ হয়? বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও জৈবিক প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন বিভিন্ন উপায়ে মাটিতে সংবদ্ধ হতে পারে:
১. তড়িৎক্ষরণ বা বজ্রপাত: বৃষ্টির সময় বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন বজ্রপাতের ফলে বিক্রিয়া করে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) ও পরে নাইট্রিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির জলের সাথে মাটিতে এসে নাইট্রেট লবণে পরিণত হয়।
২. জৈবিক সংবদ্ধকরণ: Rhizobium (রাইজোবিয়াম) বা Azotobacter (অ্যাজোটোব্যাকটার)-এর মতো ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের মুক্ত নাইট্রোজেনকে সরাসরি মাটিতে নাইট্রোজেনঘটিত লবণে পরিণত করে।
২. নাইট্র্রিফিকেশন (Nitrification) ও ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification) প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. সংজ্ঞা: মাটিতে উৎপন্ন অ্যামোনিয়া প্রথমে Nitrosomonas ও পরে Nitrobacter ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রেটে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রিফিকেশন বলে। অন্যদিকে, মাটিস্থ নাইট্রেট লবণ বিশেষ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার (যেমন Pseudomonas) প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে।
২. ফলাফল: নাইট্রিফিকেশনে উদ্ভিদ উপযোগী নাইট্রেট লবণ তৈরি হয়, কিন্তু ডিনাইট্রিফিকেশনে নাইট্রেট ভেঙে নাইট্রোজেন গ্যাস অপসারিত হয়।
৩. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কী কারণে ঘটে এবং এর ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্রের কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: কৃষি জমির রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট ধুয়ে জলে মিশলে যখন নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে, তখন ইউট্রোফিকেশন ঘটে।
ক্ষতি: এর ফলে জলের ওপর বিপুল পরিমাণে শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে, যা জলের সমস্ত অক্সিজেন শুষে নেয়। ফলে জলের অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা গিয়ে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়।
৪. গ্রিনহাউস এফেক্ট বা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাসগুলি কী কী? বিশ্ব উষ্ণায়নের মারাত্মক প্রভাবগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: দায়ী প্রধান গ্যাসগুলি হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2), মিথেন (CH_4), নাইট্রাস অক্সাইড (N_2 O) এবং জলীয় বাষ্প।
প্রভাব:
১. মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবর্ষণ, খরা, বন্যা এবং সামুদ্রিক সাইক্লোনের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন (O3) স্তর সৃষ্টি ও তার ক্ষয়ের প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অক্সিজেনের উপর অতিবেগুনি রশ্মির (UV) প্রভাবে ওজোন গ্যাস উৎপাদিত ও ধ্বংসের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। কিন্তু মানুষের তৈরি ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ভেঙে ক্লোরিন পরমাণু (⋅Cl) মুক্ত করে। এই ক্লোরিন পরমাণু অনুঘটকের মতো কাজ করে ওজোন (O_3) অণুকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে, যার ফলে ওজোন স্তরে ক্ষয় বা গহ্বর সৃষ্টি হয়।
জীববৈচিত্র্য ও তার সংরক্ষণ
৬. জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) কাকে বলে? ভারতের যেকোনো দুটি হটস্পটের নাম লেখো।
উত্তর: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি মানুষের অতি শোষণ ও ধ্বংসের মুখে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাদের জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে।
ভারতের দুটি হটস্পট:
১. পূর্ব হিমালয় অঞ্চল (Eastern Himalayas)।
২. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা (Western Ghats)।
৭. ইন-সিটু (In-situ) ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণের মধ্যে তিনটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
১. সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে বিপন্ন জীবকে তার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণ করা হয় তাকে ইন-সিটু বলে, আর প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু বলে।
২. উদাহরণ: ইন-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হলো জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। এক্স-সিটু সংরক্ষণের উদাহরণ হলো বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা ও জিন ব্যাঙ্ক।
৩. সুবিধা: ইন-সিটু সংরক্ষণে জীব তার স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিকভাবে বিবর্তনের সুযোগ পায়, যা এক্স-সিটু সংরক্ষণে কিছুটা সীমিত থাকে।
৮. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ বা জীবমণ্ডল সংরক্ষণের প্রধান তিনটি অঞ্চল বা জোনের বিবরণ দাও।
উত্তর: একটি আদর্শ বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ প্রধানত তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত থাকে:
১. কোর জোন (Core Zone): এটি সবচেয়ে সুরক্ষিত অভ্যন্তরীণ অঞ্চল যেখানে মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি সম্পূর্ণ প্রকৃতির নিয়মে সংরক্ষিত থাকে।
২. বাফার জোন (Buffer Zone): এটি কোর জোনকে ঘিরে থাকা মধ্যবর্তী অঞ্চল যেখানে গবেষণামূলক কাজ ও শিক্ষা সংক্রান্ত সীমিত কার্যক্রম চালানো যায়।
৩. ট্রানজিশন জোন (Transition Zone): এটি বাইরের সবচেয়ে পরিধিগত অংশ যেখানে জনবসতি, কৃষি কাজ এবং পর্যটনের মতো টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়।
৯. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) কী? প্রজাতি সংরক্ষণে এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: IUCN নামক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত যে পুস্তকে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাকে রেড ডাটা বুক বলে।
গুরুত্ব: এর মাধ্যমে প্রজাতিগুলির বর্তমান জনসংখ্যা ও বিপদের মাত্রা সম্পর্কে সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা সচেতন হন এবং সেই অনুযায়ী জরুরি সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ ও আইন প্রণয়ন করতে পারেন।
১০. সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কেন অপরিসীম? জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: জীববৈচিত্র্য প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, খাদ্য সুরক্ষা, ঔষধি সম্পদ ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত জরুরি।
হ্রাসের কারণ:
১. মানুষের যথেচ্ছ জঙ্গল কাটা ও বাসস্থান ধ্বংস।
২. অতিরিক্ত শিকার ও বন্যপ্রাণীর চোরাশিকার।
৩. পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন।
সংরক্ষণ আন্দোলন ও পরিবেশগত গুরুত্ব
১১. চিপকো আন্দোলন (Chipko Movement) কী? পরিবেশ রক্ষায় এর তাৎপর্য কী ছিল?
উত্তর: ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডে গাছ কাটার হাত থেকে বনভূমি রক্ষা করার জন্য স্থানীয় মানুষ (বিশেষ করে মহিলারা) গাছের সাথে জড়িয়ে ধরে যে অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাকে চিপকো আন্দোলন বলে (নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা ও গৌরা দেবী)।
তাৎপর্য: এই আন্দোলনের ফলে সরকার বাধ্য হয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ জারি করে এবং স্থানীয় মানুষের বনরক্ষার অধিকার স্বীকৃত হয়।
১২. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM - Joint Forest Management) বলতে কী বোঝো? এর মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: বন বিভাগের সাথে স্থানীয় গ্রামীণ জনগণকে যৌথভাবে সম্পৃক্ত করে বনাঞ্চল রক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থাকে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বলে (প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গের আড়াবাড়িতে চালু হয়)।
মূল উদ্দেশ্য: স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় চোরাশিকার ও অবৈধভাবে গাছ কাটা রোধ করা এবং বনভূমির সুষম উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবন ঘটানো।
১৩. ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষরণে 'প্রজেক্ট টাইগার' (Project Tiger) এর ভূমিকা ও সাফল্য আলোচনা করো।
উত্তর: ভারতে বাঘের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ায় তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে 'প্রজেক্ট টাইগার' চালু করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং চোরাশিকার রোধ করা। জিম করবেট ও সুন্দরবনের মতো বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
১৪. সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর:
১. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি ও লোনা জলের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
২. চোরাশিকার ও অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও জলজ প্রাণীরা হুমকির মুখে।
৩. মানুষের বসতি স্থাপন ও পর্যটনের অতিরিক্ত চাপের ফলে ম্যাংগ্রোভ অরণ্যের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
১৫. ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) পদ্ধতিটি কী? এর প্রধান ব্যবহারিক প্রয়োগ লেখো।
উত্তর: তরল নাইট্রোজেনে (-১৯৬° সে তাপমাত্রায়) শুক্রাণু, ডিম্বাণু, কলা বা ভ্রূণ দীর্ঘকাল অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষণ করার আধুনিক এক্স-সিটু পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
প্রয়োগ: বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজনন কোষ বা জিন ব্যাংক সংরক্ষণে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
১৬. উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের নাম ও তাদের কাজ লেখো।
উত্তর:
১. সর্পগন্ধা: এর শিকড় থেকে প্রাপ্ত 'রেসারপিন' উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২. সিনকোনা: এর ছাল থেকে প্রাপ্ত 'কুইনাইন' ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩. নয়নতারা: এর নির্যাস থেকে ক্যানসার দমনের ওষুধ প্রস্তুত হয়।
১৭. অ্যাপিকো আন্দোলন ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর:
১. অ্যাপিকো আন্দোলন: চিপকো আন্দোলনের আদলে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে গাছ কাটার বিরুদ্ধে যে পরিবেশ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তাকে অ্যাপিকো আন্দোলন বলে।
২. নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন: নর্মদা নদীর ওপর বৃহৎ বাঁধ নির্মাণের ফলে লক্ষাধিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি রোধ করার জন্য মেধা পাটেকরের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে তাকে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন বলে।
১৮. এন্ডেমিক প্রজাতি (Endemic species) কাকে বলে? সুন্দরবনের এন্ডেমিক প্রজাতির সংরক্ষণের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: যে সমস্ত জীব বা উদ্ভিদ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার বাইরে পৃথিবীর অন্য কোথাও প্রাকৃতিকভাবে আর দেখা যায় না, তাদের এন্ডেমিক প্রজাতি বলে।
গুরুত্ব: এই প্রজাতিগুলি পৃথিবীর অন্য কোথাও থাকে না বলে এদের বাসস্থান ধ্বংস হলে প্রজাতিটি চিরতরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাই বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও বৈচিত্র্য রক্ষার্থে এদের সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
১৯. বায়োম্যাগনিফিকেশন বা জৈব বিবর্ধন বলতে কী বোঝো? এর ক্ষতিকর প্রভাব কী?
উত্তর: পরিবেশের অবিনাশী ও বিষাক্ত অজৈব রাসায়নিক পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্ন স্তর থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের দিকে ধাবিত হওয়ার সময় প্রতিটি ধাপে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও তীব্রতর মাত্রায় জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে।
ক্ষতিকর প্রভাব: এর ফলে শীর্ষ খাদকদের (যেমন মাছখেকো পাখি) দেহে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং ডিমের খোসা পাতলা হয়ে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
২০. পবিত্র বনভূমি বা সেভড ফরেস্ট গ্রোভ (Sacred Groves) বলতে কী বোঝো? জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা কী?
উত্তর: স্থানীয় আদিবাসীদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও লোকগাথার সাথে যুক্ত যে বনভূমিগুলি মানুষ কখনোই কাটে না এবং সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করে, তাদের পবিত্র বনভূমি বলে।
ভূমিকা: এই বনভূমিগুলি প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে বলে এর ভেতরে বহু দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে বংশবৃদ্ধি করতে পারে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দারুণ সাহায্য করে।
২১. ভারতের বন্যপ্রাণী আইন (Wildlife Protection Act, 1972) কেন প্রণয়ন করা হয়েছিল? এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি লেখো।
উত্তর: ভারতে চোরাশিকার বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণীদের দ্রুত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭২ সালে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
প্রধান উদ্দেশ্য: বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা, তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং বিপন্ন প্রজাতিগুলির অবৈধ বাণিজ্য কঠোর হাতে দমন করা।
২২. ভারতের প্রধান কয়েকটি জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের নাম এবং সেগুলি কীসের জন্য বিখ্যাত তা লেখো।
উত্তর:
১. কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান (আসাম): একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত।
২. গির অরণ্য (গুজরাট): এশীয় সিংহের জন্য বিখ্যাত।
৩. সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান (পশ্চিমবঙ্গ): রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত।
২৩. গ্রিন ডাটা বুক (Green Data Book) ও রেড ডাটা বুক (Red Data Book)-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: রেড ডাটা বুকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলির তালিকা প্রকাশ করা হয়। পক্ষান্তরে, গ্রিন ডাটা বুকে সেই সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা থাকে যেগুলি অতীতে বিপন্ন হলেও বর্তমান সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে নিরাপদ বা বিপদমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
২৪. জলের BOD এবং COD বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
১. BOD (Biochemical Oxygen Demand): এক লিটার জলে উপস্থিত জৈব দূষকগুলিকে ভেঙে ফেলার জন্য জলজ অণুজীবদের যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে BOD বলে (BOD বেশি মানে জলের দূষণ বেশি)।
২. COD (Chemical Oxygen Demand): জলে উপস্থিত জৈব ও অজৈব সমস্ত রাসায়নিক দূষক জারণ করার জন্য মোট যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তা মাপার জন্য COD ব্যবহার করা হয়।
২৫. অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটি ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের কী ধরনের মারাত্মক ক্ষতি হয়?
উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টির জলের pH ৫.৬-এর নিচে থাকায় এটি মাটিতে পড়লে মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায় এবং উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতা নষ্ট হয়। অন্যদিকে, নদী বা হ্রদের জলে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লে জলজ বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক pH ব্যাহত হয়, ফলে মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী ও অণুজীব মারা যায়।
২৬. পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বা JFM-এর সাফল্য কীরূপ ছিল?
উত্তর: যৌথ বন ব্যবস্থাপনা চালুর ফলে পশ্চিমবঙ্গের আড়াবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও উজাড় হওয়া শাল ও অন্যান্য বনাঞ্চল মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সক্রিয় সহযোগিতায় সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং বন্যপ্রাণীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৭. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে বহিরাগত প্রজাতিগুলির আক্রমণ কীভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বাইরে থেকে কোনো বহিরাগত প্রজাতি প্রবেশ করলে তারা স্থানীয় প্রজাতিগুলির সাথে খাবার ও বাসস্থানের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করে এবং স্থানীয় প্রজাতিগুলিকে হটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। যেমন—জলাশয়ে কচুরিপানার অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ ও মাছের জীবন বিপন্ন হয়।
২৮. বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি রোধ করার প্রধান উপায়গুলি কী কী?
উত্তর:
১. যথেচ্ছ জঙ্গল কাটা বন্ধ করা এবং নতুন করে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা।
২. কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির মতো সবুজ শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
৩. শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা।
২৯. স্থানীয় সম্প্রদায় বা আদিবাসীরা কীভাবে ঐতিহ্যগতভাবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: ভারতের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় (যেমন খাসি, জয়ন্তীয়া বা বিশ্রোই সম্প্রদায়) তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে 'পবিত্র বনভূমি' রক্ষা করে আসছে এবং গাছপালা বা বন্যপ্রাণী হত্যা না করে তাদের সাথে সহাবস্থানের মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে চলেছে।
৩০. পৃথিবীর ফুসফুস কাকে বলে এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম কেন?
উত্তর: দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন রেইনফরেস্টকে 'পৃথিবীর ফুসফুস' বলা হয়।
গুরুত্ব: এই বিশাল রেইনফরেস্ট বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক জলবায়ু ও বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে, পাশাপাশি পৃথিবীর বৃহত্তম জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।
দশম শ্রেণির মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পাঠ্যসূচির পঞ্চম অধ্যায় "পরিবেশ ও তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ" থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা ২০টি পাঁচ নম্বরের (5 Marks) প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. নাইট্রোজেন চক্রের বিভিন্ন ধাপগুলি সবিস্তারে আলোচনা করো এবং বাস্তুতন্ত্রে এর গুরুত্ব লেখো।
নাইট্রোজেন চক্রের ধাপসমূহ:
১. নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ (Nitrogen Fixation): বায়ুমণ্ডলের নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাস বজ্রপাত, কিংবা Rhizobium ও Azotobacter-এর মতো মিথোজীবী ও মুক্তজীবী ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে মাটিতে নাইট্রেট লবণে পরিণত হয়।
২. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification): মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ এবং রেচন পদার্থ বিয়োজক অণুজীবের প্রভাবে ভেঙে অ্যামোনিয়ায় (NH_3) পরিণত হয়।
৩. নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): অ্যামোনিয়া প্রথমে Nitrosomonas ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রাইটে (NO_2) এবং পরে Nitrobacter ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে নাইট্রেটে (NO_3) রূপান্তরিত হয়, যা উদ্ভিদ গ্রহণ করে।
৪. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): মাটিস্থ অতিরিক্ত নাইট্রেট লবণ Pseudomonas এর মতো ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে বিয়োজিত হয়ে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়।
বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্ব: এই চক্রের মাধ্যমেই প্রকৃতিতে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরির জন্য সমস্ত জীব প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সংগ্রহ করতে পারে।
২. গ্রিনহাউস এফেক্ট বা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণগুলি আলোচনা করো এবং এর ফলে পরিবেশ ও জীবজগতের ওপর যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে তা সবিস্তারে লেখো।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO_2), মিথেন (CH_4), নাইট্রাস অক্সাইড (N_2 O) এবং জলীয় বাষ্পের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি। জীবাশ্ম জ্বালানির অবাধ দহন, শিল্পায়ন এবং যথেচ্ছ জঙ্গল কাটার ফলে এই গ্যাসগুলির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।
মারাত্মক প্রভাবসমূহ:
১. জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে অতিবর্ষণ, খরা, বন্যা এবং সামুদ্রিক সাইক্লোনের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. জলস্তর বৃদ্ধি: মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলবর্তী নিচু দ্বীপ ও জনবসতি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৩. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।
৩. ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণগুলি কী কী? এর ফলে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে তা আলোচনা করো।
ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণ: রেফ্রিজারেটর, এসি, অ্যারোসল স্প্রে এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য থেকে নির্গত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন বা CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত করে। এই ক্লোরিন পরমাণু অনুঘটকের মতো কাজ করে ওজোন (O_3) অণুকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে, ফলে ওজোন স্তরে গহ্বর বা ক্ষয় সৃষ্টি হয়।
ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ:
১. মানবস্বাস্থ্য: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) সরাসরি পৃথিবীতে নেমে আসার ফলে মানবদেহে ত্বকের ক্যানসার, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং চোখের ছানি পড়ার মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়।
২. উদ্ভিদ ও ফসল: অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের হার কমে যায় এবং ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
৩. সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র: সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উৎপাদক ফাইটোপ্লাংকটন ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে।
৪. ইন-সিটু (In-situ) ও এক্স-সিটু (Ex-situ) সংরক্ষণ কাকে বলে? জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের ভূমিকা ও পার্থক্য সবিস্তারে আলোচনা করো।
সংজ্ঞা ও পার্থক্য:
ইন-সিটু সংরক্ষণ: প্রাকৃতিকভাবে বিপন্ন জীবকে তার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন—জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য)।
এক্স-সিটু সংরক্ষণ: প্রাকৃতিকভাবে বিপদগ্রস্ত জীবকে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অন্য কোথাও সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণের পদ্ধতিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলে (যেমন—বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা)।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা:
ইন-সিটু সংরক্ষণ জীবকে তার নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিকভাবে বিবর্তিত হওয়ার সুযোগ দেয়, যা সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।
অন্যদিকে, এক্স-সিটু সংরক্ষণ প্রাকৃতিকভাবে চরম বিপন্ন প্রজাতিগুলিকে তাৎক্ষণিকভাবে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ক্রায়োপ্রিজারভেশন বা জিন ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটাতে জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করে।
৫. যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (JFM) কী? ভারতের বনভূমি সংরক্ষণে এর গুরুত্ব ও সাফল্য সবিস্তারে লেখো।
সংজ্ঞা: বন বিভাগের সাথে স্থানীয় গ্রামীণ জনগণকে যৌথভাবে সম্পৃক্ত করে বনাঞ্চল রক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থাকে যৌথ বন ব্যবস্থাপনা বা JFM (Joint Forest Management) বলে। ১৯৭০-এর দশকে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার আড়াবাড়িতে এটি সফলভাবে চালু হয়।
গুরুত্ব ও সাফল্য:
১. স্থানীয় গ্রামবাসীদের বনরক্ষার দায়িত্ব ও অংশীদারিত্ব দেওয়ার ফলে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চোরাশিকার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
২. এর ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও উজাড় হওয়া শাল ও অন্যান্য বনাঞ্চল মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
৩. বনাঞ্চল বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতার এক অনন্য মডেল স্থাপন করেছে।
৬. সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো এবং বর্তমানে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য কী কী প্রধান হুমকির সম্মুখীন, তা লেখো।
বাস্তুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য: সুন্দরবন হলো পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যাংগ্রোভ অরণ্য। এখানকার মাটি অত্যন্ত লবণাক্ত, কর্ম্দাক্ত ও জোয়ার-ভাটাযুক্ত। সুন্দরী, গেওয়া, গরান ও কেওড়ার মতো লবনসহনশীল উদ্ভিদ এবং রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, লবনাক্ত জলের কুমির, চিত্রা হরিণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও জলজ প্রাণীর এক অনন্য সমাহার এই বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রধান হুমকিগুলি:
১. জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি ও লোনা জলের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
২. মানব হস্তক্ষেপ: অতিরিক্ত পর্যটন, বসতি স্থাপন এবং বাঁধ নির্মাণের ফলে ম্যাংগ্রোভ অরণ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
৩. চোরাশিকার: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং অন্যান্য মূল্যবান বন্যপ্রাণী ও মাছের চোরাশিকার এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রকে মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
৭. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) ও বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) প্রক্রিয়া দুটি সবিস্তারে বুঝিয়ে লেখো।
ইউট্রোফিকেশন: কৃষি জমির রাসায়নিক সার ও ডিটারজেন্ট ধুয়ে জলে মিশলে যখন নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত পুষ্টি উপাদানের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে, তখন জলের ওপর বিপুল পরিমাণে শ্যাওলার আস্তরণ পড়ে। শ্যাওলার প্রাচুর্যের কারণে জলের নিচে সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না এবং জলের সমস্ত অক্সিজেন শ্যাওলা ও ব্যাকটেরিয়া শুষে নেয়। ফলে জলের অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা গিয়ে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়।
বায়োম্যাগনিফিকেশন (জৈব বিবর্ধন): পরিবেশের অবিনাশী ও বিষাক্ত অজৈব রাসায়নিক পদার্থগুলি (যেমন ডিডিটি বা পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলের নিম্ন স্তর (উৎপাদক) থেকে উচ্চ স্তরের খাদকদের (যেমন মাছ বা পাখি) দিকে ধাবিত হওয়ার সময় প্রতিটি ধাপে ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত ও তীব্রতর মাত্রায় জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে। এর ফলে শীর্ষ খাদকদের দেহে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং ডিমের খোসা পাতলা হয়ে বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৮. বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে 'প্রজেক্ট টাইগার' (Project Tiger) এবং সংরক্ষিত অঞ্চলের (জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য) ভূমিকা আলোচনা করো।
প্রজেক্ট টাইগার: ভারতে বাঘের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ায় তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে 'প্রজেক্ট টাইগার' চালু করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং চোরাশিকার রোধ করা। জিম করবেট ও সুন্দরবনের মতো বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানে বাঘ সংরক্ষণের মাধ্যমে এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
সংরক্ষিত অঞ্চলের ভূমিকা:
১. জাতীয় উদ্যান (National Park): এটি এমন একটি সংরক্ষিত এলাকা যেখানে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং মানুষের সমস্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে (যেমন কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান)।
২. অভয়ারণ্য (Sanctuary): এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ শিকারমুক্ত পরিবেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই অঞ্চলগুলি বিপন্ন প্রজাতিগুলির অবলুপ্তি রোধ করতে এবং স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৯. পরিবেশ সংরক্ষণে চিপকো আন্দোলন এবং বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অবদান সবিস্তারে লেখো।
চিপকো আন্দোলন: ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডে গাছ কাটার হাত থেকে বনভূমি রক্ষা করার জন্য স্থানীয় মানুষ (বিশেষ করে মহিলারা) গাছের সাথে জড়িয়ে ধরে যে অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাকে চিপকো আন্দোলন বলে (নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সুন্দরলাল বহুগুণা ও গৌরা দেবী)। এই আন্দোলনের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ জারি হয় এবং যৌথভাবে বনরক্ষার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অবদান: রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে গাছ ও বন্যপ্রাণী রক্ষাকে তাদের ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করেন। ১৭৩০ সালে রাজস্থানের খেজড়ালি গ্রামে অমৃতা দেবীর নেতৃত্বে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ গাছ কাটার প্রতিবাদে নিজেদের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন। তাদের এই বলিদান বন্যপ্রাণী ও অরণ্য সংরক্ষণের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে, যা পরবর্তীকালে 'অমৃতা দেবী বিষ্ণোই জাতীয় পুরস্কার'-এর সূচনা করেছে।
১০. ভারতের জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Biodiversity Hotspot) বলতে কী বোঝো? ভারতের প্রধান হটস্পটগুলির বিবরণ দাও।
সংজ্ঞা: যে সমস্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে স্থানীয় বা এন্ডেমিক প্রজাতি বসবাস করে এবং যেগুলি মানুষের অতি শোষণ ও ধ্বংসের মুখে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, তাদের জীববৈচিত্র্য হটস্পট বলে (নরম্যান মেয়ার্স প্রবর্তিত)। শর্ত হিসেবে ন্যূনতম ১৫০০টি স্থানীয় উদ্ভিদ প্রজাতি এবং মূল বাসস্থানের অন্তত ৭০% ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে হবে।
ভারতের প্রধান হটস্পটসমূহ:
১. পূর্ব হিমালয় অঞ্চল (Eastern Himalayas): সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যেখানে হাজার হাজার দুর্লভ উদ্ভিদ, অর্কিড ও রেড পান্ডার মতো প্রাণী দেখা যায়।
২. পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা (Western Ghats): ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত এই অঞ্চলে প্রচুর স্থানীয় উভচর, সরীসৃপ ও উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে।
৩. ইন্দো-বার্মা অঞ্চল এবং ৪. সুন্দরল্যান্ড অঞ্চল ভারতের অন্য দুটি স্বীকৃত হটস্পট।
১১. জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কার্যাবলীর কারণে জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলি সবিস্তারে আলোচনা করো।
বর্তমান যুগে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার প্রধান কারণগুলি হলো:
১. বাসস্থান ধ্বংস ও খণ্ডিতকরণ: মানুষের নগরায়ণ, জঙ্গল কাটা, এবং কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে জীবদের স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট ও ছোট ছোট টুকরোয় বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
২. অতিরিক্ত শোষণ ও চোরাশিকার: বাণিজ্যিক লাভ বা শখের বশে বন্যপ্রাণী শিকার এবং গাছপালা অতিরিক্ত কাটার ফলে বহু প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।
৩. বিদেশী প্রজাতির আক্রমণ: বাইরে থেকে আসা বহিরাগত প্রজাতি (যেমন কচুরিপানা বা তিলেিলা মাছ) স্থানীয় প্রজাতিগুলির খাদ্য ও বাসস্থান দখল করে তাদের ধ্বংস করে।
৪. দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন: শিল্পায়ন ও যানবাহনের কারণে বায়ু, জল ও মৃত্তিকা দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলছে ও সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে।
১২. উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের নাম, তাদের উৎস এবং মানবকল্যাণে তাদের ব্যবহার আলোচনা করো।
মানবকল্যাণে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঔষধি উদ্ভিদের ভূমিকা অপরিসীম:
১. সর্পগন্ধা: এর শিকড় থেকে প্রাপ্ত 'রেসারপিন' নামক উপক্ষার উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২. সিনকোনা: এর ছাল থেকে প্রাপ্ত 'কুইনাইন' বিশ্ববিখ্যাত ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
৩. নয়নতারা: এর নির্যাস থেকে প্রাপ্ত ভিনব্লাস্টিন ও ভিনক্রিস্টিন ক্যানসার দমনের ওষুধ তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৪. বাসক: এর পাতা থেকে সর্দি-কাশি ও ব্রঙ্কাইটিসের কাশির সিরাপ তৈরি হয়।
৫. তুলসী: এর পাতা সর্দি, কাশি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
১৩. ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) কী? এক্স-সিটু সংরক্ষণে এর গুরুত্ব ও সুবিধাগুলি সবিস্তারে লেখো।
সংজ্ঞা: তরল নাইট্রোজেনে (-১৯৬° সে তাপমাত্রায়) শুক্রাণু, ডিম্বাণু, কলা বা ভ্রূণ দীর্ঘকাল অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষণ করার আধুনিক এক্স-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
গুরুত্ব ও সুবিধা:
১. এই পদ্ধতিতে বিপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজনন কোষ বা জিন ব্যাংক দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, যা প্রজাতিগুলির চিরতরে বিলুপ্তি রোধ করে।
২. ভবিষ্যতে কৃত্রিম প্রজনন বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (IVF) মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলির বংশবৃদ্ধি ঘটানো সম্ভব হয়।
৩. উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কম জায়গা ব্যবহার করে হাজার হাজার প্রজাতির বীজ বা কলা দীর্ঘকাল সুস্থ ও সংক্রমণমুক্ত রাখা যায়।
১৬. বাস্তুতন্ত্রে শক্তির একমুখী প্রবাহ এবং লিন্ডেম্যানের ১০ শতাংশ সূত্রটি সবিস্তারে বুঝিয়ে লেখো।
শক্তির একমুখী প্রবাহ: বাস্তুতন্ত্রে শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে খাদ্যের আকারে উৎপাদক থেকে তৃণভোজী এবং সেখান থেকে মাংসাশী প্রাণীতে প্রবাহিত করে। এই শক্তি একবার এক পুষ্টিস্তর থেকে উচ্চ স্তরে চলে গেলে তা আর কখনোই নিচের দিকে বা উৎসের দিকে ফিরে আসে না, তাই বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ সর্বদা একমুখী হয়।
লিন্ডেম্যানের ১০ শতাংশ সূত্র (10% Law): পরিবেশবিদ রেমন্ড লিন্ডেম্যানের সূত্র অনুযায়ী, বাস্তুতন্ত্রের এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে খাদ্য শক্তি স্থানান্তরিত হওয়ার সময় প্রতি ধাপে মাত্র ১০ শতাংশ শক্তি পরবর্তী স্তরে সঞ্চিত হয় এবং বাকি ৯০ শতাংশ শক্তি তাপশক্তি হিসেবে বায়ুমণ্ডলে অপসারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, উৎপাদকের কাছে যদি ১০০০ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে, তবে প্রাথমিক খাদক বা তৃণভোজী মাত্র ১০০ কিলোক্যালরি শক্তি নিজের দেহে সঞ্চয় করতে পারে।
১৭. রেড ডাটা বুক (Red Data Book) ও গ্রিন ডাটা বুক (Green Data Book)-এর উদ্দেশ্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এদের গুরুত্ব আলোচনা করো।
রেড ডাটা বুক: IUCN নামক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত যে পুস্তকে পৃথিবীর সমস্ত বিলুপ্তপ্রায়, বিপদগ্রস্ত ও সংবেদনশীল উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাকে রেড ডাটা বুক বলে। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে কোন প্রজাতিগুলি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে তা চিহ্নিত করা এবং জরুরি সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া।
গ্রিন ডাটা বুক: যে বইটিতে সেই সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির তালিকা প্রকাশ করা হয় যেগুলি অতীতে বিপন্ন হলেও বর্তমান সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে নিরাপদ বা বিপদমুক্ত অবস্থায় রয়েছে, তাকে গ্রিন ডাটা বুক বলে।
সংরক্ষণে গুরুত্ব: এই দুটি প্রকাশনা বিজ্ঞানীদের ও সরকারকে বন্যপ্রাণীর সঠিক জনসংখ্যা ও বিপদের মাত্রা সম্পর্কে অবগত করে, যার ফলে সঠিক সময়ে সঠিক আইন প্রণয়ন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা সম্ভব হয়।
১৮. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) কাকে বলে? এর কারণ এবং পরিবেশ ও জীবমণ্ডলের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবগুলি আলোচনা করো।
সংজ্ঞা: শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO_2) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NO_x) বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির জলের সাথে পৃথিবীতে নেমে আসে, একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।
কারণ: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামজাত জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত দহন।
ক্ষতিকর প্রভাব:
১. মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং বনভূমি ধ্বংস হয়।
২. নদী বা হ্রদের জলের pH কমে যাওয়ায় জলজ বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয় এবং মাছসহ সমস্ত জলজ প্রাণী মারা যায়।
৩. তাজমহলের মতো মার্বেল পাথরের ঐতিহাসিক স্মারকগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে (মার্বেল ক্যানসার)।
১৯. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে 'মানববসতি সম্প্রসারণ' ও 'বহিরাগত প্রজাতির আক্রমণ' কীভাবে প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা করো।
মানববসতি সম্প্রসারণ: মানুষের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের ফলে জঙ্গল কেটে সাফ করে ফেলা হচ্ছে এবং কৃষিজমি ও বহুতল আবাসন তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস ও খণ্ডিত হয়ে পড়ছে, যার ফলে তারা খাদ্যের অভাবে ও স্থানচ্যুতির কারণে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
বহিরাগত প্রজাতির আক্রমণ: কোনো নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বাইরে থেকে কোনো বহিরাগত প্রজাতি প্রবেশ করলে তারা স্থানীয় প্রজাতিগুলির সাথে খাবার ও বাসস্থানের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করে এবং স্থানীয় প্রজাতিগুলিকে হটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। যেমন—জলাশয়ে কচুরিপানার অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ ও মাছের জীবন বিপন্ন হয়।
২০. ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষরণে 'প্রজেক্ট টাইগার', 'প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট' এবং কুমির সংরক্ষণ প্রকল্পের ভূমিকা আলোচনা করো।
প্রজেক্ট টাইগার (১৯৭৩): ভারতে বাঘের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়ায় তাদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং চোরাশিকার রোধ করা, যার ফলে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট (১৯৯২): হাতির প্রাকৃতিক বাসস্থান রক্ষা, হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব (Human-elephant conflict) রোধ করা এবং করিডোরগুলি নিরাপদ রাখার জন্য ভারত সরকার এই প্রকল্প চালু করে।
কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প (১৯৭৫): ভারতে বিলুপ্তপ্রায় তিন প্রজাতির কুমির (নোনা জলের কুমির, মুগার ও ঘড়িয়াল) সংরক্ষণের জন্য উড়িষ্যার ভিতরকণিকা এবং পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে কৃত্রিম প্রজনন ও অভয়াংশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই কুমিরগুলির সংখ্যা সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।